এখন থেকে উত্তর আমেরিকায় একটাই ফোবানা সম্মেলন!
ঐক্যের হয়েছে জয়, ফোবানা থেকে মুছে গেছে বিভক্তির ছায়া । গত ৮ই জুন টেক্সাসের হিউস্টন শহরে এক রুদ্ধদ্বার বৈঠকের পর হাস্যজ্জল মুখে বেরিয়ে আসেন বিভিন্ন শহর থেকে আগত ফোবানার দুটি পক্ষের ১৭ জন নেতৃবৃন্দ। তারা সকলে মিলে এক ঐতিহাসিক সমঝোতা চুক্তিপত্র প্রস্তুত করেছেন যার নাম দিয়েছেন “হিউস্টন একর্ড”। এই ঐতিহাসিক দলিলের পরিপ্রেক্ষিতে এখন থেকে উত্তর আমেরিকাতে অনুষ্ঠিত হবে একটাই ফোবানা সম্মেলন! ফোবানার নেতৃবৃন্দরা নীতিগতভাবে সম্মত হয়েছেন যে এ বছর ফোবানা সম্মেলন অনুষ্ঠিত হবে জর্জিয়ার আটলান্টা শহরে (আগস্ট ৩০-সেপ্টেম্বর ১) এবং আগামী বছর অনুষ্ঠিত হবে ক্যালিফোর্নিয়ার লস এঞ্জেলেস শহরে। তবে ২০১৪ সালের সম্মেলনের আনুষ্ঠানিক ঘোষণা দেয়া হবে আটলান্টা সম্মেলনের সময় সাধারন সভার পর কারণ ফোবানার সংবিধান অনুযায়ী সম্মেলনের সিদ্ধান্ত দেয়ার ক্ষমতা কোন ব্যক্তির বা কমিটির নেই, তা আছে শুধু সাধারন সভার সদস্যদের।
সভার পর নেতৃবৃন্দরা ফোবানার এক্সিকিউটিভ সেক্রেটারী আজাদুল হকের বাড়ীতে এক নৈশভোজে আপ্যায়িত হন এবং সেখানে অত্যন্ত সৌহার্দপূর্ন, আন্তরিক এবং আনন্দঘন পরিবেশে তুমুল করতালির মাঝে একে একে এসে ঐতিহাসিক “হিউস্টন একর্ড” দলিলে সাক্ষর করেন। প্রথমেই সংক্ষিপ্ত বক্তব্য শেষে সাক্ষর করেন দুই পক্ষের চেয়ারম্যান রেহান রেজা এবং এটর্নি আলমগীর। এরপর একে একে সবাই সাক্ষর করেন। এই সভায় যারা উপস্থিত ছিলেন এবং সাক্ষর করেছেন তারা হলেনঃ
চেয়ারম্যান রেহান রেজা (ক্যানসাস), চেয়ারম্যান এটর্নি আলমগীর (ওয়াশিংটন ডিসি), ইউনিফিকেশন কমিটির চেয়ারম্যান মীর চৌধুরী (নিউ জার্সী), ভাইস-চেয়ারম্যান মাহমুদ মোশাররফ হোসেন (মেরীল্যান্ড), ভাইস-চেয়ারম্যান কুদরত-এ-খুদা (ফ্লোরিডা), এক্সিকিউটিভ সেক্রেটারী আজাদুল হক (টেক্সাস), ফোবানা ২০১৪-র কনভেনর ডঃ জয়নাল আবেদিন (ক্যালিফোর্নিয়া), এক্সিকিটিভ কমিটি মেম্বার বাবুল হাই (ফ্লোরিডা), ফোবানা ২০১৩-র কনভেনর ডিউক খান (জর্জিয়া), এক্সিকিটিভ কমিটি মেম্বার মোঃ নূরন নবী (ওয়াশিংটন ডিসি), ট্রেজারার মকবুল আলী (ইলিনয়), এক্সিকিটিভ কমিটি মেম্বার মাহাবুব রেজা রহীম (অ্যারিজোনা), এক্সিকিটিভ কমিটি মেম্বার হাসমাত মবিন (টেক্সাস), এক্সিকিটিভ কমিটি মেম্বার রবিউল করিম বেলাল (ক্যানসাস), ফোবানা ২০১৩-র হোস্ট প্রেসিডেন্ট জসিম উদ্দিন, জয়েন্ট এক্সিকিউটিভ সেক্রেটারী ডঃ আহসান চৌধুরী (টেক্সাস) এবং ফোবানা ২০১৩-র মেম্বার সেক্রেটারী এম, মওলা দিলু (জর্জিয়া)।
এই ঐক্যের সভায় অনিবার্য কারনবশত যারা উপস্থিত হতে পারেননি তারা হলেন ডঃ শাহজাহান মাহমুদ (ওয়াশিংটন ডিসি), আব্দুস সাত্তার (ওয়াশিংটন ডিসি), বেদারুল ইসলাম বাবলা (নিউ ইয়র্ক) এবং বর্তমানে বাংলাদেশে অবস্থানরত আতিকুর রহমান (ফ্লোরিডা)। তবে এরা সবাই এই ঐক্যের পক্ষে পূর্ন সমর্থন প্রকাশ করেছেন। ডঃ শাহজাহান মাহমুদ (ওয়াশিংটন ডিসি) ও আব্দুস সাত্তার (ওয়াশিংটন ডিসি) তাদের বক্তব্য এবং শুভেচ্ছাবানী লিখিত আকারে দিয়েছেন এবং তা প্রজেক্টরের মাধ্যমে সভার সবাইকে দেখানো হয় এবং কপি দেয়া হয়। এছাড়া ফোবানার ঐক্যের এই মহৎ প্রচেষ্টার প্রতি আন্তরিক ও পূর্ন সমর্থন জ্ঞাপন করেছেন ফোবানার অন্যতম প্রতিষ্ঠাতা সদস্য এবং ডঃ নুরন নবী (নিউ জার্সী)। তাঁর লিখিত শুভেচ্ছাবানীও প্রজেক্টরের মাধ্যমে সভার সবাইকে দেখানো হয় এবং কপি দেয়া হয়।
এই সভায় সবাই একমত হয়েছেন যে ঐক্যের দরজা কখনো বন্ধ হয় না এবং আন্তরিকতা থাকলে যে কোন সমস্যা সমাধান করা সম্ভব। তাই এখনো যারা ফোবানা নিয়ে দ্বিধায় ভুগছেন অথবা ভিন্ন মত পোষণ করছেন, এই সভা থেকে তাদের প্রতি উদ্দাত্ত আহব্বান জানানো হয়েছে। বলা হয়েছে যে আসুন আমরা একসাথে বসি এবং আলাপ আলোচনার মাধ্যমে নিজেদের ছোটখাট ভেদাভেদ ভুলে ফোবানা করে তুলি আরো শক্তিশালী। ফোবানা এমনিতেই একটি বিশাল সংগঠন এবং এখানে সবাইকেই সসম্মানে স্থান দেয়া সম্ভব। তাই কোনভাবেই উচিত নয় বেআইনিভাবে ফোবানার নাম ব্যবহার করে অন্য কোন সম্মেলন করা। তাছাড়া মে মাসের ২৯ তারিখের পর থেকে ফোবানার নাম আর কেউ কখনই আইনগতভাবে ব্যবহার করতে পারবে না কারণ ফোবানা সেদিন ট্রেডমার্ক আইনের সেকশন ৮ এবং ১৫-এ আওতায় আগামী ১০ বছরের জন্য স্থায়ীভাবে রেজিস্ট্রেশন করেছে।
এই ঐক্যের কারণে এখন খুলে গেছে অপার সম্ভাবনার দুয়ার। ফোবানা এখন আর ৩ দিনের সম্মেলনের মাঝে সীমাবদ্ধ নয়। এ বছর মোট তেরটি স্টান্ডিং কমিটির মাধ্যমে ফোবানা নিরলসভাবে কাজ করে চলেছে উত্তর আমেরিকার প্রবাসী বাংলাদেশীদের সেবার লক্ষে। উদাহরণস্বরূপ উত্তর আমেরিকার বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের বাংলাদেশী ছাত্র সংগঠন গুলোকে এখন পরীক্ষামূলক দেয়া হচ্ছে ফ্রী স্টুডেন্টস মেম্বারশীপ, ফোবানার ইন্টার্নশীপ নিয়ে এই মুহুর্তে ঢাকায় সাভারের রানা প্লাজায় আহতদের সেবা করছে এক মিনেসোটার ছাত্রী ইশিকা মেহনাজ হক, ইউ এস হেলথ ডিপার্টমেন্টের সাথে মিলে কাজ করছে ফোবানার হেলথ এন্ড এওয়ারনেস কমিটি ডঃ সেলিনা আহমেদ। এছাড়া আরো বিভিন্ন সেবামূলক এবং গঠনমূলক কাজে ফোবানা জড়িত হচ্ছে প্রতিনিয়ত।
এই সভায় আরো সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে যে এখন থেকে ফোবানার যাবতীয় প্রেস রিলিজ অথবা বক্তব্য শুধুমাত্র ফোবানার মুখপাত্র আজাদুল হক এবং এটর্নি আলমগীরের কাছ থেকে নিতে হবে। ফোবানার এই দুইজন মুখপাত্র ছাড়া অন্য কারো বক্তব্য গ্রহণযোগ্য এবং সঠিক বলে গণ্য হবে না। সেটা হতে পারে কারো একান্তই ব্যক্তিগত মতামত এবং সেই মতামতের জন্য ফোবানা দায়ী থাকবে না। অতএব সকল সাংবাদিক ও মিডিয়া কর্মীদের অনুরোধ করা হচ্ছে যে তারা যেন ফোবানা সম্পর্কিত সকল খবর সরাসরি ফোবানার মুখপাত্রদের কাছ থেকে সংগ্রহ করেন। আগামী কিছুদিনের মধ্যে ফোবানার আরো অনেক খবর প্রকাশিত হবে।
- নিউইয়র্কে বাংলাদেশ কনস্যুলেট জেনারেলে ‘কল সেন্টার’ চালু
- নিউইয়র্ক বাংলাদেশি আমেরিকান লায়ন্স ক্লাবের নয়া কমিটির বর্ণাঢ্য অভিষেক এবং ১৩তম চার্টার বার্ষিকী উদযাপন
- New York Attorney General James Warns New Yorkers About Student Loan Scams
- Justice, equality and human rights essential to building a lasting culture of peace: Irene Khan
- ন্যায়বিচার, সমতা ও মানবাধিকারই টেকসই শান্তির সংস্কৃতি গড়ার ভিত্তি: জাতিসংঘে বাংলাদেশের স্থায়ী প্রতিনিধি আইরিন খান
- যুক্তরাষ্ট্র বাংলাদেশের সঙ্গে কূটনৈতিক ও অর্থনৈতিক সম্পর্ক জোরদার করতে চায় : স্টেট ডিপার্টমেন্টের দক্ষিণ ও মধ্য এশিয়া বিষয়ক ব্যুরোর ভারপ্রাপ্ত পরিচালক সারাহ
- নিউইয়র্কে মুসলিম কমিউনিটি ও আহলে সুন্নাতুল জামাতের ঈদে মিলাদুন্নবী (সা.) মাহফিল
- New York Attorney General James Sues Amazon for Fraudulently Overcharging Advertisers More Than $20 Billion
