
ডেস্ক : বিজ্ঞান ও প্রযুক্তির উন্নতি সত্ত্বেও সাগরের নিচের জগতের অনেকটাই এখনো অজানা। জার্মান এক অভিযানের আওতায় কুমেরু সাগরে অনেক নতুন উদ্ভিদ ও প্রাণী আবিষ্কৃত হয়েছে। অ্যান্টার্কটিক বা কুমেরু সাগর সম্পর্কে বিজ্ঞানীদের আজও অনেক কিছুই জানা নেই। গবেষণার জন্য প্রতিটি অভিযানে সেই অজ্ঞাত অন্ধকারে আরো কিছু আলোর রশ্মি এসে পড়ে। সাগরের পানিতে ছয় কিলোমিটার গভীরে বড় বড় গ্রিপার আর জাল ব্যবহার করে এমন অনেক কিছু আবিষ্কার করা যায়, যা আগে কোনো মানুষ দেখেনি। মরিন বায়োলজিস্ট আঙ্গেলিকা ব্রান্ট জার্মান গবেষণা জাহাজ পোলারস্ট্যার্ন-এ চড়ে দক্ষিণ মেরুতে আসেন। ডাইভিং রোবোটগুলো সাগরের অতল থেকে কী মণিমাণিক্য তুলে এনেছে সেটা দেখাই তার জন্য সবচেয়ে চাঞ্চল্যকর মুহূর্ত। মাছ, স্পাইডার ক্র্যাব জাতীয় কাঁকড়া, জায়ান্ট আইসোপডস আর স্কুইড, যদিও তাদের অধিকাংশই গভীর পানি থেকে ওপরে আসার ধকল সহ্য করতে পারে না। সমুদ্রের নিচের অজানা জগত আঙ্গেলিকা ব্রান্ট-এর গবেষণার বিষয় হল মাইক্রো-অরগ্যানিজম বা অণুজীব, যেমন অস্ট্রাকড আর ব্রিশল ওয়র্ম। তবে তার আসল কাজ শুরু হয় হামবুর্গ জুওলজিকাল ইনস্টিটিউটে। প্রফেসর ব্রান্ট বলেন, একটা স্যাম্পল খোলার সময় দারুণ লাগে। টেস্ট টিউব থেকে যে কী বেরোবে, তা তো আর আগে থেকে জানা থাকে না। স্যাম্পল-এ যে সব ধরনের জীব পাওয়া যায়, বিশেষ করে কুমেরু সাগরের গভীর অংশ থেকে, তা চমকে দেওয়ার মতো। অন্যান্য বড় বা ছোট প্রাণীদের সাথে তাদের সম্পর্ক কোনোদিন অনুসন্ধান করে দেখাই হয়নি। ‘অনুসন্ধান করার মূল যন্ত্র হল ইলেকট্রনিক মাইক্রোস্কোপ, যা মানুষের চোখে অদৃশ্য অণুজীবকে পাঁচ লাখগুণ বড় করে দেখায়, যেমন এই ডায়াটোম অ্যালজি। এক মিলিমিটারের ১৮,০০০ ভাগ ছোট অংশও দেখা যায়। গত কয়েক বছরে অধ্যাপক ব্রান্ট ও তার সহকর্মীরা প্রায় ৭০০ নতুন প্রজাতি আবিষ্কার করেছেন এবং আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি পেয়েছেন। এখনো জানা যায়নি গভীর সমুদ্রের সব রহস্যপ্রফেসর ব্রান্ট বলেন, একটা নতুন প্রজাতি খুঁজে পেলে, তা সঠিকভাবে নথিবদ্ধ করতে হবে। তার মানে, ড্রয়িং করতে হবে। হাত-পা, মুখ সব আলাদা করে কেটে আলাদা করে নথিবদ্ধ করতে হবে। ড্রয়িং-এর সাথে বর্ণনাও থাকা চাই। তার জন্য একটা কোড আছে, আন্তর্জাতিকভাবে প্রচলিত একটা নামকরণের পদ্ধতি, যা অনুযায়ী নতুন প্রজাতির নামকরণ করতে হবে। এছাড়া কী ধরনের বৈজ্ঞানিক সংগ্রহে নমুনাটা রাখতে হবে, তাও বলে দেওয়া আছে। ‘ডলিকিসকাস স্পিনেজাসেটোসুস হল একটি অণুজীবের নাম, যা আঙ্গেলিকা ব্রান্ট আবিষ্কার করেছেন। কুমেরু সাগরের খাদ্য-শৃঙ্খলে এই ক্ষুদ্র প্রাণীটিরও একটি গুরুত্বপূর্ণ স্থান আছে। এই ধরনের ক্ষুদ্র প্রাণীরাই এই চিরতুষারের দেশে জীবনকে সম্ভব করে তুলেছে। কুমেরুবৃত্তের পরিবেশ প্রণালী এখনও নানা রহস্যে ভরা। আঙ্গেলিকা ব্রান্ট’র মতো বিজ্ঞানীরা অস্ট্রাকডের পর অস্ট্রাকড অনুসন্ধান করে সেই অবগুণ্ঠন খোলার চেষ্টা করেছেন। হামবুর্গের জুওলজিকাল সংগ্রহশালার সংগ্রহ বিশ্ববিখ্যাত। লাল লেবেল লাগানো থাকলে তার অর্থ, প্রজাতিটি সদ্য আবিষ্কৃত হয়েছে। ভবিষ্যতে আরো প্রজাতি আবিষ্কৃত হবে বলে ধরে নেওয়া যায়। সূত্র : ইন্টারনেট ওয়েবসাইট। ইনকিলাব