Monday, 26 October 2026 |
শিরোনাম
নিউইয়র্কে আদালতের নিষেধাজ্ঞায় স্থগিত বাংলাদেশ সোসাইটির নির্বাচন; ওসমান চৌধুরীর সদস্যপদ প্রত্যাখ্যান নিয়ে মামলা, ৫ নভেম্বর পরবর্তী শুনানি; সংবাদ সম্মেলনে আইনি পরিস্থিতি তুলে ধরল নির্বাচন কমিশন হানি ট্র্যাপে হত্যার অভিযোগ, সাগরের মামলা পিবিআইতে দেওয়ার দাবি পরিবারের; প্রধান আসামির জামিনে উদ্বেগ, দ্রুত গ্রেপ্তার ও সুষ্ঠু তদন্তের আহ্বান ওয়ার্ল্ড হিউম্যান রাইটস ডেভেলপমেন্ট ইউএসএর সাধারণ সম্পাদক ড. সাদিয়া আফরিন এরা চরমোনাই পীরের যুক্তরাষ্ট্র সফর উপলক্ষে নিউইয়র্কে দোয়া মাহফিল, কুরআন-সুন্নাহর আলোকে বয়ান New York Attorney General James Secures Reimbursements for T-Mobile Customers Whose Rates Were Unjustly Raised নিউইয়র্কে বাংলাদেশ সোসাইটির নির্বাচনে কুনু-ফিরোজ পরিষদের সাত দফা ইশতেহার ঘোষণা; কমিউনিটি সেন্টার প্রতিষ্ঠা, সাশ্রয়ী ফিউনারেল সেবা, বিমানের সরাসরি ফ্লাইট ও আর্থিক স্বচ্ছতায় অঙ্গীকার ফিলিস্তিনিদের আত্মনিয়ন্ত্রণের অধিকারের প্রতি বাংলাদেশের পূর্ণ সমর্থন: জাতিসংঘে রাষ্ট্রদূত আইরিন খান নিউইয়র্কে বাংলাদেশ সোসাইটির নির্বাচনে প্রথমবারের মতো বিতর্ক, গুরুত্ব পেল স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি New York Attorney General James Warns New Yorkers About AI-Generated Election Misinformation Ahead of November Elections Bangladesh calls for global treaty to protect victims of crimes against humanity
সব ক্যাটাগরি

ব্র্যান্ডেনবুর্গ ফটকে ওবামার ভাষণ : জার্মানিকে পাশে চায় যুক্তরাষ্ট্র

অনলাইন ডেস্ক পঠিত: 59 বার

প্রকাশিত: June 24, 2013 | 7:33 PM

বরকতুল্লাহ সুজন :
জার্মানিকে পাশে চায় যুক্তরাষ্ট্রমার্কিন প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামা গত বুধবার বার্লিন সফর করলেন। দু’টি কারণে এটি ঐতিহাসিকভাবে গুরুত্বপূর্ণ। এক, পূর্ব ও পশ্চিম জার্মানিকে বিভক্তকারী কালের সাক্ষী ব্র্যান্ডেনবুর্গ ফটকের সামনে ঠিক ৫০ বছর পর আবারো কোন মার্কিন প্রেসিডেন্টের প্রায় একই উদ্দেশ্যে ভাষণ দান। ১৯৬৩ সালের ২৬ জুন পশ্চিম বার্লিনের প্রতি অকুণ্ঠ সমর্থন জানাতে ঐ সিটি হলে লক্ষাধিক জনতা উপভোগ করেছিল তত্কালীন মার্কিন প্রেসিডেন্ট জন এফ কেনেডির প্রাণবন্ত ভাষণ। ঐ ভাষণের পর ঠাণ্ডা যুদ্ধের প্রধান ক্ষেত্র রচিত হয় বার্লিনে। আর এবার সেখানে ভাষণ দিলেন আরেক তুখোড় বক্তা প্রেসিডেন্ট ওবামা। আর দুই, বারাক ওবামার ভাষণের বিষয়বস্তু; বিশ্ব নেতৃত্বে এগিয়ে আসতে জার্মানির প্রতি এবং পরমাণু অস্ত্র মজুদ কমিয়ে এনে বিশ্বকে স্বস্তি দেয়ার আহ্বান।
বিশ্ব নেতৃত্বে বিশেষ করে ইউরোপীয় ইউনিয়নের নেতৃত্বে জার্মানির অবস্থানকে দৃঢ় দেখতে চাইছেন প্রেসিডেন্ট ওবামা। দু’টি স্টেট অব ইউনিয়ন ভাষণ এবং গত কয়েক বছরে জার্মান চ্যান্সেলর অ্যাঙ্গেলা মার্কেলের সাথে সম্পর্ক জোরদারসহ বার্লিনকে কাছে টানার বিভিন্ন পদক্ষেপে তা স্পষ্ট। অর্ধ শতাব্দিরও বেশি সময়ের মধ্যে জার্মান চ্যান্সেলর হিসেবে ২০১১ সালে প্রথম মার্কিন পার্লামেন্টে ভাষণ দেন অ্যাঙ্গেলা মার্কেল। ট্রান্স-আটলান্টিক বিশেষ করে ইউরোপীয় ইউনিয়নের সাথে সম্পর্ককে পরবর্তী পর্যায়ে এগিয়ে নিতে জার্মানির সমর্থনকে সবচেয়ে বেশি প্রয়োজন ও বিশ্বাসযোগ্য বলে মনে করছে ওয়াশিংটন। ইইউ থেকে ব্রিটেনের বেরিয়ে যাওয়ার হুমকি এবং অর্থনীতির লাগাম টেনে ধরার কাজে ফ্রান্সের অব্যাহত সংগ্রাম ও ব্যস্ততার কারণেই সম্ভবত জার্মানিকে বেছে নিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। ইউরো সংকট, ট্রান্স-আটলান্টিক বাণিজ্য ও বহুমুখি নিরাপত্তায় জার্মানির নেতৃত্ব কামনা করেছেন প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামা। জার্মানির নেতৃত্বে ট্রান্সআটলান্টিক ট্রেড অ্যান্ড ইনভেস্টমেন্ট পার্টনারশিপ বা টিটিআইপি এখন তাই আলোচনার টেবিলে। অন্যদিকে, পরমাণু অস্ত্র কমিয়ে আনার তত্পরতা আরো জোরদার করতে মস্কো ও ওয়াশিংটনের প্রতি উদাত্ত আহ্বান জানিয়েছেন প্রেসিডেন্ট ওবামা। এক্ষেত্রে স্নায়ুযুদ্ধের আগের অবস্থানে ফিরে যেতে চান তিনি। এ নিয়ে রাশিয়ার সাথে আরো আলোচনার প্রত্যাশা করেন প্রেসিডেন্ট ওবামা। মার্কিন প্রেসিডেন্ট বলেন, ‘আমরা গোটা বিশ্বকে ধ্বংসের ঝুঁকি আর আশঙ্কা থেকে মুক্ত করতে চাই। কিন্তু যতদিন পরমাণু অস্ত্র থাকবে, ততদিন আমরা আসলেই নিরাপদ নই। তবে এ লক্ষ্যে এখনো অনেক কিছু করার বাকি আছে’।
শান্তিপূর্ণ পরমাণু শক্তি ব্যবহারের ক্ষেত্রে নতুন আন্তর্জাতিক কর্ম কৌশল নির্ধারণেরও পক্ষপাতি মার্কিন প্রেসিডেন্ট ওবামা। বিশেষ করে, ইউরোপে কৌশলগত অস্ত্রের ব্যবহার কমাতে শক্ত পদক্ষেপ নিতে ন্যাটোকে পাশে দেখতে চান তিনি। ওবামা বলেন, ‘আমার বিশ্বাস, এক তৃতীয়াংশ পরমাণু সক্ষমতা কমিয়ে আনলেও যুক্তরাষ্ট্র নিজের নিরাপত্তা বিধান করতে সক্ষম’। ওবামার এই কথাটিকেই বিশ্লেষকরা সবচেয়ে ইঙ্গিতপূর্ণ বলে মনে করছেন। বিশ্লেষকরা বলছেন, প্রেসিডেন্ট ওবামা চাইছেন, ক্ষমতার প্রথম মেয়াদে বিশ্ব শান্তির যে ইস্যুতে তিনি তার জনপ্রিয়তা বাড়িয়েছিলেন, সেটাকেই দ্বিতীয় মেয়াদে প্রতিষ্ঠিত করতে। মূলত তিন বছর আগে রাশিয়ার সাথে যুক্তরাষ্ট্র ‘নিউস্টার্ট’ নামে যে চুক্তি করেছিলো তারই বাস্তবায়ন চান ওবামা। পরমাণু অস্ত্র কমিয়ে আনার ব্যাপারে ২০১০ সালে ঐ ঐতিহাসিক চুক্তি করে মস্কো ও ওয়াশিংটন। তাতে বলা হয়েছিলো, সমঝোতার মাধ্যমে দু’দেশ তাদের প্রত্যেকের পরমাণু বিস্ফোরক বহনে সক্ষম ‘ওয়্যারহেড’ মজুদের পরিমাণ ১৫৫০টিতে কমিয়ে আনবে। বাকি ওয়্যারহেড অকার্যকর বা ধ্বংস করা হবে। এছাড়া কোন দেশই সাবমেরিন ও বোম্বারসহ ৭০০টির বেশি উেক্ষপক প্রস্তুত রাখবে না। এক্ষেত্রে দু’দেশই একে অপরকে পর্যবেক্ষণ করতে পারবে। এটাই হলো ‘নতুন কৌশলের অস্ত্র হরাস চুক্তি’ (নিউ স্ট্রেটেজিক আর্মস রিডাকশন ট্রিটি); সংক্ষেপে ‘নিউস্টার্ট’। এর আগে ১৯৯১ সালে প্রেসিডেন্ট রোনাল্ড রিগান মস্কোর সাথে স্টার্ট চুক্তি করলেও তা বাস্তবায়িত হয়নি। তবে নিউস্টার্টের বয়স তিন বছর পেরিয়ে গেলেও রুশ-মার্কিন সমঝোতার বিষয়ে আর তেমন এজেন্ডাই দেখা যায়নি।
স্বল্প পাল্লার পরমাণু অস্ত্রকেই নিউস্টার্ট চুক্তির ভাষায় বলা হচ্ছে কৌশলগত অস্ত্র। বিশ্লেষকদের মতে, পরমাণু অস্ত্র যে পাল্লারই হোক না কেন, চুক্তি বাস্তবায়নে প্রয়োজন ভাল সমঝোতা। তবে এ ব্যাপারে রাশিয়ার সদিচ্ছা নিয়ে প্রশ্ন আছে অনেকের। রুশ উপ-প্রধানমন্ত্রী দিমিত্রি রগোজিন এরই মধ্যে জানিয়েছেন, ওবামার কথাকে মস্কো গুরুত্বের সাথে দেখতে পারছে না। ন্যাটোর সাবেক এই দূতের মতে, যুক্তরাষ্ট্র যেখানে তার ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা জোরদার করছে, সেখানে ওবামার কথায় মোটেই তাত্পর্য নেই। তিনি বলেন, হামলার অস্ত্র ও প্রতিরক্ষার অস্ত্র প্রতিযোগিতা একে অপরের উপর নির্ভরশীল। পরমাণু শক্তির অধিকারী বিশ্বের অন্যান্য দেশকেও চুক্তি বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে অন্তর্ভুক্ত করতে চায় মস্কো। কারণ রাশিয়ার বক্তব্য, ১৯৬০ বা ৭০ সালের পরিস্থিতি এখন আর নেই যে, শুধুমাত্র যুক্তরাষ্ট্র আর সোভিয়েত ইউনিয়নকেই অস্ত্র হরাস করতে হবে।ইত্তেফাক
বিজ্ঞাপন / স্পন্সরড কন্টেন্ট
ট্যাগ:
সর্বশেষ সংবাদ