মার্কিন মানবাধিকার রিপোর্টে বাংলাদেশ
মার্কিন পররাষ্ট্র দফতরের ২০১২ সালের মানবাধিকার রিপোর্টে বাংলাদেশের মানবাধিকার
পরিস্থিতির যে চিত্র উঠে এসেছে তা একই সঙ্গে ভয়াবহ ও উদ্বেগজনক। গুম, বিচার
বহির্ভূত হত্যাকা- ও দুর্নীতি বাংলাদেশে মানবাধিকারের ক্ষেত্রে প্রধান সমস্যা
হিসাবে উল্লেখ করে রিপোর্টে বলা হয়েছে, মানবাধিকার লংঘনের ক্ষেত্রে আইন-শৃংখলা
বাহিনীর সম্পৃক্ততা, দুর্নীতির ক্ষেত্রে সরকারী কর্মকর্তাদের দায়মুক্তি,
বাক-স্বাধীনতার ক্ষেত্রে সরকারের বাধা মানবাধিকারের ক্ষেত্রে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি
করছে। রিপোর্ট মোতাবেক, সবচেয়ে বড় মানবাধিকার সমস্যা হলো, জোরপূর্বক গুমের ঘটনা,
প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর প্রতি বৈষম্য, কাজের ক্ষেত্রে পরিবেশ ও শ্রমিক অধিকারের দুর্বল
অবস্থা। গুম, বিচার বহির্ভূত হত্যাকা- ও অপহরণের ঘটনা ঘটেই চলেছে। এসব ক্ষেত্রে
নিরাপত্তা বাহিনীর সংশ্লিষ্টতা রয়েছে বলে মানবাধিকার সংস্থাগুলো অভিযোগ করেছে।
এছাড়া গ্রেফতার, আটক রাখা ও আইন-শৃংখলা বাহিনীর হেফাজতে মৃত্যুও একটি বড় সমস্যা।
দুর্বল বিচারিক ক্ষমতা এবং বিচারের পূর্বে দীর্ঘদিন আটক রাখার ঘটনা ঘটে চলেছে।
নাগরিকের ব্যক্তিগত গোপনীয়তা লংঘনের ঘটনাও ঘটে চলেছে। সভা-সমাবেশ ও বাক-স্বাধীনতার
ক্ষেত্রে সরকার বাধা সৃষ্টি করছে। এই সঙ্গে রাজনৈতিক সহিংসতা ও সরকারী পর্যায়ে
দুর্নীতির ব্যাপক বিস্তার এখনো সমস্যা হয়ে আছে। তথ্যের বিভিন্ন উৎসের বরাত দিয়ে বলা
হয়েছে, ২০১২ সালে ৭০টি বিচারবহির্ভূত হত্যাকা-ের ঘটনা ঘটেছে, যার মধ্যে ৪০টি
হত্যাকা-ের জন্য র্যাব দায়ী। এ বছর রাজনৈতিক সহিংসতায় ১৬৯ জন নিহত ও ১৭ হাজার ১৬১
জন আহত হয়েছে। গুমের ঘটনা ঘটছে ২৪টি। নির্যাতনের শিকার হয়েছে ৭২ জন, যাদের মধ্যে ৭
জনের মৃত্যু হয়েছে। কারাগারে বন্দীর সংখ্যা অতিরিক্ত। ৩৩ হাজার ৫৭০ জনের ধারণ
ক্ষমতা থাকলেও বন্দীর সংখ্যা ৬৮ হাজার ৭০০। ২০০৮ সালের হিসাবে বিচার ছাড়া বন্দীর
সংখ্যা ৫৬ হাজার। ২০১২ সালে চারজন সাংবাদিক খুন হয়েছে। ১১৮ জন আহত হয়েছে এবং ৫০
জনকে হুমকি দেয়া হয়েছে। হিউম্যান রাইটস ওয়াচের মতে, যুদ্ধাপরাধ বিচারের ক্ষেত্রে
বিচারাধীন ব্যক্তিদের আইনজীবীকে আইনপ্রয়োগকারী সংস্থা ও সরকারের কর্মকর্তারা
ভয়-ভীতি দেখাচ্ছে। সভা-সমাবেশের ক্ষেত্রে অধিকারের হিসেবে ১০৫ বার ১৪৪ ধারা জারি
করা হয়েছে। বিএনপির ১২ মার্চের কর্মসূচীতে বাধা প্রদান করা হয়েছে। জামায়াতে
ইসলামীকে সভা-সমাবেশ করতে দেয়া হয়নি।
সংবিধানে বর্ণিত অধিকারের নিরিখে
মানবাধিকার পরিস্থিতির এ চিত্র তুলে ধরা হয়েছে। ইতোপূর্বে গণমাধ্যম ও বিভিন্ন
মানবাধিকার সংস্থার রিপোর্টে এবং সরকারী নথিতথ্যে অনুরূপ চিত্রই প্রত্যক্ষ করা
গেছে। মার্কিন পররাষ্ট্র দফতরের রিপোর্ট তৈরিতে এসব উৎসই মূলত ব্যবহৃত হয়েছে। দেশের
প্রতিটি নাগরিকই কমবেশী মানবাধিকারের নাজুক পরিস্থিতি সম্পর্কে ওয়াকিবহাল। তাদের যে
অভিজ্ঞতা, মানবাধিকার পরিস্থিতি বুঝার জন্য সেটাই যথেষ্ট। এজন্য দেশী-বিদেশী
রিপোর্ট দেখার বা পড়ার প্রয়োজন নেই। দুঃখজনক বাস্তবতা এই যে, নানা প্রসঙ্গে দেশের
সর্বোচ্চ আইন সংবিধানের কথা উচ্চারিত হলেও সংবিধানে বর্ণিত নাগরিক ও মানবিক অধিকার
লংঘনের ঘটনা ঘটে চলেছে বেপরোয়াভাবে। চলতি বছরের এ ক’মাসে মানবাধিকার পরিস্থিতির আরও
অবনতি ঘটেছে। লংঘনের ঘটনা আরো ব্যাপকভাবে ঘটেছে। বিরোধীদলের আন্দোলন-সংগ্রাম ও
মানবতাবিরোধী অপরাধের বিচারকে কেন্দ্র করে প্রায় ২০০ মানুষ নিহত হয়েছে। এদের
অধিকাংশই নিহত হয়েছে আইন-শৃংখলা বাহিনীর নির্বিচার গুলিতে। খুন, গুম, গ্রেফতার,
হামলা-মামলা, ভাংচুর, অগ্নিসংযোগ ও সম্পদহানির ঘটনা আরও বেড়েছে। রাজনৈতিক দমন-দলন
বৃদ্ধি পেয়েছে। সুষ্ঠু আইন-শৃংখলা ও জননিরাপত্তার অভাবে জনগণ কার্যত অসহায় হয়ে
পড়েছে। উন্নয়ন ও অর্থনৈতিক তৎপরতা মারাত্মক হুমকির মুখে এসে দাঁড়িয়েছে। রাজনৈতিক
সংকট দেশে ভয়াবহ সংঘাত-সহিংসতার আশংকা সৃষ্টি করেছে।
সাংবিধানিক, নাগরিক ও
মানবিক অধিকারের লংঘন ও ধস এখন যে পর্যায়ে এসে উপনীত হয়েছে, অতীতে তেমনটি কখনো দেখা
যায়নি। এই পরিস্থিতিতে গোটাজাতি উদ্বিগ্ন-বিচলিত ও শংকিত। আমরা যেভাবে এটা দেখছি,
বিশ্বের অন্যান্য দেশও হয়তো সেভাবেই দেখছে। তবে আমাদের ও তাদের মূল্যায়ন হুবহু
একরকম নাও হতে পারে। তাদের বিশ্লেষণ-মূল্যায়নে আন্তর্জাতিক অভিজ্ঞতা ও দৃষ্টির
প্রতিফলন থাকা খুবই স্বাভাবিক। তারা যে চিত্রটি বের করে আনছে বা আনবে, তা
বহির্বিশ্বে বাংলাদেশের ভাব-মর্যাদাকে সংকুচিত ও ক্ষণœœ করবে ব্যাপকভাবে। বাংলাদেশ
সম্পর্কে কেউ কিছু জানতে চাইলে অন্যান্য বিষয়ের সঙ্গে মানবাধিকার এবং রাজনৈতিক ও
গণতান্ত্রিক পরিস্থিতির বিষয়টিও চলে আসবে এবং সঙ্গত গুরুত্বও লাভ করবে। কাজেই
বহির্বিশ্বে বাংলাদেশের সম্মান ও ভাব-মর্যাদা অক্ষুণœ রাখতে বা বৃদ্ধি করতে
মানবাধিকার পরিস্থিতির উন্নয়ন কেবল অপরিহার্য নয়, জরুরীও বটে। ইতোমধ্যে সম্মান ও
ভাব-মর্যাদার যে ক্ষতি হয়েছে তা সহজে মুছে দেয়া সম্ভব হবে না। বর্তমান সরকার এক সময়
থাকবে না। কিন্তু ক্ষত অনেকদিন থেকে যাবে। এই বিবেচনা সামনে রেখে মানবাধিকার
পরিস্থিতির উন্নয়নে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিতে হবে। নিতে হবে প্রয়াজনীয়
উদ্যোগ-পদক্ষেপ। মানবাধিকার সংক্রান্ত রিপোর্টগুলো নাকচ বা উপেক্ষা করার কোনো সুযোগ
নেই। এগুলো আমলে নিয়ে বিশ্লেষণ ও মূল্যায়ন করে যথাযথ কার্যব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে।
মনে রাখতে হবে, একটি দেশ বা জাতি কতটা সভ্য ও উন্নত তার একটি বড় পরিমাপক হলো,
মানবাধিকার পরিস্থিতি।ইনকিলাব
- Bangladesh Calls for Stronger UNDP Support on Climate Finance and Smooth LDC Graduation
- জলবায়ু অর্থায়ন ও এলডিসি উত্তরণে ইউএনডিপি’র অধিকতর সহায়তার আহ্বান বাংলাদেশের
- নিউইয়র্কের জ্যাকসন হাইটসে কমার্শিয়াল পার্কিং প্রত্যাহারের দাবিতে বিক্ষোভ
- যুক্তরাষ্ট্র প্রবাসী আবু সাইদ আহমদ কেন্দ্রীয় যুবদলের সহ-সভাপতি মনোনীত
- নিউইয়র্ক সিটির কমিউনিটি অ্যাকশন বোর্ড এর প্রতিনিধি নির্বাচিত আব্দুস শহীদ
- Low-Income, Rural Students Face Higher Dropout Risk Due to English Gaps and Cultural Shock, BUBT Study Finds
- বাংলাদেশ ল’ সোসাইটি ইউএসএ’র সভাপতি ওয়াহিদ ও সাধারণ সম্পাদক কামালকে অব্যাহতি; ব্যারিষ্টার আকমাম ভারপ্রাপ্ত সভাপতি ও শাবু ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদকের দায়িত্বে
- SUSPENDED ATTORNEY CHARGED WITH GRAND LARCENY FOR STEALING MORE THAN $1 MILLION FROM BORROWERS, DIME COMMUNITY BANK