নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যেতে পারে বাংলাদেশ
ডেস্ক: প্রতিবাদী জনগণের বিরুদ্ধে নিরাপত্তা রক্ষাকারীদের অতিমাত্রায় শক্তি প্রয়োগ অবিলম্বে বন্ধ করতে হবে বাংলাদেশকে। না হলে আগামী দিনগুলোতে নতুন করে বিক্ষোভ শুরু হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। কয়েক দশকের মধ্যে বাংলাদেশ বর্তমানে সবচেয়ে গুরুতর অস্থিরতা মোকাবিলা করছে। নিরাপত্তা রক্ষাকারীদের রাশ টেনে না ধরলে, তাদের জবাবদিহির আওতায় নেয়া না হলে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যেতে পারে। নিউ ইয়র্ক ভিত্তিক আন্তর্জাতিক মানবাধিকার বিষয়ক সংস্থা হিউম্যান রাইটস ওয়াচ ৩রা মে এক বিবৃতিতে এ কথা বলেছে। ‘বাংলাদেশ: এন্ড আনল’ফুল ভায়োলেন্স এগেইনস্ট প্রটেস্টারস’ শীর্ষক ওই বিবৃতিতে সংগঠনটির এশিয়া বিষয়ক পরিচালক ব্যাড এডামস বলেছেন, কোন সতর্কতা ছাড়াই অনেক সময় নিরস্ত্র প্রতিবাদী ও পথচারীর ওপর নিরাপত্তা রক্ষাকারী বাহিনীকে গুলি ছুড়তে দেখা গেছে। ফেব্রুয়ারিতে শুরু হওয়া রাজপথের বিশাল প্রতিবাদ সমাবেশে শিশু সহ কয়েক ডজন প্রতিবাদীর মৃত্যুর ঘটনা তদন্তে স্বাধীন কমিশন গঠন করতে হবে সরকারকে। অন্যায়ভাবে হত্যা ও শক্তি প্রয়োগের দায়ে যে-ই দায়ী হোক তার বিচার করতে হবে। প্রত্যক্ষদর্শীরা হিউম্যান রাইটস ওয়াচের কাছে বলেছেন, নিরস্ত্র জনতার ওপর পুলিশ, বিজিবি ও র্যাব সরাসরি গুলি করেছে, রাবার বুলেট ছুড়েছে। গ্রেপ্তার করেছে এবং এ সময়ে অন্যান্যভাবে অতিরিক্ত শক্তি প্রয়োগ করেছে। দেশের দক্ষিণ ও উত্তরাঞ্চল সহ রাজধানী ঢাকার বেশ কয়েকটি স্থানে ব্যবহার করা হয়েছে প্রাণঘাতী শক্তি। ব্যাড এডামস বলেছেন, এই ধারা বন্ধ হয়েছে এটা নিশ্চিত করার দায় সরকারের। একই সঙ্গে ওইসব কর্মকর্তাকে সরিয়ে ফেলতে হবে যারা তাদের অধীনস্থ বাহিনীকে সুপারভাইজ করতে ব্যর্থ হয়েছেন। একই সঙ্গে হিউম্যান রাইটস ওয়াচ আইন প্রয়োগকারী সংস্থার সদস্য ও অন্য রাজনৈতিক দৃষ্টিভঙ্গির লোকজনের ওপর হামলা সহ সব রকম হামলা বন্ধ করতে বিরোধী দলগুলোর প্রতি পদক্ষেপ নিতে আহ্বান জানানো হয়েছে। এ ঘটনায় তাদেরকে নিন্দা জানাতে বলা হয়েছে। হত্যার জন্য সরকার দায়ী করেছে জামায়াতে ইসলামী ও বিএনপিকে। তবে ওইসব পরিবারের সদস্যদের সাক্ষাৎকার নিয়েছে হিউম্যান রাইটস ওয়াচ। একই সঙ্গে তারা মেডিকেল রিপোর্ট পর্যবেক্ষণ করেছে। যেসব ঘটনা নথিভুক্ত করা হয়েছে তার বেশির ভাগ ক্ষেত্রেই দেখা গেছে বিক্ষোভকারীদের মাথায়, বুকে অথবা পাকস্থলি বরাবর গুলি করা হয়েছে। কমপক্ষে ৬টি ঘটনার শিকার হয়েছে শিশুরা। ১৭ বছর বয়সী এক কিশোরকে গুলি করা হয়েছে। তার পরিবারের এক প্রত্যক্ষদর্শী বলেছেন, নামাজ আদায় করে ফেরার পথে কিভাবে তাকে গুলি করা হয়েছে; আমি তাকে দেখলাম মাটিতে পড়ে আছে। তার মাথা থেকে রক্ত ঝরছে। আমি তাকে একপাশে টেনে নেয়ার চেষ্টা করলাম। তখনও গুলি চলছিল। ফলে আমি রাস্তা দিয়ে দৌড়াতে শুরু করি। যখন র্যাব কর্মকর্তারা গুলি বন্ধ করে তাকে পশুর মৃতদেহের মতো টেনে হিচড়ে তাদের গাড়ির ভিতর ছুড়ে মারে। গত ২৮শে ফেব্রুয়ারি বাংলাদেশের আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালত (আইসিটি) জামায়াত নেতা দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদীকে মৃত্যুদণ্ড দেন। বেশির ভাগ প্রতিবাদীর মৃত্যু ঘটে এর পরে। এ বিষয়ে দেশজুড়ে যেসব শহর ও গ্রামে বিক্ষোভ হয়েছে সেখানকার প্রত্যক্ষদর্শীদের সাক্ষাৎকার নিয়েছে হিউম্যান রাইটস ওয়াচ। ব্যাড এডামস বলেন, ওই বিক্ষোভগুলো ছিল বিশাল, কখনও কখনও রাজপথে নেমেছিল লক্ষাধিক মানুষের ঢল। ফলে নিরাপত্তা রক্ষাকারীরা যে নার্ভাস হয়ে পড়ে তা বোঝা যায়। কিন্তু তারা যখন সরাসরি জনতার মিছিলে মাথা ও বুক সমান উচ্চতায় গুলি করে তখন তারা নিশ্চিতভাবেই জানে তাতে মানুষ আহত হবে, মারাও যেতে পারে। প্রতিবাদী ও পুলিশ কর্মকর্তাদের হত্যার ঘটনা তদন্ত হওয়া ও এর জন্য যারা দায়ী তাদের জবাবদিহির আওতায় আনা জরুরি।মানবজমিনসর্বশেষ সংবাদ
- নিউইয়র্কে চিটাগাং অ্যাসোসিয়েশন অফ আমেরিকা’র সংবাদ সম্মেলন: সংগঠনের বিরুদ্ধে চলমান মামলার নিষ্পত্তি নি হওয়া পর্যন্ত কোন নির্বাচন নয়
- যুক্তরাষ্ট্র প্রবাসী বাংলাদেশীদের মূলধারার ব্যবসা-বাণিজ্য রাজনীতির সঙ্গে সম্পৃক্ত হওয়ার আহ্বান প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা ড. তিতুমীরের
- নিউইয়র্কে বাংলাদেশ সেমিট্রির কবরে মরদেহ সমাহিত করা যাবে ১ জুলাই থেকে
- যুক্তরাষ্ট্রের বিনিয়োগকারীদের জন্যে বাংলাদেশ এখন সবচেয়ে কার্যকর ও উপযোগী দেশ: প্রধানমন্ত্রীর অর্থনীতি ও পরিকল্পনা উপদেষ্টা ড. তিতুমীর
- নিউ জার্সির আটলান্টিক সিটিতে মেয়র মার্টি স্মল সিনিয়র স্কলারশিপ প্রোগ্রাম, আবেদন জমা দেওয়ার শেষ সময় ১৫ জুন
- নিউইয়র্কে মুনার ঈদ পুনর্মিলনী
- নিউইয়র্কে বাংলাদেশী ডক্টর ফোরাম অব নর্থ আমেরিকা’র উদ্যোগে ডা. ডোনার ও ডা. হারুন সংবর্ধিত
- নিউইয়র্ক স্টেট ডেমোক্র্যাটিক প্রাইমারী নির্বাচনে এসেম্বলিম্যান প্রার্থী জাকির চৌধুরীর ‘কমিউনিটি র্যালি’