জাতিসংঘে আন্তর্জাতিক কন্যা শিশু দিবসের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে মহিলা ও শিশু বিষয়ক প্রতিমন্ত্রী ড. শিরীন শারমিন চৌধুরী
নিউইয়র্ক, অক্টোবর ১১ জাতিসংঘ সদর দপ্তরে অনুষ্ঠিত এক অনুষ্ঠানের মধ্য দিয়ে আন্তর্জাতিক কন্যা শিশু দিবসের উদ্বোধন করা হয়েছে। উক্ত অনুষ্ঠানে সূচন্য বক্তব্য রাখেন জাতিসংঘের মহাসচিব মি: বান কি মুন। অতিথি বক্তা হিসেবে উপস্থিত ছিলেন আর্ক বিশপ ডেজমন্ড টুটু। এতে মহিলা ও শিশু বিষয়ক প্রতিমন্ত্রী ড. শিরীন শারমিন চৌধূরী শিশু বিবাহ প্রতিরোধে বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক গৃহীত বিভিন্ন পদক্ষেপ তুলে ধরে বলেন, শিশু বিবাহ প্রথা কন্যা শিশুদের জন্য স্বাস্থ্যগতভাবে যেমন ঝুকিপূর্ণ, ঠিক তেমনি তাদের বুদ্ধিবৃত্তিক ও দক্ষতা বিষয়ক উন্নয়নেরও অন্তরায়। তিনি জানান যে, গবেষণায় দেখা গেছে, অল্প বয়সে বিবাহিত একজন কিশোরী মাতা প্রাপ্ত বয়স্ক অবস্থায় বিবাহিত মাতার চেয়ে পাঁচ গুণ বেশী স্বাস্থ্যগতভাবে ঝুকিপূর্ণ অবস্থায় পতিত হয়। শিশু অবস্থায় বিবাহের ফলে একজন বালিকা শিক্ষা ও জীবনমুখী দক্ষতা উন্নয়নের সুযোগ থেকে বঞ্চিত হয়। তিনি জানান যে, বাংলাদেশে শিশু বিবাহ প্রতিরোধে বেশ কিছু কার্যক্রম অত্যন্ত ফলপ্রসূ হয়েছে।
বাংলাদেশ সরকার কন্যা শিশুদের বিদ্যালয়ে পড়াশোনা অবৈতনিক করেছে, সেই সাথে তাদেরকে মাসিক হারে উপবৃত্তি প্রদান করছে। কন্যা শিশুদের নানাবিধ সম্ভাবনা উন্মোচনের লক্ষ্যে বিভিন্ন সচেতনতা সৃষ্টিমূলক কার্যক্রম পরিচালনা করছে। সে লক্ষ্যে দেশব্যাপি কিশোর কিশোরী ক্লাব প্রতিষ্ঠা করা হচ্ছে। শিশু বিবাহ প্রতিরোধে আইনি পদক্ষেপ নেয়া হয়েছে। বিবাহ নিবন্ধনের ক্ষেত্রে জাতীয় পরিচয়পত্র কিংবা জন্ম সনদ প্রদর্শন বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। শিশু বিবাহ প্রতিরোধ তথা শিশুদের নানাবিধ অধিকার বাস্তবায়নের লক্ষ্যে জাতীয় শিশু নীতি ২০১১ ঘোষণা করা হয়েছে। তিনি জানান, এতসব ব্যবস্থা গৃহীত হলেও প্রথাগত ও সাংস্কৃতিক প্রতিবন্ধকতা অতিক্রম না করা গেলে শিশু বিবাহ পুরোপুরি দূর করা সম্ভব হবে না। এজন্য কন্যা শিশুদের সম্পর্কে সকলের মানসিকতার পরিবর্তন জরুরী। তিনি জানান যে,

ছেলে শিশুর মতো কন্যা শিশুদেরও সুশিক্ষায় শিক্ষিত করে তুললে তারা পরিবার, সমাজ ও রাষ্ট্রের অর্থনৈতিক উন্নয়নে ভূমিকা রাখতে পারে। বাংলাদেশে তাই নারীদের অর্থনৈতিক সক্ষমতা বৃদ্ধির জন্য নানাবিধ পদক্ষেপ নেয়া হয়েছে। আন্তর্জাতিকভাবে কন্যা শিশু দিবস পালনের উদ্যোগকে সাধুবাদ জানিয়ে প্রতিমন্তী জানান, বাংলাদেশে ২০০০ সাল থেকেই জাতীয় কন্যা শিশু দিবস পালন করা হচ্ছে। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে নারী উন্নয়নের অগ্রদূত আক্ষা দিয়ে প্রতিমন্ত্রী জানান, তার উদ্যোগেই বাংলাদেশে প্রথম এ দিবস পালন শুরু হয়।
সূচনা বক্তব্যে জাতিসংঘের মহাসচিব মি: বান কি মুন বলেন, জাতীয় ও বৈশ্বিক উন্নয়নে কন্যা শিশুদের পেছনে আরো বেশী বিনিয়োগ করতে হবে। তিনি জানান, শিশু বিবাহ কন্যা শিশুদের সর্বমুখী সুযোগ ও সম্ভাবনাকে ধ্বংস করে এবং তাদেরকে নির্যাতন ও নানাবিধ ঝুকির মুখে ঠেলে দেয়। কন্যা শিশুদেরকে যথাযথ শিক্ষার সুযোগ দিলে এপ্রথা আস্তে আস্তে দূর হবে। তিনি এই ক্ষতিকর প্রথা দূরীকরনে সকলের আন্তরিকতা ও নিষ্ঠার প্রয়োজনীয়তার কথা তুলে ধরে বলেন, কন্যা শিশুদের শিক্ষা প্রদানের মধ্য দিয়ে তাদের ক্ষমতায়িত করতে হবে। তাহলেই শিশু বিবাহ প্রথা দূর হবে। উক্ত অনুষ্ঠানে আরো বক্তব্য রাখেন আর্কবিশপ ডেজমন্ড টুটু, জাতিসংঘ ইউএন ওমেন এর নির্বাহী পরিচালক ড. মিশেল ব্যাচেলেট, ইউএনএফপিএ এর নির্বাহী পরিচালক ড. বাবাটুনডে ওসোটিমেহিন, ইউনিসেফ এর উপ নির্বাহী পরিচালক মিস গীতা রাও গুপ্ত ও নাইজারের যুব কর্মী মিস ঘাইচা সালামাটো আগালি। অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন এনবিসি নিউজ এর রিপোর্টার মিস এন কারি। এ অনুষ্ঠানে বাংলাদেশের পক্ষ থেকে আরো উপস্থিত ছিলেন জাতিসংঘে বাংলাদেশের স্থায়ী প্রতিনিধি ড. আব্দুল মোমেন, উপ-স্থায়ী প্রতিনিধি জনাব মো: মোস্তাফিজুর রহমান, প্রতিমন্ত্রীর একান্ত সচিব এম.এ কামাল বিল্লাহ্ ও বাংলাদেশ স্থায়ী মিশনের কাউন্সিলর সামিয়া আনজুম। অনুষ্ঠান শেষে জাতিসংঘ সদর দপ্তরে শিশু বিবাহের উপর একটি প্রদর্শনীর আয়োজন করা হয়।
- নিউইয়র্কে আমেরিকান ট্রাভেল এজেন্ট এসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ’র ইফতার ও দোয়া মাহফিল
- নিউইয়র্কে অ্যাসাল ওজোন পার্ক চ্যাপ্টারের ইফতার ও অভিষেক
- নিউইয়র্কে বাংলাদেশ ল সোসাইটি ইউএসএ’র ইফতার মাহফিল: খারাপ কাজ থেকে দূরে থাকার আহ্বান
- BOROUGH PRESIDENT GIBSON HOSTS FOURTH ANNUAL BRONX IFTAR DINNER DIALOGUE UNDER THE THEME “UNITY IN DIVERSITY”
- নিউইয়র্কে মানসিক সংকটে থাকা যুবককে গুলি: পুলিশ প্রশিক্ষণ এবং মানসিক সংকটসংক্রান্ত ৯১১ কল
- নিউইয়র্কে গ্রী ম্যাকানিকেল ইয়াঙ্কার্স এর ইফতার ও দোয়া মাহফিল
- নিউইয়র্কে যুক্তরাষ্ট্র বঙ্গমাতা পরিষদ’র ইফতার ও দোয়া মাহফিল
- নিউইয়র্কে ঢাকা জেলা অ্যাসোসিয়েশনের ইফতার ও দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত








