মার্কিন সিনেটে অভিবাসন সংস্কার বিল পাস : আইনে পরিণত হলে বৈধতা পাবে ১ কোটি ১০ লাখ অভিবাসী

যুক্তরাষ্ট্রের বহুল আলোচিত সমন্বিত অভিবাসন সংস্কার বিল দেশটির আইন পরিষদের (কংগ্রেস) উচ্চকক্ষ সিনেটের অনুমোদন পেয়েছে। এখন আইন পরিষদের নিম্নকক্ষ প্রতিনিধি পরিষদের অনুমোদন পেলেই বিলটির আইনে পরিণত হওয়ার পথে আর কোনো বাধা থাকবে না। গত কয়েক মাস ধরে চলা বিতর্ক এবং সীমান্ত ব্যবস্থাপনায় ব্যয় বৃদ্ধির বিষয়ে সমঝোতার পর বৃহস্পতিবার বিকালে সিনেটে অনুষ্ঠিত ভোটাভুটিতে বিলটির পক্ষে ৬৮ ভোট ও বিপক্ষে ৩২ ভোট পড়ে। ৫২ জন ডেমোক্র্যাট সিনেটরের সবাই, রিপাবলিকান ৪৬ সিনেটরের মধ্যে ১৪ জন ও দু’জন স্বতন্ত্র সিনেটর বিলটির পক্ষে ভোট দেন, আর ৩২ জন রিপাবলিকান সদস্য বিপক্ষে ভোট দেন। বিলটি আইনে পরিণত হলে যুক্তরাষ্ট্রে অবৈধভাবে বসবাসরত প্রায় ১ কোটি ১০ লাখ মানুষ দেশটিতে বসবাসের বৈধতা পাবে। এদের মধ্যে লাখ খানেক বাংলাদেশী নাগরিকও রয়েছেন বলে বিভিন্ন সূত্রে জানা গেছে। তবে কেবল তারাই বৈধতা পাবেন যারা ২০১২ সালের আগে থেকে যুক্তরাষ্ট্রে বসবাস করছেন এবং এর মধ্যে গুরুতর কোনো অপরাধে দোষী সাব্যস্ত হননি। বিল অনুযায়ী বৈধতার জন্য অনুমতি পাওয়া অভিবাসীদের প্রথমে নির্দিষ্ট ফি দিয়ে ওয়ার্ক পারমিটের জন্য আবেদন করতে হবে। দু’বছর অন্তর এই ওয়ার্ক পারমিট নবায়ন করে ১০ বছর পর সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি যুক্তরাষ্ট্রের পূর্ণ নাগরিকত্ব তথা গ্রিন কার্ডের জন্য আবেদন করতে পারবেন। এছাড়া আইনে পরিণত হলে বিলের প্রস্তাব অনুযায়ী বেআইনিভাবে অবৈধপথে কোনো বিদেশি যেন যুক্তরাষ্ট্রে ঢুকতে না পারে তা নিশ্চিত করতে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে দক্ষিণের প্রতিবেশী মেক্সিকোর ২ হাজার মাইল সীমান্তের অন্তত ৭শ’ মাইলজুড়ে কাঁটাতারের বেড়া নির্মাণ করতে হবে, সীমান্ত রক্ষীর সংখ্যা ২০ হাজারের স্থলে ৪০ হাজারে উন্নীত করতে হবে। এছাড়া, ওয়ার্ক পারমিট তথা যুক্তরাষ্ট্রে বৈধভাবে বসবাসের অনুমতি যাদের নেই, তারা কেউ চাকরি পাবেন না তা নিশ্চিত করতে প্রতিটি কর্মস্থলে বিশেষ প্রযুক্তির ব্যবস্থা করতে হবে। বিলটিতে অদক্ষ শ্রমিক ও কৃষি শ্রমিকের কোটা দ্বিগুণ করার প্রস্তাব রাখা হয়েছে এবং অদক্ষ শ্রমিকদের যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের অনুমতি দেয়ার বিধান রাখা হয়েছে। বিলটি আইনে পরিণত হলে বিপুলসংখ্যাক বাংলাদেশী যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ীভাবে বসবাসের সুযোগ পাবে বলে মনে করছেন যুক্তরাষ্ট্রে বসবাসরত অভিবাসন আইনজীবী অশোক কর্মকার, আইনজীবী মঈন চৌধুরী ও আইনজীবী এন মজুমদার। তাদের ধারণা, কৃষি শ্রমিক ও অদক্ষ শ্রমিক বিভাগে বাংলাদেশীরা সহজেই অন্তর্ভুক্ত হতে