যুক্তরাষ্ট্রের প্রভাবশালী পত্রিকা ওয়াল স্ট্রিট জার্নালের রিপোর্ট: ‘হোয়াই বাংলাদেশ কিপস বার্নিং’
ডেস্ক: প্রায় ১৫ কোটি মানুষের বাংলাদেশ এক গার্মেন্ট শিল্পের ওপর প্রচণ্ডভাবে ভর করে আছে। এ শিল্পে নেই কোন প্রাকৃতিক সম্পদের বা কাঁচামালের সুবিধা। সরকার এই শিল্পে বিশেষ গুরুত্ব দেয়। এ শিল্পের এত বিকাশ হলেও অন্য কোন শিল্পের এতটা বিকাশ হয় নি। প্রতি বছর বাংলাদেশের মোট রপ্তানির শতকরা ৮০ ভাগই তৈরী পোশাক। বছরে এ খাত থেকে আয় হয় প্রায় ১৯০০ কোটি ডলার। এই অঙ্ক বাংলাদেশের মোট অর্থনীতির শতকরা ১৭ ভাগ। গতকাল যুক্তরাষ্ট্রের প্রভাবশালী পত্রিকা ওয়াল স্ট্রিট জার্নালে ‘হোয়াই বাংলাদেশ কিপস বার্নিং’ শীর্ষক প্রতিবেদনে এসব কথা বলা হয়েছে। এর লেখক জোসেফ স্টার্নবার্গ। তিনি লিখেছেন, বাংলাদেশে গত সপ্তাহে যে গার্মেন্টে আগুনে কমপক্ষে ১১২ জন শ্রমিক নিহত হলেন তা এক ভয়াবহ বেদনাদায়ক ঘটনা। ঘটনার সময় ওই গার্মেন্টের বের হওয়ার পথ ছিল তালাবদ্ধ। চলার পথগুলোতে ছিল মানুষের হুড়োহুড়ি। তাদেরকে টপকে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনার সরঞ্জাম হাতের নাগালে পাওয়া ছিল দুষ্কর। যেসব কারণে আগুনের সূত্রপাত হয় এ অগ্নিকাণ্ডের কারণ তার চেয়েও বড় কিছু। এমন অগ্নিকাণ্ড অহরহই ঘটে। এতে রয়েছে রাজনৈতিক প্রভাবও। নতুন করে যেসব দেশ উন্নয়নশীলের তালিকায় রয়েছে তাদের ক্ষেত্রে গার্মেন্ট বাণিজ্যের এই একমুখিতা বোধগম্য। কিন্তু বাংলাদেশ নতুন কোন উন্নয়নশীল দেশ নয়। বাংলাদেশে যে উন্নয়ন হচ্ছে তা অপর্যাপ্ত। প্রায় তিন দশক ধরে এদেশে টেক্সটাইল খাতকে সামনে ঠেলে দেয়া হচ্ছে। কিন্তু অর্থনীতির তত্ত্ব অনুযায়ী অন্যান্য কোন শিল্পে এতটা উৎসাহ দেখানো হয় না। এখন দেখা যাচ্ছে, যে নীতির ওপর ভিত্তি করে গার্মেন্ট বা তৈরী পোশাকের কারখানার বিস্তার লাভ করেছিল তা অন্য বাণিজ্যকে দমিয়ে রাখছে। গার্মেন্টে শ্রমিকদের কম বেতন ও সেখানে কাজের পরিবেশ সুবিধাজনক না হওয়ার মতো কারণে সামপ্রতিক বছরগুলোতে কারখানায় আগুনের ঘটনা ঘটেছে। তবে গত দশকে সীমিত অগ্রগতি হয়েছে। বাংলাদেশের অর্থনীতি আটকে আছে উপমহাদেশের অতীত সমাজ ব্যবস্থার কাছে। সরকারের হস্তক্ষেপ ও দুর্নীতি এতে অনুপ্রেরণা যুগিয়েছে। বিশ্বব্যাংকের এ বছরের এক রিপোর্ট অনুযায়ী, প্রতিবেশী দেশ ভারত, পাকিস্তান ও শ্রীলঙ্কার চেয়ে শুল্কহার অনেক বেশি বাংলাদেশে। বাংলাদেশ সরকার যে পঞ্চবার্ষিক পরিকল্পনা করেছে তাতে ভর্তুকিভিত্তিক আমদানিতে নিরুৎসাহী করা হয়েছে। তবে এক্ষেত্রে ব্যত্যয় শুধু গার্মেন্ট শিল্প। এ জন্যই গার্মেন্ট বাংলাদেশের একমাত্র সফল শিল্পে পরিণত হয়েছে। ১৯৭৪ সালে যুক্তরাষ্ট্র, ইউরোপিয়ান ও অন্যরা মাল্টি ফাইবার এগ্রিমেন্ট (এমএফএ) নামে একটি চুক্তি করে। এর উদ্দেশ্য হলো- জাপান, কোরিয়া ও হংকং থেকে গার্মেন্ট আমদানি থেকে বিরত থাকা। ওই সময়ে এ দেশগুলো ছিল গার্মেন্টের সূতিকাগার। এমএফএ’র অধীনে ওইসব উৎপাদনকারীকে কোটা বেঁধে দেয়া হয়, যাতে অন্য দেশ এ সুযোগ পায়। তখন ঢাকা দ্রুততার সঙ্গে এ বাণিজ্যে বিনিয়োগ করে বসে। তারপর থেকে