টুইটে যখন ঘর ভাঙে!
ছবি: রয়টার্স I
অনলাইন ডেস্ক : ভারতের আনু শর্মাকে প্রতিনিয়ত প্রতারণা করে আসছিলেন তাঁর স্বামী। একদিন আনু তাঁর স্বামীর কিছু টুইট ঘেঁটে প্রতারণার এ বিষয়টি টের পেলেন। ঘটনা গড়িয়েছে বিবাহ বিচ্ছেদ পর্যন্ত। এক্ষেত্রে আনু শর্মার স্বামী বিষয়টি অস্বীকার করেছিলেন, তবে আনু শর্মার কাছে তথ্যপ্রমাণ হিসেবে ছিল তাঁর স্বামীর করা ‘টুইট’, যা তিনি সংরক্ষণ করে রেখেছিলেন। দাম্পত্যজীবনকে ঘিরে ঘটতে থাকা ঘটনাগুলোকে সামাজিক যোগাযোগের ওয়েবসাইটে প্রকাশ করার বিষয়টি এখন আলোচনায়। বিবাহ বিচ্ছেদ ঘটার মতো পরিস্থিতিতে ফেসবুক মন্তব্য বা টুইটারের টুইট পক্সে বিপক্ষে বড় একটি বিষয় হয়ে দাঁড়াতে পারে আর বিষয়টি যদি আদালতের কাঠগড়া পর্যন্ত গড়ায় সেক্ষেত্রে সামাজিক যোগাযোগের মন্তব্যগুলো প্রমাণ হিসেবে অকাট্য হতে পারে। ইন্দো এশিয়ান নিউজ সার্ভিসের এক খবরে এ তথ্য জানানো হয়েছে। এদিকে আইন বিশেষজ্ঞরা জানিয়েছেন, টুইট ও ফেসবুক বার্তা মানুষের মনের অবস্থা প্রকাশ করে তাই আইনগত ক্ষেত্রে এ ধরনের বিষয়গুলোকে ‘সেকেন্ডারি এভিডেন্স’ বা পরোক্ষ তথ্যপ্রমাণ হিসেবে হাজির করা যাবে। আইন বিশেষজ্ঞরা আরও জানিয়েছেন, বর্তমানে সামাজিক যোগাযোগের ওয়েবসাইটগুলোর ব্যবহার বাড়ছে। আর সামাজিক যোগাযোগের বিষয় কেন্দ্র করে বিবাহবিচ্ছেদের হারও বেড়ে যাচ্ছে। ভারতের পবন দুগ্গাল নামের এক আইনজীবী জানিয়েছেন, টুইট ও ফেসবুকের মন্তব্য পরোক্ষ তথ্যপ্রমাণ হবে, কারণ প্রত্যক্ষ সাক্ষীর মতোই এগুলো গুরুত্বপূর্ণ। কেউ যদি ‘স্ত্রীকে অপছন্দ’ এ ধরনের টুইট করেন তবে আদালতে এ টুইটটির স্ক্রিন শট নিয়ে তথ্যপ্রমাণ হিসেবে দেখানো যাবে। সাইবার অপরাধ বিশেষজ্ঞ কার্নিকা শেঠ এ প্রসঙ্গে জানিয়েছেন, সামাজিক যোগাযোগের ওয়েবসাইটে প্রতিদিনই কিছু না কিছু পোস্ট করা হয়। যা পরোক্ষ প্রমাণ হিসেবে এবং অভিযোগ প্রমাণ করার ক্ষেত্রে খুব সহজ উপায় হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। সত্য ঘটনা খুঁজে বের করতে হলে সামাজিক যোগাযোগের ওয়েবসাইট ঘেঁটে তা সহজেই বের আনা সম্ভব। ইমেইলের মাধ্যমে হুমকি দেওয়ার ঘটনা ঘটলে আইপি অ্যাড্রেস পরীক্ষা করে তা আদালতে হাজির করা যেতে পারে। এ ছাড়াও ব্লগ, চ্যাটও আদালতে পরোক্ষ প্রমাণ হবে। যেহেতু এ ধরনের ডিজিটাল তথ্য প্রমাণের ক্ষেত্রে অভিযুক্ত ব্যক্তির স্বাক্ষর পাওয়া যায় না তাই এগুলোকে পরোক্ষ তথ্য প্রমাণ বলা হচ্ছে।
সংসার ভাঙার কুহক ফেসবুক সম্প্রতি দ্য সানের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সামাজিক যোগাযোগের মাধ্যম হিসেবে ফেসবুকের জনপ্রিয়তা এখন তুঙ্গে। যোগাযোগ, সঙ্গ কিংবা সঙ্গীর সন্ধানও মিলছে ফেসবুকে। কারও কারও কাছে ফেসবুক তাদের দ্বিতীয় জীবনও বটে। তবে কোনো কোনো ক্ষেত্রে এই ফেসবুকই হয়ে উঠেছে বেদনার কারণ। ভারতের পাশাপাশি যুক্তরাজ্যে বিবাহ বিচ্ছেদের হার তুলনামূলকভাবে বেড়ে গেছে। আর এ জন্য সামাজিক যোগাযোগের জনপ্রিয় ওয়েবসাইট ফেসবুককেই দায়ী করা হচ্ছে। বিচ্ছেদ-প্রক্রিয়ার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট যুক্তরাজ্যের আইনজীবীরা বলছেন, ইদানীং ফেসবুকের কারণেই সে দেশে বিবাহ বিচ্ছেদের ঘটনা বেড়ে চলছে। বিবাহিতরা অনলাইনে নতুন কারও সঙ্গে পরকীয়ায় জড়িয়ে পড়ছেন কিংবা প্রতারণার শিকার হচ্ছেন। এ ছাড়া সন্দেহপ্রবণ দম্পতিরা তাঁদের সঙ্গীকে পরীক্ষা করার জন্যও ফেসবুক ব্যবহার করছেন। ব্রিটেনের একজন আইনজীবী বলেছেন, নয় মাসে তিনি যতগুলো বিবাহ বিচ্ছেদের ঘটনা ঘটিয়েছেন, তার সবগুলোই ফেসবুকের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট। এ কারণে দেশটির আইনজীবীরা বিবাহিত দম্পতিদের ফেসবুক ব্যবহারে নিরুত্সাহিত করছেন।
টুইট আর ফেসবুক থেকে বাড়ছে অবিশ্বাস হয়তো আমাদের সামাজিক প্রবাহে ভূমিকা রাখছে ফেসবুকসহ অন্যান্য সামাজিক যোগাযোগের ওয়েবসাইটগুলো, কিন্তু নারী-পুরুষের একান্ত সম্পর্কে অবিশ্বাস, ঈর্ষা আর সন্দেহের গভীর ফাটলও ধরাচ্ছে। সম্প্রতি যুক্তরাষ্ট্রের গবেষকেরা এক গবেষণায় এ তথ্য পেয়েছেন। মিসৌরি বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষকেরা জানিয়েছেন, শারীরিক ও মানসিক প্রতারণা থেকে শুরু করে সম্পর্ক ভেঙে যাওয়া, সংসার ভেঙে যাওয়ার মতো ঘটনা ঘটার পেছনে ফেসবুকের বড় ভূমিকা রয়েছে। সব বয়সের বিবাহিত দম্পতির ক্ষেত্রে ‘ফেসবুক সৃষ্ট ঈর্ষা’ বেড়ে যাওয়ার লক্ষণ খুঁজে পেয়েছেন গবেষকেরা। গবেষকেরা জানিয়েছেন, অতিরিক্ত সময় ধরে ফেসবুক ব্যবহারে ‘ফেসবুক-সৃষ্ট ঈর্ষা’ তৈরি হতে পারে। সঙ্গীর কার্যক্রম নজরদারি করতে চাওয়া থেকে অতিরিক্ত সময় ফেসবুক ব্যবহার এ ঈর্ষার কারণ হয়ে ওঠে। সাইবার সাইকোলজি, বিহেভিয়ার অ্যান্ড সোশ্যাল নেটওয়ার্কিং সাময়িকীতে প্রকাশিত নিবন্ধে প্রধান গবেষক রাসেল ক্লেটন জানিয়েছেন, রোমান্টিক সম্পর্কের মধ্যে থেকে কোনো ব্যক্তি যখন অতিরিক্ত ফেসবুক ব্যবহার করেন তখন সঙ্গীর কঠোর নজরদারির মধ্যে পড়েন তিনি। এর ফলে জন্ম নেয় ঈর্ষা। এ ঈর্ষা থেকে সঙ্গীর অতীতের বিভিন্ন কথা তুলে শুরু হয় বাক-বিতণ্ডা।
অধিক সময় টুইট নয় গবেষকেরা নতুন দম্পতি ও নতুন সম্পর্কের বাঁধা পড়া সঙ্গীদের ফেসবুক ও টুইটার থেকে দূরে থাকার পরামর্শ দিয়েছেন। অপরিণত সম্পর্কের ক্ষেত্রে এ পরামর্শ মেনে চলার পরামর্শ দিয়ে গবেষক ক্লেটন জানান, সম্পর্ক পরিণত হওয়ার আগে অতিরিক্ত সময় ফেসবুক বা সামাজিক যোগাযোগের ওয়েবসাইটের ব্যবহার সম্পর্ক ভাঙার ফাঁদ হতে পারে। গবেষকেরা জানিয়েছেন, কারো সম্পর্কে জানার ভালো উপায় হচ্ছে তাঁর সামাজিক যোগাযোগের প্রোফাইল। তবে অতিরিক্ত কোনো কিছুই ভালো নয়। প্রয়োজনের অতিরিক্ত সময় ফেসবুক ব্যবহার না করলে নতুন দম্পতিদের মধ্যে যেমন মনোমালিন্য কমতে পারে তেমনি পরস্পরকে বাড়তি সময় দেয়াও সম্ভব হয়। যাঁরা পরস্পরকে নতুন করে জানছেন, তাঁরা যেন সামাজিক যোগাযোগের ফাঁদে পড়ে সম্পর্কে টানাপোড়েন তৈরি না করেন সে বিষয়ে খেয়াল রাখতেই গবেষকেরা পরামর্শ দিয়েছেন।প্রথম আলো
- নিউইয়র্কে আদালতের নিষেধাজ্ঞায় স্থগিত বাংলাদেশ সোসাইটির নির্বাচন; ওসমান চৌধুরীর সদস্যপদ প্রত্যাখ্যান নিয়ে মামলা, ৫ নভেম্বর পরবর্তী শুনানি; সংবাদ সম্মেলনে আইনি পরিস্থিতি তুলে ধরল নির্বাচন কমিশন
- হানি ট্র্যাপে হত্যার অভিযোগ, সাগরের মামলা পিবিআইতে দেওয়ার দাবি পরিবারের; প্রধান আসামির জামিনে উদ্বেগ, দ্রুত গ্রেপ্তার ও সুষ্ঠু তদন্তের আহ্বান
- ওয়ার্ল্ড হিউম্যান রাইটস ডেভেলপমেন্ট ইউএসএর সাধারণ সম্পাদক ড. সাদিয়া আফরিন এরা
- চরমোনাই পীরের যুক্তরাষ্ট্র সফর উপলক্ষে নিউইয়র্কে দোয়া মাহফিল, কুরআন-সুন্নাহর আলোকে বয়ান
- New York Attorney General James Secures Reimbursements for T-Mobile Customers Whose Rates Were Unjustly Raised
- নিউইয়র্কে বাংলাদেশ সোসাইটির নির্বাচনে কুনু-ফিরোজ পরিষদের সাত দফা ইশতেহার ঘোষণা; কমিউনিটি সেন্টার প্রতিষ্ঠা, সাশ্রয়ী ফিউনারেল সেবা, বিমানের সরাসরি ফ্লাইট ও আর্থিক স্বচ্ছতায় অঙ্গীকার
- ফিলিস্তিনিদের আত্মনিয়ন্ত্রণের অধিকারের প্রতি বাংলাদেশের পূর্ণ সমর্থন: জাতিসংঘে রাষ্ট্রদূত আইরিন খান
- নিউইয়র্কে বাংলাদেশ সোসাইটির নির্বাচনে প্রথমবারের মতো বিতর্ক, গুরুত্ব পেল স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি