উত্তেজনা, হৈচৈ, হট্টগোলের মধ্যে দিয়ে জালালাবাদ এসোসিয়েশন অব আমেরিকার সাধারণ সভা অনুষ্ঠিত
সালাহউদ্দিন আহমেদ : নিউইয়র্ক (ইউএনএ): মিতা-মামুন’ নেতৃত্বাধীন বিগত কমিটির হিসাব না দেয়া, সভাপতি কর্তৃক সংগঠনের ক্রেডিট কার্ড ব্যবহার, অশালীন উক্তি আর সিকিউরিটির উপস্থিতিকে কেন্দ্র করে চার দফা উত্তেজনা, হৈচৈ, হট্টগোল, বাক বিতন্ডার মধ্য দিয়ে অনুষ্ঠিত হলো বৃহত্তর সিলেটবাসীদের সর্ববৃহৎ সামাজিক সংগঠন জালালাবাদ এসোসিয়েশন অব আমেরিকার সাধারণ সভা। উদ্ভুত পরিস্থিতিতে সভার শেষ পর্যায়ে সভাপতিসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা এবং সদস্যদের একে অপরের ক্ষমা চাওয়া-চাওয়িতে সভার সফল সমাপ্তি ঘটে। সভায় প্রবাসী জালালাবাদবাসীদের মধ্যকার সৌহার্দ্য, সম্প্রীতি বৃদ্ধির পাশাপাশি এই প্রবাসে সিলেটের ঐতিহ্য অক্ষুন্ন রাখার উপর গুরুত্তারোপ করেন এসোসিয়েশনের সদস্যবৃন্দ।
সিটির এস্টোরিয়াস্থ চেইন ফেডারেশন মিলনায়তনে গত ৩০ ডিসেম্বর রোববার রাতে অনুষ্ঠিত জালালাবাদ এসোসিয়েশনের সাধারণ সভায় সভাপতিত্ব করেন সভাপতি জন এন উদ্দিন। মঞ্চে উপবিষ্ট ছিলেন সংগঠনের ট্রাষ্টি বোর্ডের সদস্য যথাক্রমে আব্দুল হাসিম হাসনু, তোফায়েল আহমেদ চৌধুরী ও সাব্বির কাজী আহমেদ। সভাটি পরিচালনা করেন সাধারণ সম্পাদক আহমেদ জিলু। সন্ধ্যা ৭টায় শুরু হওয়া সভার শুরুতেই পবিত্র থেকে তেলাওয়াত করেন এসোসিয়েশনের কার্যকরী পরিষদের সদস্য খায়রুজ্জামান চৌধুরী। এরপর বাংলাদেশের মহান মুক্তিযুদ্ধে সকল শহীদসহ দেশের সকল গণতান্ত্রিক আন্দোলনে শহীদ এবং ৯/১১ এর ঘটনাসহ চলতি বছর দেশে-প্রবাসে বৃহত্তর সিলেটের যারা ইন্তেকাল করেছেন তাদের স্মরণে এক মিনিটি নিরবতা পালন করা হয়। সভার আলোচনার শুরুতেই স্বাগত বক্তব্য রাখেন সভাপতি জন এন উদ্দিন। এছাড়া তিনি স্লাইড শোর মাধ্যমে চলতি বছরের (২০১২ সাল) কার্যক্রম তুলে ধরেন। এরপর সাধারণ সম্পাদক ও কোষাধ্যক্ষের রিপোর্ট পেশ করেন যথাক্রমে সাধারণ সম্পাদক আহমেদ জিলু ও কোষাধ্যক্ষ খলিলুর রহমান।
সভায় সাধারণ সম্পাদক ও কোষাধ্যক্ষের রিপোর্টের উপর সংক্ষিপ্ত বক্তব্য রাখেন এবং প্রশ্ন রাখেন এসোসিয়েশনের সাবেক সভাপতি সিরাজউদ্দিন আহমেদ, এম কাইয়ুম, আজমল হোসেন কুনু, বুরহান উদ্দিন কপিল, বদরুল হোসেন খান, কামাল আহমেদ (বাংলাদেশ সোসাইটি ইন্্ক’র সভাপতি) ও বদরুন্নাহার খান মিতা, সাবেক সাধারণ সম্পাদক মইনুল ইসলাম ও আতাউর রহমান সেলিম সহ ওয়াহিদুর রহমান মুক্তা, আজিমুর রহমান বুরহান, মকবুল রহিম চুনুই, গৌউস খান, একলিমুজ্জামান নুনু, আব্দুর রহমান, পংকি মিয়া, সিরাজ উদ্দিন আহমেদ সোহাগ, ফারুক চৌধুরী, মিনহাজ আহমেদ সাম্মু, সৈয়দ ইলিয়াস খসরু, আনোয়ার হোসেন, মিসবা আবদীন, এবাদ চৌধুরী, শাহীন ইব্নে দিলওয়ার, তাজুল ইসলাম, মোহাম্মদ ফখরুল ইসলাম দেলোয়ার, আব্দুল বাসিত খান বুলবুল, আলীম উদ্দিন, এএফ মিসবাহউজ্জামান, সাইকুল ইসলাম, নূরুল ইসলাম বতা, বশির উদ্দিন, বিলাল চৌধুরী, মুহাম্মদ ফজলু, নিজাম উদ্দিন, ওবায়দুল হক, লায়েক প্রমুখ।
সাধারণ সম্পাদকের রিপোর্টে আহমেদ জিলু চলতি বছরের কর্মকান্ডের মধ্যে এস্টোরিয়ায় এসোসিয়েশনের নিজস্ব অফিস চালু, বিনামূল্যে টিউটেরিয়াল সার্ভিস, নিউজার্সীর প্যাটারসনে নিজস্ব অফিস চালু ও কনস্যুলেট সার্ভিসের ব্যবস্থা, মহান বিজয় দিবস, আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস ও মহান স্বাধীনতা দিবস পালন, ইফতার মাহফিলের আয়োজন, কানেকটিকাটে ঈদ পুনর্মিলনী, দূর্গাপূজায় সহযোগিতা, ওয়েবসাইট চালু, জালালাবাদ নিউজ প্রকাশনা (বর্তমানে বন্ধ), আইডি কার্ড প্রদানের মেশিন ক্রয় প্রভৃতি কর্মকান্ডের কথা তুলে ধরেন।
সভার এক পর্যায়ে ‘মিতা-মামুন’ নেতৃত্বাধীন বিগত কমিটির হিসাব-নিকাশ না পাওয়ার বিষয়টি উত্থাপিত হলে সাবেক সভাপতি বদরুন নাহার খান মিতা বলেন, হিসাব দেয়া হয়েছে। মিতার এই বক্তব্যের পর সাধারণ সম্পাদক আহমেদ জিলু দৃঢ়তার সাথে বলেন, বিগত কমিটির কাছ থেকে আমরা আয়-ব্যয়ের কোন হিসাব পাইনি। এব্যাপারে কেউ কোন প্রমাণ দেখাতে পারলে প্রয়োজনে পদত্যাগ করবো। তিনি বলেন, শুধুমাত্র একটি কাগজে অফিসিয়াল ডকুমেন্ট লিখে আমরা দায়িত্ব নিয়েছিলাম। জিলুর এই বক্তব্যের পর মিতাকে আর কোন কথা বলতে শুনা বা দেখা যায়নি।কোষাধ্যক্ষ্যের রিপোর্টে খলিলুর রহমান এসোসিয়েশনের দুই লাখ ৯৪ হাজার ৮০৪ ডলারের এ্যাসেটসহ চলতি বছরের ৩২ হাজার ১৪৭ ডলার আয় এবং ৩৯ হাজার ৬৪৪ ডলার ব্যয়ের হিসাব তুলে ধরেন।
