মানবাধিকার লঙ্ঘনের অভিযোগে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী, তথ্যমন্ত্রী সহ ২৫ জনের বিরুদ্ধে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে অভিযোগ
ওয়াশিংটন থেকে ইউএনএ / ইউএসএনিউজ অনলাইন : বাংলাদেশে মানবাধিকার লঙ্ঘনের অভিযোগে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ড. মহীউদ্দিন খান আলমগীর, তথ্যমন্ত্রী হাসানুল হক ইনু, স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামসুল হক টুকু, আইন প্রতিমন্ত্রী অ্যাডভোকেট কামরুল ইসলাম, আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মাহবুব-উল আলম হানিফ, পুলিশের আইজি হাসান মাহমুদ খন্দকার, র্যাবের মহাপরিচালক মোখলেসুর রহমান, বিজিবির মহাপরিচালক আজিজ আহমেদ সহ ২৫ জনের বিরুদ্ধে হেগে অবস্থিত আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে। নিউইয়র্কভিত্তিক হিউম্যান রাইটস এন্ড ডেভোলেপমেন্ট ফর বাংলাদেশ এবং গ্রেটার ওয়াশিংটন ডিসি বাংলাদেশী আমেরিকানস এর পক্ষে মারটিন এফ. ম্যাকমহন এন্ড এসোসিয়েটস ২৭ জুন বৃহস্পতিবার অভিযোগটি দায়ের করে। অভিযোগটি সম্পর্কে বিস্তারিত জানানোর জন্য এ দিন বিকালে ওয়াশিংটন ডিসি ন্যাশনাল প্রেসক্লাবে আমেরিকান এটর্নি মারটিন এফ. ম্যাকমহন সংবাদ সম্মেলন করেন।
এসময় এটর্নি মারটিন এফ. ম্যাকমহন কে সহযোগীতা করেন ওলিভার টডিল ও মুয়াজ রহমান। সংবাদ সম্মেলনে এটর্নি মারটিন এফ. ম্যাকহাম সরাসরি মানবাধিকার লংঘনে সম্পৃক্ততার অভিযোগে আন্তর্জাতিক আদালতে বাংলাদেশ সরকারের বিরুদ্ধে অভিযোগ দায়ের করেন বলে জানান। অভিযোগ পত্রে মোট ২৫ জনকে বিবাদি করা হয়েছে। তবে সরাসরি মানবাধিকার লংঘনের সঙ্গে জড়িত থাকার অভিযোগে ’সুপিরিয়র কমান্ড রেসপনসিবিলিটি’ হিসেবে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী ও আওয়ামী লীগ সভানেত্রী শেখ হাসিনা ওয়াজেদ সহ ৯ জনকে বিবাদি করা হয়েছে। ‘সুপিরিয়র কমান্ড রেসপনসিবিলিটি’ হিসেবে বাকিরা হলেন- স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ড মহীউদ্দিন খান আলমগীর, তথ্যমন্ত্রী হাসানুল হক ইনু, স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামসুল হক টুকু, আইন প্রতিমন্ত্রী অ্যাডভোকেট কামরুল ইসলাম, আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মাহবুব-উল আলম হানিফ, পুলিশের আইজি হাসান মাহমুদ খন্দকার, র্যাবের মহাপরিচালক মোখলেসুর রহমান ও বিজিবির মহাপরিচালক আজিজ আহমেদ। এছাড়া অভিযোগপত্রে সরাসরি মানবতাবিরোধী অপরাধের সঙ্গে জড়িত করে বিবাদি করা হয়েছে : ঢাকা মেট্রো পলিটন পুলিশ কমিশনার বেনজির আহমেদ, চট্রগ্রামের পাঁচলাইশ থানার ওসি প্রদ্বীপ কুমার, ডিএমপি মতিঝিল জোনের এসি মেহদী হাসান, ডিএমপি লালবাগ বিভাগের ডিসি হারুন অর রশিদ, মিরপুর মডেল থানার ওসি সালাউদ্দিন, গোয়েন্দা বিভাগের এডিসি মশিউর রহমান, দারুস সলাম থানার ওসি খলিলুর রহমান, কাফরুল থানার ওসি আব্দুল লতিফ, কাফরুল থানার সাব ইনেসপেক্টর আশিক, যাত্রা বাড়ী থানার ওসি রফিকুল ইসলাম, মেট্রোপলিটন ম্যাজেষ্ট্রিট আসাদাজ্জামান নূর, শহিদুল ইসলাম, এম এম মোস্তাফিজুর রহমান ও হারুন রশিদ, পাবলিক প্রসিকিউটর সাজ্জাদুল হক শিহাব ও আসলাম। সংবাদ সম্মেলনে এটর্নি মারটিন অভিযোগের বিষয় উল্লেখ করে বলেন, শেখ হাসিনা সরকার ক্ষমতা গ্রহণের পর থেকেই দেশে মানবাধিকর লংঘন করে আসছে। বাংলাদেশে মানবাধিকার লংঘনের প্রমাণ বাংলাদেশী মিডিয়াসহ আন্তর্জাতিক গণমাধ্যম, বিভিন্ন মানবাধিকার ও এনজিও সংস্থার রিপোর্টে রয়েছে। সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে এটর্নি মারটিন বলেন, আন্তর্জাতিক আদালতে আমরা অভিযোগটি দাখিল করেছি। অভিযোগের স্বপক্ষে যথেষ্ট তথ্য প্রমান রয়েছে। বাংলাদেশ আইসিসির সদস্য হওয়ায় সংস্থাটি এই অভিযোগ তদন্ত করবে। আমরা আশা করছি আইসিসি অভিযোগগুলো তদন্ত করে বাংলাদেশ সরকারের বিরুদ্ধে চূড়ান্তভাবে মামলাটি গ্রহণ করে যথাযথ ব্যবস্থা নিবে।
উল্লেখ্য, বাংলাদেশ ২৩ মার্চ ২০১০ আইসিসির সদস্য হয়। সংবাদ সম্মেলনে মারটিন জানান, ২০১৩ সালের ২৮ ফেব্রুয়ারী ও ৫-৬ মে’র হত্যাকান্ডসহ দৈনিক আমার দেশ’র ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক মাহমুদুর রহমানকে গ্রেফতার করে নির্যাতন, হেফাজতে ইসলাম-এর নেতা আল্লামা জুনায়েদ বাবু নগরী ও ছাত্রনেতা দেলোয়ার হোসেনকে গ্রেফতার ও নির্যাতন, বিরোধীদলীয় নেতা ইলিয়াস আলী গুম, শ্রমিক নেতা আমিনুল ইসলাম হত্যা, ছাত্রনেতা মোহাম্মদ ফিরোজ খান ও আনোয়ারুল ইসলাম মাসুম পুলিশ কর্তৃক নির্যাতনের শিকার এবং আল্লামা দেলোয়ার হোসাইন সাঈদীর সাক্ষী সুখরঞ্জন বালী নিখোঁজ ও কলকাতায় আটক থাকার ঘটনা তুলে ধরেন। এটর্নি মারটিন সংবাদ সম্মেলনে উল্লেখ করেন, বাংলাদেশ সরকারের নির্দেশে বাংলাদেশ পুলিশ বাহিনীসহ র্যাব, বিজিবি ও ডিজিএফআইসহ সরকারের বিভিন্ন সংস্থা চরম মানবাধিকার লংঘন করে আসছে। বাংলাদেশে ২০০৯ সালে বিচার বহির্ভূত হত্যা ১৫৪ জন, ১০ সালের ১২৭ জন, ১১ সালে ৮৪ জন ও ১২ সালে ৭০ জন। ২০০৯ সালে বন্দি অবস্থায় মৃত্য ৫০ জন, ২০১০ সালে ৬০ জন, ১১ সালে ১০৫ জন, ১২ সালে ৬৩ জন। ২০০৯ সালে গুম হয়েছেন ৩ জন, ১০ সালে ১৮ জন, ১১ সালে ৩০ জন, ১২ সালে ২৪ জন। ২০০৯ সালে নির্যাতনে নিহত হয়েছেন ৮৯ জন, ১০ সালে ৬৭, ১১ সালে ৪৬, ১২ সালে ৭২ জন। সাংবাদিক নির্যাতনের শিকার ২০০৯ সালে ২২১ জন, ১০ সালে ২৩১ জন, ১১ সালে ২৫৯ জন, ১২ সালে ২৮৯ জন। রাজনৈতিক হত্যার শিকার ২০০৯ সালে ২৫১ জন, ১০ সালে ২২০ জন, ১১ সালে ১৩৫ জন ও ১২ সালে ১৬৯ জন। সংবাদ সম্মেলনে মামলার বিষয়ে উল্লেখ করা হয়েছে, রাষ্ট্রের চাপে মানবাধিকার লঙ্ঘনের দিক দিয়ে বাংলাদেশের গণতন্ত্র হুমকির মুখে আছে। গত কয়েক মাস যাবৎ রাষ্ট্রীয় আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর হাতে বিচারবহির্ভূত বেসামরিক মানুষ হত্যা, হয়রানি এবং গ্রেপ্তার ও অত্যাচার করা হচ্ছে। এছাড়া নোবেল বিজয়ী অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূসকে আক্রমণ, দৈনিক ‘আমার দেশ’ পত্রিকার ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক মাহমুদুর রহমানকে গ্রেপ্তার ও অত্যাচার এবং ইসলামিক টেলিভিশন, দিগন্ত টেলিভিশন ও আমার দেশ বন্ধের কথাও উল্লেখ করা হয়েছে। মামলায় আরজিতে যে বিষয়গুলো তুলে ধরা হয়েছে, তা হলো- অত্যাচার, গুম বিচারবহির্ভূত হত্যা ও গণহত্যা। আমার দেশ পত্রিকার ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক মাহমুদুর রহমান ও শ্রমিক নেতা আমিনুল ইসলামের ক্ষেত্রে মানবাধিকার সংগঠন ‘অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল’, সুখ রঞ্জন বালীর অপহরণের ক্ষেত্রে ‘হিউম্যান রাইটস ওয়াচে’র বরাত দেয়া হয়েছে মামলার আরজিতে। যুদ্ধাপরাধের অভিযোগে জামায়াত নেতা মাওলানা দেলওয়ার হোসাইন সাঈদীর বিরুদ্ধে ফাঁসির রায় দেয়ার পর সারা দেশে শতাধিক হত্যা এবং ৫ মে রাতে রাজধানীর মতিঝিলে যৌথ বাহিনীর অভিযানে অসংখ্য হেফাজতকর্মী হত্যার অভিযোগও এই মামলায় আনা হয়েছে। হেফাজতের ৬১ জন কর্মী নিহত বা গুম হয়েছে বলে মানবাধিকার সংগঠন ‘অধিকার’ যে তথ্য দিয়েছে এবং ‘এশিয়ান হিউম্যান রাইটস কমিশন’ প্রায় একই রকম যে তথ্য দিয়েছিল তা উল্লেখ করা হয়েছে। পিআরনিউজওয়ার ডটকমনামের একটি ওয়েবসাইটে এই মামলার বিস্তারিত তথ্য রয়েছে।
- নিউইয়র্কে আদালতের নিষেধাজ্ঞায় স্থগিত বাংলাদেশ সোসাইটির নির্বাচন; ওসমান চৌধুরীর সদস্যপদ প্রত্যাখ্যান নিয়ে মামলা, ৫ নভেম্বর পরবর্তী শুনানি; সংবাদ সম্মেলনে আইনি পরিস্থিতি তুলে ধরল নির্বাচন কমিশন
- হানি ট্র্যাপে হত্যার অভিযোগ, সাগরের মামলা পিবিআইতে দেওয়ার দাবি পরিবারের; প্রধান আসামির জামিনে উদ্বেগ, দ্রুত গ্রেপ্তার ও সুষ্ঠু তদন্তের আহ্বান
- ওয়ার্ল্ড হিউম্যান রাইটস ডেভেলপমেন্ট ইউএসএর সাধারণ সম্পাদক ড. সাদিয়া আফরিন এরা
- চরমোনাই পীরের যুক্তরাষ্ট্র সফর উপলক্ষে নিউইয়র্কে দোয়া মাহফিল, কুরআন-সুন্নাহর আলোকে বয়ান
- New York Attorney General James Secures Reimbursements for T-Mobile Customers Whose Rates Were Unjustly Raised
- নিউইয়র্কে বাংলাদেশ সোসাইটির নির্বাচনে কুনু-ফিরোজ পরিষদের সাত দফা ইশতেহার ঘোষণা; কমিউনিটি সেন্টার প্রতিষ্ঠা, সাশ্রয়ী ফিউনারেল সেবা, বিমানের সরাসরি ফ্লাইট ও আর্থিক স্বচ্ছতায় অঙ্গীকার
- ফিলিস্তিনিদের আত্মনিয়ন্ত্রণের অধিকারের প্রতি বাংলাদেশের পূর্ণ সমর্থন: জাতিসংঘে রাষ্ট্রদূত আইরিন খান
- নিউইয়র্কে বাংলাদেশ সোসাইটির নির্বাচনে প্রথমবারের মতো বিতর্ক, গুরুত্ব পেল স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি