Sunday, 25 October 2026 |
শিরোনাম
নিউইয়র্কে আদালতের নিষেধাজ্ঞায় স্থগিত বাংলাদেশ সোসাইটির নির্বাচন; ওসমান চৌধুরীর সদস্যপদ প্রত্যাখ্যান নিয়ে মামলা, ৫ নভেম্বর পরবর্তী শুনানি; সংবাদ সম্মেলনে আইনি পরিস্থিতি তুলে ধরল নির্বাচন কমিশন হানি ট্র্যাপে হত্যার অভিযোগ, সাগরের মামলা পিবিআইতে দেওয়ার দাবি পরিবারের; প্রধান আসামির জামিনে উদ্বেগ, দ্রুত গ্রেপ্তার ও সুষ্ঠু তদন্তের আহ্বান ওয়ার্ল্ড হিউম্যান রাইটস ডেভেলপমেন্ট ইউএসএর সাধারণ সম্পাদক ড. সাদিয়া আফরিন এরা চরমোনাই পীরের যুক্তরাষ্ট্র সফর উপলক্ষে নিউইয়র্কে দোয়া মাহফিল, কুরআন-সুন্নাহর আলোকে বয়ান New York Attorney General James Secures Reimbursements for T-Mobile Customers Whose Rates Were Unjustly Raised নিউইয়র্কে বাংলাদেশ সোসাইটির নির্বাচনে কুনু-ফিরোজ পরিষদের সাত দফা ইশতেহার ঘোষণা; কমিউনিটি সেন্টার প্রতিষ্ঠা, সাশ্রয়ী ফিউনারেল সেবা, বিমানের সরাসরি ফ্লাইট ও আর্থিক স্বচ্ছতায় অঙ্গীকার ফিলিস্তিনিদের আত্মনিয়ন্ত্রণের অধিকারের প্রতি বাংলাদেশের পূর্ণ সমর্থন: জাতিসংঘে রাষ্ট্রদূত আইরিন খান নিউইয়র্কে বাংলাদেশ সোসাইটির নির্বাচনে প্রথমবারের মতো বিতর্ক, গুরুত্ব পেল স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি New York Attorney General James Warns New Yorkers About AI-Generated Election Misinformation Ahead of November Elections Bangladesh calls for global treaty to protect victims of crimes against humanity
সব ক্যাটাগরি

অবশেষে টিকফা চুক্তি হচ্ছে

অনলাইন ডেস্ক পঠিত: 89 বার

প্রকাশিত: May 11, 2013 | 3:25 PM

‘বিনিয়োগ সুরক্ষায় নিরাপত্তা বাহিনীর প্রতিনিধি আসতে পারে’++ ‘ভারতের কাছ থেকে পূর্ণ সুবিধা নিতে পারছে না বাংলাদেশ’ I
আহসান হাবীব রাসেল : অবশেষে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে বাণিজ্য ও বিনিয়োগ সহযোগিতার রূপরেখা চুক্তি (টিকফা) হচ্ছে। বেশ কয়েক বছর ধরেই এ নিয়ে নানান আলোচনা ও বিতর্ক চলছিল। এধরনের চুক্তিকে কেউ সার্বভৌমত্বের সঙ্গে মানানসই নয় বলেও সমালোচনা করেছেন। কিন্তুু চুক্তি সই করতে হবেই, যুক্তরাষ্ট্রের এমন কঠোর অবস্থানের কারণে চুক্তির কাঠামো ও শর্তাবলী নিয়ে বহু দেন-দরবার চলে। দু’পক্ষের মধ্যেই বিভিন্ন শর্ত সংযুক্তি আর বিযুক্তি চলছিল বছরের পর বছর ধরে। চুক্তিটি করতে গড়িমসি করায় যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে বাংলাদেশকে অগ্রাধিকারমূলক বাণিজ্য সুবিধা (জিএসপি) বাতিলেরও হুমকি দেয়া হয়। বলা হয়, টিকফা চুক্তি না হলে জিএসপি সুবিধা বাতিল করবে যুক্তরাষ্ট্র। বাংলাদেশের পণ্যের প্রধান রফতানি গন্তব্য যুক্তরাষ্ট্রের এমন হুমকির পর বাংলাদেশ নমনীয় হয় এবং চুক্তি সই করতে সম্মত হয়। গতকাল শনিবার বাণিজ্যমন্ত্রী জিএম কাদের বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেছেন, শীঘ্রই যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে টিকফা চুক্তি স্বাক্ষর করা হবে।
টিকফা চুক্তির স্পর্শকাতরতা অনুভব করেই তিনি আবার বলেছেন, টিকফা নিয়ে ভীত হওয়ার কিছু নেই। কারণ যে কোনো সময় চাইলে এ চুক্তি বাতিল করা যাবে। শনিবার ঢাকা চেম্বার আয়োজিত ‘দ্বিপাক্ষিক মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি ঃ বাংলাদেশের সুযোগ ও ঝুঁকি’ শীর্ষক এক সেমিনারে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ তথ্য জানান।
তবে সংশ্লিষ্ট সূত্রমতে, যেসব বিষয়ে সমালোচনা ছিল তারমধ্যে রয়েছে, টিকফা স্বাক্ষর হলে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে যুক্তরাষ্ট্রের সিদ্ধান্তের বাইরে যাওয়া আর সম্ভব হবে না। এছাড়াও যুক্তরাষ্ট্র নিরাপত্তার প্রশ্নে কৌশলগত গুরুত্বপূর্ণ সহযোগী হিসাবে বাংলাদেশকে দেখতে চায়। এর কারণ হিসাবে সমালোচকরা বলেন, যুক্তরাষ্ট্র মনে করে গণচীনের অব্যাহত উন্নয়ন ও পরাশক্তি হিসেবে অভাবনীয় অগ্রগতি ঠেকাতে এবং দক্ষিণ এশিয়ার বিশাল বাজারের ওপর আধিপত্য প্রতিষ্ঠা করতে হলে বঙ্গোপসাগরে এবং ভারত মহাসাগরে মার্কিন বাহিনীর উপস্থিতি বজায় রাখতে হবে। আর বঙ্গোপসাগরে নিরাপত্তা বজায় রাখতে হলে বাংলাদেশ ভূরাজনৈতিকভাবে খুবই গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। এছাড়াও যুক্তরাষ্ট্র বাংলাদেশকে তথাকথিত সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে যুদ্ধের আঞ্চলিক পার্টনার বানাতে আগ্রহী। ভূরাজনৈতিক নিরাপত্তা ইস্যুতে ঢাকার কাছ থেকে অধিকতর সহযোগিতার জন্যই যুক্তরাষ্ট্র টিকফা চুক্তি স্বাক্ষর করতে চাচ্ছে।
কোন কোন সূত্র দাবি করেছে, এই চুক্তির ফলে বাণিজ্য ও বিনিয়োগ সুরক্ষা নিশ্চিত করতে কোন পক্ষ ব্যর্থ হলে অপর পক্ষকে সহযোগিতা দেয়া হবে। সেক্ষেত্রে চুক্তিটি হলে মার্কিন নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্যদের উপস্থিতির আশংকা রয়ে যায়। যদিও এ ব্যাপারে বাণিজ্য বিশেষজ্ঞ ও সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগের (সিপিডি) অতিরিক্ত গবেষণা পরিচালক খন্দকার গোলাম মোয়াজ্জেম বলেন, এই চুক্তির ফলে উভয় দেশকেই বিনিয়োগ নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে হবে। এক্ষেত্রে যুক্তরাষ্ট্র চাইবে বাংলাদেশ যেন তাদের বিনিয়োগকারীদের বিনিয়োগের যথাযথ সুরক্ষা দেয়। এক্ষেত্রে যুক্তরাষ্ট্র থেকে নিরাপত্তা ইস্যুতে কোন প্রতিনিধিদল আসবে, বিষয়টি এমন নয়।
জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনীতির অধ্যাপক আনু মুহাম্মদ বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে এমনিতেই গোপন সামরিক চুক্তি রয়েছে। যার কারণে বাংলাদেশের নিরাপত্তা নেই বললেই চলে। এ অবস্থায় টিকফার মাধ্যমে তা কাঠামোগত চূড়ান্ত রূপ পাবে। তিনি বলেন, বিশ্ববাণিজ্য সংস্থা থাকা অবস্থায় টিকফা চুক্তি করা মানে তাদের শৃঙ্খলে আরো বেশি আবদ্ধ হয়ে যাওয়া। তাদের কাছে আমরা যে ক্ষতিপূরণ পাওয়ার কথা, সেটাও পাচ্ছি না।
প্রসঙ্গত, টিকফার আগে আলোচনা শুরু হয় বাণিজ্য ও বিনিয়োগ কাঠামো চুক্তি বা টিফা স্বাক্ষর নিয়ে। পরবর্তী সময়ে সহযোগিতার বিষয়টি যুক্ত হয়ে এটি টিকফা চুক্তি হিসেবে অভিহিত হয়। বাংলাদেশের অন্যতম বাণিজ্য অংশীদার হওয়ায় গত এক দশক ধরে যুক্তরাষ্ট্র বাংলাদেশ সরকারকে চাপ দিয়ে আসছে চুক্তিটি স্বাক্ষরের জন্য। এই চুক্তির ব্যাপারে দু’দেশের মধ্যে আলোচনা শুরু হয় ২০০২ সালে এবং ২০০৫ সালে ৭টি ধারা ও ১৯টি প্রস্তাবনা সম্বলিত চুক্তির খসড়া চূড়ান্ত করা হয়। দুর্নীতি, মেধাস্বত্ব ও শ্রমিকদের অধিকার নিয়ে দু’দেশের মাঝে মতানৈক্য থাকায় বিভিন্ন সময় চুক্তি নিয়ে আলোচনা থেমে যায়। এ চুক্তি সম্পাদনে যুক্তরাষ্ট্র শর্ত দিয়েছিল, বাংলাদেশের পক্ষ থেকে দুর্নীতির আশ্রয় না নেয়ার নিশ্চয়তা দিয়ে বিষয়টি চুক্তিভুক্ত করতে হবে। নিরাপত্তা, বিনিয়োগের হেফাজত, শ্রমিকের জীবনমানের উন্নয়ন, মেধাস্বত্ব, সবগুলো সেক্টর থেকে শিশু ও বাধ্যতামূলক শ্রম নির্মূল এবং গার্মেন্টসে ট্রেড ইউনিয়ন করার সুযোগ -এসব বিষয়ে নীতিগতভাবে আপত্তি না থাকলেও বাংলাদেশ চেয়েছিল, এগুলোর ধাপে ধাপে বাস্তবায়ন। কিন্তু যুক্তরাষ্ট্রের চাপের মুখে সেটি টেকেনি। সূত্রে জানা গেছে, প্রধানমন্ত্রীর আন্তর্জাতিক বিষয়ক উপদেষ্টা গওহর রিজভীসহ বর্তমান সরকারের রাজনৈতিক পর্যায়ের অনেকেই টিকফা সই করার পক্ষে অবস্থান নিয়েছেন। তাদের যুক্তি, এ চুক্তি সই হলে জিএসপি নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের চাপ অনেকখানি কমবে। সে আলোকে অভ্যন্তরীণভাবেও অনেকগুলো বৈঠক হয় এবং টিকফা স্বাক্ষরে সম্মত হয় বাংলাদেশ।
সূত্রমতে, টিকফা চুক্তি অনুযায়ী শ্রম আইন পরিপালন করতে হবে। শ্রমিকদের অধিকার রক্ষার বিষয়টিও গুরুত্ব দিয়ে দেখতে হবে। প্রতি বছরই চুক্তিটি সঠিকভাবে পরিপালন হচ্ছে কি না, তা নিয়ে আলোচনা হবে। পারস্পরিক কারিগরি সহায়তা বিনিময় করা হবে। পরিবেশ মান বজায় রাখা, মেধাস্বত্ব্ব সংরক্ষণ আইন এবং সুশাসনের বিষয়টিও এই চুক্তির অধীনে কার্যকর করার বিষয়টি থাকছে।
সমালোচকদের মতে, এই চুক্তিতে উদার বাণিজ্য নীতি, মুক্তবাজার অর্থনীতি এবং মেধাস্বত্ব আইনের বাস্তবায়নের মাধ্যমে উন্নয়নশীল দেশের অর্থনীতিকে নিয়ন্ত্রণের রূপরেখা তুলে ধরা হয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে বলা হচ্ছে, এ চুক্তি স্বাক্ষরের পর যুক্তরাষ্ট্র থেকে বিনিয়োগ কয়েক গুণ বাড়বে, সেই সাথে যুক্তরাষ্ট্রে বাড়বে বাংলাদেশের পণ্য রফতানিও। এই চুক্তির মাধ্যমে বিনিয়োগের বিশেষ সুরক্ষাসহ মার্কিন কোম্পানিগুলোকে সেবাখাতে বাণিজ্যের জন্য বিশেষ সুযোগ-সুবিধা দিয়ে দেশের জ্বালানি, গ্যাস, বিদ্যুত্, বন্দর, টেলিযোগাযোগ, শিক্ষা, স্বাস্থ্য, পরিবহন ইত্যাদি বিনিয়োগ সুবিধা দিতে হবে।
সূত্রমতে, বেশকিছু বিষয় এখনো অমীমাংসিত রয়ে গেছে। যেমন বলা হয়েছে, উভয় দেশ নিজ নিজ বাজারে পণ্য প্রবেশে নন ট্যারিফ বা অশুল্ক বাধা দূর করবে; কিন্তু বাস্তবে যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে বাংলাদেশি পণ্যের অশুল্ক বাধা খুব সামান্যই। উল্লেখ্য, পাকিস্তান, সৌদি আরব, শ্রীলঙ্কা, ভিয়েতনাম, ইরাক, উরুগুয়েসহ বিশ্বের ৩০টিরও বেশি দেশের সাথে যুক্তরাষ্ট্র ইতোমধ্যেই এ ধরনের চুক্তি স্বাক্ষর করেছে।
যুক্তরাষ্ট্র বাংলাদেশের প্রধান রফতানি পণ্য পোশাক শিল্পের জন্য কোনো জিএসপি সুবিধা দেয় না। যুক্তরাষ্ট্রে রফতানি পণ্যের ৯৭ শতাংশের ক্ষেত্রে জিএসপি সুবিধা দেয়া হলেও পোশাক শিল্পের পণ্য তার আওতার বাইরে থাকায় এখান থেকে বাংলাদেশ আর্থিক লাভবান হচ্ছে না। জিএসপির আওতায় বাংলাদেশকে যুক্তরাষ্ট্র বছরে মাত্র ২২ মিলিয়ন ডলার সুবিধা দেয়। যুক্তরাষ্ট্রের গড় আমদানি শুল্ক ১ শতাংশের মতো। অথচ বাংলাদেশের পোশাক আমদানির ক্ষেত্রে শুল্কহার ১৫ শতাংশ। এটা একটা বড় বৈষম্য।
বিশিষ্ট অর্থনীতিবিদ ড. মুহম্মদ মাহবুব আলী বলেন, টিকফা চুক্তি হলে বাংলাদেশের বাণিজ্যে আখেরে লাভই হবে। বিশেষ করে বিশ্ব বাণিজ্যে টিকে থাকতে হলে যুক্তরাষ্ট্রের সহায়তা খুবই প্রয়োজন। এই চুক্তির ফলে এধরনের সহায়তা পাওয়া যাবে। এ নিয়ে ভয়ের কিছুই নেই। তবে শ্রমিক ইউনিয়নের মাধ্যমে কেউ যেন শিল্পের ক্ষতি করতে না পারে, সেদিকটি খেয়াল রাখতে হবে। যাতে প্রকৃত শ্রমিকই শ্রমিক সংগঠনের নেতা হয়। শ্রমিক ইউনিয়নের নামে ‘বাণিজ্য’ বন্ধ করতে হবে। যাতে মালিক ও শ্রমিক পক্ষের মধ্যে চেক এন্ড ব্যালান্স ঠিক থাকে।
সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগের (সিপিডি) অতিরিক্ত গবেষণা পরিচালক খন্দকার গোলাম মোয়াজ্জেম বলেন, বাংলাদেশের সব শিল্প এখনো পুরোপুরি আন্তর্জাতিক মানের হয়নি। এ অবস্থায় শ্রমিক অধিকার ইস্যুতে আন্তর্জাতিক মান রক্ষা আশা করা কিছুটা কঠিন। তবে সাভার ট্র্যাজেডিকে কেন্দ্র করে সরকার আইএলওর সাথে শ্রমিক অধিকার উন্নয়নে কাজ করতে শুরু করেছে।
ভারতের কাছ থেকে বাংলাদেশ পুরো
সুবিধা আদায় করতে পারছে না
এদিকে, বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, স্বল্প উন্নত দেশ বা এলডিসি হিসেবে বাংলাদেশ বেশ কিছু আঞ্চলিক সুবিধা পাচ্ছে। যেহেতু আমরা ধীরে ধীরে উন্নতির দিকে যাচ্ছি, তাই এ সুবিধা সব সময় পাওয়া যাবে না। এজন্য এখন থেকেই সক্ষমতা অর্জন ও প্রতিযোগিতায় টিকে থাকার যোগ্যতা অর্জন করতে হবে। বাংলাদেশ, ভারত, মিয়ানমার ও চীনের সমন্বয়ে একটি আঞ্চলিক ফোরাম গঠনে কাজ করা হচ্ছে উল্লেখ করে বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, বিভিন্ন দেশের সাথে বাণিজ্য বাধা দূর করতে সরকার চেষ্টা করে যাচ্ছে। তবে মুক্ত বাণিজ্য হলেই বাণিজ্য ঘাটতি কমে যাবে বা বাংলাদেশ লাভবান হবে -এমনটি ভাবার সুযোগ নেই। ভারতের সাথে মুক্ত বাণিজ্য সংক্রান্ত চুক্তি হওয়ার পর বেশ কিছু অশুল্ক বাধার কারণে বাংলাদেশ পুরোপুরি সুবিধা আদায় করতে পারছে না। তবে এসব অশুল্ক বাধা দূর করার জন্য চেষ্টা করা হচ্ছে।
ঢাকা চেম্বারের সভাপতি মো. সবুর খানের সভাপতিত্বে সেমিনারে বক্তব্য রাখেন বাংলাদেশ ট্যারিফ কমিশনের চেয়ারম্যান মো. শাহাব উল্লাহ, ডি-নেটের নির্বাহী পরিচালক ড. অনন্য রায়হান, বিআইডিএসের রিসার্চ ফেলো ড. আবুল বাশার এবং চেম্বারের ভাইস প্রেসিডেন্ট নেসার মাসুদ খানসহ অনেকে।
সেমিনারে প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগের (সিপিডি) অতিরিক্ত গবেষণা পরিচালক ড. খন্দকার গোলাম মোয়াজ্জেম। তিনি বলেন, ট্যারিফ কমালেই বাণিজ্য বাড়বে এমনটি নাও হতে পারে, তবে এতে প্রতিযোগিতার সুযোগ সৃষ্টি হয়। ১৯৯০ থেকে বাংলাদেশে বাণিজ্য উদারীকরণ বাড়ানোর ফলে আমদানি ও রফতানি উভয়ই বেড়েছে। রফতানি পণ্য ও রফতানির বাজারে কিছুটা বৈচিত্র্য এসেছে। তবে এর মাধ্যমে বাণিজ্য ঘাটতি কমেনি। গোলাম মোয়াজ্জেম আরো বলেন, বাংলাদেশের রাজস্ব আয়ের একটি বড় অংশ আসে বাণিজ্য শুল্ক থেকে। তাই শুল্কমুক্ত বাজার করা হলে দেশের রাজস্ব আয়ের ওপর প্রভাব পড়তে পারে। এজন্য রাজস্ব আয়ের ভিন্ন খাতের উপর জোর দিতে হবে।
ড. অনন্য রায়হান তার বক্তব্যে বলেন, কোন দেশে কোন পণ্যের চাহিদা রয়েছে কিংবা কোন দেশে বাংলাদেশের কোন পণ্য বাণিজ্যের ভালো সুবিধা রয়েছে -এসব তথ্যের অভাবও বাংলাদেশের বাণিজ্য বাড়ানোর ক্ষেত্রে বাধা। তাই তথ্য সংক্রান্ত বাধা দূর করতে হবে। বাণিজ্য বাড়াতে বাংলাদেশের ইমেজ বাড়ানোর পরামর্শ দিয়ে তিনি বলেন, পণ্যের পাশাপাশি সেবা বাণিজ্য বাড়াতে বাংলাদেশের গুরুত্ব দেয়া প্রয়োজন।
ট্যারিফ কমিশনের চেয়ারম্যান শাহাব উল্লাহ বলেন, বাণিজ্য থেকে পাওয়া করের ওপর বাংলাদেশ অতিমাত্রায় নির্ভরশীল। দেশের করের প্রায় ২৪ শতাংশ আসে বাণিজ্য কর থেকে। অন্যান্য দেশে এ হার অনেক কম। তাই শুল্কমুক্ত বাণিজ্য চুক্তির আগে বিকল্প আয় বাড়াতে হবে। তাছাড়া দেশীয় শিল্পের সক্ষমতাও বাড়ানো প্রয়োজন।ইত্তেফাক
বিজ্ঞাপন / স্পন্সরড কন্টেন্ট
ট্যাগ:
সর্বশেষ সংবাদ