পদক্ষেপ নিতেই ওবামা প্রশাসনের চাপ
ডেস্ক: বাংলাদেশ ইস্যুতে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামা কঠোর পদক্ষেপ নিয়েছেন। এ সিদ্ধান্ত ৪০ লাখ শ্রমিকের অধিকার রক্ষায় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ওপর চাপ সৃষ্টি করা উচিত। গতকাল যুক্তরাষ্ট্রের প্রভাবশালী পত্রিকা দ্য নিউ ইয়র্ক টাইমসের সম্পাদকীয়তে এসব কথা বলা হয়েছে। ‘ওবামা গেটস টাফ অন বাংলাদেশ’ শীর্ষক ওই সম্পাদকীয়তে আরও বলা হয়, বাংলাদেশে পোশাক কারখানার শ্রম পরিবেশ উন্নত করার জন্য চাপ দিতে ওবামা প্রশাসন বৃহস্পতিবার এ দেশের বাণিজ্যিক সুবিধা স্থগিত করেছেন। এ সুবিধার মাধ্যমে বাংলাদেশী পণ্য মার্কিন বাজারে প্রবেশে শুল্কমুক্ত সুবিধা (জিএসপি) পেতো। সামপ্রতিক বছরগুলোতে বাংলাদেশের বিকাশমান গার্মেন্টে অগ্নিকাণ্ড, ভবন ধস ও অন্যান্য প্রতিরোধযোগ্য দুর্ঘটনায় শত শত মানুষ নিহত হয়েছে। এপ্রিলে ঢাকার বাইরে একটি ভবন ধসে পড়ে। ওই ভবনে ছিল কয়েকটি গার্মেন্ট কারখানা। এতে এগার শতেরও বেশি মানুষ নিহত হন। নভেম্বরে একটি কারখানায় অগ্নিকাণ্ডে ও শ্বাসরোধ হয়ে কমপক্ষে ১১০ জনের মৃত্যু হয়। ওই সম্পাদকীয়তে আরও বলা হয়, আমরা মার্কিন ও ইউরোপীয় কোম্পানিগুলোর কাছে আবেদন জানিয়েছি, কর্মক্ষেত্রের অবস্থা ও কারখানা সংস্কারে আর্থিক সহায়তা দিতে। কিন্তু এক্ষেত্রে মৌলিক দায়িত্ব বর্তায় বাংলাদেশী নেতাদের ওপর। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বারবারই বলেছেন, তার সরকার কারখানা পরিদর্শনের উদ্যোগ জোদার করবে এবং শ্রমিকদের ইউনিয়ন করা সহজতর করবে। কিন্তু এক্ষেত্রে তিনি তেমন কিছুই করেননি। তার সরকার সমপ্রতি দেশের শ্রম আইন সংস্কারের কথা বলেছে। তাতে রপ্তানি প্রক্রিয়াকরণ এলাকার শ্রমিকদের ইউনিয়ন করার অনুমতি দেয়া হবে না। এই রপ্তানি প্রক্রিয়াকরণ এলাকায়ই বেশির ভাগ বড় বড় কারখানা রয়েছে। জেনারেলাইজড সিস্টেম অব প্রিফারেন্সেস (জিএসপি) কর্মসূচির অধীনে যুক্তরাষ্ট্র অনেক গরিব দেশকে যুক্তরাষ্ট্রের পণ্য রপ্তানিতে শুল্কমুক্ত সুবিধা দিয়েছে। তবে এ সুবিধা সীমিত। বাংলাদেশের ক্ষেত্রে যুক্তরাষ্ট্র পোশাক রপ্তানিতে আর কোন সুবিধা দিতে পারে না, যে দেশ যুক্তরাষ্ট্রে পোশাক রপ্তানি করে বছরে ৪৯০ কোটি ডলার আয় করে। বাংলাদেশ আর যেসব পণ্যের ক্ষেত্রে এই সুবিধা পেয়ে থাকে তার মধ্যে রয়েছে তামাক, খেলাধুলার সামগ্রী ও পোরসেলিনের পণ্য। ফল হিসেবে, শুল্কমুক্ত সুবিধা স্থগিত করায় তাতে সরাসরি গার্মেন্ট কর্মীদের ক্ষতি হবে না। ওবামা প্রশাসনের এ পদক্ষেপে উদ্বুদ্ধ হতে পারে ইউরোপীয় ইউনিয়নও। তারাও বাংলাদেশকে দেয়া জিএসপি সুবিধা প্রত্যাহার করতে পারে। বাংলাদেশের তৈরী পোশাক রপ্তানির ক্ষেত্রে ইউরোপেও শুল্কমুক্ত সুবিধা দেয়া হয়। এতে শেখ হাসিনার সরকার উল্লেখযোগ্য স্বস্তি পেয়ে থাকে। এ ব্যাপারে সন্দেহ নেই, বাণিজ্যিক সুবিধা প্রত্যাহার করা হলে তাতে এমন সব বাণিজ্য ক্ষতিগ্রস্ত হবে যা পোশাক কারখানার নাজুক অবস্থার জন্য মোটেও দায়ী নয়। কিন্তু পশ্চিমা সরকারগুলোর এমন অধিকার আছে, বিশেষ করে বাংলাদেশের মতো দেশের ক্ষেত্রে, যেখানে শ্রমিকের অধিকার রক্ষা ও তাদের জীবনমানের উন্নতি করার বাধ্যবাধকতাকে বার বারই প্রত্যাখ্যান করা হয়েছে। শক্তিশালী কিছু পরিবার বাংলাদেশে পোশাক কারখানার মালিক। তাদের স্বার্থে আঘাত আসে এমন কোন নীতি পরিবর্তনে আগ্রহী নন শেখ হাসিনার মতো নেতারা। তারা নীতি পরিবর্তন করতে চান না যতক্ষণ তাদের তা করতে বাধ্য করা না হয়। এমন চাপ সৃষ্টি করার জন্য যুক্তরাষ্ট্র ও ইউরোপীয় নেতাদের হাতে অল্প সংখ্যক সুযোগ আছে। যখন লাখ লাখ গরিব শ্রমিককের জীবন হুমকির মুখে পড়ে তখন তাদের এক্ষেত্রে তার একটি ব্যবহার করতেই হয়।মানবজমিনসর্বশেষ সংবাদ
- নিউইয়র্কে চিটাগাং অ্যাসোসিয়েশন অফ আমেরিকা’র সংবাদ সম্মেলন: সংগঠনের বিরুদ্ধে চলমান মামলার নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত কোন নির্বাচন নয়
- যুক্তরাষ্ট্র প্রবাসী বাংলাদেশীদের মূলধারার ব্যবসা-বাণিজ্য রাজনীতির সঙ্গে সম্পৃক্ত হওয়ার আহ্বান প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা ড. তিতুমীরের
- নিউইয়র্কে বাংলাদেশ সেমিট্রির কবরে মরদেহ সমাহিত করা যাবে ১ জুলাই থেকে
- যুক্তরাষ্ট্রের বিনিয়োগকারীদের জন্যে বাংলাদেশ এখন সবচেয়ে কার্যকর ও উপযোগী দেশ: প্রধানমন্ত্রীর অর্থনীতি ও পরিকল্পনা উপদেষ্টা ড. তিতুমীর
- নিউ জার্সির আটলান্টিক সিটিতে মেয়র মার্টি স্মল সিনিয়র স্কলারশিপ প্রোগ্রাম, আবেদন জমা দেওয়ার শেষ সময় ১৫ জুন
- নিউইয়র্কে মুনার ঈদ পুনর্মিলনী
- নিউইয়র্কে বাংলাদেশী ডক্টর ফোরাম অব নর্থ আমেরিকা’র উদ্যোগে ডা. ডোনার ও ডা. হারুন সংবর্ধিত
- নিউইয়র্ক স্টেট ডেমোক্র্যাটিক প্রাইমারী নির্বাচনে এসেম্বলিম্যান প্রার্থী জাকির চৌধুরীর ‘কমিউনিটি র্যালি’