বিশ্ব মিডিয়া জুড়ে শুধুই রানা প্লাজা
সাভারের রানা প্লাজা ধসে পড়ার পর যুক্তরাষ্ট্রে সবচেয়ে প্রভাবশালী নিউইয়র্ক টাইমসে প্রতিদিনই প্রথম পাতায় বিরাট ছবিসহ অনুসন্ধানী প্রতিবেদন প্রকাশিত হচ্ছে। ওয়ালস্ট্রিট জার্নাল রয়েছে দ্বিতীয় স্থানে। উভয় পত্রিকার অনলাইন এডিশনে প্রতি মুহূর্তে আপডেটও করা হচ্ছে রানা প্লাজার পরিস্থিতি। ভবন নির্মাণের রীতি লঙ্ঘন করে রানা প্লাজার মতো অসংখ্য বহুতল ভবন এখন ঝুঁকির মুখে বলেও সংবাদে বলা হচ্ছে। আর এ কারণে আমেরিকার পোশাক ব্যবসায়ীরা ভীতিকর অবস্থায় পড়েছেন। তারা বাংলাদেশ থেকে পোশাক তৈরি করে না আনার বিষয়ে চিন্তাভাবনা করছেন বলে ২ মে প্রকাশিত দীর্ঘ প্রতিবেদনে নিউইয়র্ক টাইমস উল্লেখ করেছে। এ সংবাদের সঙ্গে জুরাইনে অজ্ঞাত পরিচয় ব্যক্তিদের লাশ দাফনের ছবি দেওয়া হয়েছে প্রথম পাতার শীর্ষে। এর আগের দিন, অর্থাৎ মে দিবসের নিউইয়র্ক টাইমসে প্রথম পাতায় রাজনৈতিক ছত্রচ্ছায়ায় মাস্তানি করতে করতে কীভাবে বিত্তহীন সোহেল রানা বিশাল বিত্তবৈভবের মালিক বনেছেন এর ওপর বিস্তারিত আলোকপাত করেছে নিউইয়র্ক টাইমস। ৩০ এপ্রিল নিউইয়র্ক টাইমসের শীর্ষস্থান দখল করেছে রানা প্লাজায় নিখোঁজদের ছবি-সংবলিত বিশাল একটি দেয়াল। এর আগের দিন সুড়ঙ্গপথে আটকে পড়া মানুষকে উদ্ধারের প্রাণান্ত চেষ্টার ছবিসহ সংবাদ প্রকাশিত হয় নিউইয়র্ক টাইমসে। এর ফলে বাংলাদেশের বহুতল ভবন নির্মাণে আইন লঙ্ঘনের ভয়ঙ্কর চিত্র ছাড়াও বিপজ্জনক ভবনে কল-কারখানা চালু রাখার তথ্য যুক্তরাষ্ট্রসহ বিশ্ববাসী জেনে গেছে। বাংলাদেশের বিপজ্জনক ভবনে অবস্থিত গার্মেন্ট কারখানায় ভয়ঙ্কর পরিবেশে তৈরি পোশাক আমদানির বিরুদ্ধে আন্তর্জাতিক জনমত জোরদার হচ্ছে। নিউইয়র্ক টাইমসের মতো বিশ্বে সর্বাধিক প্রচারিত ওয়ালস্ট্রিট জার্নালও ২ মে পশ্চিমা কোম্পানিগুলোর বাংলাদেশ থেকে মুখ ফিরিয়ে নেওয়ার ভাবনা সম্পর্কিত উদ্বেগজনক খবর ছেপেছে। ওয়াশিংটন পোস্ট, লস অ্যাঞ্জেলেস টাইমসের মতো পত্রিকাতেও একইভাবে প্রতিদিনই সংবাদ প্রকাশিত হচ্ছে। যে শ্রমিকরা দেশের অর্থনীতির চাকা সচল রাখতে নিরন্তর কাজ করে চলেছেন, তাদের জীবন এমন বিপন্ন কেন- এমন প্রশ্নের অবতারণা করা হয়েছে মে দিবসে নিউইয়র্কের ইউনিয়ন স্কয়ারের বিশাল সমাবেশ থেকে। আর এ সংবাদ তুলে ধরেছে মিডিয়াগুলো।
সাভারে ভবন ধসে পাঁচ শতাধিক শ্রমিক নিহত হয়েছেন। প্রশ্ন উঠেছে, ভবিষ্যতে এ ধরনের বিপর্যয় এড়ানো কি সম্ভব? সম্প্রতি বিবিসি অনলাইনের এক অনুসন্ধানী প্রতিবেদনে এ প্রশ্নের উত্তর খোঁজা হয়।
প্রতিবেদনের তথ্য অনুযায়ী, সাভারের রানা প্লাজা ভবনে পাঁচটি পোশাক কারখানা ছিল। ভবনটি ধসে পড়ার পর এখনো অনেকে নিখোঁজ। আড়াই হাজার মানুষ আহত হয়েছেন। কিছু পর্যবেক্ষক এই বিপর্যয়কে টনক নড়ার উপলক্ষ হিসেবে দেখছেন। কেউ কেউ বলছেন, এত বড় ঘটনার পরও বাংলাদেশের পোশাক কারখানার পরিস্থিতি বদলানোর সম্ভাবনা খুব কম।
সাত বছর আগে একই এলাকায় একটি ভবন ধসের ঘটনা ঘটে। এতে ৬৪ জন পোশাক শ্রমিক নিহত হন। পোশাক কারখানায় অগি্নকাণ্ড ও হুড়োহুড়িতে পদদলিত হওয়ার ঘটনা ঘটেছে। এ ছাড়া বাংলাদেশের বিভিন্ন পোশাক কারখানায় আরও অনেক দুর্ঘটনা ঘটেছে। এতে শত শত শ্রমিকের প্রাণ গেছে। গত বছর আশুলিয়ার তাজরীন ফ্যাশনসে অগি্নকাণ্ডের ঘটনায় শতাধিক শ্রমিক নিহত হন।
বাংলাদেশের বার্ষিক রপ্তানির ৮০ শতাংশ আসে এই শিল্প থেকে। ৪০ লাখ মানুষের কর্মসংস্থানের উৎস পোশাকশিল্প।
কিন্তু পোশাকশিল্পে যে ধরনের দুর্ঘটনা নিত্য ঘটেই চলেছে, তা এড়ানোর দায়িত্ব কার? সরকার, স্থানীয় উৎপাদক, আন্তর্জাতিক ব্র্যান্ড, নাকি ভোক্তার?
বাংলাদেশে পোশাক কারখানার বিপর্যয় রোধে সম্ভাব্য পদক্ষেপ সম্পর্কে বিশেষজ্ঞদের সঙ্গে কথা বলেছে বিবিসি। এ ব্যাপারে অঙ্ফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক লিনডা স্কট বলেন, ‘সমস্যার সমাধানে নানামুখী চাপ দরকার। কিন্তু আসল চাপটা দিতে হবে বাংলাদেশের সরকারের ওপর। সরকারের সহযোগিতা ছাড়া অবস্থার উন্নতি হবে বলে মনে হয় না।’
রয়টার্সের প্রতিবেদন : বাংলাদেশের তৈরি পোশাক কারখানার অনেক মালিক পশ্চিমা ব্যবসায়ীদের মতো ধনাঢ্য। তাদের জীবন যাপনও বিলাসবহুল। কিন্তু নিজ কারখানার শ্রমিকদের অনেক কম মজুরি ও বেতন দেন তারা।
মালিকদের দাবি, বিশ্বের নামিদামি ব্র্যান্ডগুলো অনেক কম দামে তাদের কাছ থেকে পণ্য কেনে বলে শ্রমিকদের বেশি বেতন দেওয়া সম্ভব হয় না। তারা আরও উচ্চমূল্যে পণ্য কিনতে বিদেশি ক্রেতাদের প্রায়শই আহ্বান জানান। গতকাল বার্তা সংস্থা রয়টার্সের এক প্রতিবেদনে এসব তথ্য তুলে ধরা হয়।
বাংলাদেশের তৈরি পোশাক কারখানার মালিকদের বিষয়ে এসব তথ্য তুলে ধরতে গিয়ে প্রতিবেদনে ধনকুবের ব্যবসায়ী, স্বতন্ত্র সংসদ সদস্য মোহাম্মদ ফজলুল আজিমের কথা উল্লেখ করা হয়েছে। প্রতিবেদনের তথ্যমতে, বাংলাদেশে তৈরি পোশাক খাতের রমরমা অবস্থা ফজলুল আজিমকে ধনী বানিয়েছে। তিন দশক আগে মাত্র একটি কারখানা দিয়ে তার ব্যবসাজীবন শুরু। এখন তার বেশ কিছু কারখানা আছে, যেখানে অন্তত ২৬ হাজার কর্মী কাজ করেন। বছরে তার আয় ২০ কোটি মার্কিন ডলারের বেশি।
প্রতিবেদনে বলা হয়, সংসদ সদস্যদের অন্তত ৩০ জন তৈরি পোশাক ব্যবসার সঙ্গে যুক্ত। ধসে পড়া রানা প্লাজার মালিক মোহাম্মদ সোহেল রানার রাজনৈতিক খুঁটির জোর বেশ শক্ত। তিনি ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের অঙ্গসংগঠন যুবলীগের স্থানীয় পর্যায়ের একজন নেতা।
বিশ্বব্যাংকের ২০১০ সালের তথ্য অনুসারে, তৈরি পোশাক খাতের সবচেয়ে সস্তা শ্রমবাজার বাংলাদেশ। এশিয়া-প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলে আন্তর্জাতিক শ্রম সংস্থার জ্যেষ্ঠ বেতন বিশেষজ্ঞ মাল্টে লুবকের বলেন, এই বেতন কমের মধ্যেও কম।
গড়ে প্রতিদিন দুই ডলারের কম আয়ের পোশাকশ্রমিকদের জীবন যাপন যখন মানবেতর এবং পোশাক খাতের সার্বিক পরিস্থিতি যখন এমন, তখন কীভাবে টিকে থাকবে দেশের মোট রপ্তানির ৮০ শতাংশ জোগান দেওয়া এ খাতটি?
শ্রমিকদের মজুরি ও কর্মপরিবেশ উন্নত করার ব্যাপারে পশ্চিমা ব্র্যান্ডগুলোর ক্রমাগত চাপ সম্পর্কে শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের শীর্ষস্থানীয় সরকারি কর্মকর্তা মিকাইল শিপার বলেন, তারা সর্বনিম্ন মজুরি বাড়ানোর কথা বলেন। কিন্তু বেশি দামে পণ্য কেনার ঘোষণা দেন না।
২০টির বেশি কারখানার মালিক আবদুল মান্নান বেশ ক্ষোভ নিয়েই বললেন, ‘তারা ভিক্ষুকের মতো অর্থ দেবে, অথচ রাজার মতো মান চাইবে।’
মিনারা নামে একজন পোশাককর্মীর ভাষ্য, জানালাহীন ছোট একটা ঘরে স্বামী আর ১৫ বছরের মেয়ে নিয়ে তার সংসার। তার মেয়েও পোশাক কারখানায় সহকারী হিসেবে কাজ করে। মা-মেয়ে মিলে সাত হাজার টাকার একটু বেশি আয় করেন, যার অর্ধেকটাই চলে যায় বাড়ি ভাড়ায়। মিনারার দাবি, বিদেশে তার বানানো একটা পোশাক যে অর্থে বিক্রি হয়, তিনি সারা মাস খেটে ওই অর্থ আয় করেন।বাংলাদেশ প্রতিদিন
- নিউইয়র্কে ‘অল কাউন্টি হেলথকেয়ার গ্রুপ’র বার্ষিক ইন্টারফেইথ ইফতার পার্টি
- HUSBAND CHARGED WITH MURDER AND DISMEMBERMENT OF WIFE WHOSE REMAINS WERE FOUND IN SEPARATE LOCATIONS ALONG BROOKVILLE BLVD AND CROSS BAY BLVD
- নিউইয়র্কে জ্যাকসন হাইটসের গ্রাফিক্স ওয়ার্ল্ডে মাসব্যাপী ইফতার আয়োজন
- নিউইর্য়কে এনওয়াইপিডি মুসলিম অফিসার সোসাইটির বার্ষিক ইফতার ডিনার ও অ্যাওয়ার্ড অনুষ্ঠিত
- নিউইয়র্কে জালালাবাদ অ্যাসোসিয়েশনের কোরআন তেলাওয়াত প্রতিযোগিতার ও ইফতার মাহফিল অনুষ্ঠিত
- যুক্তরাষ্ট্র জাতীয় পার্টির ইফতার ও দোয়া মাহফিল
- যুক্তরাষ্ট্র যুবদল নেতা জাকির এইচ চৌধুরীর সংবাদ সম্মেলন: রাজনৈতিক প্রতিপক্ষ আদালত কর্তৃক মীমাংসিত বিষয় নিয়ে অপপ্রচার চালিয়ে যাচ্ছে
- নিউইয়র্কে জালালাবাদ এসোসিয়েশন অব আমেরিকা’র ইফতার ও দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত








