থ্রিডি প্রিন্টারে ‘ছাপা’ হচ্ছে, নকল অঙ্গ

ত্রিমাত্রিক প্রিন্টারের কল্যাণে কত কীই না হচ্ছে! এবার কৃত্রিম অঙ্গ-প্রত্যঙ্গের প্রতিস্থাপনের ক্ষেত্রেও বিপ্লব আনছে এই প্রযুক্তি। লাভবান হচ্ছেন ভাঙা হাঁটু ও কোমরে গেঁটেবাতের রোগীরা। ক্রমেই আরও বেশি রোগীর প্রস্থেসিস বা কৃত্রিম অঙ্গ-প্রত্যঙ্গের প্রয়োজন হয়ে পড়ছে, যাতে তারা ব্যথা ছাড়াই চলাফেরা করতে পারেন। এক্স-রে করলে হিপের ক্ষয় বোঝা যায়। টোমাস এঙেলসের কোমরের দশা এমন যে সাধারণ কৃত্রিম অঙ্গে আর কাজ হবে না। ডিটার ভিয়ারত্স বন শহরের ইউনিভার্সিটি ক্লিনিকের ডাক্তার। জয়েন্ট বা অস্থির ক্ষয়ের জটিল প্রক্রিয়া নিয়ে তার কাজ। তিনি টোমাসকে বোঝান, তার ক্ষতিগ্রস্ত হিপ নিয়ে কী করা যেতে পারে। তিনি বলেন, বুঝতেই পারছেন যে, এটা এখানে ঠিকমতো বসবে না। কাজেই আপনার হাড়ের বিশেষ অবস্থা অনুযায়ী আমাদের একটা কৃত্রিম প্রত্যঙ্গ তৈরি করতে হবে। প্রথমে টোমাসের জন্য বিশেষ কৃত্রিম অস্থির একটা থ্রিডি মডেল তৈরি করা হয়েছে। সেটি প্রায় নিখুঁত হতে হবে, যাতে তা অতি সহজে হিপের হাড়ে বসানো যায়। নড়লে-চড়লে, ঘষাঘষি হলে চলবে না। তারপর লেজার রশ্মির মাধ্যমে সত্যিকারের ‘ইমপ্লান্ট’টির ত্রিমাত্রিক ‘প্রিন্ট’ নিতে হবে। ক্রিস্টফ ওভার আখেনের ফ্রাউনহোফার লেজার প্রযুক্তি গবেষণা প্রতিষ্ঠানে এই পদ্ধতি উদ্ভাবন করেছেন। তিনি বলেন, এটা তৈরির জন্য আমরা টাইটেনিয়াম পাউডার ব্যবহার করি। টাইটেনিয়াম শরীরের পক্ষে সবচেয়ে সহনীয়। ইমপ্লান্ট শরীরে কয়েক বছর ধরে বসানো থাকলেও তা কোনো অ্যালার্জি বা বিরূপ প্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি করে না। প্রিন্টিং শুরু করার আগে রোগীর মাপজোক আরও একবার পরীক্ষা করে প্রয়োজনে রদবদল করা হয়। তারপর কাজ শুরু হয়। ক্রিস্টফ ওভার বলেন, প্রক্রিয়াটা চলে এমন এক বদ্ধ চেম্বারে, যা আসলে একটি পাইপ, যার মেঝেটা নিচের দিকে নড়ে। এই মেঝের ওপর আমি টাইটেনিয়াম পাউডারের একটা চিকন স্তর ছড়িয়ে দিই। তারপর লেজার রশ্মি সেইসব অংশ গলিয়ে দেয়, যা পরে ইমপ্লান্টের অংশ হবে। এরপর আমি মেঝেটা আরও এক স্তর নামিয়ে দিই। তখন ঠিক একই প্রক্রিয়া ঘটে। এভাবে ধীরে ধীরে ইমপ্লান্টটি তার চূড়ান্ত রূপ পায়। এভাবে বেশ কয়েক হাজার স্তরে ইমপ্লান্টটি ‘প্রিন্ট’ করা হয়। এতে কয়েক ঘণ্টা সময় লাগে। সাবধানে টাইটেনিয়াম পাউডার থেকে সেটা বের করে নিতে হয়। ওভার বলেন, এটা হলো সেই চূড়ান্ত ইমপ্লান্ট, যেখানে যেখানে এটা হাড়ের সঙ্গে ঠেকবে, সেখানে এমন ডিজাইন করা আছে যে, শরীরের হাড় খালি অংশে এঁটে বসতে পারবে। যার ফলে ইমপ্লান্টটি আরও স্বাভাবিকভাবে শরীরের অঙ্গ হয়ে উঠবে আর দীর্ঘস্থায়ী হবে। প্রতিটি লেজার ইমপ্লান্ট একেবারে অভিনব। বাঁধা মাপের প্রস্থেসিস যাদের কাজে লাগে না, তাদের জন্য এগুলো প্রয়োজনীয় মাপ অনুযায়ী তৈরি করা হয়। ওভার বলেন, মাপ অনুযায়ী ইমপ্লান্ট তৈরি করার ফলে আমরা সেইসব রোগীকে সাহায্য করতে পারছি, যাদের এতকাল কোনো আশা ছিল না, যারা হুইলচেয়ারে বসে দিন কাটাতেন, আগে তাদের সাহায্য করা যেত না। নতুন এই পদ্ধতির ফলে অধিকাংশ ক্ষেত্রে রোগীরা আবার হাঁটাচলা করতে পারেন, তাদের জীবনযাত্রার মান একেবারে বদলে যায়। টোমাস এঙেলস এখনও ক্রাচ নিয়ে হাঁটছেন। তবে অপারেশনের পর তার আর ক্রাচের প্রয়োজন পড়বে না বলেই মনে হয়। সূত্র : ডিডব্লিউ/আমার দেশ
সর্বশেষ সংবাদ
- নিউইয়র্কে চিটাগাং অ্যাসোসিয়েশন অফ আমেরিকা’র সংবাদ সম্মেলন: সংগঠনের বিরুদ্ধে চলমান মামলার নিষ্পত্তি নি হওয়া পর্যন্ত কোন নির্বাচন নয়
- যুক্তরাষ্ট্র প্রবাসী বাংলাদেশীদের মূলধারার ব্যবসা-বাণিজ্য রাজনীতির সঙ্গে সম্পৃক্ত হওয়ার আহ্বান প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা ড. তিতুমীরের
- নিউইয়র্কে বাংলাদেশ সেমিট্রির কবরে মরদেহ সমাহিত করা যাবে ১ জুলাই থেকে
- যুক্তরাষ্ট্রের বিনিয়োগকারীদের জন্যে বাংলাদেশ এখন সবচেয়ে কার্যকর ও উপযোগী দেশ: প্রধানমন্ত্রীর অর্থনীতি ও পরিকল্পনা উপদেষ্টা ড. তিতুমীর
- নিউ জার্সির আটলান্টিক সিটিতে মেয়র মার্টি স্মল সিনিয়র স্কলারশিপ প্রোগ্রাম, আবেদন জমা দেওয়ার শেষ সময় ১৫ জুন
- নিউইয়র্কে মুনার ঈদ পুনর্মিলনী
- নিউইয়র্কে বাংলাদেশী ডক্টর ফোরাম অব নর্থ আমেরিকা’র উদ্যোগে ডা. ডোনার ও ডা. হারুন সংবর্ধিত
- নিউইয়র্ক স্টেট ডেমোক্র্যাটিক প্রাইমারী নির্বাচনে এসেম্বলিম্যান প্রার্থী জাকির চৌধুরীর ‘কমিউনিটি র্যালি’