ব্র্যান্ডেনবুর্গ ফটকে ওবামার ভাষণ : জার্মানিকে পাশে চায় যুক্তরাষ্ট্র
বরকতুল্লাহ সুজন :
বিশ্ব নেতৃত্বে বিশেষ করে ইউরোপীয় ইউনিয়নের নেতৃত্বে জার্মানির অবস্থানকে দৃঢ় দেখতে চাইছেন প্রেসিডেন্ট ওবামা। দু’টি স্টেট অব ইউনিয়ন ভাষণ এবং গত কয়েক বছরে জার্মান চ্যান্সেলর অ্যাঙ্গেলা মার্কেলের সাথে সম্পর্ক জোরদারসহ বার্লিনকে কাছে টানার বিভিন্ন পদক্ষেপে তা স্পষ্ট। অর্ধ শতাব্দিরও বেশি সময়ের মধ্যে জার্মান চ্যান্সেলর হিসেবে ২০১১ সালে প্রথম মার্কিন পার্লামেন্টে ভাষণ দেন অ্যাঙ্গেলা মার্কেল। ট্রান্স-আটলান্টিক বিশেষ করে ইউরোপীয় ইউনিয়নের সাথে সম্পর্ককে পরবর্তী পর্যায়ে এগিয়ে নিতে জার্মানির সমর্থনকে সবচেয়ে বেশি প্রয়োজন ও বিশ্বাসযোগ্য বলে মনে করছে ওয়াশিংটন। ইইউ থেকে ব্রিটেনের বেরিয়ে যাওয়ার হুমকি এবং অর্থনীতির লাগাম টেনে ধরার কাজে ফ্রান্সের অব্যাহত সংগ্রাম ও ব্যস্ততার কারণেই সম্ভবত জার্মানিকে বেছে নিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। ইউরো সংকট, ট্রান্স-আটলান্টিক বাণিজ্য ও বহুমুখি নিরাপত্তায় জার্মানির নেতৃত্ব কামনা করেছেন প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামা। জার্মানির নেতৃত্বে ট্রান্সআটলান্টিক ট্রেড অ্যান্ড ইনভেস্টমেন্ট পার্টনারশিপ বা টিটিআইপি এখন তাই আলোচনার টেবিলে। অন্যদিকে, পরমাণু অস্ত্র কমিয়ে আনার তত্পরতা আরো জোরদার করতে মস্কো ও ওয়াশিংটনের প্রতি উদাত্ত আহ্বান জানিয়েছেন প্রেসিডেন্ট ওবামা। এক্ষেত্রে স্নায়ুযুদ্ধের আগের অবস্থানে ফিরে যেতে চান তিনি। এ নিয়ে রাশিয়ার সাথে আরো আলোচনার প্রত্যাশা করেন প্রেসিডেন্ট ওবামা। মার্কিন প্রেসিডেন্ট বলেন, ‘আমরা গোটা বিশ্বকে ধ্বংসের ঝুঁকি আর আশঙ্কা থেকে মুক্ত করতে চাই। কিন্তু যতদিন পরমাণু অস্ত্র থাকবে, ততদিন আমরা আসলেই নিরাপদ নই। তবে এ লক্ষ্যে এখনো অনেক কিছু করার বাকি আছে’।
শান্তিপূর্ণ পরমাণু শক্তি ব্যবহারের ক্ষেত্রে নতুন আন্তর্জাতিক কর্ম কৌশল নির্ধারণেরও পক্ষপাতি মার্কিন প্রেসিডেন্ট ওবামা। বিশেষ করে, ইউরোপে কৌশলগত অস্ত্রের ব্যবহার কমাতে শক্ত পদক্ষেপ নিতে ন্যাটোকে পাশে দেখতে চান তিনি। ওবামা বলেন, ‘আমার বিশ্বাস, এক তৃতীয়াংশ পরমাণু সক্ষমতা কমিয়ে আনলেও যুক্তরাষ্ট্র নিজের নিরাপত্তা বিধান করতে সক্ষম’। ওবামার এই কথাটিকেই বিশ্লেষকরা সবচেয়ে ইঙ্গিতপূর্ণ বলে মনে করছেন। বিশ্লেষকরা বলছেন, প্রেসিডেন্ট ওবামা চাইছেন, ক্ষমতার প্রথম মেয়াদে বিশ্ব শান্তির যে ইস্যুতে তিনি তার জনপ্রিয়তা বাড়িয়েছিলেন, সেটাকেই দ্বিতীয় মেয়াদে প্রতিষ্ঠিত করতে। মূলত তিন বছর আগে রাশিয়ার সাথে যুক্তরাষ্ট্র ‘নিউস্টার্ট’ নামে যে চুক্তি করেছিলো তারই বাস্তবায়ন চান ওবামা। পরমাণু অস্ত্র কমিয়ে আনার ব্যাপারে ২০১০ সালে ঐ ঐতিহাসিক চুক্তি করে মস্কো ও ওয়াশিংটন। তাতে বলা হয়েছিলো, সমঝোতার মাধ্যমে দু’দেশ তাদের প্রত্যেকের পরমাণু বিস্ফোরক বহনে সক্ষম ‘ওয়্যারহেড’ মজুদের পরিমাণ ১৫৫০টিতে কমিয়ে আনবে। বাকি ওয়্যারহেড অকার্যকর বা ধ্বংস করা হবে। এছাড়া কোন দেশই সাবমেরিন ও বোম্বারসহ ৭০০টির বেশি উেক্ষপক প্রস্তুত রাখবে না। এক্ষেত্রে দু’দেশই একে অপরকে পর্যবেক্ষণ করতে পারবে। এটাই হলো ‘নতুন কৌশলের অস্ত্র হরাস চুক্তি’ (নিউ স্ট্রেটেজিক আর্মস রিডাকশন ট্রিটি); সংক্ষেপে ‘নিউস্টার্ট’। এর আগে ১৯৯১ সালে প্রেসিডেন্ট রোনাল্ড রিগান মস্কোর সাথে স্টার্ট চুক্তি করলেও তা বাস্তবায়িত হয়নি। তবে নিউস্টার্টের বয়স তিন বছর পেরিয়ে গেলেও রুশ-মার্কিন সমঝোতার বিষয়ে আর তেমন এজেন্ডাই দেখা যায়নি।
স্বল্প পাল্লার পরমাণু অস্ত্রকেই নিউস্টার্ট চুক্তির ভাষায় বলা হচ্ছে কৌশলগত অস্ত্র। বিশ্লেষকদের মতে, পরমাণু অস্ত্র যে পাল্লারই হোক না কেন, চুক্তি বাস্তবায়নে প্রয়োজন ভাল সমঝোতা। তবে এ ব্যাপারে রাশিয়ার সদিচ্ছা নিয়ে প্রশ্ন আছে অনেকের। রুশ উপ-প্রধানমন্ত্রী দিমিত্রি রগোজিন এরই মধ্যে জানিয়েছেন, ওবামার কথাকে মস্কো গুরুত্বের সাথে দেখতে পারছে না। ন্যাটোর সাবেক এই দূতের মতে, যুক্তরাষ্ট্র যেখানে তার ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা জোরদার করছে, সেখানে ওবামার কথায় মোটেই তাত্পর্য নেই। তিনি বলেন, হামলার অস্ত্র ও প্রতিরক্ষার অস্ত্র প্রতিযোগিতা একে অপরের উপর নির্ভরশীল। পরমাণু শক্তির অধিকারী বিশ্বের অন্যান্য দেশকেও চুক্তি বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে অন্তর্ভুক্ত করতে চায় মস্কো। কারণ রাশিয়ার বক্তব্য, ১৯৬০ বা ৭০ সালের পরিস্থিতি এখন আর নেই যে, শুধুমাত্র যুক্তরাষ্ট্র আর সোভিয়েত ইউনিয়নকেই অস্ত্র হরাস করতে হবে।ইত্তেফাক
সর্বশেষ সংবাদ
- নিউইয়র্কে চিটাগাং অ্যাসোসিয়েশন অফ আমেরিকা’র সংবাদ সম্মেলন: সংগঠনের বিরুদ্ধে চলমান মামলার নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত কোন নির্বাচন নয়
- যুক্তরাষ্ট্র প্রবাসী বাংলাদেশীদের মূলধারার ব্যবসা-বাণিজ্য রাজনীতির সঙ্গে সম্পৃক্ত হওয়ার আহ্বান প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা ড. তিতুমীরের
- নিউইয়র্কে বাংলাদেশ সেমিট্রির কবরে মরদেহ সমাহিত করা যাবে ১ জুলাই থেকে
- যুক্তরাষ্ট্রের বিনিয়োগকারীদের জন্যে বাংলাদেশ এখন সবচেয়ে কার্যকর ও উপযোগী দেশ: প্রধানমন্ত্রীর অর্থনীতি ও পরিকল্পনা উপদেষ্টা ড. তিতুমীর
- নিউ জার্সির আটলান্টিক সিটিতে মেয়র মার্টি স্মল সিনিয়র স্কলারশিপ প্রোগ্রাম, আবেদন জমা দেওয়ার শেষ সময় ১৫ জুন
- নিউইয়র্কে মুনার ঈদ পুনর্মিলনী
- নিউইয়র্কে বাংলাদেশী ডক্টর ফোরাম অব নর্থ আমেরিকা’র উদ্যোগে ডা. ডোনার ও ডা. হারুন সংবর্ধিত
- নিউইয়র্ক স্টেট ডেমোক্র্যাটিক প্রাইমারী নির্বাচনে এসেম্বলিম্যান প্রার্থী জাকির চৌধুরীর ‘কমিউনিটি র্যালি’