মানসিক চাপের উত্স মায়ের পেটে!

প্রাপ্তবয়স্কদের স্ট্রেস বা মানসিক চাপের উত্স যে মায়ের পেটে থাকতে পারে, তা জানতে পেরেছেন বিজ্ঞানীরা। মানসিক চাপের অনেক রূপ ও নানা কারণ রয়েছে। নির্দিষ্ট সময়ের আগেই শিশুর জন্মের উপক্রম হলে ডাক্তাররা হরমোনের সাহায্যে কৃত্রিমভাবে তার ফুসফুসকে আরও পরিণত করতে বাধ্য হন। কিন্তু মায়ের পেটে শিশু তখন চাপের মুখে পড়ে। তার মস্তিষ্কের বয়স দ্রুত বাড়ে। গবেষকদের ধারণা, স্মৃতিভ্রম, ডায়াবেটিস বা স্ট্রোকের মতো বিপদের আশঙ্কাও তখন বেড়ে যায়। গুস্তাভ’র কথাই ধরা যাক। সে জানে না, তাকে নিয়ে ঠিক কী করা হচ্ছে। এখনও অবশ্য সে অস্থির হয়ে ওঠেনি। গবেষকরা তার ওপর এক পরীক্ষা চালাচ্ছেন। প্রায় ৮০টি শিশুর ওপর এমন পরীক্ষা চালানো হয়েছে। তাদের মধ্যে অর্ধেক মায়ের পেটে থাকতেই মানসিক চাপের মুখে পড়েছিল। বাকি অর্ধেককে তেমন কিছুর মুখোমুখি হতে হয়নি। গুস্তাভ অস্থির হলে তার মস্তিষ্কের তরঙ্গ পর্দায় ফুটে ওঠে। রক্তের চাপ ও হৃিপণ্ডের স্পন্দন বাড়লেও তা ধরা পড়ে। এই পরীক্ষায় দুই দলের শিশুদের মধ্যে তফাত চোখে পড়ে। শোয়াব বললেন, যেসব শিশু মায়ের পেটে থাকতেই স্ট্রেস বোধ করেছে, তারা সাধারণত পরীক্ষার আগেই উত্তেজিত হয়ে পড়ে। সেই উত্তেজনা আরও বেড়ে যেতে পারে। তারা অস্থির, নার্ভাস হয়ে পড়ে। ঠিকমতো মনোযোগ দিতে পারে না। ছটফট করে, বসে থেকেও জোরে-জোরে পা দোলায়। পরের পর্যায়ে ডাক্তাররা শিশুদের মস্তিষ্ক আরও ভালো করে পরীক্ষা করেন। তারা জানতে চান, মস্তিষ্কের কাঠামোর মধ্যেও তফাত্ খুঁজে পাওয়া যা কিনা এবং মস্তিষ্কের জৈবিক বয়সও বোঝা যায় কিনা। তাদের মতে, যেসব শিশু মায়ের পেটে থাকতে মানসিক চাপে ভুগেছে, তাদের মস্তিষ্কের বয়স অনেক দ্রুত বাড়ে। মানুষের ক্ষেত্রে সম্ভব না হলেও মায়ের পেটে থাকতে ভেড়ার শিশুর ওপর পরীক্ষা চালানো যায়। শোয়াব বললেন, একা হয়ে পড়লেই স্ট্রেস দেখা দেয়। এরা পালের মধ্যে থাকতে অভ্যস্ত। অন্তঃসত্ত্বা অবস্থায় আমরা এদের সপ্তাহে দুবার ৩ ঘণ্টার জন্য বিচ্ছিন্ন করে রেখেছিলাম। মায়ের মনে একবার স্ট্রেস তৈরি হলে বিশেষ হরমোনের মাধ্যমে তার পেটের শিশুর মনেও তা চলে যায়। মা ও শিশুর মধ্যে যোগাযোগের সূত্র যে নাড়ি, তার মধ্যে রক্তের পরিমাপ করে তা টের পাওয়া যায়। রক্তসঞ্চালন প্রায় ৩০ শতাংশ কমে যায়। ফলে শিশুর শরীরে যথেষ্ট পুষ্টি ঢোকে না। মানুষ বা ভেড়ার তুলনায় ধেড়ে ইঁদুরের আয়ু আরও কম। ইঁদুরের ক্ষেত্রে গবেষকরা আরও স্পষ্টভাবে দেখতে পেয়েছেন, মায়ের পেটে স্ট্রেস হলে কীভাবে তাদের আয়ুর ওপর প্রভাব ফেলে। ইঁদুরদের বেশি স্ট্রোক হয়, তার তীব্রতাও হয় মারাত্মক। ঘন ঘন মানসিক চাপের ফলে রক্তের চাপ বেড়ে যায়, শিরা শুকিয়ে যায়। শোয়াব বলেন, স্ট্রোক হলে ঠিক তার পরেই দ্রুত ধমনী বা শিরা টেনে আরও চওড়া করতে হয়, যাতে মস্তিষ্কের যে কোষের ক্ষতি হয়েছে, তাতে রক্ত সঞ্চালন ঘটতে পারে। কিন্তু শিরা আগে থেকেই সরু হয়ে গেলে কোনো প্রাণীর ক্ষেত্রে স্ট্রোক মারাত্মক আকার ধারণ করে। মানসিক চাপ না থাকলে কিন্তু সেই পশুর এমন দশা হয় না। মায়ের পেটে সন্তানের স্ট্রেস জিনের ওপর কী প্রভাব ফেলতে পারে, একই প্রকল্পের আওতায় আরেক দল গবেষক তা পরীক্ষা করছেন। গোটা ইউরোপজুড়ে এ বিষয়ে গবেষণা চলছে। তাদের লক্ষ্য একটাই। এর প্রভাব আরও ভালোভাবে বুঝে একদিন এর মোকাবিলা করতে ওষুধ তৈরি করা। বিজ্ঞানীদের আশা, সেই দিন এলে আরও বেশি মানুষ বয়স বাড়লেও সুস্থ অবস্থায় থাকতে পারবেন। সূত্র : ডিডব্লিউ/আমার দেশ
সর্বশেষ সংবাদ
- নিউইয়র্কে চিটাগাং অ্যাসোসিয়েশন অফ আমেরিকা’র সংবাদ সম্মেলন: সংগঠনের বিরুদ্ধে চলমান মামলার নিষ্পত্তি নি হওয়া পর্যন্ত কোন নির্বাচন নয়
- যুক্তরাষ্ট্র প্রবাসী বাংলাদেশীদের মূলধারার ব্যবসা-বাণিজ্য রাজনীতির সঙ্গে সম্পৃক্ত হওয়ার আহ্বান প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা ড. তিতুমীরের
- নিউইয়র্কে বাংলাদেশ সেমিট্রির কবরে মরদেহ সমাহিত করা যাবে ১ জুলাই থেকে
- যুক্তরাষ্ট্রের বিনিয়োগকারীদের জন্যে বাংলাদেশ এখন সবচেয়ে কার্যকর ও উপযোগী দেশ: প্রধানমন্ত্রীর অর্থনীতি ও পরিকল্পনা উপদেষ্টা ড. তিতুমীর
- নিউ জার্সির আটলান্টিক সিটিতে মেয়র মার্টি স্মল সিনিয়র স্কলারশিপ প্রোগ্রাম, আবেদন জমা দেওয়ার শেষ সময় ১৫ জুন
- নিউইয়র্কে মুনার ঈদ পুনর্মিলনী
- নিউইয়র্কে বাংলাদেশী ডক্টর ফোরাম অব নর্থ আমেরিকা’র উদ্যোগে ডা. ডোনার ও ডা. হারুন সংবর্ধিত
- নিউইয়র্ক স্টেট ডেমোক্র্যাটিক প্রাইমারী নির্বাচনে এসেম্বলিম্যান প্রার্থী জাকির চৌধুরীর ‘কমিউনিটি র্যালি’