
ভোটের রাজনীতিতে উন্নয়ন আর সমৃদ্ধিই যেখানে মূল বিষয় হয়ে দাঁড়ায় সেখানে মানুষের দৈনন্দিন জীবনের সুখ-দুঃখের কথাটা প্রায়শই সেভাবে প্রচারের আলোয় আসে না। কিন্তু সব প্রচেষ্টা আর রাজনীতির নেপথ্যে মূল চালিকাশক্তি যে মানুষের ভালোথাকা ও ভালোবাসা সেটা এবার বেশ ভালোভাবেই উপলব্ধি করতে পেরেছেন লিথুনিয়ার রাজধানী ভিলনিয়াসের মেয়র। আর তাই শহরের মানুষের সুখের পরিমাপ বোঝার জন্য এবার রীতিমতো শহুরে নাগরিকদের সুখ পরিমাপক ব্যারোমিটার বিশাল টিভি পর্দায় প্রদর্শনের সিদ্ধান্ত নিয়েছেন তিনি। তার এই সিদ্ধান্তের কারণে এখন খুব সহজেই শহরের টাউন হলে লাগানো পর্দায় চোখ বুলিয়ে জেনে নেওয়া যাবে রাজধানীর নাগরিকদের সুখের ফিরিস্তি। দশের মধ্যে ব্যারোমিটারের স্কেল কতোতে অবস্থান করছে তা থেকে আঁচ করা যাবে তাদের মানসিক অবস্থাও। আর এ সবই সম্ভব হবে কম্পিউটার ও স্মার্টফোনের অ্যাপ্লিকেশনের মাধ্যমে প্রায় ৫,২০,০০০ নাগরিকের দেওয়া ভোটের মাধ্যমে। এ প্রসঙ্গে ভিলনিয়াস শহরের নগরপিতা আরটুরাস জুয়োকাস বলেন, ‘রাজনীতিবিদদের জন্য এই ব্যারোমিটারটি হতে পারে ভীষণ কার্যকরী একটি অনুষঙ্গ। এখন থেকে সরকার বা নগর প্রশাসনের পক্ষ থেকে কোনো সিদ্ধান্ত নেবার পর যদি দেখা যায় যে মানুষের সুখের পরিমাপে পতন হয়েছে তাহলে বুঝতে হবে যে আমাদের সিদ্ধান্তটি সঠিক হয়নি। একইভাবে মানুষের সুখের বৃদ্ধি ঘটলে সেটিও আমাদেরকে ভালো কাজ করতে অনুপ্রাণিত করবে।’ মূলত ২০১১ সালে বিশ্বের বেশ কয়েকটি দেশে উইন অ্যাসোসিয়েশন নামের একটি সংগঠনের পক্ষ থেকে চালানো সুখী মানুষের জরিপের ফল দেখেই অভিনব এই বুদ্ধি মাথায় আসে জুয়োকাসের। সে যাত্রায় অর্থনৈতিক মন্দার শিকার লিথুনিয়ানদের অবস্থান ছিল সবচেয়ে অসুখী দেশগুলোর প্রায় শীর্ষে। আর তাই এ অবস্থা থেকে উত্তরণের পথ খুঁজতে এখন মানুষের প্রাত্যহিক সুখ-দুঃখের খবর জানাটাকেই জরুরি বলে মনে করছেন জুয়োকাস। উল্লেখ্য, ব্যারোমিটারের ফল পর্দায় প্রদর্শনের শুরুতে লিথুনিয়ানদের সুখের মাপ ছিল দশের মধ্যে ছয় থেকে সাতের মতো। এখন পরবর্তী সপ্তাহগুলোতে এই ফলে উত্থান-পতনের প্রতিফলন কতটা ঘটে তার উপরই নির্ভর করছে অভিনব এই উদ্যোগের কার্যকারিতা।ইত্তেফাক