বাংলাদেশে এ শিল্পের প্রভূত বিস্তার ঘটেছে। ১৯৯৪ সালে এমএফএ চুক্তির মেয়াদ শেষ হয়। কিন্তু অন্য কোন শিল্প গার্মেন্টের মতো সুবিধা পায় নি কখনও। তাই সেগুলোর উন্নতিও হয় নি। গার্মেন্ট কারখানাগুলো কাপড় ও মেশিনারি আমদানির ক্ষেত্রে শুল্কমুক্ত সুবিধা পায়। কিন্তু অন্যদের এক্ষেত্রে দিতে হয় উচ্চ হারে শুল্ক। পোশাক কোম্পানিগুলোকে সুবিধাজনক শুল্ক হার দেয়া হয়। এই সুবিধা সমপ্রতি অন্যান্য শিল্পেও দেয়া হচ্ছে। গত সপ্তাহের অগ্নিকাণ্ডে বলতে হয় গার্মেন্টগুলো শ্রমিকদের ক্ষেত্রে বিশেষ আইন অনুসরণ করছে। এর মধ্যে রয়েছে শ্রমিকদের শ্রমিক ইউনিয়ন করা নিষিদ্ধ। প্রতিদ্বন্দ্বিতার নামে তাদের বেতনের হার ধরে দেয়া হয়। বাংলাদেশ সরকারের নীতির ফলে শহরে ব্যাপক হারে জনসংখ্যা বাড়ছে। তাদের বেশির ভাগই এক গার্মেন্ট শিল্পে নিয়োজিত হচ্ছে, যেখানে বেতন-ভাতা ও অন্যান্য সুবিধার অবস্থা করুণ। তাই বেতনের দাবিতে ঘন ঘন প্রতিবাদ বিক্ষোভ হবে এতে বিস্মিত হওয়ার কিছু নেই। এর মধ্য দিয়ে ঢাকায় এমন এক শিল্প দানব আকারে গড়ে উঠেছে, যা এখন সরকারকে গ্রাস করছে। এ সপ্তাহে বার্তা সংস্থা এপি দেশের নীতিনির্ধারক ও গার্মেন্টের মধ্যে সম্পর্ক রয়েছে বলে একটি রিপোর্ট করেছে। তাতে বলা হয়েছে, গার্মেন্ট ব্যবসায়ীদের অনেকেই পার্লামেন্টে বসেন। শ্রমিক আন্দোলনকারীরা এ বছরের শুরুর দিকে এক শ্রমিক নেতাকে হত্যার জন্য সরকারের নিরাপত্তা রক্ষাকারীদের অভিযুক্ত করছে। বাংলাদেশে গার্মেন্টে এই ভয়াবহ অবস্থা বিশ্বের বড় বড় কোম্পানিগুলো মেনে নেয়ায় শ্রমিক নেতারা তাদের ভর্ৎসনা করেছে। কিন্তু তারা সেই রোষকে নিয়েছে ভুলভাবে। ওয়াল-মার্ট, ডব্লিউএমটি সহ ক্রেতা গোষ্ঠীগুলো জানে তারা যেখান থেকে কাজ করায় সেখানে তাদের সুনাম ক্ষুণ্ন হওয়ার ঝুঁকি আছে। তবে সরবরাহকারীরা স্থানীয় কর্তৃপক্ষকে ম্যানেজ করে তাদের কাজ হাসিল করে নিচ্ছে। বাংলাদেশের শ্রমিকদের দুর্ভোগের জন্য বিশ্বায়নকে দায়ী না করে ঢাকাকে চাপ দেয়া উচিত যাতে এই বিশ্বায়নের সুফল তারা পায়। এতে অধিক বিনিয়োগ আসবে। অধিক কারখানা হবে। বাড়বে সুযোগ-সুবিধা।মানবজমিন
সর্বশেষ সংবাদ
- নিউইয়র্কে জালালাবাদ অ্যাসোসিয়েশনের কোরআন তেলাওয়াত প্রতিযোগিতার ও ইফতার মাহফিল অনুষ্ঠিত
- যুক্তরাষ্ট্র জাতীয় পার্টির ইফতার ও দোয়া মাহফিল
- যুক্তরাষ্ট্র যুবদল নেতা জাকির এইচ চৌধুরীর সংবাদ সম্মেলন: রাজনৈতিক প্রতিপক্ষ আদালত কর্তৃক মীমাংসিত বিষয় নিয়ে অপপ্রচার চালিয়ে যাচ্ছে
- নিউইয়র্কে জালালাবাদ এসোসিয়েশন অব আমেরিকা’র ইফতার ও দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত
- নিউইয়র্কে আমেরিকান ট্রাভেল এজেন্ট এসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ’র ইফতার ও দোয়া মাহফিল
- নিউইয়র্কে অ্যাসাল ওজোন পার্ক চ্যাপ্টারের ইফতার ও অভিষেক
- নিউইয়র্কে বাংলাদেশ ল সোসাইটি ইউএসএ’র ইফতার মাহফিল: খারাপ কাজ থেকে দূরে থাকার আহ্বান
- BOROUGH PRESIDENT GIBSON HOSTS FOURTH ANNUAL BRONX IFTAR DINNER DIALOGUE UNDER THE THEME “UNITY IN DIVERSITY”








