Wednesday, 21 October 2026 |
শিরোনাম
New York Attorney General James Secures Reimbursements for T-Mobile Customers Whose Rates Were Unjustly Raised নিউইয়র্কে বাংলাদেশ সোসাইটির নির্বাচনে কুনু-ফিরোজ পরিষদের সাত দফা ইশতেহার ঘোষণা; কমিউনিটি সেন্টার প্রতিষ্ঠা, সাশ্রয়ী ফিউনারেল সেবা, বিমানের সরাসরি ফ্লাইট ও আর্থিক স্বচ্ছতায় অঙ্গীকার ফিলিস্তিনিদের আত্মনিয়ন্ত্রণের অধিকারের প্রতি বাংলাদেশের পূর্ণ সমর্থন: জাতিসংঘে রাষ্ট্রদূত আইরিন খান নিউইয়র্কে বাংলাদেশ সোসাইটির নির্বাচনে প্রথমবারের মতো বিতর্ক, গুরুত্ব পেল স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি New York Attorney General James Warns New Yorkers About AI-Generated Election Misinformation Ahead of November Elections Bangladesh calls for global treaty to protect victims of crimes against humanity নিউইয়র্কে জাতিসংঘে মুহাম্মদ নওশাদ জমির এমপি: মানবতাবিরোধী অপরাধ প্রতিরোধে শক্তিশালী আন্তর্জাতিক সনদ প্রণয়নের আহ্বান সোশ্যাল মিডিয়ার তথ্য গোপন করলে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা প্রত্যাখ্যান, আবেদনপত্রে চাওয়া তথ্য সঠিক ও সম্পূর্ণভাবে দেওয়ার নির্দেশনা মার্কিন দূতাবাসের ভার্জিনিয়ায় অসুস্থ মুক্তিযোদ্ধা সাংবাদিক হারুন চৌধুরীকে দেখতে গেলেন বাংলাদেশি কমিউনিটি নেতৃবৃন্দ New York Attorney General James Issues Voter Guidance to Inform New Yorkers of Their Rights Ahead of November Election
সব ক্যাটাগরি

রূপগঞ্জে আমেরিকান সিটি, কানাডা সিটি, ফ্লোরিডা সিটি, প্রবাসী পল্লী স্যাটেলাইট টাউন,..বায়বীয় সিটির বাহার : সাইনবোর্ডের জায়গাও ভাড়ায়!

অনলাইন ডেস্ক পঠিত: 104 বার

প্রকাশিত: January 30, 2013 | 6:21 PM

আমেরিকান সিটি, অ্যারাবিয়ান সিটি, কানাডা সিটি, ফ্লোরিডা সিটি, সিডনি সিটি, স্বপ্নকুঞ্জ সাহারা সিটি, প্রবাসী পল্লী স্যাটেলাইট টাউন, ইতালিয়ান সিটি—এভাবে বিশ্বের নামিদামি ও আধুনিক শহরের নামে অসংখ্য শহর ও উপশহরের সাইনবোর্ড চোখে পড়বে রাজধানীর পার্শ্ববর্তী নারায়ণগঞ্জে রূপগঞ্জ উপজেলার কয়েকটি গ্রামে। রাস্তাঘাট, পুকুরপাড়, ধানক্ষেত ও খেলার মাঠের পাশে এসব স্বপ্নের শহরের আধুনিক সুযোগ-সুবিধাসংবলিত শত শত বিলবোর্ড ঝুলছে। বাহারি নামের এবং রঙের এসব সাইনবোর্ড দেখে যে কেউ অবাক হবেন। অত্যাধুনিক সব সুযোগ- সুবিধার ঘোষণা দিয়ে ব্যাঙের ছাতার মতো গজিয়ে ওঠা এসব শহরের নাম শুধু সাইনবোর্ড আর কোম্পানির প্রচারপত্রেই সীমাবদ্ধ। বাস্তবে নয়, সাইনবোর্ডেই কেবল এসব অত্যাধুনিক শহর ও উপশহরের অস্তিত্বের জানান দিচ্ছে। পুরো রূপগঞ্জ ঘুরে দেখা গেছে, আধুনিক শহরের তালিকায় আরও রয়েছে পূর্বাচল বেস্টওয়ে সিটি, রাজউক পূর্বাচল নিউটাউন, পুর্বাচল লেকভিউ সিটি, এলিট সিটি, মেরিন সিটি, লাল সবুজ সিটি, সবুজ ছায়া সিটি, রাজভেলি সিটি, পিক্সেল সিটি, বসুগুঞ্জ সিটি, আনন্দ সিটি, আইকন সিটি, সিঙ্গাপুর- বাংলাদেশ সিটি, আমেরিকান-বাংলাদেশ নিউ সিটি, শ্যামল বাংলা পূর্বাচল সিটি ইত্যাদি। প্রতিটি সিটির প্রচারপত্র কিংবা বিক্রয় প্রতিনিধিদের দাবি, প্রত্যেকটি সিটিই হবে আধুনিক। দুবাই, সিঙ্গাপুর, মালয়েশিয়া, সারজাহ কিংবা ইউরোপ-আমেরিকার অত্যাধুনিক সব সুযোগ-সুবিধাসংবলিত দৃষ্টিনন্দন শহরগুলোতে থাকবে বিশ্বমানের বিশ্ববিদ্যালয়, কলেজ, স্কুল, খেলার মাঠ, গাছ-গাছড়ায় ভরা পর্যাপ্ত পরিমাণে খোলা জায়াগা, বাগবাগিচা, স্বচ্ছ কাচের মতো পানির লেক, লেকে থাকবে ভাসমান রেস্টুরেন্ট, ছোট ছোট বোট, আধুনিক মার্কেট ও আধুনিক চিকিত্সার সুযোগ-সুবিধাসংবলিত হাসপাতাল ইত্যাদি। প্রতিটি সিটিই হবে সুযোগ-সুবিধার দিক থেকে স্বয়ংসম্পূর্ণ। একটি সিটির লোক অন্য সিটিতে খুব একটা যাওয়ার প্রয়োজন হবে না। চটকদার ও আজগুবি এসব সুযোগ-সুবিধার বর্ণনাসংবলিত সারি সারি সাইনবোর্ড ঝুলছে রূপগঞ্জের কয়েকটি গ্রামে। তবে বাস্তবে সাইনবোর্ড আর প্রচারপত্র ছাড়া এখনও কেউ এ ধরনের কোনো সিটি কিংবা উপশহরের অস্তিত্ব খুঁজে পাননি। রূপগঞ্জের ওই গ্রামগুলো ঘুরে দেখা গেছে, দু-একটি ছাড়া স্বপ্নের এ শহরগুলোতে এখনও একটি ইট কিংবা এক টুকরি মাটিও ফেলা হয়নি। হাতেগোনা দু-একটি সিটির মালিক নিজেদের নামে দু-এক টুকরো জমি কিনেছে। অধিকাংশ সিটির মালিকই এলাকার দালাল শ্রেণীর লোককে হাত করে কারও জমির আইলে, কারও পুকুরপাড়ে কিংবা রাস্তার পাশে এবং সরকারি খাস জমিতে নানা রঙের আকর্ষণীয় ডিজাইনের সাইনবোর্ড ঝুলিয়ে দিয়েছে। এর মধ্যে এমন সিটির সংখ্যাই বেশি, যারা সিটির আয়তন ধরেছে অন্তত তিনশ’ বিঘা, কিন্তু জমি কিনেছে মাত্র ১০ শতাংশ। একটি সিটি সাইনবোর্ড লাগিয়েছে পাঁচটি। এর মধ্যে জমির আইল ভাড়া করে তিনটি সাইনবোর্ড লাগানো হয়েছে। অবশিষ্ট দুটি সাইনবোর্ডের জমিটুকু কিনেছেন তারা। কোথাও কোথাও বাঁশ কিংবা একটি পাকা পিলারের ওপর ভর করে সাইনবোর্ডটি একটি অত্যাধুনিক শহরের অস্তিত্বের জানান দিচ্ছে। একই জমিতে তিনটি উপশহরের অস্তিত্বও খুঁজে পাওয়া গেছে। আবার একটি পুকুরের তিন পাড়ে তিনটি উপশহর গড়ে উঠেছে। যদিও কোথাও একটি ইট কিংবা এক টুকরি মাটিও ফেলা হয়নি। কয়েকটি এলাকা সরেজমিনে ঘুরে দেখা গেছে, কোনো কোনো হাউজিং কোম্পানি এক শতাংশ জমিও কেনেনি। শুধু সাইনবোর্ড লাগানোর জমিটুকু মালিকের কাছ থেকে ভাড়া নিয়েছে। কোথাও কোথাও সাইনবোর্ডের নিচের দু-এক শতাংশ জমি কেনা হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে যে, একটি হাউজিং কোম্পানি শুধু সাইনবোর্ড লাগানোর জন্য ১৫ শতাংশ জমি কিনে এ পর্যন্ত দেড়শ’ প্লট বিক্রি করেছে। বিশ্বখ্যাত শহরগুলোর অবস্থান ও অবস্থা : ঢাকা থেকে রওনা হয়ে রূপগঞ্জ উজেলার ভুলতা-গাউছিয়া হয়ে এশিয়ান হাইওয়ে সড়ক ধরে কাঞ্চনব্রিজ পার হয়ে গাজীপুরের কালীগঞ্জ উপজেলা কিংবা মীরের বাজার হয়ে আবার ঢাকায় ফিরে এলে যে কেউ মনে করতে পারেন, এলাকাটি যেন বিশ্বখ্যাত সব শহরের মিলনক্ষেত্র। রূপগঞ্জ উপজেলার দক্ষিণবাগ গ্রামে ঢুকতেই রূপগঞ্জ-ইছাপুরা সড়কের পূর্বপাশে ঝুলছে আনন্দ হাউজিংয়ের সাইনবোর্ড। ড্রেজারের মাটি দিয়ে জমি ভরাট করা হয়েছে। এ সিটির একশ’ গজ উত্তরেই আরেকটি খালি জমির আইলের ওপর ঝুলছে ঢাকা ভিলেজের কয়েকটি বিশাল সাইনবোর্ড। এ দুটি সিটির পশ্চিম পাশে রাস্তার কোলঘেঁষে লাগানো হয়েছে পূর্বাচল লেকভিউ সিটির সাইনবোর্ড। এ তিনটি সিটির মাঝে মাঝে ঝুলছে তিসা সেন্ট্রাল সিটির সাইনবোর্ড। ভিংড়াব মৌজার মধ্যে মাত্র একশ’ গজের ভেতরে পাশাপাশি এ তিনটি সিটি পাওয়া গেলেও এখানে তাদের কোনো সাইট অফিসের সন্ধান পাওয়া যায়নি। একটু দূরে একটি দোকানের সামনে আনন্দ হাউজিংয়ের সাইট অফিস পাওয়া গেলেও তা ছিল তালাবদ্ধ। একই এলাকার সরফুদ্দিনের জমির বর্গাচাষী ইউসুফ ও স্থানীয় ব্যবসায়ী রুহুল আমিন জানান, তিন বছরের জন্য তিনি তার জমির আইল ৫০ হাজার টাকায় ভাড়া দিয়েছেন। সিটির সাইনবোর্ডটি কোনো অবস্থায় জমিতে লাগাতে পারবে না—শর্তেই আইল ভাড়া দেয়া হয়েছে। একই গ্রামের ভূঁইয়া বাড়ির সামনে গিয়ে দেখা যায়, রাস্তার পশ্চিম পাশে অ্যারাবিয়ান সিটির পাঁচটি সাইনবোর্ড ঝুলছে। এর মধ্যে দুটি সাইনবোর্ডের নিচে লেখা রয়েছে, ‘অ্যারাবিয়ান সিটির নিজস্ব সম্পত্তি’। এলাকাবাসী জানান, এ সাইনবোর্ড দুটির নিচের মোট পনেরো শতাংশ জমি এই কোম্পানির নামে কেনা হয়েছে। অপর তিনটি সাইনবোর্ডের নিচের জমি ভাড়া নেয়া। একশ’ গজের ভেতরে তিনটি জমির আইলে সাইনবোর্ডগুলো লাগানো হয়েছে। রাস্তার সঙ্গে লাগানো পুকুরের পশ্চিম পাশে টানানো হয়েছে অ্যারাবিয়ান সিটির একটি সাইনবোর্ড আর পূর্ব পাড়ে লাগানো হয়েছে আশিয়ান সিটির সাইনবোর্ড। একই স্থানে রাস্তার পূর্ব পাশে মাত্র বিশ গজ দূরে পৃথক আরেকটি পুকুরের উত্তর পাড়ে লাগানো হয়েছে সবুজ ছায়া সিটির সাইনবোর্ড। পুকুরটির পশ্চিম পাশে লাগানো হয়েছে পূর্বাচল লেকভিউ সিটির সাইনবোর্ড। এই সাইনবোর্ডটি লাগানোর জন্যও জমির মালিককে ভাড়া দেয়া হয়েছে। সামান্য একটু উত্তরে গেলে চোখে পড়ল লাল সবুজ সিটির সাইনবোর্ড। বাঁশের খুঁটিতে টিনের সাইনবোর্ড ঝুলছে। নিচে রয়েছে আগের কোম্পানির সাইনবোর্ডের ভাঙা পিলার। বছর দুয়েক আগে এখানে ইতালিয়ান সিটি নামে একটি উপশহর গড়ে তোলার জন্য এলাকাবাসীকে স্বপ্ন দেখিয়ে সংশ্লিষ্টরা পালিয়ে গেছে বলে জানালেন ওই এলাকার সিরাজ মিয়া। এ দুইশ’ গজের মধ্যে গড়ে ওঠা এ তিনটি সিটি কয়েক বছর ধরে মানুষকে আধুনিক শহরের স্বপ্ন দেখালেও আগের কোম্পানির মতো এরাও সাইনবোর্ড ছাড়া একটি ইট কিংবা এক টুকরি মাটিও ফেলেনি। এ এলাকার সব জমিতেই এখন বোরো আবাদ হচ্ছে। অ্যারাবিয়ান সিটির একটি সাইট অফিস হিসেবে একটি দোকানঘর ব্যবহার করা হলেও তা দীর্ঘদিন ধরেই তালাবদ্ধ থাকছে বলে জানান সিরাজ মিয়া। এলাকার আলফু মিয়া জানান, শুনেছি, কোম্পানির লোকজন ঢাকায় থাকে। গাড়ি নিয়ে মাঝে মধ্যে তারা প্লট ক্রেতাদের এলাকা দেখাতে আসেন। পাশাপাশি দুটি পুকুরে চারটি শহর কীভাবে গড়ে উঠবে জানতে চাইলে তিনি বলেন, পুকুরটি আশিয়ান সিটি কিনেছে বলে শুনেছি। অ্যারাবিয়ান সিটির অন্য শরিকের কাছ থেকে পুকুরের পাড় ভাড়া নেয়া হয়েছে। এখানে দু-একটি ছাড়া সব সাইনবোর্ডের নিচের আইল ভাড়ায় নেয়া হয়েছে বলে জানান তিনি। মালিকদের পরিবর্তে এ সিটি দেখাশোনা করেন দীন মোহাম্মদ রতন ও তার ভাই খোকন, ফালাইনা, জসিম প্রমুখ। এদের কোম্পানির পক্ষ থেকে মাসোহারা দেয়া হয়। আমার দেশ-এর পক্ষ থেকে ভুয়া এসব সিটির ছবি তুলতে গেলে কোম্পানির এজেন্ট ফালাইনা বাধা দিয়ে বলেন, মালিকের অনুমতি ছাড়া ছবি তোলা যাবে না। জমি ভাড়া নিয়ে সাইনবোর্ড লাগানো সংক্রান্ত অভিযোগের বিষয়ে অ্যারাবিয়ান সিটির পরিচালক কাজী আসলাম হোসাইন আমার দেশ-কে বলেন, এক বছরের কিছু বেশি সময় আগে আমাদের এ সিটির কার্যক্রম শুরু হয়েছে। প্রায় একশ’ বিঘা জমি নিয়ে আমাদের এ সিটি হবে। স্থানীয় অধিবাসীদের কাছ থেকে কিছু জমি কেনা হয়েছে। আরও জমি কেনার প্রক্রিয়া চলছে। যাদের সঙ্গে জমি কেনার চুক্তি হয়েছে, তাদের জমিতেই সাইনবোর্ড লাগানো হয়েছে। এরই মধ্যে প্রথম ও দ্বিতীয় ব্লকের অধিকাংশ প্লট বিক্রি হয়ে গেছে বলেও জানান তিনি। দক্ষিণবাগ থেকে একটু উত্তরে টেকনোয়াদ্দা এলাকায় রাজভেলি সিটি ও পিক্সেল সিটির সাইনবোর্ড ঝোলানোর প্রতিযোগিতা যে কোনো পথিকের নজর কাড়বে। এক টুকরো জমির দক্ষিণ পাশে পিক্সেল সিটির সাইনবোর্ড আর উত্তর পাশে রাজভেলি সিটির। একটু দূরে একই জমিতে পিক্সেল সিটির দুটি এবং রাজভেলি সিটিরও দুটি সাইনবোর্ড। এ জমিতে কয়টি উপশহর হবে—এমন প্রশ্নে এলাকার অধিবাসী হাকিম মোল্লা জানান, জমির মালিককে পাঁচশ’ বা এক হাজার টাকা দিলেই একটি সাইনবোর্ড লাগানো যায়। ধানক্ষেতে স্বপ্নের শহর : কাঞ্চন ব্রিজের টোলপ্লাজাঘেঁষে পূর্বাচল বেস্টওয়ে সিটির বিশাল একটি বিলবোর্ড ঝুলছে। পাশে ধানক্ষেতসহ অন্য কয়েকটি জমির আইলের ওপরও একই সিটির সাইনবোর্ড। এর মধ্যে রয়েছে রাজউক পূর্বাচল নিউটাউনের ঘোষণাও। বিলবোর্ডটি বলে দিচ্ছে, এ শহরটি হবে বিশ্বের যে কোনো আধুনিক শহরের চেয়ে কয়েকশ’ গুণ উন্নত। দৃষ্টিনন্দন এ সিটির পাশ দিয়ে প্রবাহিত হবে লেক। থাকবে থিমপার্ক, শিশুপার্ক, দৃষ্টিনন্দন অনেক বন-বাদাড়। এরই মাঝে থাকবে লোকালয় ও সুউচ্চ দালানকোঠা। এখানে এ সিটির নামে একটি বিশ্ববিদ্যালয়ের সাইনবোর্ডও ঝোলানো হয়েছে। তবে সাইনবোর্ডটির নিচেই জমিতে বোরো ধান তুলছেন গফুর মন্ডলসহ কয়েকজন চাষী। গফুর মন্ডল জানান, এ জমির মালিক হাজী সাইজউদ্দিন। বিলবোর্ডের জায়গাটুকুর মালিক কোম্পানি। এসব সাইনবোর্ডের একটু পূর্বে কিছু জমির ওপর বালু ফেলে ভরাট করে একই সিটির সাইনবোর্ড লাগানো হয়েছে। ছোট একটি দোতলা ভবনের সামনে লেখা হয়েছে বেস্টওয়ে ইউনিভার্সিটি। একই সঙ্গে এ ভবনটি এ সিটির সাইট অফিস হিসেবেও ব্যবহৃত হচ্ছে। কাঞ্চন ব্রিজ সংলগ্ন বেস্টওয়ে সিটি থেকে ভুলতার দিকে কিছুদূর গেলেই সড়কের বাম পাশে দেখা যায় আমেরিকান সিটির অসংখ্য সাইনবোর্ড। সড়কের পাশেই এ সিটির নামে বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠা করার কথা বলা হয়েছে। তবে এখনও কোনো ভবন কিংবা কোনো ধরনের কার্যক্রম শুরু হয়নি। সিটির বেশকিছু অংশজুড়ে বালি ভরাট করা হয়েছে। আমেরিকান সিটি থেকে কয়েকশ’ গজ সামনে এগোলোইে চোখে পড়বে এনআরবি হোমসের তিনটি বিশাল সাইনবোর্ড। তবে দুটি সাইনবোর্ড কালি দিয়ে মুছে দেয়া হয়েছে। কালাদাদি গ্রামে অবস্থিত এ সিটির বিষয়ে একই গ্রামের সরকার বাড়ির আজহার আলী জানান, তিনটি সাইনবোর্ডই লাগানো হয়েছে ভাড়া জায়গায়। দুটির ভাড়ার মেয়াদ শেষ হওয়ায় জমির মালিকরা তা মুছে ফেলেছেন। এ সিটির মাত্র একশ’ গজ দূরে রয়েছে গ্রিন সিটির ৫-৬টি সাইনবোর্ড। এ সিটির বিষয়ে আজহার আলী জানান, বিভিন্ন কোম্পানি টাকা দিয়ে এলাকার কিছু তরুণকে হাত করে সাইনবোর্ড লাগায়। দূর সম্পর্কের কোনো আত্মীয়ের নামে ভুয়া দলিল করে তারা জমিতে জোর করে সাইনবোর্ড লাগায়। আমাদের এখন সবসময় আতঙ্কের মধ্যে থাকতে হয়। কাঞ্চন ব্রিজ থেকে রাজউক পূর্বাচল সিটি এলাকা পার হয়ে কালীগঞ্জের নাগদা এলাকায় গেলে দেখা যায় প্রবাসী পল্লী সিটি। নদীর দু’পাশে খালি জায়গায় অসংখ্য সাইনবোর্ড টানানো হয়েছে। একটু সামনে এগোলোই কয়েকটি সাইনবোর্ড চোখে পড়ে। একসময় এখানে কানাডা সিটি নামে একটি সিটি গড়ে ওঠার কথা থাকলেও কোম্পানি ও গ্রাহকদের আগ্রহ না থাকায় দীর্ঘদিন অযত্ন ও অবহেলায় সাইনবোর্ডের লেখাগুলো মুছে গেছে বলে জানান এলাকার বাসিন্দারা। মীরের বাজারের দিকে আরেকটু এগোলোইে চোখে পড়ে মেরিন সিটির ৮-১০টি সাইনবোর্ড। তবে এখনও সাইনবোর্ড লাগানো ছাড়া অন্য কোনো কার্যক্রম শুরু হয়নি এ সিটিতে। নানা রঙের ও উন্নত বিশ্বের সিটিগুলোর নামে টানানো এসব সাইনবোর্ডের বিষয়ে রূপগঞ্জ উপজেলার সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, এসব শহরের অধিকাংশই হচ্ছে ভুয়া। কোনো অনুমোদন ও ছাড়পত্র ছাড়াই এগুলো টানানো হয়েছে। যে কোনো ব্যক্তিরই সাইনবোর্ড টানানোর অধিকার রয়েছে। তবে তিনি যখন বাস্তবে কোনো কার্যক্রম শুরু করতে যাবেন, তখনই আমরা দেখব, সেটাতে আইন ভঙ্গ হচ্ছে কি না। তাছাড়া প্রভাবশালী ব্যক্তিরাও এর সঙ্গে জড়িত রয়েছেন বলে জানান তিনি।এম এ নোমান ও আলী হোসেন টিটো, রূপগঞ্জ (নারায়ণগঞ্জ) থেকে ফিরে, আমার দেশ
বিজ্ঞাপন / স্পন্সরড কন্টেন্ট
ট্যাগ:
সর্বশেষ সংবাদ