অবশেষে বাংলাদেশ-যুক্তরাষ্ট্র টিকফা চুক্তি হচ্ছে
সাইদুল ইসলাম ও মুন্না রায়হান : অবশেষে যুক্তরাষ্ট্রের সাথে বহুল আলোচিত বাণিজ্য ও বিনিয়োগ সহযোগিতার রূপরেখা চুক্তি (টিকফা) স্বাক্ষর করতে যাচ্ছে সরকার। বিভিন্ন সূত্র জানিয়েছে, সব আনুষ্ঠানিকতা শেষ করে বাংলাদেশ দ্রুততম সময়ের মধ্যে চুক্তিটি স্বাক্ষর করতে চায়। গতকাল সোমবার প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত মন্ত্রিসভার বৈঠকে চুক্তিটির খসড়ার অনুমোদন দেয়া হয়। খসড়া অনুমোদনের পর মন্ত্রী পরিষদ সচিব মো:মোশাররাফ হোসেন ভুঁইয়া সাংবাদিকদের বলে-ছেন, দুই দেশের মধ্যে আলোচনার ভিত্তিতে চুক্তিটি সইয়ের জন্য সময় নির্ধারণ করা হবে।
যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে বাংলাদেশি পণ্যের অগ্রাধিকারমূলক বাণিজ্য সুবিধা (জিএসপি) অব্যাহত রাখা বা না রাখা নিয়ে চলতি মাসের শেষের দিকে ওবামা প্রশাসন সিদ্ধান্ত নেয়ার কথা জানিয়েছে। বিশ্লেষকরা মনে করছেন, জিএসপি সুবিধা বহাল রাখার লক্ষ্যে বাংলাদেশ টিকফা চুক্তির বিষয়ে দ্রুত সিদ্ধান্ত নিতে যাচ্ছে। নানা চাপে সরকার এ চুক্তি সই করতে যাচ্ছে বলে বিভিন্ন মহল থেকে অভিযোগ উঠে-ছিলো। তবে মন্ত্রী পরিষদ সচিব সাংবা-দিকদের এক প্রশ্নের জবাবে বলেছেন, চুক্তি সইয়ের জন্য যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে কোন চাপ নেই।
এদিকে, ঢাকাস্থ যুক্তরাষ্ট্র দূতাবাস মন্ত্রিসভায় খসড়া অনুমোদনের বিষয়কে স্বাগত জানিয়েছে। দূতাবাসের মুখপাত্র কেলি ম্যাকার্থি ইত্তেফাককে বলে-ছেন, ‘মন্ত্রিসভার সিদ্ধান্ত অভিনন্দনযোগ্য। এখন আমরা সহসাই টিকফা চুক্তি সইয়ের অপেক্ষায় আছি। সেজন্য শীঘ্রই আলোচনা শুরু করতে চাই।’
উল্লেখ্য, ১৯৯২ সাল থেকে টিকফা নিয়ে কথাবার্তা চললেও আনুষ্ঠানিক আলোচনা শুরু হয় ২০০২ সালে। চারটি নিয়ামক টিকফা আলোচনার ক্ষেত্রে বড় বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছিলো। এগুলো হচ্ছে— নিরাপত্তা, বিনিয়োগের সুরক্ষা, মেধাস্বত্ব এবং শ্রমিকদের অধিকার। শেষ পর্যন্ত দুপক্ষের মধ্যে কয়েকদফা আলোচনায় এ বিষয়গুলোতেও ঐকমত্যে পোঁছানো গেছে বলে জানা যায়। মন্ত্রী পরিষদ সচিব টিকফা চুক্তির বিষয়ে সাংবাদিকদের বলেন, এ চুক্তির আওতায় দুদেশের মধ্যে বাণিজ্য ও বিনিয়োগ সম্পর্কে নিয়মিত আলোচনার জন্য একটি ফোরাম গঠন করা হবে। বাংলাদেশের পক্ষে বাণিজ্য মন্ত্রণালয় এবং যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষে মার্কিন বাণিজ্য দপ্তর (ইউএসটিআর) এ ফোরামে নেতৃত্ব দেবে। ফোরাম বছরে অন্তত: একবার বৈঠক করবে। এই ফোরামে বেসরকারি খাত ও সুশীল সমাজের মধ্যেও আলোচনার সুযোগ রাখা হয়েছে। তিনি জানান, মন্ত্রিসভা মনে করে, এই চুক্তি সই হলে বাংলাদেশ ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে বাণিজ্য ও বিনিয়োগ নিয়ে নিয়মিত আলোচনার সুযোগ সৃষ্টি হবে। এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের একতরফা সিদ্ধান্ত নেয়ার পথ সংকুচিত হবে।
চুক্তির খসড়ায় যা আছে
চুক্তির খসড়ায় বলা হয়েছে উভয় দেশ নিজ নিজ বাজারে পণ্য প্রবেশে অশুল্ক বাধা দূর করবে। খসড়ায় বাণিজ্য ও বিনিয়োগের ক্ষেত্রে সহযোগিতার মাধ্যমে উভয় দেশের বন্ধন সুদৃঢ় করার কথা উল্লেখ রয়েছে। এছাড়া বাজার উন্মুক্তকরণ এবং সেবা খাতের বেসরকারিকরণের কথাও বলা হয়েছে খসড়ায়। খসড়ায় বলা হয়, উভয় দেশ আন্তর্জাতিক বাণিজ্য ও বিনিয়োগের জন্য উদার নীতি গ্রহণ করবে। ব্যক্তিখাতের বিকাশকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে খসড়ায় বলা হয়, উভয় দেশের উচ্চ পর্যায়ের সরকারি কর্মকর্তাদের সমন্বয়ে গঠিত ‘বাণিজ্য ও বিনিয়োগ কমিশন’ ব্যক্তিখাতের বিকাশের জন্য প্রয়োজনীয় কৌঁশল ও পরামর্শ সরবরাহ করবে। এতে দুই দেশের মধ্যে বাণিজ্য ও বিনিয়োগের ক্ষেত্রে শুধু সেবাখাতের কথা উল্লেখ রয়েছে, পণ্য উত্পাদনের বিষয়টি উল্লেখ করা হয়নি।
চুক্তির খসড়ায় বলা হয়, বাংলাদেশ ১৯৮৬ সালে স্বাক্ষরিত ‘দ্বিপক্ষীয় বিনিয়োগ চুক্তি’ অনুযায়ী মার্কিন বিনিয়োগকারীদের অর্জিত মুনাফা বা পুঁজির উপর কোন কর আরোপ হবে না। চুক্তির প্রস্তাব অনুযায়ী বাংলাদেশকে দোহা ডেভেলপমেন্ট এজেন্ডা অনুসারে কৃষিতে ভর্তুকি কমানো এবং মুক্তবাজার অর্থনীতি গ্রহণ করতে হবে। টিকফা চুক্তির খসড়ায় মেধাস্বত্ব আইনের কঠোর বাস্তবায়নের কথা বলা হয়েছে। এছাড়া টিকফায় মানবাধিকার, শ্রমের মান এবং শ্রমজীবীদের অধিকার ও পরিবেশগত বিষয় অন্তর্ভুক্ত রাখা হয়েছে।
প্রধানমন্ত্রীর কাছে পাঠানো বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের সারসংক্ষেপ
টিকফা চুক্তির বিষয়ে বাণিজ্য মন্ত্রণালয় থেকে প্রধানমন্ত্রীর কাছে একটি সারসংক্ষেপ আগেই পাঠানো হয়। এতে বলা হয়, যুক্তরাষ্ট্র বাংলাদেশের একক বৃহত্তম রফতানি বাজার হলেও উভয় দেশের বাণিজ্য ও বিনিয়োগ স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিষয়ে পারস্পরিক আলোচনার জন্য কোন আনুষ্ঠানিক প্লাটফর্ম নেই। আর এ প্রয়োজনীয়তা থেকেই গত ২০০২ সালে যুক্তরাষ্ট্রের কাছ থেকে বাণিজ্য বিনিয়োগ চুক্তি স্বাক্ষরের জন্য যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে আগ্রহ সম্বলিত ট্রেড এন্ড ইনভেস্টমেন্ট ফ্রেমওয়ার্ক এগ্রিমেন্ট (টিকফা)-এর প্রস্তাব পায় বাংলাদেশ। তত্কালীন প্রধানমন্ত্রীর অনুমোদনক্রমে এ বিষয়ে বাংলাদেশ ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে তিন দফা দর-কষাকষি হলেও মেধাস্বত্ব সংরক্ষণ, বিশেষ করে ঘুষ, দুর্নীতির বিষয়ে উভয় পক্ষের মধ্যে কোন সমঝোতা না হওয়ায় চুক্তিটি স্বাক্ষরিত হয়নি। পরবর্তী সময়ে ২০০৮ সালের জুন মাসে যুক্তরাষ্ট্র পুনরায় একটি সংশোধিত খসড়া পাঠায়। সংশোধিত খসড়া পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে নির্দেশনা দিতে ২০০৯ সালের ১২ অক্টোবর প্রধানমন্ত্রীর কাছে সার-সংক্ষেপ পাঠানো হয়। এরপর ২০১০ সালের ১০ আগস্ট প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় হতে বাণিজ্য সচিব ও পররাষ্ট্র সচিবের সমন্বয়ে একটি কমিটি গঠন করে আলোচনা শুরু করার নির্দেশ দেয়া হয়। কমিটি বাংলাদেশের সম্ভাব্য অবস্থানপত্র তৈরি করে সে বছর ডিসেম্বরেই তা যুক্তরাষ্ট্রে প্রেরণ করে।
সার সংক্ষেপে উল্লেখ করা হয়, যুক্তরাষ্ট্র এখন পর্যন্ত এ ধরনের ৪১টি দেশ ও ৬টি আঞ্চলিক জোটের সাথে বাণিজ্য ও বিনিয়োগ চুক্তি স্বাক্ষর করেছে। এরমধ্যে ১৮টি চুক্তিতে ঘুষ ও দুর্নীতি, ৪২টিতে মেধাস্বত্ব সংরক্ষণ, ৪৬টিতে শ্রম অধিকার সংরক্ষণ এবং ১৬টিতে পরিবেশ সংরক্ষণের বিষয়সমূহ অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। তবে, ২০০৭ সাল থেকে স্বাক্ষরিত সব চুক্তিতেই ঘুষ ও দুর্নীতির বিষয় অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের সাথে টিকফা স্বাক্ষরিত হলে বাংলাদেশের পক্ষে প্রতি বছর অন্তত:একবার বাণিজ্য ও বিনিয়োগ বিষয়ে আলোচনার সুযোগ সৃষ্টি হবে বলেও সারসংক্ষেপে উল্লেখ করা হয়।ইত্তেফাক
যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে বাংলাদেশি পণ্যের অগ্রাধিকারমূলক বাণিজ্য সুবিধা (জিএসপি) অব্যাহত রাখা বা না রাখা নিয়ে চলতি মাসের শেষের দিকে ওবামা প্রশাসন সিদ্ধান্ত নেয়ার কথা জানিয়েছে। বিশ্লেষকরা মনে করছেন, জিএসপি সুবিধা বহাল রাখার লক্ষ্যে বাংলাদেশ টিকফা চুক্তির বিষয়ে দ্রুত সিদ্ধান্ত নিতে যাচ্ছে। নানা চাপে সরকার এ চুক্তি সই করতে যাচ্ছে বলে বিভিন্ন মহল থেকে অভিযোগ উঠে-ছিলো। তবে মন্ত্রী পরিষদ সচিব সাংবা-দিকদের এক প্রশ্নের জবাবে বলেছেন, চুক্তি সইয়ের জন্য যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে কোন চাপ নেই।
এদিকে, ঢাকাস্থ যুক্তরাষ্ট্র দূতাবাস মন্ত্রিসভায় খসড়া অনুমোদনের বিষয়কে স্বাগত জানিয়েছে। দূতাবাসের মুখপাত্র কেলি ম্যাকার্থি ইত্তেফাককে বলে-ছেন, ‘মন্ত্রিসভার সিদ্ধান্ত অভিনন্দনযোগ্য। এখন আমরা সহসাই টিকফা চুক্তি সইয়ের অপেক্ষায় আছি। সেজন্য শীঘ্রই আলোচনা শুরু করতে চাই।’
উল্লেখ্য, ১৯৯২ সাল থেকে টিকফা নিয়ে কথাবার্তা চললেও আনুষ্ঠানিক আলোচনা শুরু হয় ২০০২ সালে। চারটি নিয়ামক টিকফা আলোচনার ক্ষেত্রে বড় বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছিলো। এগুলো হচ্ছে— নিরাপত্তা, বিনিয়োগের সুরক্ষা, মেধাস্বত্ব এবং শ্রমিকদের অধিকার। শেষ পর্যন্ত দুপক্ষের মধ্যে কয়েকদফা আলোচনায় এ বিষয়গুলোতেও ঐকমত্যে পোঁছানো গেছে বলে জানা যায়। মন্ত্রী পরিষদ সচিব টিকফা চুক্তির বিষয়ে সাংবাদিকদের বলেন, এ চুক্তির আওতায় দুদেশের মধ্যে বাণিজ্য ও বিনিয়োগ সম্পর্কে নিয়মিত আলোচনার জন্য একটি