পারবে। অবশ্য বিলটি আইনে পরিণত হওয়ার পথে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নির্ভর করছে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিনিধি পরিষদের ভোটাভুটির ওপর, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের বিরোধী দল রিপাবলিকান পার্টিই সংখ্যাগরিষ্ঠ। সিনেটে ভোটাভুটির পর প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামা বলেছেন, এর মধ্য দিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের ভেঙে পড়া অভিবাসন ব্যবস্থার সংস্কারে একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ নেয়া হলো। ‘আজ সিনেট তাদের দায়িত্ব পালন করেছে। এখন বিষয়টি প্রতিনিধি পরিষদের হাতে।’ দ্বিতীয় মেয়াদে প্রেসিডেন্টের দায়িত্ব নেয়ার সময় অভিবাসন আইন সংস্কার ছিল ওবামার অন্যতম নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি। আসছে শরতে এই বিলে যাতে সই করতে পারেন, সেজন্য কংগ্রেসকে প্রস্তাবটি অনুমোদন করার আহ্বান জানিয়েছেন তিনি। বিলটির অন্যতম প্রবক্তা নিউইয়র্কের সিনেটর চাক শ্যুমার সিনেটে বলেছেন, ‘১৯৮৭ সালে সর্বশেষ অভিবাসন আইনে সংস্কার আনা হয়েছিল। আজকের ভোটাভুটির মাধ্যমে আমাদের ভঙ্গুর অভিবাসন ব্যবস্থা ঢেলে সাজানোর দীর্ঘ ২৫ বছরের অপেক্ষার অবসান ঘটতে যাচ্ছে। এর মাধ্যমে প্রায় এক কোটি ১০ লাখ অবৈধ অভিবাসী যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকত্ব পাবে।’আমার দেশ
সর্বশেষ সংবাদ
- নিউইয়র্কে আদালতের নিষেধাজ্ঞায় স্থগিত বাংলাদেশ সোসাইটির নির্বাচন; ওসমান চৌধুরীর সদস্যপদ প্রত্যাখ্যান নিয়ে মামলা, ৫ নভেম্বর পরবর্তী শুনানি; সংবাদ সম্মেলনে আইনি পরিস্থিতি তুলে ধরল নির্বাচন কমিশন
- হানি ট্র্যাপে হত্যার অভিযোগ, সাগরের মামলা পিবিআইতে দেওয়ার দাবি পরিবারের; প্রধান আসামির জামিনে উদ্বেগ, দ্রুত গ্রেপ্তার ও সুষ্ঠু তদন্তের আহ্বান
- ওয়ার্ল্ড হিউম্যান রাইটস ডেভেলপমেন্ট ইউএসএর সাধারণ সম্পাদক ড. সাদিয়া আফরিন এরা
- চরমোনাই পীরের যুক্তরাষ্ট্র সফর উপলক্ষে নিউইয়র্কে দোয়া মাহফিল, কুরআন-সুন্নাহর আলোকে বয়ান
- New York Attorney General James Secures Reimbursements for T-Mobile Customers Whose Rates Were Unjustly Raised
- নিউইয়র্কে বাংলাদেশ সোসাইটির নির্বাচনে কুনু-ফিরোজ পরিষদের সাত দফা ইশতেহার ঘোষণা; কমিউনিটি সেন্টার প্রতিষ্ঠা, সাশ্রয়ী ফিউনারেল সেবা, বিমানের সরাসরি ফ্লাইট ও আর্থিক স্বচ্ছতায় অঙ্গীকার
- ফিলিস্তিনিদের আত্মনিয়ন্ত্রণের অধিকারের প্রতি বাংলাদেশের পূর্ণ সমর্থন: জাতিসংঘে রাষ্ট্রদূত আইরিন খান
- নিউইয়র্কে বাংলাদেশ সোসাইটির নির্বাচনে প্রথমবারের মতো বিতর্ক, গুরুত্ব পেল স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি