আটক বাংলাদেশী যুবক কাজী নাফিসকে সন্ত্রাসী কাজে আইন প্রয়োগকারী সংস্থার লোকজনের সহায়তা দেয়ার বিষয়ে নিউইয়র্ক টাইমসের প্রশ্ন
ডেস্ক: আটক বাংলাদেশী যুবক কাজী মোহাম্মদ রেজওয়ানুল আহসান নাফিসকে সন্ত্রাসী কাজে আইন প্রয়োগকারী সংস্থার লোকজনের সহায়তা দেয়ার বিষয়ে প্রশ্ন তুলেছে যুক্তরাষ্ট্রের প্রভাবশালী পত্রিকা দ্য নিউ ইয়র্ক টাইমস। বলা হয়, তাকে এ কাজে উৎসাহ দেয়া হয়েছে। সরকারি উপযুক্ত সহযোগিতা না পেলে এমন পরিকল্পনা করতে সে হয়তো সক্ষম হতো না। গতকাল ব্রুকলিনের ফেডারেল ডিস্ট্রিক্ট কোর্টে হাজির করা হয় নাফিসকে। এ সময় তার মুখে ছিল খোঁচা খোঁচা দাড়ি। তার বিরুদ্ধে আনীত অভিযোগে বলা হয়েছে- নাফিস হামলা ও হত্যার পরিকল্পনা নিয়ে কথা বলেছিল। তার হত্যা তালিকায় ছিল উচ্চ পর্যায়ের সরকারি কর্মকর্তা। সিনিয়র আইন প্রয়োগকারী এক কর্মকর্তা বলেছেন, ওই সিনিয়র কর্মকর্তা ছিলেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামা। ম্যাজিস্ট্রেট রোয়ানি এল মান যখন তাকে প্রশ্ন করছিলেন তখন সে ছিল শান্ত। ধীর স্থিরভাবে সব প্রশ্নের জবাব দিয়েছে সে। তবে তাকে আটকের ঘটনা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে নিউ ইয়র্ক টাইমস। তারা বলেছে, যাদের সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডের জন্য ঝুঁকি বলে মনে করা হয় তাদের তুলে ধরতে কেন্দ্রীয় আইন প্রয়োগকারী সংস্থার কর্মকর্তারা সর্বশেষ মডেল অনুসরণ করেছেন। এ ক্ষেত্রে এফবিআই-এর এজেন্ট ও ইনফরমার এ ধরনের অপারেশন চালাতে নাফিসকে উৎসাহিত করেছেন, তাকে নির্দেশনা দিয়েছেন, অর্থ দিয়েছেন, এমনকি হামলা চালাতে প্রয়োজনীয় সরঞ্জাম পর্যন্ত সরবরাহ দিয়েছেন। এ বিষয়টি আদালত দেখবে। তবে তাদের এ ধরনের কর্মকাণ্ডের সমালোচনা করা হচ্ছে এখন। সমালোচকরা মনে করছেন উপযুক্ত সরকারি সহায়তা ছাড়া এমন একটি পরিকল্পনা নিয়ে এগিয়ে যেতে পারতো না নাফিস। এ ক্ষেত্রে নিউ ইয়র্ক টাইমস ২০০৯ সালের একটি ঘটনার প্রসঙ্গ উত্থাপন করেছে। ওই বছর বেশ কয়েকজন ব্যক্তি ব্রনক্স-এ রিভারডেল সেকশনে একটি উপাসনালয়ের সামনে বাসায় তৈরী বোমা স্থাপন করেছিল। ওই ঘটনায় ৪ জনকে অভিযুক্ত করা হয়। তাতেও সরকারি ইনফরমারের ভূমিকা ছিল। এ মামলাটি যে বিচারক দেখছিলেন তিনি এতে আইন প্রয়োগকারী এজেন্টদের ভূমিকার সমালোচনা করেন। ওই এজেন্টরা ওই ব্যক্তিদের ওই বোমা পাতার পরিকল্পনা সামনে এগিয়ে নিতে সহায়তা করেছিল। বিচারক তাই সমালোচনায় বলেছিলেন- ‘দ্য গভর্নমেন্ট মেড দেম টেররিস্টস’। অর্থাৎ সরকার তাদের সন্ত্রাসী বানিয়েছে। নিউ ইয়র্ক টাইমস তার রিপোর্টে আরও লিখেছে- কাজী মোহাম্মদ রেজওয়ানুল আহসান নাফিস এ বছরের জানুয়ারিতে স্টুডেন্ট ভিসায় যুক্তরাষ্ট্রে যায়। মামলায় বলা হয়েছে, এরপরই সে একটি সন্ত্রাসী সেল গঠনের জন্য লোকজনের সঙ্গে যোগাযোগ করতে থাকে এবং তার সেলে লোকসংখ্যা বাড়াতে থাকে। এরই এক পর্যায়ে সে গোয়েন্দা সংস্থা এফবিআই-এর একজন ইনফরমারকে যোগ করে তার দলে। ওই ইনফরমার পরে তাকে নাফিসের কাছে ছদ্মবেশধারী এফবিআই-এর এজেন্ট হিসেবে পরিচয় দেয়। এই এজেন্টই তাকে নাফিসের ওই হামলা পরিকল্পনা