Sunday, 25 October 2026 |
শিরোনাম
ওয়ার্ল্ড হিউম্যান রাইটস ডেভেলপমেন্ট ইউএসএর সাধারণ সম্পাদক ড. সাদিয়া আফরিন এরা চরমোনাই পীরের যুক্তরাষ্ট্র সফর উপলক্ষে নিউইয়র্কে দোয়া মাহফিল, কুরআন-সুন্নাহর আলোকে বয়ান New York Attorney General James Secures Reimbursements for T-Mobile Customers Whose Rates Were Unjustly Raised নিউইয়র্কে বাংলাদেশ সোসাইটির নির্বাচনে কুনু-ফিরোজ পরিষদের সাত দফা ইশতেহার ঘোষণা; কমিউনিটি সেন্টার প্রতিষ্ঠা, সাশ্রয়ী ফিউনারেল সেবা, বিমানের সরাসরি ফ্লাইট ও আর্থিক স্বচ্ছতায় অঙ্গীকার ফিলিস্তিনিদের আত্মনিয়ন্ত্রণের অধিকারের প্রতি বাংলাদেশের পূর্ণ সমর্থন: জাতিসংঘে রাষ্ট্রদূত আইরিন খান নিউইয়র্কে বাংলাদেশ সোসাইটির নির্বাচনে প্রথমবারের মতো বিতর্ক, গুরুত্ব পেল স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি New York Attorney General James Warns New Yorkers About AI-Generated Election Misinformation Ahead of November Elections Bangladesh calls for global treaty to protect victims of crimes against humanity নিউইয়র্কে জাতিসংঘে মুহাম্মদ নওশাদ জমির এমপি: মানবতাবিরোধী অপরাধ প্রতিরোধে শক্তিশালী আন্তর্জাতিক সনদ প্রণয়নের আহ্বান সোশ্যাল মিডিয়ার তথ্য গোপন করলে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা প্রত্যাখ্যান, আবেদনপত্রে চাওয়া তথ্য সঠিক ও সম্পূর্ণভাবে দেওয়ার নির্দেশনা মার্কিন দূতাবাসের
সব ক্যাটাগরি

৭ই নভেম্বর নায়ক কর্ণেল আবু তাহের আর খল নায়ক জিয়া- যুক্তরাষ্ট্র জাসদ

অনলাইন ডেস্ক পঠিত: 189 বার

প্রকাশিত: December 6, 2012 | 11:36 AM

হাকিকুল  ইসলাম খোকন,বাপসনিঊজ : ৭ই নভেম্বর সিপাহী জনতার অভ্যূত্থান দিবস উপলক্ষে  যুক্তরাষ্ট্র জাসদ জ্যাকসন হাইটসে এক আলোচনা সভার আয়োজন করে। আলোচনা সভায়  বক্তারা বলেন, ১৯৭৫ সালের ৭ই নভেম্বর বাংলাদেশের চলমান রাজনৈতিক ও  সেনাবাহনীর মধ্যে যে অস্থিরতা, বিশৃঙ্খলা, গণহত্যা চলছিল তা থেকে  মুক্তিযুদ্ধের মাধ্যমে গড়ে উঠা সেনাবাহিনী ও দেশকে রক্ষার জন্য এগিয়ে আসেন  যুদ্ধাহত বীর মুক্তিযোদ্ধা কর্ণেল আবু তাহের। তার নেতৃত্বে বিপ্লবী সৈনিক  সংস্থা ৭ই নভেম্বর বিপ্লবের মাধ্যমে সেনাবাহিনী ও জনগণের মধ্যে আস্থা তৈরী  করে হানাহানি, হত্যা বন্ধ করে সেনাবাহিনীর মধ্যে চেইন অব কমান্ড ফিরিয়ে এনে  দেশে শান্তি শৃংখলা ফিরিয়ে আনতে সক্ষম হয়েছিলেন। তাহের যখন বিপ্লবের  নেতৃত্ব দিচ্ছিলেন তখন বন্দি জিয়া খালেদা জিয়ার মাধ্যমে তাহেরের কাছে  চিরকুট পাঠিয়ে প্রাণভিক্ষা চেয়েছিলেন,খবর বাপসনিঊজ।দেশপ্রেমিক তাহের  মুক্তিযোদ্ধা হিসাবে জিয়াকে মুক্ত করে তাকে সেনাবাহিনীতে পূর্ণবহাল করেন।  ক্ষমতা পেয়েই বিশ্বাস ঘাতক, পাকিস্তানীদের এজেন্ট জিয়া প্রথমেই মুক্তিদাতা  তাহেরকে গ্রেফতার করেন। ক্ষমতালোভী বিবেকহীন  স্বদেশ বিরোধী কুকুর বহুরুপী  জিয়া তার ক্ষমতা চিরস্থায়ী ও রাজাকারদের পুর্নবাসনের জন্য মুক্তিযোদ্ধাদের  হত্যার নীল নক্সা হাতে নেন।
৭ই  নভেম্বরের চেতনার সাথে বেঈমানী করে জিয়া শুধু তাহের কে হত্যা করেই থেমে  থাকেন নি। পাকিস্তানের দালাল খুনি জিয়া বাংলাদেশের স্বাধীনতা সার্বভৌমত্ব  ধ্বংস করার জন্য মুক্তিযুদ্ধের মাধ্যমে গড়ে উঠা সেনাবাহিনীর মুক্তিযোদ্ধা  হাজার হাজার সেনা অফিসার ও সদস্যকে বিনা বিচারে হত্যা করেন। হিটলারের  অনুসারী জেনারেল জিয়া সেনা অফিসার ও সদস্যদের হত্যা করে তাদের লাশও  পরিবারের কাছে হস্তান্তর করে নি। এমনকি হত্যার নথি পর্যন্ত নষ্ট করে ফেলে  যাতে ভবিষ্যতে তার এই কুকর্মের কোন স্বাক্ষী না থাকে। এ সমস্ত নৃসংশ ঘটনার  কিছু তথ্য পাওয়া যায় তৎকালীন এ্যমনেস্টি ইন্টারন্যাশনালের প্রতিবেদনে। যদিও  এ সব প্রতিবেদন ঐ সমস্ত ঘটনার আংশিক চিত্র মাত্র। ১৯৭৭ সালের ডিসেম্বরে  এ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনালের মহাসচিব মার্টিন ইনালম বিশেষ সফরে ঢাকা আসেন  এবং১৯৭৮ সালের ১৯ জানুয়ারী এক তারবার্তায় অ্যামনেস্টির মহাসচিব গভীর উদ্বেগ  প্রকাশ করে অভিযোগ করেন যে, ২ অক্টোবরের পর থেকে শত শত সেনা সদস্যদের  মৃত্যুদন্ড কার্যকর করা হয়েছে। এবং এখনো মৃত্যুদন্ড কার্যকর করা অব্যাহত  আছে। ১৯৭৮ সালের ৫ মার্চ লন্ডনের দ্য সানডে টাইমস এর প্রতিবেদনে বলাহয় গত  অক্টোবরের ৬০০ সেনা সদস্যের মৃত্যুদুন্ড কার্যকর করা হয়েছে। বিমান বাহিনীর  সাবেক এক জৈষ্ঠ কর্মকর্তা দ্যা সানডে টাইমসকে বলেছেন ৩০ সেপ্টেম্বর বগুড়ার  সামরিক ট্রাইবুনালে অসংখ্য সেনা সদস্যকে মৃত্যুদন্ড দেয়া ও কার্যকর করা হয়।  সেনা সদস্যদের হত্যার পদ্ধতিও ছিল অত্যন্ত নিষ্ঠুর। সেনা সদস্যদের বলা হতো  তাদের মুক্তির নির্দেশ এসেছে। জেলগুলিতে তখন আনন্দের পরিবেশ তৈরী হয়।  জোয়ানরা তাদের মালামাল জড়ো করে, তাদের নিয়ে যাওয়া হয় জেলের সামনের গেটে।  জানা যায় সেখানে একজন সেনা কর্মকর্তা বিশেষ বাহিনীর সদস্যরা তাদের বাধাদেন  এবং হঠাৎ সেখানে তাদের মৃত্যুদন্ডের রায় পড়ে শুনানো হয়। রায় শুনে জোয়ানেরা  পাগলের মতো কান্নায় ভেঁঙ্গে পড়ে কান্নার রোলের মধ্যে জোয়ানদের নিয়ে যাওয়া  হয়ে থাকে আর একেক দফায় ১৭/১৮ জনকে ফাঁসিতে ঝুঁলিয়ে দেওয়া হয়ে থাকে। সংখ্যায়  বেশী হলে ফায়ারিং স্কোয়াডের মাধ্যমে গুলি করে হত্যা করা হয়।
DSCN0730___SaKiL___1
ফায়ারিং  স্কোয়াডে গুলি করার নির্দেশ দেওয়ার পর গুলি না করায় কয়েকজনকে গ্রেপ্তারও  করা হয়েছিলো। এসবের কোন কিছুই এমন কোন সংবাদপত্র ছাপার সাহস করেনি। এই ছিলো  দেশপ্রেমিক বহুদলীয় গণতন্ত্রও সংবাদপত্রের স্বাধীনতায় বিশ্বাসী  ঠান্ডামাথার খুনি জিয়ার দেশ শাসনের নমুনা। কিন্তু ইতিহাসের নির্মম পরিহাস এ  ঘটনায় ৩৫ বছর পর বাংলাদেশের সুপ্রিমকোর্টে ঘোষণা করেছে তাহের ও তার  সহযোগিদের বিচার ছিল একটি ধাপপাবাজি, অবৈধ, স্বেচ্ছারি, জোচ্চুরি ও প্রহসন।  এমন প্রহসনমূলক বিচার এ দেশে কখনোই ঘটেনি। আদালত তাহেরকে শহীদ ও  দেশপ্রেমিক হিসেবে বণর্না করেছেন। আরও বলেছেন আজ যদি জেনারেল জিয়াউর রহমান  বেঁচে থাকতেন, তাহলে তাহেরের মৃত্যুর জন্য তাকে হত্যাকান্ডের বিচারের  সম্মুখীন হতে। আদালত আরও ঘোষণা করেছেন কর্ণেল আবু তাহের তথাকথিত বিচারও  মৃত্যুদন্ড কার্যকর করার ঘটনাটি ঠান্ডা মাথায় হত্যা এবং এর পরিকল্পনাকারী  জেনারেল জিয়াউর রহমান।
তাহেরের  সহযোদ্ধা মেজর জলিল, আ স ম আব্দুর রব, হাসানুল হক ইনু, সিরাজুল আলম খান,  মার্শাল মনি সহ জাসদ নেতাদেরও ষড়যন্ত্রমূলক মামলায় বিভিন্ন মেয়াদে সাজা দেয়  তৎকালীন স্বৈরাচারী জিয়া সরকার। উচ্চ আদালত এসব মামলা বাতিলের পাশাপাশি  ক্ষতিগ্রস্থ ঐসব মামলার সকল ব্যাক্তি ও পরিবারকে ক্ষতিপূরণ দেওয়ার নির্দেশ  দেয়। কিন্তু বর্তমান সরকার আজ পর্যন্ত কোন ক্ষতিপূরণ দিয়েছে বলে জানা  যায়নি। জাসদ নেতৃবৃন্দ এই সভা থেকে আদালতের রায়ের প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে ঐ  মামলার সকলকে ক্ষতিপূরণ প্রদানের জন্য সরকারকে আহ্বান জানাচ্ছে। জাতীয়  সমাজতান্ত্রিক দল জেএসডি যুক্তরাষ্ট্র শাখার সভাপতি হাজী আনোয়ার  হোসেন  লিটন এর সভাপতিত্বে ও সাধারণ সম্পাদক শামসুদ্দীন আহমেদ শামীম এর পরিচালনায়  অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখেন যুক্তরাষ্ট্র জাসদের নেতা তসলিম উদ্দিন, হেলাল  উদ্দিন, লাবলু সরকার, শরীফ উদ্দিন শরীফ, হারুনের রশীদ, এম, এ মালেক কাজী  আযম বাদল প্রমূখ।

বিজ্ঞাপন / স্পন্সরড কন্টেন্ট
ট্যাগ:
সর্বশেষ সংবাদ