যুক্তরাষ্ট্রে ৬ নভেম্বরের নির্বাচন : প্রবাসী বাংলাদেশিদের মাঝে ওবামার ভক্ত-সমর্থক সংখ্যাই বেশি
সাখাওয়াত হোসেন সেলিম : ৬ নভেম্বর মঙ্গলবার অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে মার্কিন প্রেসিডেন্ট নির্বাচন। যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের প্রচারণা এখন চূড়ান্ত পর্যায়ে। বিশ্ব ইতিহাসের সবচে ব্যয়বহুল এই নির্বাচনে বর্তমান প্রেসিডেন্ট ও ডেমোক্র্যাটিক প্রার্থী বারাক ওবামা এবং তার রিপাবলিকান প্রতিদ্বন্দ্বি মিট রমনির যে ‘যুদ্ধে’ অবতীর্ণ হবেন তাতে ব্যয় হবে আনুমানিক ৬০০ কোটি মার্কিন ডলার। বিভিন্ন জনমত জরিপে, প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামা তার প্রতিদ্বন্দ্বী প্রেসিডেন্ট পদে রিপাবলিকান দলের প্রার্থী মিট রমনির চেয়ে খানিকটা এগিয়ে আছেন। ওবামার এগিয়ে থাকার পূর্বাভাস দেওয়া হচ্ছে বিভিন্ন সংবাদ মাধ্যমে। নিজেদের পক্ষে সমর্থন বাড়ানোর জন্য দু’প্রতিদ্বন্দ্বি এখনো বিভিন্ন বিষয়, যেমন ইমিগ্র্যান্ট, আয়কর নীতি, স্বাস্থ্য ও শিক্ষা নীতি, সমকামীদের বিয়ে ও গর্ভপাত বিষয়ক নীতি, এনার্জি পলিসি, পররাষ্ট্র-বিষয়ক নীতি, পরিবেশ বিষয়ক নীতি, আর্থিক খাতে বেইলআউট সম্পর্কিত নীতিমালা ইত্যাদি নিয়ে বিতর্ক করে যাচ্ছেন। এখন অপেক্ষার পালা আগামী কয়েক ঘন্টার। কে হবেন যুক্তরাষ্ট্রের পরবর্তী প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামা নাকি মিট রমনি। আমেরিকানদের মতো বিশ্ববাসীও অধীর আগ্রহে অপেক্ষা করছে সেই দিনটির জন্য। নির্বাচন নিয়ে প্রবাসী বাংলাদেশিদের মধ্যে ব্যাপক কৌতুহলের সৃষ্টি হয়েছে। অভিবাসননীতি, ড্রিম এ্যাক্ট, আয়কর নীতি, স্বাস্থ্য ও শিক্ষা নীতি সহ বিভিন্ন ইস্যুতে বাংলাদেশিদের মধ্যে ওবামার ভক্ত-সমর্থক সংখ্যাই বেশি। প্রায় ৯৯%। প্রবাসী বাংলাদেশীদের সিংহভাগই ডেমোক্র্যাট রাজনীতি করেন। কোন কোন প্রবাসী বাংলাদেশী রিপাবলিকান পার্টির সঙ্গে যুক্ত হলেও সমর্থন দিচ্ছেন আবার ওবামাকে। তাদের ভোট এই নির্বাচনে বড় কোনো প্রভাব ফেলবে না। কারণ বহু বাংলাদেশী মার্কিন নাগরিক ভোটার রেজিস্ট্রেশন করেননি। তবে বাংলাদেশি আমেরিকানদের ভোটে কিছুটা হলেও এগিয়ে যাবেন ওবামা। যুক্তরাষ্ট্র প্রবাসী বাংলাদেশী বেশী ভোটারের ধারণা, নির্বাচনে বারাক ওবামার অবস্থান তুলনামূলক ভালো। তিনি পুনরায় প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হতে পারেন। আগামী ৬ নভেম্বর অনুষ্ঠেয় নির্বাচনে বর্তমান প্রেসিডেন্ট ও ডেমোক্র্যাটিক প্রার্থী বারাক ওবামা কে পুন:নির্বাচনের আহ্বান জানিয়েছেন বাঙালী কমিউনিটি নেতৃবৃন্দ।
