‘নাইন ইলেভেনের পর সবচেয়ে ভয়ঙ্কর সন্ত্রাসী নাফিস’ -মার্কিন বিচার বিভাগের যুক্তরাষ্ট্র এটর্নি লরেটা লাইঞ্চ
কাউসার মুমিন, নিউ ইয়র্ক : নিউ ইয়র্কে এফবিআই-এর হাতে গ্রেপ্তারকৃত বাংলাদেশী ছাত্র নাফিসকে ‘নাইন ইলেভেনের পর সবচেয়ে ভয়ঙ্কর সন্ত্রাসী’ বলে মন্তব্য করেছেন মার্কিন বিচার বিভাগের যুক্তরাষ্ট্র এটর্নি লরেটা লাইঞ্চ। নিউ ইয়র্কের ফেডারেল রিজার্ভ ব্যাংকে বোমা হামলা পরিকল্পনায় গ্রেপ্তারকৃত নাফিসের বিরুদ্ধে মামলায় মার্কিন সরকারের ফেডারেল আইনজীবী যুক্তরাষ্ট্র এটর্নি লরেটা লাইঞ্চ এ প্রথমবারের মতো নাফিস সম্পর্কে মন্তব্য করতে গিয়ে শুক্রবার নিউ ইয়র্কের এনবিসি ফোর নিউজ চ্যানেলকে দেয়া এক সাক্ষাৎকারে বলেন, সে (নাফিস) সন্ত্রাসী হামলার উদ্দেশ্য নিয়েই যুক্তরাষ্ট্রে আসে এবং যুক্তরাষ্ট্রে আসার আগেই সে উগ্রবাদে দীক্ষিত হয়। নিউ ইয়র্ক সিটির সাবওয়ে সিস্টেমে ২০০৯ সালে একদল সংঘবদ্ধ সন্ত্রাসীর আত্মঘাতী হামলা পরিকল্পনার সঙ্গে নাফিসের পরিকল্পনাকে তুলনা করে লরেটা বলেন, আমি বলবো নাফিস ওই সংঘবদ্ধ সন্ত্রাসী দলের চেয়ে বেশি না হলেও ওদের সমানই ভয়ঙ্কর সন্ত্রাসী। তিনি বলেন, নাফিসকে দমানোর কোন উপায় ছিল না, সে এখন থেকেই পরিকল্পনা করছিল এ যাত্রায় বেঁচে গেলে পরেরবার কিভাবে আরও বেশি ধ্বংসাত্মক হামলা করা যাবে। লরেটা আরও বলেন, ফেডারেল আইন প্রয়োগকারী সংস্থাগুলোর সৌভাগ্য যে সন্ত্রাসী দল গঠনে নাফিস ভুলক্রমে একজন এজেন্টের শরণাপন্ন হয়েছিল, নইলে অন্যরকম হতে পারতো। কেননা, নাফিসের যুক্তরাষ্ট্রে অবস্থানের বিষয়টি এফবিআই জানতে পারার বেশ কয়েক সপ্তাহ আগে থেকেই সে সন্ত্রাসী দল গঠনের লক্ষ্যে সদস্য সংগ্রহের চেষ্টা করে যাচ্ছিল। তদন্ত কর্মকর্তারা বলছেন, নাফিস বোমা তৈরির জ্ঞান রাখে এবং বেশ কয়েক সপ্তাহ ধরে সে হামলার লক্ষ্যস্থলগুলো জরিপ করেছে। তিনি বলেন, বর্তমানে নাফিসের সঙ্গে আল-কায়েদার আন্তর্জাতিক কানেকশন খতিয়ে দেখা হচ্ছে। নাফিস খুব ভাল ছেলে এবং সম্ভবত কেউ তাকে দিয়ে এসব করিয়ে নিয়েছে- নাফিসের আত্মীয় স্বজনের এমন বক্তব্য প্রসঙ্গে এটর্নি লরেটা বলেন, এই যুবকদের যারা ব্যবহার করছে সে মার্কিন সরকার নয়, বরং আল-কায়েদা। আর আমরা অবশ্যই আল-কায়েদার এ নেটওয়ার্ক গুঁড়িয়ে দেবো। বাংলাদেশের আইন প্রয়োগকারী সংস্থার প্রাথমিক তদন্তে নাফিসের বাংলাদেশে অবস্থানকালীন কোন উগ্রপন্থি সংগঠনের সঙ্গে জড়িত থাকার প্রমাণ পাওয়া না গেলেও গতকাল যুক্তরাষ্ট্রের দৈনিক ‘ক্রিশ্চিয়ান সাইন্স মনিটর’ ঢাকায় নাফিসের সর্বশেষ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ‘নর্থসাউথ ইউনিভার্সিটির’ একজন সিনিয়র ফ্যাকাল্টির বরাত দিয়ে জানিয়েছে, ‘নাফিস বাংলাদেশে হিজবুত তাহরীর সঙ্গে জড়িত ছিল। বিশ্বজুড়ে ইসলামী খিলাফত কায়েমে নিয়োজিত হিজবুত তাহরীরকে ২০০৯ সালে বাংলাদেশ সরকার নিষিদ্ধ ঘোষণা করে।’ এদিকে ওয়াশিংটনে বাংলাদেশ দূতাবাস সূত্রে জানা গেছে, গতকাল শুক্রবার দূতাবাস নিশ্চিত হয়েছে নাফিস বাংলাদেশী নাগরিক এবং নাফিসের সঙ্গে একান্তে সাক্ষাতের জন্য ‘কনস্যুলার এক্সেস’ চেয়ে দূতাবাসের পক্ষ থেকে মার্কিন সরকারের যথাযথ কর্তৃপক্ষের নিকট আবেদন করা হয়েছে। উল্লেখ্য, গ্রেপ্তারের দিন দুপুরে ব্রুকলিনের ফেডারেল কোর্টহাউজে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ম্যাজিস্ট্রেট-জাজ রোয়ান এল ম্যানের আদালতে নাফিসের বিরুদ্ধে ‘ব্যাপক বিধ্বংসী মারণাস্ত্র ব্যবহারের চেষ্টার মাধ্যমে ইউনাইটেড স্টেটস কোড, টাইটেল ১৮, সেকশন ২৩৩২এ, এবং আল কায়েদাকে ‘বস্তুগত সমর্থন’ দেয়ার মাধ্যমে ইউনাইটেড স্টেটস কোড, টাইটেল ১৮, সেকশন ২৩৩৯বি লঙ্ঘনের দায়ে অভিযুক্ত করে জামিনবিহীন গ্রেপ্তার দেখানো হয়। নাফিসের পক্ষে এ মামলায় প্রয়োজনীয় আইনি সহায়তা দেবেন ডিফেন্স এটর্নি ও ফেডারেল ডিফেন্ডার, ব্রুকলিন এটর্নি হেইডি ক্লেয়ার সিজেয়ার। ‘যে কোন ফৌজদারি মামলার মতোই নাফিসের বিরুদ্ধে আনীত অভিযোগ প্রমাণিত না হওয়া পর্যন্ত তিনি আইনের চোখে নির্দোষ বলে বিবেচিত হবেন, অভিযোগ প্রমাণিত হলে তার সর্বোচ্চ শাস্তি হবে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড’ বলে ডিপার্টমেন্ট অব জাস্টিসের লিখিত বিবৃতিতে জানানো হয়।
- নিউইয়র্কে আমেরিকান ট্রাভেল এজেন্ট এসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ’র ইফতার ও দোয়া মাহফিল
- নিউইয়র্কে অ্যাসাল ওজোন পার্ক চ্যাপ্টারের ইফতার ও অভিষেক
- নিউইয়র্কে বাংলাদেশ ল সোসাইটি ইউএসএ’র ইফতার মাহফিল: খারাপ কাজ থেকে দূরে থাকার আহ্বান
- BOROUGH PRESIDENT GIBSON HOSTS FOURTH ANNUAL BRONX IFTAR DINNER DIALOGUE UNDER THE THEME “UNITY IN DIVERSITY”
- নিউইয়র্কে মানসিক সংকটে থাকা যুবককে গুলি: পুলিশ প্রশিক্ষণ এবং মানসিক সংকটসংক্রান্ত ৯১১ কল
- নিউইয়র্কে গ্রী ম্যাকানিকেল ইয়াঙ্কার্স এর ইফতার ও দোয়া মাহফিল
- নিউইয়র্কে যুক্তরাষ্ট্র বঙ্গমাতা পরিষদ’র ইফতার ও দোয়া মাহফিল
- নিউইয়র্কে ঢাকা জেলা অ্যাসোসিয়েশনের ইফতার ও দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত








