ড. ইউনুস এবং খালেদা জিয়ার ষড়যন্ত্রে জিএসপি সুবিধা স্থগিত হয়েছে -যুক্তরাষ্ট্র আওয়ামী লীগ
এনা : ‘ড. মুহম্মদ ইউনূস বিপুল অর্থ-বিত্তের মালিক হওয়া সত্বেও আজ অবধি বাংলাদেশের দুর্গতদের জন্যে একটি পয়সাও ব্যয় করেননি। অধিকন্তু বিল ক্লিন্টন পরিবারের সাথে ঘনিষ্ঠতার সুবাদে বাংলাদেশের বিরুদ্ধে অব্যাহতভাবে ষড়যন্ত্র এবং অপপ্রচার চালিয়ে দ্বিতীয় বৃহত্তম আয়ের উৎস গার্মেন্টস শিল্পকে ধ্বংস করার মাধ্যমে ৪০ লক্ষাধিক শ্রমিকের জীবন বিপন্ন করার অপচেষ্টা চালাচ্ছেন। সে অপচেষ্টার অংশ হিসেবেই ওবামা প্রশাসন জিএসপি সুবিধা স্থগিত করলো’-এ অভিযোগ করা হয় ৩০ জুন অপরাহ্নে (বাংলাদেশ সময় সোমবার ভোর রাতে) নিউইয়র্ক সিটির জ্যাকসন হাইটসে পালকি পার্টি সেন্টারে যুক্তরাষ্ট্র আওয়ামী লীগের সংবাদ সম্মেলন থেকে।
লিখিত বক্তব্যে আরো বলা হয়, ‘গত ৩০ জানুয়ারি ওয়াশিংটন টাইমসের চিঠিপত্র কলামে বেগম খালেদা জিয়া মার্কিন প্রশাসনের প্রতি অনুরোধ জানিয়েছেন জিএসপি বাতিল এবং বাংলাদেশকে কোন ধরনের সহায়তা না দেয়ার জন্য। বাংলাদেশ জাতীয় সংসদে বিরোধী দলীয় নেতা হয়ে মাসের পর মাস সংসদ অধিবেশনে যোগদান না করে রাষ্ট্র ও সরকারের সকল সুযোগ-সুবিধা নিয়ে রাষ্ট্র বিরোধী ষড়যন্ত্রের কারণে জাতীয় শত্র“ হিসেবে চিহ্নিত হয়েছেন।’ লিখিত বক্তব্যে ‘ড. ইউনূস ও বিরোধী দলীয় নেতা খালেদা জিয়াকে রাষ্ট্রদ্রোহিতার অপরাধে অভিযুক্ত করে গ্রেফতার করার দাবি’ জানানো হয়। লিখিত বক্তব্য উপস্থাপন করেন সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক সাজ্জাদুর রহমান সাজ্জাদ এবং সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাব দেন সংগঠনের সভাপতি ড. সিদ্দিকুর রহমান। এক প্রশ্নের জবাবে ড. সিদ্দিক বলেন, ‘একাত্তরে আমাদের মুক্তিযুদ্ধের সময়েও অনেক বৃহৎ শক্তি বিরোধিতা করেছে, কিন্তু বাঙালির ইস্পাতদৃঢ় ঐক্যের কাছে কোন অপশক্তিই টিকতে পারেনি। এখনও মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় উজ্জীবিত গোটা জাতি চলমান উন্নয়ন পরিক্রমাকে অব্যাহত রাখবে যে কোন ষড়যন্ত্র মোকাবেলা করে।’ 
ওয়াশিংটন টাইমসে ঐ চিঠি প্রকাশের পর অনেক হৈ চৈ হয় সারাদেশে এবং জাতীয় সংসদেও, সে সময় বেগম জিয়া বলেননি যে, সেটি তিনি লিখেননি। অধিকন্তু বিএনপি নেতা ব্যারিস্টার মওদুদ আহমেদ বেগম জিয়ার ঐ চিঠির প্রতি দ্ব্যর্থহীন সমর্থন জানিয়ে ফেব্র“য়ারি মাসের প্রথম সপ্তাহে এক সমাবেশে বলেছেন যে, ‘বাংলাদেশের গণতন্ত্র এবং ১৬ কোটি মানুষের স্বার্থ রক্ষার জন্য যুক্তরাষ্ট্রসহ সব শুভাকাঙ্খি দেশগুলোর প্রতি আহবান জানিয়েছেন খালেদা জিয়া।’
মার্কিন এটর্নী কর্তৃক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাসহ ২৫ মন্ত্রী ও গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তির বিরুদ্ধে হেগে অবস্থিত আইসিসি (ইন্টারন্যাশনাল ক্রিমিনাল কোর্ট) তে মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগ পেশ প্রসঙ্গে তাদের ভূমিকা কী জানতে চাইলে ড. সিদ্দিক বলেন, ‘একাত্তরের ঘাতকদের বিচার যারা ব্যহত করতে চায় তারাই আন্তর্জাতিক মহলকে বিভ্রান্ত করতে এসব বানোয়াট প্রচারণা চালাচ্ছে। হেগে অবস্থিত আন্তর্জাতিক ক্রিমিনাল কোর্টে বিচারের সম্মুখীন হতে হবে এমন কোন কাজ প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা কিংবা তার সরকারের কেউ করেননি। এগুলো অপপ্রচার।’ একাত্তরের ঘাতকদের ভাড়াটে হিসেবে কতিপয় মিডিয়া সরকারের বিরুদ্ধে পরিকল্পিত অপপ্রচার চালাচ্ছে বলেও উল্লেখ করেন ড. সিদ্দিক। এসব মিডিয়া সম্পর্কে প্রবাসীদের সজাগ থাকারও আহবান জানান।
ড. সিদ্দিক বলেন, ‘২৮ জুন ঢাকায় গণভবনে প্রধানমন্ত্রীর সাথে সর্বশেষ সাক্ষাত ঘটেছে। সে সময় তিনি আমাকে জানিয়েছেন যে সেপ্টেম্বর মাসের তৃতীয় সপ্তাহে জাতিসংঘের ৬৮তম সাধারণ অধিবেশনে বাংলাদেশ প্রতিনিধি দলের নেতা হিসেবে নিউইয়র্কে আসবেন।’ সে সময় তাকে ব্যাপক আয়োজনে সংবর্ধনা প্রদানের প্রস্তুতি চলছে। সভানেত্রী শেখ হাসিনার সাথে আলোচনার উদ্ধৃতি দিয়ে ড. সিদ্দিক আরো বলেন, ‘সংবিধান অনুযায়ী নির্বাচন হবে। কেয়ারটেকার সরকারের কোন প্রয়োজন আর নেই। এ নিয়ে কারো সাথে সংলাপের নামে সময়রক্ষেপনেও আগ্রহী নন প্রধানমন্ত্রী।’ তিনি বলেন, ‘গণতন্ত্রে বিশ্বাসী হলে বিএনপি অবশ্যই নির্বাচনে আসবে।’
সংবাদ সম্মেলনে মহাজোট সরকারের বিভিন্ন উন্নয়ন কর্মকান্ডের বিবরণও প্রদান করা হয়। সিটি কর্পোরেশনের মত জাতীয় নির্বাচনে আওয়ামী লীগের নাজুক পরিস্থিতির আশংকা উড়িয়ে দিয়ে সংবাদ সম্মেলন থেকে দাবি করা হয়, ‘জাতীয় উন্নয়ন-অগ্রগতির যে ধারা বইছে তার পক্ষে জনতার রায় আসবে। তবে স্বচ্ছ ও নিরপেক্ষ নির্বাচনে যদি ভোটাররা অন্য কাউকে জয়ী করে তাহলেও আওয়ামী লীগের সমস্যা নেই। বিরোধী দলে থেকেই আওয়ামী লীগ ২০২১ সালের মধ্যে বাংলাদেশকে মাঝারি ধরনের উন্নত রাষ্ট্রে পরিণত করার কাজকর্ম অব্যাহত রাখবে।’
সংবাদ সম্মেলনে নেতৃবৃন্দের মধ্যে ছিলেন আকতার হোসেন, নজমুল ইসলাম, শামসুদ্দিন আজাদ, আব্দুস সামাদ আজাদ, আইরিন পারভিন, মহিউদ্দিন দেওয়ান, আবুল হাসিব মামুন, নবী কমান্ডার, শাহানারা রহমান, জাকারিয়া চৌধুরী, শাহীন আজমল, এ কে এম আলমগীর, আব্দুল হাই জিয়া, শাহীন ইবনে দিলওয়ার, শিরিন আকতার দিবা, মুর্শেদা কাকন, আশরাফুজ্জামান, এডভোকেট শাহ বখতিয়ার, কাজী আজিজুল হক খোকন, মাসুদ হোসেন সিরাজি, কাজী মনির, তৈয়বুর রহমান টনি, জেড চৌধুরী জয় প্রমুখ।
- নারীর ক্ষমতায়ন ও ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে বাংলাদেশ অঙ্গীকারবদ্ধ : ড. খলিলুর রহমান
- নিইউয়র্কে টাইমস স্কয়ারের মঙ্গল শোভাযাত্রায় যোগ দিচ্ছেন ম্যানহাটান বরো প্রেসিডেন্ট ব্র্যাড হোয়েলম্যান
- নিউইয়র্কে স্ট্রিট ভেন্ডরদের জন্য নতুন আইন কার্যকর; জেল শাস্তি বাতিল, আরোপ করা হবে জরিমানা
- New York Attorney General James Leads Bipartisan Coalition Suing Predatory Lender OneMain for Scheme to Trap Consumers in Debt
- নিউইয়র্ক স্টেট সিনেট হাউসে ‘বাংলাদেশ ডে’ উদযাপন ২৩ মার্চ : আহ্বায়ক কমিটি গঠন
- বাংলাদেশে আওয়ামীলীগসহ সকল রাজনৈতিক দলের স্বাভাবিক রাজনীতির পরিবেশ সৃষ্টি করার দাবি নিউজার্সি স্টেট আওয়ামী লীগের
- নিউইয়র্কে ‘অল কাউন্টি হেলথকেয়ার গ্রুপ’র বার্ষিক ইন্টারফেইথ ইফতার পার্টি
- HUSBAND CHARGED WITH MURDER AND DISMEMBERMENT OF WIFE WHOSE REMAINS WERE FOUND IN SEPARATE LOCATIONS ALONG BROOKVILLE BLVD AND CROSS BAY BLVD








