Saturday, 14 March 2026 |
শিরোনাম
নিউইয়র্কে জালালাবাদ অ্যাসোসিয়েশনের কোরআন তেলাওয়াত প্রতিযোগিতার ও ইফতার মাহফিল অনুষ্ঠিত যুক্তরাষ্ট্র জাতীয় পার্টির ইফতার ও দোয়া মাহফিল যুক্তরাষ্ট্র যুবদল নেতা জাকির এইচ চৌধুরীর সংবাদ সম্মেলন: রাজনৈতিক প্রতিপক্ষ আদালত কর্তৃক মীমাংসিত বিষয় নিয়ে অপপ্রচার চালিয়ে যাচ্ছে নিউইয়র্কে জালালাবাদ এসোসিয়েশন অব আমেরিকা’র ইফতার ও দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত নিউইয়র্কে আমেরিকান ট্রাভেল এজেন্ট এসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ’র ইফতার ও দোয়া মাহফিল নিউইয়র্কে অ্যাসাল ওজোন পার্ক চ্যাপ্টারের ইফতার ও অভিষেক নিউইয়র্কে বাংলাদেশ ল সোসাইটি ইউএসএ’র ইফতার মাহফিল: খারাপ কাজ থেকে দূরে থাকার আহ্বান BOROUGH PRESIDENT GIBSON HOSTS FOURTH ANNUAL BRONX IFTAR DINNER DIALOGUE UNDER THE THEME “UNITY IN DIVERSITY” নিউইয়র্কে মানসিক সংকটে থাকা যুবককে গুলি: পুলিশ প্রশিক্ষণ এবং মানসিক সংকটসংক্রান্ত ৯১১ কল নিউইয়র্কে গ্রী ম্যাকানিকেল ইয়াঙ্কার্স এর ইফতার ও দোয়া মাহফিল
সব ক্যাটাগরি

মার্কিন প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে ওবামার জয় আর রমনির পরাজয়ের নেপথ্যে

অনলাইন ডেস্ক পঠিত: 195 বার

প্রকাশিত: November 14, 2012 | 11:12 PM

মোহাম্মদ আতাউর রহমান  : ৫৭তম মার্কিন প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে ডেমোক্রেটিক দলীয় প্রার্থী বারাক ওবামা পুনর্নিবাচিত হলেন।  ধারণা করা হয়েছিল নির্বাচন বৈতরণী পেরুতে ডেমোক্রেটদের কাঠখড় পোড়াতে হবে। সেটি হয়নি। পপুলার ও ইলেক্টোরাল উভয় ভোটেই একচেটিয়া জয় পেয়ে আগামী চার বছরের জন্য হোয়াইট হাউস নিশ্চিত করেন ওবামা। জয় হয়েছে ওবামার পররাষ্ট্রনীতি, অভিবাসননীতি, প্রতিরক্ষানীতি, স্বাস্থ্যনীতি আর সব শ্রেণীর মানুষের ভাগ্যোন্নয়নে তার দেয়া প্রতিশ্রুতির। সেদেশের হিস্প্যানিক জনগোষ্ঠী, তরুণ, নারী আর কৃষ্ণাঙ্গরা ওবামার জয়ে বড় অবদান রাখেন। শ্বেতাঙ্গ ও বয়স্ক ভোটাররা রমনির প্রতি আস্থা দেখালেও তার কট্টর রক্ষণশীল নীতি ও সঠিক নির্বাচনী কৌশল গ্রহণে ব্যর্থতা নির্বাচনে তাকে ডুবিয়েছে। এবারের নির্বাচনে ১৬ কোটি ৯০ লাখ ভোটার ভোট দিয়েছেন।