নিউইয়র্কে মুলধারার রাজনীতিক আইন বিশেষজ্ঞ মোহাম্মদ এন মজুমদার বলেন, দল মত নির্বিশেষে ওবামাকে ভোট দিয়ে নির্বাচিত করা উচিত। এন মজুমদার বলেন, ওবামা ড্রিম এ্যাক্টের জন্য কাজ করে যাচ্ছেন। বিলটি পাশ হলে এদেশে অবৈধভাবে অবস্থান করা ১৫-৩৫ বছর বয়সী ছাত্র-ছাত্রীরা আমেরিকান ছাত্র-ছাত্রীদের মতই সকল সুযোগ-সুবিধা ভোগ করতে পারবে। তিনি বলেন, গত ৪ বছরে ইমিগ্র্যান্টদের জন্য বিশেষ কিছু করার ব্যাপারে আন্তরিকতার কোন ঘাটতি ছিলনা ওবামার। কিন্তু কংগ্রেসে সংখ্যা গরিষ্ঠতা না থাকায় তা পুরোপুরি সম্ভব হয়ে ওঠেনি।মোহাম্মদ এন মজুমদার ওবামা কে পুন:নির্বাচন করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ উল্লেখ করেন । তিনি নির্বাচনে সুপার হারিকেন স্যান্ডি ঝড়ে প্রভাব ফেলবে বলে মনে করছেন।
ডেমোক্রেটিক ন্যাশনাল কনভেনশনে বাঙ্গালী ডেলিগেট হিসেবে যোগ দান কারী প্রবাসী বাংলাদেশী আবদুস শহীদ দীর্ঘদিন ধরে যুক্তরাষ্ট্রের মুলধারার রাজনীতির সঙ্গে সক্রিয়।তিনি মনে করেন, গত চার বছরে বাংলাদেশী কমিউনিটি ওবামা প্রশাসনের কাছ থেকে অনেক সুফল পেয়েছে। ৯৯ % বাংলাদেশীই ওবামার সমর্থক। আগামী নির্বাচনে ওবামাই জয়ী হবেন। তার অসমাপ্ত কাজ সম্পূর্ণ করার জন্য তাকেই সুযোগ দেয়া উচিত।।
নিউইয়র্কে মুলধারার রাজনীতির সঙ্গে সম্পৃক্ত গিয়াস আহমেদ। রিপাবলিকান পার্টিও ন্যাশনাল কমিটির এ সদস্য রাজনীতিতে বিপরীত মেরুর হলেও ভোটের রাজনীতিতে ওবামাকেই সমর্থন দিচ্ছেন। ওবামাকে ভোট দেয়ার জন্য বাংলাদেশী কমিউনিটির সবাইকে আহ্বানও জানান তিনি। তিনি বলেন, ওবামা ক্ষমতায় আসার পর আমেরিকা নতুন করে কোন যুদ্ধে জড়ায়নি । তিনি বলেন, রমনি জয়ী হলে বুশের পদাঙ্ক অনুসরণ করবেন । গিয়াস আহমেদ, ড্রিম এ্যাক্ট, ঈদের দিন পাবলিক স্কুলে ছুটি, স্কুলে মুসলমান ছাত্রদের জন্য হালাল খাবার সরবরাহের বিষয়টি নিশ্চিত করা সহ অনেক কিছুই করবেন ওবামা। নির্বাচনে হাড্ডা লড়াই হবে না বলে মনে করেন এ নেতা।
ডেমোক্রেটিক ন্যাশনাল কনভেনশনে বাঙ্গালী ডেলিগেট হিসেবে যোগ দান কারী দক্ষিণ এশিয়ার সার্কভুক্ত ৮টি দেশের অভিবাসীদের সমন্বয়ে গঠিত ’এলায়েন্স অব সাউথ এশিয়ান আমেরিকান লেবার’ (অ্যাসাল) এর ন্যাশনাল প্রেসিডেন্ট ও মূল ধারার বিশিষ্ট শ্রমিক নেতা মাফ মিসবাহ উদ্দিন মনে করেন নির্বাচনে শেষ পর্যন্ত ওবামাই জয়ী হবেন। তিনি বলেন কমিউনিটির সুযোগ-সুবিধা,অভাব-অভিযোগ পূরণে ওবামার বিকল্প নেই। সুপার হারিকেন স্যান্ডি ঝড় ওবামা দৃঢ় প্রত্যয় নিয়ে যেভাবে মোকবেলা করেছেন প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে তা বিরাট ফল বয়ে আনবে। মাফ মিসবাহ বলেন, ২০০৮ সালের নির্বাচনে বিপুল ভোটে জয়ী হয়েছিলেন ওবামা।তিনি বলেন, মার্কিন অর্থনীতিই হবে এই নির্বাচনের ফলাফল নিয়ন্ত্রণের ক্ষেত্রে মূল নিয়ন্ত্রক। তার কারণ বিতর্কের বিষয়গুলোর বেশিরভাগই অর্থনীতির বিভিন্ন খাতকে ঘিরে। কিন্তু বৈশ্বিক অর্থনীতির গতি-প্রকৃতি কিন্তু প্রেসিডেন্ট ওবামার নিয়ন্ত্রণের বাইরে। তিনি মনে করেন, প্রকৃত অর্থে কমিউনিটি এবং দেশের উন্নয়নে ভূমিকা রাখতে হলে ওবামাকেই নির্বাচিত করতে হবে। তিনি বলেন, আগে ৪৭% মানুষের স্বাস্থ্যবীমা ছিল না। এখন শতভাগ মানুষ স্বাস্থ্যবীমার আওতায়।
শহীদুল ইসলাম : যুক্তরাষ্ট্রে আগামী ৬ নভেম্বরের নির্বাচন নিয়ে প্রবাসী বাংলাদেশিদের মধ্যে ব্যাপক কৌতুহলের সৃষ্টি হয়েছে। তাদের ভোট এই নির্বাচনে বড় কোনো প্রভাব যে ফেলবে না তা সহজেই অনুমেয়। কারণ বহু বাংলাদেশী মার্কিন নাগরিক হলেও ভোটার রেজিস্ট্রেশন করেননি। ফলে তারা নির্বাচনে ভোট দিতে পারবেন না। তবে যুক্তরাষ্ট্র প্রবাসী অনেক বাংলাদেশী ভোটারের ধারণা, নির্বাচনে বারাক ওবামার অবস্থান তুলনামূলক ভালো। তিনি পুনরায় প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হতে পারেন। প্রবাসী বাংলাদেশিদের মধ্যে ওবামার ভক্ত-সমর্থক সংখ্যা কম নয়।
প্রবাসী বাংলাদেশী মোরশেদ আলম দীর্ঘদিন ধরে যুক্তরাষ্ট্রের মুলধারার রাজনীতির সঙ্গে সক্রিয়। মোর্শেদ আলম মনে করেন, গত চার বছরে বাংলাদেশী কমিউনিটি ওবামা প্রশাসনের কাছ থেকে অনেক সুফল পেয়েছে। আগে ৪৭% মানুষের স্বাস্থ্যবীমা ছিল না। এখন শতভাগ মানুষ স্বাস্থ্যবীমার আওতায়। তিনি নিজেও সরাসরি উপকৃত হয়েছেন। কেউ চিকিত্সার জন্য হাসপাতালে গিয়ে ফেরত আসেনি। বাংলাদেশী কমিউনিটির অনেক লোক হাউজিং সুবিধা নিচ্ছে। বহু লোক ফুড স্ট্যাম্প নেন। অনেকের সন্তান কমিউনিটি কলেজে পড়ছে অনেকটা বিনা খরচে। উল্টো অতিরিক্ত অর্থও তারা পাচ্ছে। তিনি বলেন, বাংলাদেশী কমিউনিটি গরীব ও মধ্যবিত্ত শ্রেণীর। তাই আমরা ওবামা প্রশাসনের কাছ থেকে সবচেয়ে সুবিধা ভোগ করছি। মোর্শেদ আলমের সঙ্গে একমত পোষণ করে এটর্নি রুবাইয়া রহমান বলেন,সমানাধিকার নিয়ে ওবামার কাজে নারীরা খুশী।
ইমিগ্রেশন বিশেষজ্ঞ, লেখক ও সাংবাদিক মঈনুদ্দিন নাসের বলেন, সাধারণত প্রবাসী বাংলাদেশীরা ডেমোক্র্যাটমুখী। অনেক প্রবাসী বাংলাদেশী রিপাবলিকান পার্টির সঙ্গেও যুক্ত। ব্রুকলিনের বাসিন্দা রফিকুল ইসলাম মনে করেন, ওবামা সফল বা ব্যর্থ কোনোটিই নন। তবে তারা এখনো আশাবাদী যে ওবামা প্রশাসন যুক্তরাষ্ট্রের চাকরির বাজার তৈরি করবেন। প্রতিটি মানুষ দেখতে চায় তারা আগের মত কাজ পাচ্ছে কীনা। খুব সহজে ব্যাংকের ঋণ নিয়ে বাড়ি কিনতে পারছে কীনা। ব্রুকলিনের আরেক বাসিন্দা হাজী আনোয়ার উল্লাহ বেপারী বলেন, ২০০৮ সালে তিনি ওবামার নির্বাচনী প্রচারণা চালিয়েছেন। কিন্তু নির্বাচিত হবার পর ওবামা প্রশাসন প্রতিশ্রুতি রক্ষা করতে পারেনি। তাই যিনি সফল নন, তাকে ব্যর্থ বলাই উচিত।
এ বছরই ভোটার হয়েছেন কমিউনিটি অ্যাকটিভিস্ট রাসেল কবীর রহমান। আগামী ৬ নভেম্বরের নির্বাচনে তিনি প্রথম ভোট দেবেন। এজন্য বেশ উত্ফুল্লও তিনি।
- ওয়ার্ল্ড হিউম্যান রাইটস ডেভেলপমেন্ট ইউএসএর সাধারণ সম্পাদক ড. সাদিয়া আফরিন এরা
- চরমোনাই পীরের যুক্তরাষ্ট্র সফর উপলক্ষে নিউইয়র্কে দোয়া মাহফিল, কুরআন-সুন্নাহর আলোকে বয়ান
- New York Attorney General James Secures Reimbursements for T-Mobile Customers Whose Rates Were Unjustly Raised
- নিউইয়র্কে বাংলাদেশ সোসাইটির নির্বাচনে কুনু-ফিরোজ পরিষদের সাত দফা ইশতেহার ঘোষণা; কমিউনিটি সেন্টার প্রতিষ্ঠা, সাশ্রয়ী ফিউনারেল সেবা, বিমানের সরাসরি ফ্লাইট ও আর্থিক স্বচ্ছতায় অঙ্গীকার
- ফিলিস্তিনিদের আত্মনিয়ন্ত্রণের অধিকারের প্রতি বাংলাদেশের পূর্ণ সমর্থন: জাতিসংঘে রাষ্ট্রদূত আইরিন খান
- নিউইয়র্কে বাংলাদেশ সোসাইটির নির্বাচনে প্রথমবারের মতো বিতর্ক, গুরুত্ব পেল স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি
- New York Attorney General James Warns New Yorkers About AI-Generated Election Misinformation Ahead of November Elections
- Bangladesh calls for global treaty to protect victims of crimes against humanity