সভা শুরু হওয়ার পর পরই সভাপতি জন এন উদ্দিন তার বক্তব্যের সময় বিগত কমিটি অর্থাৎ ‘মিতা-মামুন’ নেতৃত্বাধীন কমিটির হিসাব না দেয়ার প্রসঙ্গটি তুলে ধরার সাথে সাথে সাবেক সভাপতি বদরুন্নাহার খান মিতা তার তীব্র প্রতিবাদ করেন এবং উত্তেজিত হয়ে উঠেন। এসময় সভায় উপস্থিত সদস্যদের মধ্যে পিছন থেকে জনৈক সদস্য মিতাকে উদ্দেশ্য করে একটি অশালীন ও আপত্তিকর শব্দ বললে মিতা তারও প্রতিবাদ করলে সভায় প্রথমবারের মতো উত্তেজনাকর পরস্থিতির সৃষ্টি হয়। এসময় কয়েকজন সদস্য দাঁড়িয়ে পড়েন এবং বাক, বিতন্ডা ও হৈচৈ-এ জড়িয়ে পড়েন। পরে এসোসিয়েশনের সিনিয়র নেতৃবৃন্দসহ সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকের হস্তক্ষেপে পরিস্থিতি শান্ত হয়। পরবর্তীতে প্রসঙ্গক্রমে আবারো সাবেক কমিটির আয়-ব্যয়ের হিসাব না দেয়ার প্রসঙ্গটি দুই দফা সভায় উঠলে বদরুন্নাহার খান মিতা আবারো উত্তেজিত হয়ে উঠেন এবং তিনিও আপত্তিকর শব্দ প্রয়োগ করে বক্তব্য দিতে চাইলে সভায় দ্বিতীয় ও তৃতীয় দফা উত্তেজনাকর পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। এই পর্যায়ে সংগঠনের সিনিয়র নেতৃবৃন্দের হস্তক্ষেপে পরিস্থিতি শান্ত হয়। সর্বশেষ বর্তমান কমিটির মেয়াদ দুই বছরের স্থলে তিন বছর থাকা না থাকাসহ কতিপয় সিদ্ধান্তের বিষয়ে উপস্থিত সদস্যদের বক্তব্যকে কেন্দ্র করে সভাস্থলে সৃষ্ট উত্তেজনাকর পরিস্থিতির মুখে সিকিউটির সদস্যবৃন্দ তাদের নিবৃত করতে চাইলে আনোয়ার হোসেন, মিসবা আবদীন, মোহাম্মদ ফখরুল ইসলাম দেলোয়ার, আব্দুল বাসিত খান বুলবুল, আব্দুল বাসিত খান বুলবুল ও সাইকুল ইসলামসহ কয়েকজন সদস্য সভায় সিকিউরিটি রাখার তীব্র প্রতিবাদ জানান এবং এটা সদস্যদের জন্য সম্মানহানিকর বিষয় বলে উল্লেখ করেন। এই পর্যায়ে চতুর্থ দফা সভায় উত্তেজনাকর পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। চলে বাক-বিতন্ডা, হৈচৈ। প্রতিবারের উত্তেজনাকর পরিস্থিতির সময় সিকিউরিটির সদস্যরাও উত্তেজিত সদস্যদের নিবৃত করার চেষ্টা করেন।
সভায় সভাপতি জন এন উদ্দিন কর্তৃক সংগঠনের ক্রেডিট কার্ড ব্যবহার প্রসঙ্গে সাইকুল ইসলামসহ একাধিক সদস্য জানতে চাইলে সাধারণ সম্পাদক আহমেদ জিলু বলেন, যেভাবেই হোক, ঘটনাটি সত্য। তবে সভাপতি নিউইয়র্কেই কার্ডটি ব্যবহার করেছেন। আর এই ঘটনাটি জানার পর পরই আমরা সভাপতির কাছ থেকে ক্রেডিট কার্ডটি প্রত্যাহার করে নেই এবং কার্যকরী পরিষদের জরুরী সভা করেছি। সভাপতি নিজে বিষয়টির জন্য দু:খ প্রকাশ করেছেন এবং বিষয়টি বিচার-বিচবেচনা করে তার (সভাপতি) বিরুদ্ধে কার্যকরী পরিষদের নেয়া সাংগঠনিক সিদ্ধান্ত তাকে (সভাপতি) লিখিতভাবে জানালে এক সপ্তাহের মধ্যে সভাপতি ক্রেডিট কার্ডের মাধ্যমে উত্তোলিত অর্থ ফেরৎ দেন।
সভায় বিভিন্ন ইস্যুকে কেন্দ্র করে সাবেক সভাপতি বদরুন্নাহার খান মিতা উত্তেজিত হয়ে উঠলে এবং এক পর্যায়ে ‘আপত্তিকর ও অশালীন’ শব্দ প্রয়োগ করলে সভাস্থলে উত্তেজনা দেখা দিলে সাধারণ সম্পাদক আহমেদ জিলু দৃঢ়তার সাথে তা নিয়ন্ত্রণ করেন এবং মিতার উদ্দেশ্যে বলেন, ‘মাননীয় সাবেক সভাপতি আপনি আর ‘আপত্তিকর ও অশালীন’ শব্দ প্রয়োগ করলে প্রয়োজনে আপনাকে সিকিউরিটি সভাস্থল থেকে বের করে দিতে বাধ্য হবে।
সভায় এসোসিয়েশনের সভাপতি জন এন উদ্দিন কর্তৃক সংগঠনের ক্রেডিট কার্ড ব্যবহার ও ‘মিতা-মামুন’ নেতৃত্বাধীন বিগত কমিটির আয়-ব্যয়ের হিসাব না দেওয়া বিষয়টি বারংবার সভায় উঠে আসে এবং উত্তেজনাকর পরিস্থির সৃষ্টি হয়। সভার এক পর্যায়ে সিকিউরিটির উপস্থিতিতে সাধারণ সভা আয়োজনের একযোগে তীব্র প্রতিবাদ জানান সাবেক সভাপতি বোরহার উদ্দিন কপিলসহ মিসবা আবদীন, আনোয়ার হোসেন, মোহাম্মদ ফখরুল ইসলাম দেলোয়ার, আব্দুল বাসিত খান বুলবুল, সাইকুল ইসলাম প্রমুখ।
পরবর্তীতে এসোসিয়েশনের সাবেক সভাপতিদের পরামর্শমূলক বক্তব্যের পর সংগঠনের সভাপতি জন এন উদ্দিন ও সাধারণ সম্পাদক আহমেদ জিলু এসোসিয়েশনের বৃহত্তর স্বার্থে সবাইকে ভুল-বুঝাবুঝির উর্ধ্বে উঠে মান-সম্মান অক্ষুন্ন রাখার আহ্বান জানান এবং উদ্ভুত পরিস্থিতির জন্য নিজের ও কার্যকরী পরিষদের পক্ষ থেকে দু:খ এবং ক্ষমা প্রকাশ করলে উত্তেজিত সদস্যদের মধ্যে অনেকেই তাদের সাথে ঐক্যমত পোষণ করে দু:খ ও ক্ষমা চান। ফলে সবার সার্বিক সহযোগিতার মধ্য দিয়ে সাধারণ সভার সফল সমাপ্তি ঘটে।
সভায় সৈয়দ ইলিয়াস খসরুসহ কোন কোন সদস্য তাদের বক্তব্যে ফিলাডেলফিয়ায় জালালাবাদ এসোসিয়েশনের ভবন ক্রয়ের জন্য তৎকালীন সভাপতি কামাল আহমেদ ও সাধারণ সম্পাদক আতাউর রহমান সেলিমকে ধন্যবাদ জানিয়ে বলেন, সঠিক সময়ে সঠিক সিদ্ধান্তের কারণ আজ জালালাবাদ এসোসিয়েশন ঐ ভবন থেকে আয় করতে পারছে। আবার কোন কোন সদস্য নিউইয়র্কে জালালাবাদ এসোসিয়েশনের ভবন ক্রয়ের উপর গুরুত্বারোপ করে বলেন, আমরা সবাই মিলে উদ্যোগ নিলে নিউইয়র্কে নিজস্ব ভবন ক্রয় করতে পারলে কোন ভাড়া জায়গায় আমাদের সভা করতে হতো না। তাতে সমিতির অর্থের সাশ্রয় হতো।
সভায় সিরাজউদ্দিন আহমেদ এসোসিয়েশনের প্রতিষ্ঠাতাদের যথাযথ সম্মান দেয়ার উপর গুরুত্বারোপ করেন। এম কাইয়ুম তার বক্তব্যে এসোসিয়েশনের শুরু থেকে সকল গঠনতন্ত্র সংরক্ষণ এবং এর ইতিহাস, ঐতিজ্য সংরক্ষণের দাবী করেন। আজমল হোসেন কুনু বলেন, আমরা সাবেক কর্মকর্তারা চেয়ার নয়, সম্মান প্রত্যাশা করি। সমিতির সকল কর্মকর্তা, সদস্যদের যথাযথভাবে সম্মান যাতে অক্ষুন্ন থাকে সেব্যাপারে সজাগ থাকার জন্য কর্মকর্তাদের দৃষ্টি আকর্ষণ এবং এসোসিয়েশনের ভাবমূর্তি আর ঐতিহ্য অক্ষুন্ন রাখার জন্য কর্মকর্তাদের প্রতি আহ্বান জানান। তিনি বলেন, জালালাবাদ এসোসিয়েশনকে জালালাবাদবাসীদের সংগঠন হিসেবেই দেখতে চাই। যারা মূলধারার রাজনীতি করতে চান, তাদের আমরা সহযোগিতা করবো কিন্তুু জালালাবাদের মধ্যে মূলধারার রাজনীতি চাই না। বুরহান উদ্দিন কপিল তার বক্তব্যে বিগত কমিটির ২০ হাজার ডলার পাওয়া না পাওয়ার প্রশ্নটি তুলে ধরেন এবং সংগঠন গঠনতন্ত্র মোতাবেক এসোসিয়েশন পরিচালিত হলে কোন সমস্যা হবে না বলে তার মতামত তুলে ধরেন।
বদরুল হোসেন খান তার বক্তব্যে বলেন, এসোসিয়েশনকে ব্যবসা-বাণিজ্যের বিষয়ে পরিণত করা চলবে না। তিনি নিউজার্সী, ফিলাডেলফিয়া আর কানেকটিকাট বাদ দিয়ে জালালাবাদ এসোসিয়েশনকে নিউইয়র্ক ভিত্তিক সংগঠনে পরিণত করার জোর দাবী জানিয়ে বলেন, তাতে অনেক সমস্যারই সমাধান হবে। তার বক্তব্যের সময় কেউ কেউ এর প্রতিবাদ জানান।
কামাল আহমেদ তার বক্তব্যে সবাইকে ঐক্যবদ্ধভাবে সংগঠনকে শক্তিশালী করা এবং জালালাবাদবাসীদের সম্মান অক্ষুন্ন রাখার আহ্বান জানান। তিনি বলেন, আমার সময় ফিলাডেলফিয়ায় এসোসিয়েশনের বাড়ী কেনার জন্য অনেক সমালোচনা শুনতে হচ্ছে। যদিও বাড়ীটি লাভজনক। তারপরও বলবো প্রয়োজনে ঐ বাড়ীটি বিক্রি করে নিউইয়র্কে ভবন ক্রয় করে আমাকে সমালোচনা থেকে মুক্তি দেয়া হোক।
বদরুন্নাহার খান মিতা তার বক্তব্যে সংগঠনে যাতে কেউ অসম্মানিত না হন সে বিষয়টির প্রতি সিনিয়র কর্মকর্তাদের দৃষ্টি আকর্ষণ করেন। সভায় তিনি ‘অসম্মানিত হয়েছেন’ উল্লেখ করে সিনিয়র কর্মকর্তাদের কাছে তার প্রতিকার দাবী করেন।
