মহান মে দিবস আজ : সবচেয়ে সস্তা শ্রম এখন বাংলাদেশে
সবচেয়ে সস্তা শ্রম পাওয়া যায় এখন বাংলাদেশে। বিশ্বের অন্যান্য দেশের তুলনায় বাংলাদেশে শিল্পশ্রমিক পেতে সবচেয়ে কম মজুরি দিতে হয়। আর এই একটি মাত্র কারণে বাংলাদেশের সস্তা পোশাকের চাহিদা দিনে দিনে বাড়ছে। বাংলাদেশে বাড়ছে শ্রমিকের পরিমাণও। দক্ষিণ এশিয়ার মধ্যে বাংলাদেশেই শ্রম সরবরাহ বাড়ছে সবচেয়ে বেশি হারে। বাংলাদেশে শ্রমশক্তির মধ্যে অপেক্ষাকৃত তরুণদের পরিমাণও অনেক বেশি। বিশ্বব্যাংকসহ বাংলাদেশ নিয়ে কাজ করা বিভিন্ন সংস্থা মনে করে, এই শ্রমশক্তি ব্যবহার করেই বাংলাদেশ ২০২১ সালের মধ্যে মধ্য আয়ের দেশে পরিণত হতে পারবে। অথচ বাংলাদেশে সবচেয়ে অবহেলিত এই শ্রমিকেরাই। শ্রমিকদের সবচেয়ে কম মজুরি দেওয়া হয়। আবার নানা ধরনের দুর্ঘটনায় প্রাণহানিও ঘটছে শ্রমিকদের। বাংলাদেশে শিল্পমালিকেরা বলেন, এ দেশে শ্রমিকদের উৎপাদনশীলতা কম, এ কারণে মজুরিও কম। অথচ এপ্রিল মাসে প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে বিশ্বব্যাংক ইউএসএআইডির এক গবেষণার উদ্ধৃতি দিয়ে বলেছে, দক্ষতার সঙ্গে ব্যবস্থাপনা করা হয় এমন সব প্রতিষ্ঠানে বাংলাদেশের শ্রমিকের উৎপাদনশীলতা চীনের শ্রমিকের সমান। অথচ বাংলাদেশের শ্রমিকটি চীনের শ্রমিকের তুলনায় পাঁচ গুণ কম মজুরি পাচ্ছেন। আর ভিয়েতনামের শ্রমিকের তুলনায় পাচ্ছেন অর্ধেক মজুরি। এ রকম এক পরিস্থিতির মধ্যে আজ বিশ্বের অন্যান্য দেশের মতো বাংলাদেশেও মে দিবস পালিত হচ্ছে। আর এ সময় সারা বিশ্বে সবচেয়ে বেশি আলোচিত বিষয় হচ্ছে বাংলাদেশের পোশাকশ্রমিক। মে দিবসের এক সপ্তাহ আগে সাভারের রানা প্লাজা ধসে পড়ার ঘটনায় এখন পর্যন্ত ৩৮৬ জন পোশাকশ্রমিকের লাশ পাওয়া গেছে। জার্মানির স্পাইজেল অনলাইন এ ঘটনার বিবরণ দিয়ে এর শিরোনাম করেছে, ‘মুনাফার জন্য খুন’ (মার্ডার, ইন দ্য নেম অব প্রফিট)। মে দিবসের ঠিক আগের এই দুর্ঘটনার কারণে বাংলাদেশের পোশাক ক্রেতারাও চরম বিপাকে পড়েছেন। বিশ্ববিখ্যাত প্রাইম্যাকসহ বড় বড় ক্রেতা প্রতিষ্ঠানকে বাধ্য হয়ে ক্ষতিপূরণের ঘোষণা দিতে হচ্ছে। বিশ্বের সস্তা পোশাকের সবচেয়ে বড় উৎস হচ্ছে চীন। কিন্তু সেখানে শ্রমিকদের মজুরি বেড়ে যাওয়ায় ক্রেতারা এখন আরেকটি দেশ খুঁজছে। বাংলাদেশের পোশাকমালিকেরা মনে করছেন, বিশ্ববাজারে চীনের অংশটি বাংলাদেশই দখল করতে পারে। আর এ জন্য মালিকদের সর্বোচ্চ চেষ্টা থাকে মজুরি যাতে না বাড়ে। বাংলাদেশের পোশাকশ্রমিকেরা বিশ্বে সবচেয়ে কম মজুরি পান। সাভারে দুর্ঘটনার পর এই তথ্যটি নতুন করে আবার বিশ্বের বিভিন্ন গণমাধ্যমে প্রচার পাচ্ছে। বাংলাদেশে ২০১০ সালে ন্যূনতম মজুরির হার বাড়ানো হয়েছে। এর পরও বাংলাদেশের শ্রমিকেরা সর্বনিম্ন মজুরি পান বলে বেসরকারি বিভিন্ন সূত্রে জানা গেছে। এর আগে বাংলাদেশের একজন শ্রমিকের ঘণ্টাপ্রতি মজুরি ছিল ২১ সেন্টস বা ১৪ টাকা ৬০ পয়সা। আর মজুরির হার বাড়ানোর পর সেটি হয়েছে ৩৫ সেন্টস বা ২৪ টাকা ৩৩ পয়সা। অন্যান্য দেশের তুলনামূলক একটি হিসাব পাওয়া গেলেও তা দুই বছর আগের একটি গবেষণা থেকে নেওয়া। যদিও এর মধ্যে অন্যান্য দেশেও মজুরির হার বাড়ানো হয়েছে। দুই বছর আগের হিসাব অনুযায়ী, কম্বোডিয়ায় একজন শ্রমিক প্রতি ঘণ্টায় পায় ২৪ সেন্টস, ইন্দোনেশিয়ায় ৩৫ সেন্টস, পাকিস্তানে ৩৭ সেন্টস, শ্রীলঙ্কায় ৪৬ সেন্টস, মেক্সিকোতে ৫৩ সেন্টস, ভিয়েতনামে ৫২ সেন্টস, মরিশাসে ৬৫ সেন্টস, ভারতে ৫৫ থেকে ৬৮ সেন্টস, চীনে ৯৩ সেন্টস ও ফিলিপাইনে এক ডলার। শ্রমিক সংগঠনগুলোর অভিযোগ হচ্ছে, সস্তায় পোশাক পাওয়া যায় বলে বিদেশি ক্রেতাদের কাছে বাংলাদেশের বিকল্প নেই। ফলে বড় কোনো ঘটনা ঘটনায় সাময়িক সংকট হলেও পরবর্তী সময়ে তা আর থাকে না। তাই পোশাকমালিকেরা শেষ পর্যন্ত মজুরি বৃদ্ধি, শ্রমিকদের সংগঠন করার অধিকার এবং কর্মপরিবেশ বাড়াতে খুব বেশি মনোযোগী হন না। এসব বিষয়ে গবেষণা সংস্থা সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগের (সিপিডি) নির্বাহী পরিচালক মোস্তাফিজুর রহমান গতকাল মঙ্গলবার প্রথম আলোকে বলেন, উন্নত শ্রম পরিবেশ, শ্রমিকদের অধিকার রক্ষা ও জীবন ধারণ করার মজুরি—সবটাকে ধারণ করেই আমাদের এই খাতকে বেঁচে থাকতে হবে। এ জন্য উদ্যোক্তা, ক্রেতা ও সরকার—সবারই করণীয় আছে। সরকারকে অবকাঠামো তৈরি করে দিতে হবে, যাতে উদ্যোক্তারা বলতে না পারেন যে অবকাঠামোর অভাবে খরচ বেড়ে যাচ্ছে। ফলে শ্রমিকদের মজুরি বাড়ালে লাভজনক থাকা যাবে না। আবার ক্রেতারা যখন শ্রমিকদের কাজের উন্নত পরিবেশ তৈরি নিয়ে চাপ দেন, তখন তাঁদেরও পোশাকের মূল্য বেশি দিতে হবে। আজ মে দিবস। শ্রমিকের অধিকার রক্ষাই এ দিবসের মূল দাবি। শ্রমিকদের অধিকারের প্রতি সম্মান জানিয়েই মে দিবস পালন করা হয়। কিন্তু সেই সম্মানটা নিশ্চিত করতে হলে সব পক্ষকে একযোগে কাজ করতে হবে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।প্রথম আলো
- নিউইয়র্কে চিটাগাং অ্যাসোসিয়েশন অফ আমেরিকা’র সংবাদ সম্মেলন: সংগঠনের বিরুদ্ধে চলমান মামলার নিষ্পত্তি নি হওয়া পর্যন্ত কোন নির্বাচন নয়
- যুক্তরাষ্ট্র প্রবাসী বাংলাদেশীদের মূলধারার ব্যবসা-বাণিজ্য রাজনীতির সঙ্গে সম্পৃক্ত হওয়ার আহ্বান প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা ড. তিতুমীরের
- নিউইয়র্কে বাংলাদেশ সেমিট্রির কবরে মরদেহ সমাহিত করা যাবে ১ জুলাই থেকে
- যুক্তরাষ্ট্রের বিনিয়োগকারীদের জন্যে বাংলাদেশ এখন সবচেয়ে কার্যকর ও উপযোগী দেশ: প্রধানমন্ত্রীর অর্থনীতি ও পরিকল্পনা উপদেষ্টা ড. তিতুমীর
- নিউ জার্সির আটলান্টিক সিটিতে মেয়র মার্টি স্মল সিনিয়র স্কলারশিপ প্রোগ্রাম, আবেদন জমা দেওয়ার শেষ সময় ১৫ জুন
- নিউইয়র্কে মুনার ঈদ পুনর্মিলনী
- নিউইয়র্কে বাংলাদেশী ডক্টর ফোরাম অব নর্থ আমেরিকা’র উদ্যোগে ডা. ডোনার ও ডা. হারুন সংবর্ধিত
- নিউইয়র্ক স্টেট ডেমোক্র্যাটিক প্রাইমারী নির্বাচনে এসেম্বলিম্যান প্রার্থী জাকির চৌধুরীর ‘কমিউনিটি র্যালি’