জাতিসংঘের কাছে কোনো ফর্মুলা নেই সৃষ্ট সমস্যা নিজেদেরই সমাধান করতে হবে : তারনাকো
অনলাইন ডেস্ক
পঠিত: 118 বার
প্রকাশিত: May 13, 2013 | 2:40 PM
কূটনৈতিক রিপোর্টার : বাংলাদেশ সফররত জাতিসংঘের সহকারী মহাসচিব অস্কার ফার্নান্দেজ তারানকো বলেছেন, বাংলাদেশের সমস্যা বাংলাদেশকে সমাধান করতে হবে। জাতিসংঘের কাছে সমস্যা সমাধানের কোনো ফর্মুলা নেই। তবে সুষ্ঠু নির্বাচন না হওয়ার পরিণতি মঙ্গলজনক নয়। গতকাল বিকালে রাজধানীর হোটেল সোনরাগাঁওয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি একথা বলেন। তিনি বলেন, সমঝোতার সময় দ্রুত ফুরিয়ে যাচ্ছে। দেশের সব রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দের উচিত দ্রুত সংলাপে বসা এবং এর মাধ্যমে সুষ্ঠু, গ্রহণযোগ্য, নিরপেক্ষ ও অহিংস নির্বাচন আয়োজনের ব্যাপারে সিদ্ধান্ত নেয়া। সকলের অংশগ্রহণে গ্রহণযোগ্য সুষ্ঠু ও অবাধ নির্বাচন চায় জাতিসংঘ। সবার সাথে আলাপ করে আমার মনে হয়েছে যে, রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে সামান্য দূরত্ব রয়েছে। কিন্তু সংলাপে বসলে এই দূরত্ব ঘুচে যাবে বলেও মন্তব্য করেন তিনি। জাতিসংঘের সহকারী মহাসচিব আরও বলেন, নির্বাচনের আর বেশি সময় বাকি নেই। কিন্তু সংলাপ নিয়ে প্রধান দুই রাজনৈতিক দলের সমঝোতা না হওয়ায় জাতিসংঘের উদ্বেগ রয়েছে। যত দ্রুত সংলাপ শুরু হবে, তত সহজেই সমাধানের পথ খুঁজে পাওয়া যাবে। তিনি বলেন, অর্থবহ ও গঠনমূলক রাজনৈতিক সংলাপের জরুরি প্রয়োজনের বিষয়ে জাতিসংঘ মহাসচিবের ‘গুরুত্বপূর্ণ বার্তা’ তিনি সবপক্ষের কাছে পৌঁছে দিয়েছেন। সুষ্ঠু নির্বাচন আয়োজনে জাতিসংঘ কোনো ফর্মুলা দিয়েছে কিনা জানতে চাইলে তিনি বলেন, জাতিসংঘ কোনো ফর্মুলা দেয়নি। বাংলাদেশে গ্রহণযোগ্য ফর্মুলাতে নির্বাচন হওয়া উচিত। আপনারা নিজেরাই বোঝেন- কি ধরনের পদ্ধতি অনুসরণ করা হলে সবার কাছে নির্বাচন গ্রহণযোগ্য হবে। এজন্য লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড (সবার জন্য সমান সুযোগ) তৈরির পরামর্শ দিয়ে প্রধানমন্ত্রীর সংলাপের আহ্বানকে স্বাগত জানান তারানকো। নির্বাচনের পূর্ব মুহূর্তে তার এ সফর নিয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, বাংলাদেশ জাতিসংঘের দৃষ্টিতে খুবই গুরুত্বপূর্ণ। এছাড়া মহাসচিব বাংলাদেশের বিশিষ্ট বন্ধু। সেজন্য বাংলাদেশের ব্যাপারে তার বিশেষ দৃষ্টি রয়েছে। জাতিসংঘের শান্তিরক্ষার মিশনেও এ দেশের জনশক্তি কাজ করছে। দেশটিকে গুরুত্ব দিয়েই জাতিসংঘ মহাসচিব এ সফরের জন্য আমাকে পাঠিয়েছেন। এ সময় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সংলাপের যে আহ্বান জানিয়েছেন তাতে সাড়া দেয়া উচিত বলেও মন্তব্য করেন জাতিসংঘের এই কূটনীতিক। এ প্রক্রিয়ায় মিডিয়া, সুশীল সমাজ ও এনজিওসহ সংশ্লিষ্ট সবাইকে সম্পৃক্ত করারও পরামর্শ দেন তারানকো। তিনি বলেন, নির্বাচন না হওয়ার ফলাফল বাংলাদেশ দেখেছে। এদেশের রাজনীতিবিদ এবং জনগণ জানে অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচন না হলে কী ঘটতে পারে। গত ৬ মাসের সহিংসতা ও সাভারে ভবন ধসের ঘটনায় জাতিসংঘ মহাসচিব বান কি মুন তীব্র নিন্দা ও উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন জানিয়ে তারানকো বলেন, মহাসচিব বলেছেন-অবশ্যই শ্রমিকদের মানসম্মত পরিবেশে কাজ করার অধিকার রয়েছে। এটা নিশ্চিত করতে হবে। গত শুক্রবার বাংলাদেশে আসেন ‘ক্রাইসিস ম্যানেজার’ তারানকো। এরপর থেকে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও বিরোধী দলীয় নেতা খালেদা জিয়া ছাড়াও গুরুত্বপূর্ণ রাজনীতিক, ব্যবসায়ী, কূটনীতিক ও বিশিষ্টজনদের সঙ্গে একের পর এক বৈঠক করতে থাকেন তিনি। তিনি জাতিসংঘ মহাসচিবের একটি চিঠিও দুই নেত্রীকে দেন। গত রোববার রাত ৯টায় প্রধানমন্ত্রীর পররাষ্ট্রবিষয়ক উপদেষ্টা গওহর রিজভীর গুলশানের বাসায় আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এবং স্থানীয় সরকার ও পল্লী উন্নয়নমন্ত্রী সৈয়দ আশরাফুল ইসলাম ও গওহর রিজভীর সঙ্গে ২য় বার বৈঠকে মিলিত হন তারানকো। প্রায় পৌনে ২ ঘণ্টা স্থায়ী এ বৈঠকে তারানকো ছাড়াও বাংলাদেশে অবস্থানরত জাতিসংঘের আবাসিক সমন্বয়কারী উপস্থিত ছিলেন। এতে বাংলাদেশের বর্তমান রাজনৈতিক সংকট ও আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনে অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের কাঠামো নিয়ে রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে যে মতবিরোধের সৃষ্টি হয়েছে সে বিষয়ে আলোচনা হয়। এরপর গতকাল দ্বিতীয় বারের মতো খালেদা জিয়ার সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন তিনি। এরপর গতকাল রাতেই ঢাকা ত্যাগ করেন তিনি।ইনকিলাব