ওবামা পুনর্নিবাচিত হওয়ার ক্ষেত্রে অনেকগুলো ফ্যাক্টর কাজ করেছে। প্রথমত, নির্বাচনের পূর্বমুহূর্তে যুক্তরাষ্ট্রের উত্তর-পূর্বাঞ্চল দিয়ে বয়ে যাওয়া ঘূর্ণিঝড় স্যান্ডি ওবামাকে জনগণের কাছাকাছি নিয়ে গেছে। ক্ষতিগ্রস্ত এলাকায় ওবামা জনগণের পাশে দাঁড়িয়ে যে রাষ্ট্রনায়কোচিত দায়িত্বের পরিচয় দিয়েছেন তাতে ভোটাররা আকৃষ্ট হয়েছেন নিঃসন্দেহে। দ্বিতীয়ত, দেশীয় অর্থনীতিতে ঘাটতি পুষিয়ে আনতে উচ্চবিত্তদের করবৃদ্ধিকল্পে ওবামা যে করনীতির কথা বলেছেন, তা দেশের নিম্নমধ্যবিত্ত শ্রেণী, মধ্যবিত্ত, কর্মজীবী, তরুণ ও মধ্যবয়সীদের আকৃষ্ট করেছে। তৃতীয়ত, ওবামার নির্বাচনী কৌশল। ডেমোক্রেট শিবির রমনির গায়ে নির্বাচনী প্রচারণার শুরু থেকেই যে নেতিবাচক তকমা লাগিয়ে দিয়েছেন, রমনি কিন্তু তা উত্রাতে পারেননি। ডেমোক্রেটরা সুকৌশলে ‘রমনিকে একজন ধনী ব্যবসায়ী যিনি মধ্যবিত্তের আশা-আকাঙ্ক্ষা বুঝতে পারেন না’- এমন মানুষ হিসেবে আখ্যা দিয়ে মধ্যবিত্ত নিম্নমধ্যবিত্তের কাছ অনেকটা দূরে সরিয়ে রেখেছেন। স্যান্ডি চলাকালে রমনির ভূমিকা ডেমোক্রেটদের দেয়া তকমাকে আরও গ্রহণযোগ্য করেছে। চতুর্থত, রিপাবলিকানদের অতিমাত্রায় রক্ষণশীল নীতির চেয়ে ডেমোক্রেটদের উদারনীতি জনগণকে আকৃষ্ট করেছে। অন্যদিকে রমনির পরাজয়ের পেছনে বেশ কয়েকটি বিষয় ভূমিকা রেখেছে। ১. এক গোপন ভিডিওতে রমনি যুক্তরাষ্ট্রের জনগণের একটি উল্লেখযোগ্য অংশকে সুবিধাবাদী ও সরকারের দায় হিসেবে উল্লেখ করেছিলেন। এ ইস্যুটি কাজে লাগিয়ে প্রতিদ্বন্দ্বী শিবির রমনির নেতৃত্ব গুণাবলী নিয়ে প্রশ্ন  তোলেন। এটি রমনির জন্য কাল হলে দাঁড়িয়েছে। ২. অর্থনৈতিক সঙ্কট কাটিয়ে তুলতে তার ব্যক্তিজীবনে ব্যবসায়িক সফলতা এবং উচ্চবিত্তদের সুবিধা দেয়ার কথা বলেছেন। সেটি একটি নির্দিষ্ট শ্রেণীর ভোটারকে দীর্ঘমেয়াদে আর তরুণদের মধ্যে স্বল্পমেয়াদে প্রভাব ফেলেছে। যার প্রমাণ নির্বাচনের আগের দিন পর্যন্ত প্রতিদ্বন্দ্বিতায় তাকে ওবামার সঙ্গে সমান্তরালে দাঁড় করিয়েছে। কিন্তু ভোটের প্রশ্নে মার্কিন জনগণ শেষ পর্যন্ত তার উপর আস্থা রাখতে পারেনি।

মার্কিন নির্বাচন অনেক কিছু চোখে আঙ্গুল দিয়ে আমাদের শিখিয়ে দিয়ে গেলো। এত বড় নির্বাচন। কোনো সহিংসতার অভিযোগ তো পাওয়া গেলো না। নির্বাচনের দিন পর্যন্ত প্রচারণা চালিয়েছে দুই শিবির। কারচুপির অভিযোগও করেননি পরাজিত প্রার্থী। ফল মেনে প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীকে শুভেচ্ছা জানিয়ে রমনি বলেছেন, আমেরিকানরা তাদের যোগ্য নেতৃত্বকেই বেছে নিয়েছে। এটাইতো আধুনিক গণতন্ত্রের রীতি হওয়া উচিত। অন্যদিকে বারাক ওবামা প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীর সহায়তার আহবান জানিয়েছেন। সেই আহবানে সাড়া দিয়ে রমনির পক্ষ থেকেও জানানো হলো ওবামার আমন্ত্রণ পেলে দেশের স্বার্থে তার নতুন প্রশাসনে কাজ করতে আপত্তি নেই রমনির। বিজয়ের পরপর ইলিয়নের শিকাগোতে ওবামার ভাষণটি নিঃসন্দেহে প্রশংসার দাবি রাখে। সেই বক্তৃতায় একজন দলীয় নেতার পরিচয়ের বাইরে এসে ওবামা যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিটি মানুষের নেতার ভূমিকায় আবির্ভূত হন। সাদা কালো বর্ণ ধর্ম নির্বিশেষে সবার অধিকার প্রতিষ্ঠার অঙ্গীকার ব্যক্ত করেন ওবামা। বিজয়ী ওবামাক আগামীদিনে শক্ত হাতে অভ্যন্তরীণ নানা সমস্যা মোকাবেলায় মনোনিবেশের পাশাপাশি আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে বিশ্বের সবচেয়ে শক্তিশালী শাসক হিসেবে উল্লেখযোগ্য ভূমিকা রাখতে হবে। বৈশ্বিক চ্যালেঞ্জ মোকাবেলা করে অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা ও প্রবৃদ্ধি আনয়নে, পরিবেশগত হুমকি মোকাবেলায় এবং আন্তর্জাতিক শান্তি ও নিরাপত্তা রক্ষায় ওবামা সামনের দিনগুলোতে দৃঢ়পদে এগিয়ে যাবেন এমনটাই প্রত্যাশা বিশ্ববাসীর। ইত্তেফাক, লেখক: বিএসএস (সম্মান), এমএসএস আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিভাগ, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়

ট্যাগ:
সর্বশেষ সংবাদ
Advertisements
karnafully1
TEKSERV

Situs Streaming JAV