গ্লোবাল সোশ্যাল এন্ট্রাপ্রেনিউরশিপ কম্পিটিশন (জিএসইসি), যুক্তরাষ্ট্র : বাংলাদেশ যেখানে প্রথম

১০ হাজার ডলারের প্রথম পুরস্কার হাতে মাকামে মাহমুদ ও নাসিফ আস-সাকিব IIIIIII
অঞ্জলি সরকার : যুক্তরাষ্ট্রের সিয়াটল শহরের গ্র্যান্ড হায়াট হোটেলে ঘড়ির কাঁটা তখন সাতটা ছুঁই ছুঁই করছে। সেদিন ছিল ২৮ ফেব্রুয়ারি। ইউনিভার্সিটি অব ওয়াশিংটন আয়োজিত গ্লোবাল সোশ্যাল এন্ট্রাপ্রেনিউরশিপ কম্পিটিশনের (জিএসইসি) সমাপনী সন্ধ্যায় শহরের গণ্যমান্য ব্যক্তিরা উপস্থিত হয়েছেন, এসেছেন মাইক্রোসফটের মতো বড় বড় প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধিরা। সবাই অধীর আগ্রহে অপেক্ষা করছে বিজয়ী দলগুলোর নাম জানার জন্য। সাড়ে সাতটার দিকে জানানো হলো, ‘গ্লোবাল হেলথ প্রাইজ’ জিতে নিয়েছে বাংলাদেশের ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের দল ‘লাইফ চেয়ার’! বিবিএ তৃতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী নাসিফ আস-সাকিব ও মাকামে মাহমুদ তখনো নিজেদের কানকে বিশ্বাস করতে পারছেন না, সত্যিই কি তাঁরা ১০ হাজার ডলারের পুরস্কার জিতে নিয়েছেন? তাও ম্যাসাচুসেটস ইনস্টিটিউট অব টেকনোলজির (এমআইটি) মতো নাম করা বিশ্ববিদ্যালয়ের তিনটি দলকে হারিয়ে? স্বপ্নের চেয়েও সুন্দর সেই সন্ধ্যায় দেশের জন্য অপরিসীম সম্মান বয়ে এনেছেন বাংলাদেশি তরুণ উদ্যোক্তারা। (‘লাইফ চেয়ার’ দলের অন্য দুই সদস্য সৌভিক আস্ওয়াদ ও সাজিদ রহমান বিশেষ কারণে যুক্তরাষ্ট্র যেতে পারেননি।) ব্যবসা শুধু মুনাফা অর্জনের উপায় নয়, উদ্ভাবনী শক্তি, সৃজনশীলতা আর জনকল্যাণের ইচ্ছে থাকলে ব্যবসার মাধ্যমে সমাজে আনা যেতে পারে ইতিবাচক পরিবর্তন। বদলে দেওয়া যায় কোটি মানুষের জীবনধারা। ব্যবসার মাধ্যমে সামাজিক উন্নয়নের পরিকল্পনা দিয়ে পৃথিবী বদলে দেওয়ার স্লোগান নিয়ে ২০০৫ সাল থেকে প্রতিবছর যুক্তরাষ্ট্রের ইউনিভার্সিটি অব ওয়াশিংটনের ফস্টার স্কুল অব বিজনেস আয়োজন করে গ্লোবাল সোশ্যাল এন্ট্রাপ্রেনিউরশিপ কম্পিটিশন। এবারের প্রতিযোগিতায় বিশ্বের ২৯টি দেশের ৬৭টি বিশ্ববিদ্যালয় থেকে তরুণ উদ্যোক্তারা নিজ নিজ পরিকল্পনা নিয়ে আবেদন করেন। সর্বমোট ৯১টি দলের পরিকল্পনা থেকে যাচাই-বাছাইয়ের পর ১৬টি দলকে নির্বাচিত করা হয় সেমিফাইনালিস্ট হিসেবে, যেখানে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আইবিএ থেকে তিনটি দল এবং ব্যবস্থাপনা বিভাগ থেকে একটি দল অংশ নেয়। মূল প্রতিযোগিতা শুরুর আগেই ঝানু ব্যবসায়ীদের মতো নিজেদের পরিকল্পনা ‘জিএসইসি ট্রেড শো’তে উপস্থাপন করতে হয়েছে সবাইকে। শুধু বিচারকেরাই নন, ট্রেড শোতে উপস্থিত ছিলেন বিখ্যাত বিনিয়োগকারী, সিয়াটলের বিশিষ্ট নাগরিক, ইউনিভার্সিটি অব ওয়াশিংটনের শিক্ষক ও শিক্ষার্থীরা। সবাইকে বোঝাতে হয়েছে ব্যবসার খুঁটিনাটি বিষয়, লাভ-লোকসান, ঝুঁকির মাত্রা, সামাজিক উন্নয়নের সম্ভাবনা, সবকিছু! উপস্থিত দর্শকদের ভোটে ‘পিপলস চয়েস অ্যাওয়ার্ড’- এর জন্য নির্বাচিত হয় বাংলাদেশের দল ‘ইকো-চুলা’। তবে লাল-সবুজের জয়যাত্রার সেটা ছিল কেবল শুরু। ২৭ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত হয় প্রতিযোগিতার প্রথম পর্ব। একে একে ১৪টি দল বিচারক প্যানেলের সামনে তুলে ধরে নিজেদের ব্যবসা পরিকল্পনা। নানা বিচার-বিশ্লেষণের পর সে দিন সন্ধ্যায় নাম ঘোষণা করা হয় ছয় ফাইনালিস্ট দলের। বাংলাদেশ থেকে ‘লাইফ চেয়ার’ আর ‘ইকো চুলা’-দুটি দল উঠে আসে ফাইনাল রাউন্ডে। ‘ইকো-চুলা’ দলের সদস্যরা হলেন আসিফ, শামরোজ ও তামান্না। বাংলাদেশের প্রতিদ্বন্দ্বী হিসেবে নির্বাচিত হয় যুক্তরাষ্ট্র, সিঙ্গাপুর, নাইজেরিয়া ও রুয়ান্ডার বিভিন্ন দল। অবশেষে পরদিন দুপুরে টানা তিন ঘণ্টা ধরে চলে সেরা ছয় দলের ঠান্ডা লড়াই। দীর্ঘ প্রেজেন্টেশনের শেষে বিচারকেরা একের পর এক প্রশ্নবাণে বিদ্ধ করেন প্রতিটি দলকে। অবশেষে ১০ হাজার মার্কিন ডলার (প্রায় আট লাখ টাকা) মূল্যমানের গ্লোবাল হেলথ প্রাইজ জিতে নেয় নাফিস আস-সাকিব ও মাকামে মাহমুদের দল ‘লাইফ চেয়ার’। বাংলাদেশে হাজার হাজার শারীরিক প্রতিবন্ধী ব্যক্তি আছেন যাঁদের ব্যয়বহুল হুইল চেয়ার কেনার সামর্থ্য নেই। তাঁদের জন্য কম খরচে মানসম্মত হুইলচেয়ার তৈরি করবেন তাঁরা। মজার ব্যাপার হচ্ছে, সম্পূর্ণ পরিবেশবান্ধব এই চেয়ার তৈরি করা হবে বাঁশ আর রিকশার চাকা দিয়ে। প্রতিটি হুইলচেয়ারের দাম পড়বে মাত্র তিন হাজার টাকা। পরিকল্পনা উপস্থাপন করতে গিয়ে তাঁরা বলেন, এই হুইলচেয়ার সঠিকভাবে বাজারজাত করতে পারলে অসংখ্য দরিদ্র প্রতিবন্ধী ব্যক্তির জীবনে নতুন দিনের সূচনা হবে। এ ছাড়া প্রতিযোগিতায় সাড়ে ১২ হাজার ডলারের গ্র্যান্ড প্রাইজ বিজয়ী হিসেবে নির্বাচিত হয় নাইজেরিয়ান দল, ১০ হাজার ডলারের ইনফরমেশন অ্যান্ড কমিউনিকেশন টেকনোলজি প্রাইজ পায় সিঙ্গাপুরের দলটি। যুক্তরাষ্ট্রের দলটি পাঁচ হাজার ডলার জিতে নেয় ‘ইনভেস্টরস চয়েস অ্যাওয়ার্ড’ হিসেবে এবং সামাজিক উন্নয়নের সম্ভাবনা বিবেচনা করে দেড় হাজার ডলারের পুরস্কার পায় রুয়ান্ডার দল। দেশে ফেরার পর কথা হয় ‘লাইফ চেয়ার’ পরিকল্পনার উদ্যোক্তাদের সঙ্গে। সিয়াটলের অভিজ্ঞতা বর্ণনা করতে গিয়ে মাকামে বলেন, ‘এমনও হয়েছে সারা দিনের আনুষ্ঠানিকতা শেষে একটু ঘুমিয়ে নিয়ে আবার রাত একটায় উঠে প্রেজেন্টেশন ঠিকঠাক করতে বসেছি। তারপর একটানা কাজ করে গেছি পরদিন বেলা একটায় বিচারকদের মুখোমুখি হওয়ার আগ পর্যন্ত।’ কিন্তু পরিশ্রমই এই প্রতিযোগিতার সবকিছু নয়। ফিরতে না-ফিরতে আগ্রহী বিনিয়োগকারীদের ই-মেইল এসে জমতে শুরু করেছে ‘লাইফ চেয়ার’-এর উদ্যোক্তাদের মেইলবক্সে। ইতিমধ্যেই একটি প্রমাণসাইজের হুইলচেয়ারও বানিয়ে ফেলেছেন তাঁরা। উপযুক্ত পৃষ্ঠপোষকতা পেলে এ প্রকল্প অনেক দূর এগিয়ে যাবে, এমন স্বপ্নই দেখছেন এখন বাংলাদেশের গর্ব, তরুণ উদ্যোক্তা নাসিফ, সৌভিক, মাকামে ও সাজিদ।প্রথম আলো
- DRIVER CHARGED WITH MANSLAUGHTER IN DEADLY HIT-AND-RUN IN MARCH ON JAMAICA AVENUE
- নিউইয়র্কে বিএনপির কেন্দ্রীয় কমিটির সাংগঠনিক সম্পাদক সাংসদ অধ্যাপক সেলিম ভূঁইয়াকে সংবর্ধনা, কুমিল্লা বিভাগ শুধু সময়ের ব্যাপার
- UN General Assembly Adopts Bangladesh-Led Culture of Peace Resolution
- বাংলাদেশের উত্থাপিত ‘শান্তি ও সহাবস্থানের সংস্কৃতি’ বিষয়ক প্রস্তাব গ্রহণ করল জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদ
- নিউইয়র্কের জ্যামাইকায় জল খাবার রেস্টুরেন্ট এর গ্র্যান্ড ওপেনিং
- New York Attorney General James Secures $375,000 from 1-800-Flowers for Deceiving Consumers About Automatic Subscription Renewals
- নিউইয়র্কের ব্রঙ্কসে বাংলাদেশি আমেরিকা পুলিশ কর্মকর্তার নামে সড়ক ‘ডিটেকটিভ দিদারুল ইসলাম ওয়ে’
- ECOSOC recommends UN General Assembly to take decision on Bangladesh and Nepal’s LDC graduation extension requests