সাজাতে সহায়তা করে। নাফিসের সঙ্গে তার বৈঠক হয় গত জুলাইতে। প্রথম সাক্ষাৎ হয় সেন্ট্রাল পার্কে। পরে সাক্ষাৎ হয় কুইন্সের একটি হোটেলে। এ সময় সে নাফিসের একটি মন্তব্য গোপনে রেকর্ড করে। এতে নাফিস বলে- আমি ছোটখাটো কিছু করতে চাই না। বড় কিছু আমার টার্গেট। সেটা হবে অনেক অনেক অনেক অনেক বড়। এতটাই বড় যে তাতে পুরো দেশ কেঁপে যাবে। এ পর্যায়ে নাফিস যুক্তরাষ্ট্রের অর্থনীতিকে নাড়িয়ে দিতে একটি আর্থিকভাবে উন্নত জেলায় আক্রমণের টার্গেট নির্ধারণ করে। প্রথমে সে আত্মঘাতী একটি অভিযান চালানোর পরিকল্পনা করে। কিন্তু তার আগে সে বাংলাদেশে ফেরার জন্য ওই আত্মঘাতী হামলার পরিকল্পনা পরিবর্তন করে। এ সময়ে এফবিআই-এর ওই ছদ্মবেশধারী এজেন্ট নাফিসকে বলেন যে, এক্ষেত্রে সে হামলা চালাতে রিমোট কন্ট্রোল ডিভাইস ব্যবহার করতে পারে। এর মাধ্যমে সে হামলা পরিচালনা করে তারপর দেশে ফিরে যেতে পারবে। বুধবার সকালে নাফিস ও ওই এজেন্ট একটি গাড়ি চালিয়ে একটি ওয়্যারহাউজের কাছে যায়। এরপর সে ময়লা ফেলার ঝুড়িতে ওই বিস্ফোরকের ডিভাইস রাখে। ওই ঝুড়িটি সেখান থেকে একটি ভ্যানে নিয়ে তোলা হয়। এসব কথা বলা হয়েছে মামলার বিবরণে। এতে আরও বলা হয়, ওই বিস্ফোরক ডিভাইসটি ছিল আসলে একটি ভুয়া বোমা। তবে নাফিসকে বলা হয়, এটি মোবাইল ফোন দিয়ে নিয়ন্ত্রণ করা যাবে। তারা ওই ভ্যানটি চালিয়ে নিয়ে যায় ফেডারেল রিজার্ভ ব্যাংকের সামনে। এ ব্যাংকটি বিশ্বের সবচেয়ে বড় ব্যাংক। সেখানে গিয়ে নাফিস ও ওই ছদ্মবেশী এজেন্ট ভ্যানটি পার্ক করে ব্যাংকের বাইরে। তারপর তারা সেখান থেকে হেঁটে চলে যায় পাশের একটি হোটেলে। এখানে যুক্তরাষ্ট্রের মানুষের উদ্দেশে নাফিস একটি ভিডিও বার্তা রেকর্ড করে। সে চেয়েছিল হামলার পর ওই বার্তাটি প্রকাশ করতে। এতে সে বলেছে, আমরা বিজয় অর্জন না করা অবধি অথবা শহিদ না হওয়া পর্যন্ত থামবো না। এরপরই নাফিস বার বার তার মোবাইল ফোন ব্যবহার করে বোমাটি বিস্ফোরিত করার চেষ্টা করে। কিন্তু বোমাটি ভুয়া হওয়ায় তার উদ্দেশ্য সফল হয় না। ততক্ষণে আইন প্রয়োগকারী সংস্থার লোকজন তাকে ঘিরে ফেলে।মানবজমিন
সর্বশেষ সংবাদ
- DRIVER CHARGED WITH MANSLAUGHTER IN DEADLY HIT-AND-RUN IN MARCH ON JAMAICA AVENUE
- নিউইয়র্কে বিএনপির কেন্দ্রীয় কমিটির সাংগঠনিক সম্পাদক সাংসদ অধ্যাপক সেলিম ভূঁইয়াকে সংবর্ধনা, কুমিল্লা বিভাগ শুধু সময়ের ব্যাপার
- UN General Assembly Adopts Bangladesh-Led Culture of Peace Resolution
- বাংলাদেশের উত্থাপিত ‘শান্তি ও সহাবস্থানের সংস্কৃতি’ বিষয়ক প্রস্তাব গ্রহণ করল জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদ
- নিউইয়র্কের জ্যামাইকায় জল খাবার রেস্টুরেন্ট এর গ্র্যান্ড ওপেনিং
- New York Attorney General James Secures $375,000 from 1-800-Flowers for Deceiving Consumers About Automatic Subscription Renewals
- নিউইয়র্কের ব্রঙ্কসে বাংলাদেশি আমেরিকা পুলিশ কর্মকর্তার নামে সড়ক ‘ডিটেকটিভ দিদারুল ইসলাম ওয়ে’
- ECOSOC recommends UN General Assembly to take decision on Bangladesh and Nepal’s LDC graduation extension requests