ফোরাম গঠন করা হবে। বাংলাদেশের পক্ষে বাণিজ্য মন্ত্রণালয় এবং যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষে মার্কিন বাণিজ্য দপ্তর (ইউএসটিআর) এ ফোরামে নেতৃত্ব দেবে। ফোরাম বছরে অন্তত: একবার বৈঠক করবে। এই ফোরামে বেসরকারি খাত ও সুশীল সমাজের মধ্যেও আলোচনার সুযোগ রাখা হয়েছে। তিনি জানান, মন্ত্রিসভা মনে করে, এই চুক্তি সই হলে বাংলাদেশ ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে বাণিজ্য ও বিনিয়োগ নিয়ে নিয়মিত আলোচনার সুযোগ সৃষ্টি হবে। এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের একতরফা সিদ্ধান্ত নেয়ার পথ সংকুচিত হবে।
চুক্তির খসড়ায় যা আছে
চুক্তির খসড়ায় বলা হয়েছে উভয় দেশ নিজ নিজ বাজারে পণ্য প্রবেশে অশুল্ক বাধা দূর করবে। খসড়ায় বাণিজ্য ও বিনিয়োগের ক্ষেত্রে সহযোগিতার মাধ্যমে উভয় দেশের বন্ধন সুদৃঢ় করার কথা উল্লেখ রয়েছে। এছাড়া বাজার উন্মুক্তকরণ এবং সেবা খাতের বেসরকারিকরণের কথাও বলা হয়েছে খসড়ায়। খসড়ায় বলা হয়, উভয় দেশ আন্তর্জাতিক বাণিজ্য ও বিনিয়োগের জন্য উদার নীতি গ্রহণ করবে। ব্যক্তিখাতের বিকাশকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে খসড়ায় বলা হয়, উভয় দেশের উচ্চ পর্যায়ের সরকারি কর্মকর্তাদের সমন্বয়ে গঠিত ‘বাণিজ্য ও বিনিয়োগ কমিশন’ ব্যক্তিখাতের বিকাশের জন্য প্রয়োজনীয় কৌঁশল ও পরামর্শ সরবরাহ করবে। এতে দুই দেশের মধ্যে বাণিজ্য ও বিনিয়োগের ক্ষেত্রে শুধু সেবাখাতের কথা উল্লেখ রয়েছে, পণ্য উত্পাদনের বিষয়টি উল্লেখ করা হয়নি।
চুক্তির খসড়ায় বলা হয়, বাংলাদেশ ১৯৮৬ সালে স্বাক্ষরিত ‘দ্বিপক্ষীয় বিনিয়োগ চুক্তি’ অনুযায়ী মার্কিন বিনিয়োগকারীদের অর্জিত মুনাফা বা পুঁজির উপর কোন কর আরোপ হবে না। চুক্তির প্রস্তাব অনুযায়ী বাংলাদেশকে দোহা ডেভেলপমেন্ট এজেন্ডা অনুসারে কৃষিতে ভর্তুকি কমানো এবং মুক্তবাজার অর্থনীতি গ্রহণ করতে হবে। টিকফা চুক্তির খসড়ায় মেধাস্বত্ব আইনের কঠোর বাস্তবায়নের কথা বলা হয়েছে। এছাড়া টিকফায় মানবাধিকার, শ্রমের মান এবং শ্রমজীবীদের অধিকার ও পরিবেশগত বিষয় অন্তর্ভুক্ত রাখা হয়েছে।
প্রধানমন্ত্রীর কাছে পাঠানো বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের সারসংক্ষেপ
টিকফা চুক্তির বিষয়ে বাণিজ্য মন্ত্রণালয় থেকে প্রধানমন্ত্রীর কাছে একটি সারসংক্ষেপ আগেই পাঠানো হয়। এতে বলা হয়, যুক্তরাষ্ট্র বাংলাদেশের একক বৃহত্তম রফতানি বাজার হলেও উভয় দেশের বাণিজ্য ও বিনিয়োগ স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিষয়ে পারস্পরিক আলোচনার জন্য কোন আনুষ্ঠানিক প্লাটফর্ম নেই। আর এ প্রয়োজনীয়তা থেকেই গত ২০০২ সালে যুক্তরাষ্ট্রের কাছ থেকে বাণিজ্য বিনিয়োগ চুক্তি স্বাক্ষরের জন্য যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে আগ্রহ সম্বলিত ট্রেড এন্ড ইনভেস্টমেন্ট ফ্রেমওয়ার্ক এগ্রিমেন্ট (টিকফা)-এর প্রস্তাব পায় বাংলাদেশ। তত্কালীন প্রধানমন্ত্রীর অনুমোদনক্রমে এ বিষয়ে বাংলাদেশ ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে তিন দফা দর-কষাকষি হলেও মেধাস্বত্ব সংরক্ষণ, বিশেষ করে ঘুষ, দুর্নীতির বিষয়ে উভয় পক্ষের মধ্যে কোন সমঝোতা না হওয়ায় চুক্তিটি স্বাক্ষরিত হয়নি। পরবর্তী সময়ে ২০০৮ সালের জুন মাসে যুক্তরাষ্ট্র পুনরায় একটি সংশোধিত খসড়া পাঠায়। সংশোধিত খসড়া পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে নির্দেশনা দিতে ২০০৯ সালের ১২ অক্টোবর প্রধানমন্ত্রীর কাছে সার-সংক্ষেপ পাঠানো হয়। এরপর ২০১০ সালের ১০ আগস্ট প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় হতে বাণিজ্য সচিব ও পররাষ্ট্র সচিবের সমন্বয়ে একটি কমিটি গঠন করে আলোচনা শুরু করার নির্দেশ দেয়া হয়। কমিটি বাংলাদেশের সম্ভাব্য অবস্থানপত্র তৈরি করে সে বছর ডিসেম্বরেই তা যুক্তরাষ্ট্রে প্রেরণ করে।
সার সংক্ষেপে উল্লেখ করা হয়, যুক্তরাষ্ট্র এখন পর্যন্ত এ ধরনের ৪১টি দেশ ও ৬টি আঞ্চলিক জোটের সাথে বাণিজ্য ও বিনিয়োগ চুক্তি স্বাক্ষর করেছে। এরমধ্যে ১৮টি চুক্তিতে ঘুষ ও দুর্নীতি, ৪২টিতে মেধাস্বত্ব সংরক্ষণ, ৪৬টিতে শ্রম অধিকার সংরক্ষণ এবং ১৬টিতে পরিবেশ সংরক্ষণের বিষয়সমূহ অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। তবে, ২০০৭ সাল থেকে স্বাক্ষরিত সব চুক্তিতেই ঘুষ ও দুর্নীতির বিষয় অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের সাথে টিকফা স্বাক্ষরিত হলে বাংলাদেশের পক্ষে প্রতি বছর অন্তত:একবার বাণিজ্য ও বিনিয়োগ বিষয়ে আলোচনার সুযোগ সৃষ্টি হবে বলেও সারসংক্ষেপে উল্লেখ করা হয়।ইত্তেফাক
সর্বশেষ সংবাদ
- নিউইয়র্কে চিটাগাং অ্যাসোসিয়েশন অফ আমেরিকা’র সংবাদ সম্মেলন: সংগঠনের বিরুদ্ধে চলমান মামলার নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত কোন নির্বাচন নয়
- যুক্তরাষ্ট্র প্রবাসী বাংলাদেশীদের মূলধারার ব্যবসা-বাণিজ্য রাজনীতির সঙ্গে সম্পৃক্ত হওয়ার আহ্বান প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা ড. তিতুমীরের
- নিউইয়র্কে বাংলাদেশ সেমিট্রির কবরে মরদেহ সমাহিত করা যাবে ১ জুলাই থেকে
- যুক্তরাষ্ট্রের বিনিয়োগকারীদের জন্যে বাংলাদেশ এখন সবচেয়ে কার্যকর ও উপযোগী দেশ: প্রধানমন্ত্রীর অর্থনীতি ও পরিকল্পনা উপদেষ্টা ড. তিতুমীর
- নিউ জার্সির আটলান্টিক সিটিতে মেয়র মার্টি স্মল সিনিয়র স্কলারশিপ প্রোগ্রাম, আবেদন জমা দেওয়ার শেষ সময় ১৫ জুন
- নিউইয়র্কে মুনার ঈদ পুনর্মিলনী
- নিউইয়র্কে বাংলাদেশী ডক্টর ফোরাম অব নর্থ আমেরিকা’র উদ্যোগে ডা. ডোনার ও ডা. হারুন সংবর্ধিত
- নিউইয়র্ক স্টেট ডেমোক্র্যাটিক প্রাইমারী নির্বাচনে এসেম্বলিম্যান প্রার্থী জাকির চৌধুরীর ‘কমিউনিটি র্যালি’