সভায় ওয়াহিদুর রহমান মুক্তা ও একলিমুজ্জামানসহ একাধিক সদস্য বর্তমান কমিটির মেয়াদকাল দুই না তিন বছর তার ব্যাখ্যা দাবী করেন। আতাউর রহমান সেলিম এসোসিয়েশনের বর্তমান কমিটিকে ধন্যবাদ জানিয়ে বলেন, আমাদের সময়ে আমরা এসোসিয়েশনের গঠনতন্ত্র মোতাবেক দুটি সাধারণ সভা করতে পারিনি কিন্তু বর্তমান কমিটি দুটি সাধারণ সভা করে আমাদের কথা বলার সুযোগ করে দিয়েছে যা প্রশংসার দাবী রাখে।
আজিমুর রহমান বুরহান বলেন, জালালাবাদ এসোসিয়েশন আমাদের সবার। এখানে আমরা কেউ কারো প্রতিপক্ষ নই। ভুলত্রুটি সংশোধনের মাধ্যমে সংগঠনকে শক্তিশালী করতে হবে। সিরাজ উদ্দিন আহমেদ সোহাগ সভায় উত্থাপিত সকল ‘আশালীন ও আপত্তিকর’ এবং অসংসদীয় বাক্য প্রত্যাহারের দাবী করেন।
মিসবা আবদেীন ফেসবুকে জালালাবাদ এসোসিয়েশনের নামে তাদের পরিবারের সদস্যদের (এসোসিয়েশনের সদস্য) নাম দেয়ার বিষয়টি ‘আপত্তিকর ও পরিবারের ভাবমূর্তি নষ্টের শামিল’ উল্লেখ এবং তার প্রতিকার দাবী করেন। সংগঠনের করপোরেশন বিষয়ে তিনি তার অভিজ্ঞতার কথাও তুলে ধরেন সভায়। মোহাম্মদ ফখরুল ইসলাম দেলোয়ার বলেন, অনেক মুরুবীর অনেক কষ্টের ফসল জালালাবাদ এসোসিয়েশন। সবার দায়িত্ব সংগঠনের ভাবমমূর্তি অক্ষুন্ন রাখা। তিনি বলেন, বিগত বছর থেকে সিকিউরিটির মাধ্যমে সাধারণ সভা করা হচ্ছে। এটা দু:খজনক, অপমানজনক। আমরা এমন পরিস্থিতি আর দেখতে চাই না।
আব্দুল বাসিত খান বুলবুল ‘জালালাবাদ নিউজ’ প্রকাশের দেনা কে বহন করবে এবং পত্রিকাটি আবার পুন: প্রকাশের সম্ভাবনা আছে কিনা তা জানতে চান। বিলাল চৌধুরী ভবিষ্যতে এসোসিয়েশনের ভাবমূর্তি ধরে রাখার জন্য বর্তমান কমিটির পরিকল্পনা রয়েছে কিনা তা জানতে চান।
সভার প্রশ্ন-উত্তর পর্ব শেষে সাধারণ সম্পাদক আহমেদ জিলু বলেন, আমরা দুই বছরের মেয়াদের জন্য ভোটে নির্বাচিত, আমরা দুই বছরই দায়িত্বে থাকবো এবং সুষ্ঠু ও সুন্দর নির্বাচনের ব্যবস্থা করবো। বিগত সাধারণ সভার সিদ্ধান্ত আর বর্তমান গঠনতন্ত্র মোতাবেক আগামী নির্বাচিত কমিটি থেকে এসোসিয়েশনের কার্যকরী পরিষদের মেয়াদ হবে তিন বছর। তিনি বলেন, আগামী ৬ সেপ্টেম্বরের আগেই এমনকি প্রয়োজনে পবিত্র রমজান মাসের আগেই এসোসিয়েশনের নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। তিনি বলেন, আমরা বিদায়ের আগে মোটা অংকের অর্থ ফান্ডে জমা রাখার প্রত্যাশা করছি। তিনি বলেন, সংগঠনের কর্মকর্তাদের জবাবদিহীতা নিশ্চিত করতে ইতিমধ্যেই কতিপয় সংশোধনী আনা হয়েছে। তিনি বলেন, অতীতে আমরা সবাই ভুল করেছি। ভুল-ত্রুটির মধ্য দিয়েই আমাদেরকে ভালো কাজ করতে হবে।
‘জালালাবাদ নিউজ’ সম্পর্কে জন এন উদ্দিন বলেন, পর পর তিন সংখ্যা প্রকাশের পর বন্ধ হয়ে যাওয়া পত্রিকাটি নিজস্ব ফান্ড সৃষ্টি করে অচিরেই প্রকাশের প্রচেষ্টা চলছে। আর ইতিপূর্বে প্রকাশিত বিজ্ঞাপনের বিল আদায় করে আর্থিক ক্ষতি পুশিয়ে নেয়ার উদ্যোগ নেয়া হবে। এজন্য তিনি সংশ্লিষ্ট সবার সহযোগিতা কামনা করেন।
সভাপতির বক্তব্যে জন এন উদ্দিন তার কোন কর্মকান্ডে বা কথায় কেউ কষ্ট পেয়ে থাকলে তা ক্ষমা সুন্দর দৃষ্টিতে দেখার অনুরোধ জানান এবং সুন্দরভাবে সাধারণ সভা সফল করার জন্য উপস্থিত সকলকে আন্তরিক ধন্যবাদ জানিয়ে বলেন, আমরা সংগঠনে কর্মকর্তাদের স্বচ্ছতা, জবাবদিহীতা চাই। তিনি বলেন, বিগত কমিটির মতো আমরা হিসাব না দিয়ে চলে যাবো না। নির্বাচনের পর আমরা আনুষ্ঠানিকভাবে দায়িত্ব হস্তান্তরের আগেই অফিসিয়ালী কাগজপত্র, হিসাব-নিকাশ বুঝিয়ে দেবো। যাতে দায়িত্ব নেয়ার পর নতুন কমিটিকে কোন সমস্যায় পড়তে না হয়।
- নিউইয়র্কে জালালাবাদ অ্যাসোসিয়েশনের কোরআন তেলাওয়াত প্রতিযোগিতার ও ইফতার মাহফিল অনুষ্ঠিত
- যুক্তরাষ্ট্র জাতীয় পার্টির ইফতার ও দোয়া মাহফিল
- যুক্তরাষ্ট্র যুবদল নেতা জাকির এইচ চৌধুরীর সংবাদ সম্মেলন: রাজনৈতিক প্রতিপক্ষ আদালত কর্তৃক মীমাংসিত বিষয় নিয়ে অপপ্রচার চালিয়ে যাচ্ছে
- নিউইয়র্কে জালালাবাদ এসোসিয়েশন অব আমেরিকা’র ইফতার ও দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত
- নিউইয়র্কে আমেরিকান ট্রাভেল এজেন্ট এসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ’র ইফতার ও দোয়া মাহফিল
- নিউইয়র্কে অ্যাসাল ওজোন পার্ক চ্যাপ্টারের ইফতার ও অভিষেক
- নিউইয়র্কে বাংলাদেশ ল সোসাইটি ইউএসএ’র ইফতার মাহফিল: খারাপ কাজ থেকে দূরে থাকার আহ্বান
- BOROUGH PRESIDENT GIBSON HOSTS FOURTH ANNUAL BRONX IFTAR DINNER DIALOGUE UNDER THE THEME “UNITY IN DIVERSITY”








