ঈদের সময় নিউইয়র্কের পাবলিক স্কুলে ১০ দিন ছুটির বিল উঠছে
এনা, নিউইয়র্ক, খ্রিস্টানদের বড়দিন এবং ইহুদি সম্প্রদায়ের হানুকার সময় শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে ছুটি ঘোষণা করা হয় আমেরিকায়। একইভাবে ঈদের সময়েও অন্তত: ১০ দিনের ছুটি ঘোষণার এবং পাবলিক স্কুলে হালাল খাদ্য পরিবেশনের একটি বিল পাশের চেষ্টা চলছে। শুধু তাই নয়, নিউইয়র্কের পুলিশ যাতে মুসলিম-আমেরিকানদের ওপর গোপন নজরদারি বন্ধ করতে বাধ্য হয়, সে প্রক্রিয়াও চালানো হচ্ছে। নিউইয়র্কের সিনেটর রুবিন দিয়াজ এবং অঙ্গরাজ্য এ্যাসেম্বলীম্যান লুইস সিপুলভেদা ১৮ মে ব্রঙ্কসে কম্যুনিটির এক সমাবেশে এসব তথ্য প্রকাশ করেন। নিউইয়র্ক অঙ্গরাজ্য পার্লামেন্টের উভয় কক্ষে গত ২৬ মার্চ বাংলাদেশের স্বাধীনতা দিবস উপলক্ষে বর্ণাঢ্য অনুষ্ঠানের আয়োজনকারী এই দুই জনপ্রতিনিধি আরো অঙ্গিকার করেন যে, নিউইয়র্ক সিটি কাউন্সিল, অঙ্গরাজ্য পার্লামেন্ট এবং ইউএস কংগ্রেসে বাংলাদেশীরা যাতে নির্বাচিত হতে পারেন সে ব্যাপারে তাদের কম্যুনিটির সাথে বাংলাদেশী-আমেরিকানদের সম্পর্ক আরো দৃঢ় করবেন।

‘বাংলাদেশী-আমেরিকান কম্যুনিটি কোয়ালিশন’ আয়োজিত এ অনুষ্ঠানে ডেমক্র্যাটিক পার্টির বিভিন্ন স্তরের সংগঠকরা অংশ নেন। এ সময় ব্যবসা এবং সমাজকর্মে বিশেষ অবদানের জন্যে কুইন্স ডেমক্র্যাটিক ক্লাবের ভাইস প্রেসিডেন্ট এবং আরএলবি গ্র“প কোম্পানীর কর্ণধার (সত্ব¡াধিকারী) আকতার হোসেন বাদলকে এওয়ার্ড প্রদান করেন সিনেটর (ডেমক্র্যাট) রুবিন দিয়াজ। বিপুল করতালির মধ্যে এ এওয়ার্ড গ্রহনের পরই প্রদত্ত এক বক্তব্যে আকতার হোসেন বাদল এওয়ার্ডটি সাভারের রানা প্লাজায় হতাহতদের প্রতি উৎসর্গ করেন এবং ঐ দুর্ঘটনার ভিকটিমদের সাহায্যে প্রবাসের সকলকে সাধ্যমত সহায়তার অনুরোধ জানান।
একইসাথে তিনি সকলকে বিশেষভাবে প্রার্থনার আহবান জানান নিহতদের আত্মার মাগফেরাত কামনার জন্যে। এ বক্তব্যের পর অনুষ্ঠানের মেজাজে কিছুটা পরিবর্তন আসে এবং সকলেই অঙ্গিকার করেন হতাহতদের দু:স্থ স্বজনের জন্যে কিছু করতে। এ অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্যের সময় যুক্তরাষ্ট্রে বিভিন্ন জাতি-গোষ্ঠির ইতিহাস নিয়ে গবেষনারত বিবেক বল্ডের লেখা এবং সম্প্রতি প্রকাশিত একটি ঐতিহাসিক গ্রন্থের উদ্ধৃতি দিয়ে কম্যুনিটি লিডার নজরুল হক বলেন, ‘আমেরিকায় বাঙালির প্রথম আগমন ঘটে ১৮৯০ সালের আগে। সে সময়ে তারা ছিলেন বৃটিশ শাসিত ভারতের নাগরিক। তবে তারা সে পরিচয় প্রকাশ করতে পারতেন না। আফ্রিকান কিংবা পর্তুরিকানদের বিয়ে করে তারা যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্ক সিটির কৃষ্ণাঙ্গ অধ্যুষিত হারলেমে বাস করতেন। এরপর ১৯২০ থেকে ১৯৩০ সালের মধ্যে কিছু বাঙালি আমেরিকায় এসেছেন। তারা সকলেই পশ্চিম বাংলার মুসলমান ছিলেন। ১৯১৭ সালে তৈরী যুক্তরাষ্ট্রের ইমিগ্রেশন আইনে দক্ষিণ এশিয়ানরা ছিলেন নিষিদ্ধ। ১৯৬৫ সালে সে নিষেধাজ্ঞা উঠানোর পর পূর্ব পাকিস্তানের বাঙালিরা উচ্চ শিক্ষা কিংবা জাহাজে কাজ করতে করতে আমেরিকায় পাড়ি জমিয়েছেন।’ ১৯১৭ সালের আগে হারলেমে বাস করা বাঙালিরা পরিচিত হতেন ‘বাংলারিকান’ হিসেবে।’ আমেরিকায় বাঙালির হারানো সে সব স্মৃতি উদ্ধার কল্পে এ অনুষ্ঠান উপলক্ষে প্রকাশিত স্মরণিকার নাম দেয়া হয়েছে ‘বাংলারিকান।’ এটি সম্পাদনা করেছেন প্রদীপ বৈদ্য।
‘বাংলাদেশী-আমেরিকান কম্যুনিটি কোয়ালিশন’র প্রেসিডেন্ট এবং নিউইয়র্ক সিটির ৯ নম্বর প্ল্যানিং বোর্ডের ল্যান্ড ইউজ এন্ড ইকনোমিক ডেভেলপমেন্টের চেয়ারপার্সন এন মজুমদারের সঞ্চালনে এ অনুষ্ঠানে অন্যান্যের মধ্যে বক্তব্য রাখেন ডেমক্র্যাটিক পার্টির তৃণমূলের সংগঠক ও বাংলাদেশ কালচারাল সোসাইটির জেনারেল সেক্রেটারী নাসরীন কে আহমেদ, আয়োজক সংগঠনের জেনারেল সেক্রেটারী নজরুল হক, কম্যুনিটি এ্যাক্টিভিস্ট জাকির খান প্রমুখ। অনুষ্ঠানের প্রধান বক্তা ছিলেন ডেমক্র্যাট-সংগঠক আকতার হোসেন বাদল। উচ্চতর শিক্ষা গ্রহণের জন্যে আমেরিকায় আসার পর ভাগ্যের উন্নয়নে স্থায়ী বসতি গড়তে কী ধরনের পরিস্থিতির সম্মুখীন হতে হয়েছিল তা সবিস্তারে অকৃপণভাবে উপস্থাপন করেন তিনি। জনাব বাদল উল্লেখ করেন, আজ সময় এসেছে মূলধারায় আরো জোরালোভাবে সক্রিয় হয়ে নিজেদের অধিকারগুলো আদায়ের। এতদিন আমরা শুধু অন্যদের ভোট দিয়েছি। আমাদের ভোটে কংগ্রেসম্যান, সিনেটর, কাউন্সিলম্যান, এ্যাসেম্বলীম্যান হচ্ছেন ভিনদেশীরা। এখন সময় এসেছে বাংলাদেশী-আমেরিকানদের ঐক্যবদ্ধ হয়ে নিজেরাই প্রার্থী হবার।
জনাব বাদলের বক্তব্যের পরিপ্রেক্ষিতে সিনেটর রুবিন দিয়াজ উল্লেখ করেন, ‘বাংলাদেশীরা যদি সংগঠিত হতে পারেন তাহলে আমি নিজে আমার পুরো কম্যুনিটি (আফ্রিকান এবং হিসপ্যানিক) নিয়ে সেই প্রার্থীর জন্যে কাজ করবো।’ সিনেটর দিয়াজ উল্লেখ করেন, ‘ইতিমধ্যেই আইনজীবী এন মজুমদারকে সিটি কাউন্সিলের একটি পর্যায়ে জয়ী করতে সক্ষম হয়েছি। এভাবে এগিয়ে আসতে হবে ধীরে ধীরে। সিটি কাউন্সিলের পথ ধরেই অঙ্গরাজ্য হয়ে ফেডারেল প্রশাসনের আসন দখল করতে হবে।’
এ অনুষ্ঠানে নজরুল হক, ফখরুল ইসলাম দেলোয়ার, বিলাল চৌধুরী, নাদির খান, খন্দকার এম কামাল, এটর্নী রবার্ট ক্র্যাসেলনিককেও এওয়ার্ড প্রদান করা হয়। প্রসঙ্গত: উল্লেখ্য, নিউইয়র্ক সিটির ব্রঙ্কস বরোর বাংলাদেশীরা অন্য যে কোন বরোর চেয়ে সংগঠিত বলেই তারা বাংলাদেশী অধ্যুষিত একটি এলাকার রাস্তার নাম ‘বাংলাবাজার এভিনিউ’-তে রূপান্তরে সক্ষম হয়েছেন। ডেমক্র্যাটিক পার্টির সাথে ওতপ্রোতভাবে জড়িত রয়েছেন প্রবাসের বিশিষ্ট আইনজীবী এন মজুমদার, ইঞ্জিনিয়ার আবু সাকুর, রেক্সোনা মজুমদার, ফরিদা ইয়াসমীন, গিয়াসউদ্দিন, আব্দুস শহীদ, আব্দুল গফফার চৌধুরী খসরু, নজরুল হক, নূরল এহিয়া, নাসরীন কে আহমেদ, রোজি আকতার, প্রমি আকতার প্রমুখ।
- নিউইয়র্কে চিটাগাং অ্যাসোসিয়েশন অফ আমেরিকা’র সংবাদ সম্মেলন: সংগঠনের বিরুদ্ধে চলমান মামলার নিষ্পত্তি নি হওয়া পর্যন্ত কোন নির্বাচন নয়
- যুক্তরাষ্ট্র প্রবাসী বাংলাদেশীদের মূলধারার ব্যবসা-বাণিজ্য রাজনীতির সঙ্গে সম্পৃক্ত হওয়ার আহ্বান প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা ড. তিতুমীরের
- নিউইয়র্কে বাংলাদেশ সেমিট্রির কবরে মরদেহ সমাহিত করা যাবে ১ জুলাই থেকে
- যুক্তরাষ্ট্রের বিনিয়োগকারীদের জন্যে বাংলাদেশ এখন সবচেয়ে কার্যকর ও উপযোগী দেশ: প্রধানমন্ত্রীর অর্থনীতি ও পরিকল্পনা উপদেষ্টা ড. তিতুমীর
- নিউ জার্সির আটলান্টিক সিটিতে মেয়র মার্টি স্মল সিনিয়র স্কলারশিপ প্রোগ্রাম, আবেদন জমা দেওয়ার শেষ সময় ১৫ জুন
- নিউইয়র্কে মুনার ঈদ পুনর্মিলনী
- নিউইয়র্কে বাংলাদেশী ডক্টর ফোরাম অব নর্থ আমেরিকা’র উদ্যোগে ডা. ডোনার ও ডা. হারুন সংবর্ধিত
- নিউইয়র্ক স্টেট ডেমোক্র্যাটিক প্রাইমারী নির্বাচনে এসেম্বলিম্যান প্রার্থী জাকির চৌধুরীর ‘কমিউনিটি র্যালি’