প্রজাতির মতো ভাষাও বিপন্ন

ওরাং ওটাং কিংবা চীনের জায়ান্ট পাণ্ডাদের বাঁচানোর নানা প্রচেষ্টা চলেছে। ঐতিহাসিক ঘরবাড়ি ধ্বংস হতে দিতে সবারই দ্বিধা। কিন্তু পৃথিবী থেকে অনেক ভাষা যে ধীরে ধীরে লুপ্ত হচ্ছে, তা নিয়ে ক’জন ভাবে? জার্মানির কোলোন বিশ্ববিদ্যালয়ের ভাষাতত্ত্বের অধ্যাপক নিকোলাস হিম্মেলমান বলেছেন, ভাষারাও যে একটা সাংস্কৃতিক সম্পদ, তা যেন মানুষ খেয়ালই করে না। তার কারণ, সঙ্গীত কিংবা নৃত্যের মতোই ভাষা অমূর্ত, কায়াহীন। তাকে ধরাছোঁয়া যায় না। হ্যানোভারে ‘ভাষার নথিবদ্ধকরণ’ নিয়ে এ মাসে যে আন্তর্জাতিক সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়, প্রফেসর হিম্মেলমান ছিলেন তার যুগ্ম সভাপতি। ইংরেজিতে ‘ডোব্স’ কথাটি যেসব শব্দের আদ্যক্ষর নিয়ে গঠিত হয়েছে, সেগুলো হলো ‘ডকুমেন্টেশন অব এন্ডেঞ্জার্ড ল্যাঙ্গুয়েজেস’ বা ‘বিপন্ন ভাষাসমূহের নথিবদ্ধকরণ’। বলতে কি, যে কোনো ভাষাকে বাঁচিয়ে রাখার প্রথম পদক্ষেপই হলো তাই। হ্যানোভারের ডোব্স সংক্রান্ত সম্মেলনে এসেছিলেন প্রায় ১৮০ জন ভাষাতত্ত্ববিদ। তারা শোনান সুদূর সাইবেরিয়া, কি কলম্বিয়ার আর্দ্র বনাঞ্চলে, কি হিমালয়ের পর্বতাঞ্চলে তাদের রোমাঞ্চকর অভিযানের বৃত্তান্ত। ডোব্স সম্পর্কে এটুকুও বলে নেয়া দরকার যে, জার্মানি তথা বিশ্বের সুবিখ্যাত মোটরগাড়ি নির্মাণ সংস্থা ফোক্সভাগেন ২০০০ সালে এই প্রকল্প শুরু করে। ডোব্স সম্মেলনের যে ভবিষ্যদ্বাণীটি চমকে দেয়ার মতো সেটি হলো, চলতি শতাব্দী শেষ হওয়ার আগেই বিশ্বায়ন ও নগরায়নের চাপে পড়ে পৃথিবীর সাড়ে ছয় হাজারের বেশি ভাষার অর্ধেক বিলুপ্ত হবে। উপজাতি সংখ্যালঘুরা অনেক ক্ষেত্রেই সমাজের সংখ্যাগরিষ্ঠ অংশের ভাষা শেখে ও আপন করে নেয়, যার ফলে তাদের নিজেদের ভাষা ধীরে ধীরে বিলুপ্ত হয়। যেহেতু অধিকাংশ ‘বিপন্ন ভাষার’ কোনো লিপি নেই, ডোব্স-এর গবেষকরা প্রধানত অডিও রেকর্ডার, ভিডিও ক্যামেরা, স্টিল ক্যামেরা ও নোট খাতার মাধ্যমেই সেসব ভাষা ধরে রাখার চেষ্টা করেন। গবেষকদের সংগৃহীত তথ্য যায় নেদারল্যান্ডসের নিমেগেন শহরের ‘দ্য ল্যাঙ্গুয়েজ আর্কাইভ’ বা টিএলএ’তে। এটি হলো জার্মানির ম্যাক্স প্ল্যাঙ্ক গবেষণা সমিতির একটি প্রতিষ্ঠান। বস্তুত ম্যাক্স প্ল্যাঙ্ক ইনস্টিটিউট অব সাইকোলিঙ্গুয়িস্টিক্সের অঙ্গ। টিএলএ’র কাজ হলো পৃথিবীর ভাষাসম্পদকে ডিজিটাল পদ্ধতিতে সংগ্রহ করে রাখা। হ্যানোভারের সম্মেলনে তার দুটি উদাহরণ দেয়া হয়েছে। ভাষা যে কতটা গুরুত্বপূর্ণ হতে পারে, তার একটি প্রমাণ হলো অস্ট্রেলিয়ার আদিম উপজাতির মানুষেরা। জমি নিয়ে মামলার ক্ষেত্রে কোনো আদিবাসী সম্প্রদায় যদি প্রমাণ করতে পারে যে, তাদের ভাষায় বহু গাছগাছালির নাম আছে, যেগুলো শুধু ওই অঞ্চলে পাওয়া যায়, তাহলে তাদের দাবি আদালতে মেনে নেয়া হয়ে থাকে। দ্বিতীয় দৃষ্টান্ত : লাইপজিগের ম্যাক্স প্ল্যাঙ্ক ইনস্টিটিউট ফর ইভালিউশনারি অ্যানথ্রোপোলজির ভাষাতত্ত্ববিদ ফ্রাংক সাইফার্ট গত ১৫ বছর ধরে নিয়মিত অ্যামাজন নদীর উত্তর-পশ্চিমের জঙ্গলাকীর্ণ এলাকায় ইন্ডিওদের দুটি ভাষা, বোরা ও রেসিগারো, নথিবদ্ধ করার চেষ্টা করছেন। তিনি বলেন, সেখানকার তরুণ জনতাও স্প্যানিশই বলে। সাইফার্ট বলেছেন, ওরা নিজেদের ভাষাকে সেকেলে ও দৈনন্দিন জীবনে কোনো কাজের নয় বলে মনে করে। অথচ ওদের জ্ঞান ও সংস্কৃতির বিপুল ভাণ্ডার দিয়ে গোটা লাইব্রেরি ভরে দেয়া যায়। ডোব্স ঠিক সেদিকেই এগোচ্ছে। সূত্র : ডিডব্লিউ/আমার দেশ
সর্বশেষ সংবাদ
- নারীর ক্ষমতায়ন ও ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে বাংলাদেশ অঙ্গীকারবদ্ধ : ড. খলিলুর রহমান
- নিইউয়র্কে টাইমস স্কয়ারের মঙ্গল শোভাযাত্রায় যোগ দিচ্ছেন ম্যানহাটান বরো প্রেসিডেন্ট ব্র্যাড হোয়েলম্যান
- নিউইয়র্কে স্ট্রিট ভেন্ডরদের জন্য নতুন আইন কার্যকর; জেল শাস্তি বাতিল, আরোপ করা হবে জরিমানা
- New York Attorney General James Leads Bipartisan Coalition Suing Predatory Lender OneMain for Scheme to Trap Consumers in Debt
- নিউইয়র্ক স্টেট সিনেট হাউসে ‘বাংলাদেশ ডে’ উদযাপন ২৩ মার্চ : আহ্বায়ক কমিটি গঠন
- বাংলাদেশে আওয়ামীলীগসহ সকল রাজনৈতিক দলের স্বাভাবিক রাজনীতির পরিবেশ সৃষ্টি করার দাবি নিউজার্সি স্টেট আওয়ামী লীগের
- নিউইয়র্কে ‘অল কাউন্টি হেলথকেয়ার গ্রুপ’র বার্ষিক ইন্টারফেইথ ইফতার পার্টি
- HUSBAND CHARGED WITH MURDER AND DISMEMBERMENT OF WIFE WHOSE REMAINS WERE FOUND IN SEPARATE LOCATIONS ALONG BROOKVILLE BLVD AND CROSS BAY BLVD








