কেন্দ্রিয় যুবলীগ নেতা মঞ্জুরুল আলম শাহীন যুক্তরাষ্ট্রে অবাঞ্চিত, তারিকুল বহিস্কার
যুক্তরাষ্ট্র যুবলীগের উদ্যোগে নিউইয়র্কের জ্যাকসন হাইটস্থ পালকি পার্টি সেন্টারে গত ১৫ই জুলাই এক সংবাদ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়। সংবাদ সম্মেলনে কেন্দ্রীয় যুবলীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মঞ্জুরুল আলম শাহীন যুক্তরাষ্টে এসে অর্থের বিনিময়ে পদ-পদবীর বেচা-কেনা করার চেষ্টা, যুবলীগ নেতা কর্মীর সাথে অশালীন আচরন, দলের মধ্যে বিভ্রান্তি সৃষ্টি, অনৈতিক ও অসাংগঠনিক কর্মকান্ডের জন্য যুক্তরাষ্ট্র যুবলীগ তাকে যুক্তরাষ্ট্রের মাটিতে অবাঞ্চিত ঘোষণা করেছে।
সংবাদ সম্মেলনে উল্লেখ্ করা হয়, ‘মিসবাহ-ফরিদ’ নেতৃত্বাধীন যুক্তরাষ্ট্র যুবলীগ যখন দেশ ও দলের স্বার্থে ঐক্যদ্ধভাবে আন্দোলন-সংগ্রামের পাশাপাশি সফলভাবে সাংগঠনিক কর্মকান্ড চালিয়ে যাচ্ছে ঠিক তখনই দেড় বছরের মাথায় কোন প্রকার অভিযোগ বা কারণ দর্শানো ব্যতিরেকেই এই কমিটি বাতিল করে একটি আহ্বায়ক কমিটি গঠন করা হয়েছে বলে স্থানীয় মিডিয়ায় খবর প্রকাশিত হওয়ায় যুবলীগ নেতৃবৃন্দকে শুধু বিব্রতই করেনি, কেন্দ্রীয় যুবলীগের এই সিদ্ধান্ত আত্বঘাতি সিদ্ধান্ত বলেই মনে করছেন। যুক্তরাষ্ট্র যুবলীগ কেন্দ্রের এই সিদ্ধান্ত কোনভাবেই মেনে নিতে পারে না। দেশ ও দলের কাছে যুক্তরাষ্ট্র যুবলীগের নেতা-কর্মীদের চাওয়া-পাওয়ার কিছু নেই। নেতৃবৃন্দ মনে করেন দলের মধ্যকার ষড়যন্ত্রকারীরা ব্যক্তিগত স্বার্থ-সিদ্ধির জন্য কেন্দ্রীয় যুবলীগের নেতৃবৃন্দকে ভুল বুঝিয়ে যুক্তরাষ্ট্র যুবলীগের একটি নামধারী আহ্বায়ক কমিটি গঠন করা হয়েছে। যুক্তরাষ্ট্র যুবলীগ এই অসাংগঠনিক সিদ্ধান্তের তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়ে অবিলম্বে এই সিদ্ধান্ত প্রত্যাহার করার জন্য কেন্দ্রীয় নেতৃবৃন্দের প্রতি অনুরোধ জানিয়েছেন। নেতৃবৃন্দ বলেন, গত সেপ্টেম্বর মাসে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নিউইয়র্ক সফরকালীন কেন্দ্রীয় যুবলীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মঞ্জুরুল আলম শাহীন যুক্তরাষ্ট্র যুবলীগের কাছে নানা রকম আথিতিয়তা প্রত্যাশা করেন। কেন্দ্রীয় নেতা হিসেবে জনাব শাহীনকে যুক্তরাষ্ট্র যুবলীগের পক্ষ থেকে সকল প্রকার সম্মান জানানোর পরও তিনি ব্যক্তিগতভাবে নানা অনৈতিক দাবী-দাওয়া করেন যা যুক্তরাষ্ট্র যুবলীগের পক্ষে নীতিগতভাবে মেনে নেয়া ও বাস্তবায়ন করা সম্ভব হয়নি।
সংবাদ সম্মেলনে উল্লেখ্ করা হয়, জনাব শাহীনের দাবী ছিলো দলবল নিয়ে জেএফকেতে তাকে সম্বর্ধিত করা, হোটেল গ্র্যান্ড হায়াতে তার থাকা-খাওয়ার ব্যবস্থা করা, প্রধানমন্ত্রী, জননেত্রী শেখ হাসিনার সম্বর্ধণা সভা ও যুক্তরাষ্ট্র স্বেচ্ছাসেবক লীগের সম্মেলনে বিশেষ অতিথি হিসেবে তাকে মঞ্চে আসন দেয়া, কেন্দ্রীয় যুবলীগের চেয়ারম্যানের নাম ভাঙ্গিয়ে ‘জননেত্রী শেখ হাসিনার দর্শণ’ বই বিক্রির অগ্রিম অর্থ দাবী, নিউইয়র্ক অবস্থানকালে সার্বক্ষনিক গাড়ী ও ড্রাইভার দেয়াসহ ‘মদের বার’ কিংবা ‘নাইট ক্লাবে’ নিয়ে যেয়ে নানান বিনোদনের ব্যবস্থা করা। জনাব শাহীন বলেন, ‘প্রবাসের সংগঠনগুলোর কাজ হচ্ছে শুধুমাত্র কেন্দ্রীয় নেতৃবৃন্দকে ‘প্রটোকল’ দেয়া। নেতৃবৃন্দ আরো বলেন, জনাব শাহীনের প্রত্যাশিত ব্যক্তিগত অসামাজিক ও অসাংগঠনিক দাবী যুক্তরাষ্ট্র যুবলীগের বর্তমান কমিটি পূরণ করতে না পারায় তিনি অসন্তষ্ট হয়ে দেশে ফিরে যুবলীগের কেন্দ্রীয় নেতৃবৃন্দকে মিথ্যা তথ্য দিয়ে আর ভুল বুঝিয়ে বর্তমান কমিটি ভেঙ্গে দেয়ার ষড়যন্ত করেন এবং যুক্তরাষ্ট্রে যারা তার মনের বাসনা পূরণ করেছে, বিপুল আর্থিক ও বছরে ৩/৪ বার বিদেশ ভ্রমণের টিকেট সুবিধাসহ অন্যান্য ব্যক্তিগত বিনোদনমূলক সুবিধা দিয়েছে, দলের কর্মকান্ডের সাথে বা কোন আন্দোলনে যারা কখনোই সম্পৃক্ত ছিলনা এবং প্রবাসের রাজনীতিতে যাদের কোন পরিচিতি বা গ্রহনযোগ্যতা নেই, তাদেরকে দিয়েই তথা কথিত আহ্বায়ক কমিটি গঠন করিয়েছেন।
যুক্তরাষ্ট্র যুবলীগের সর্বস্তরের নেতা-কর্মী, সমর্থক ও শুভান্যুধায়ীরা কষ্টার্জিত নিজস্ব অর্থ-শ্রম ও মূল্যবান সময় দিয়ে সংগঠন করেন। কারো দয়া, অনুগ্রহ বা সুযোগ-সুবিধা প্রাপ্তির আশায় নয়। আমরা চ্যালেঞ্জ করে বলতে চাই আজ পর্যন্ত যুক্তরাষ্ট্র যুবলীগের কোন নেতা-কর্মী বাংলাদেশে কোন সুযোগ সুবিধার জন্য কেন্দ্রীয় নেতৃবৃন্দের স্মরণাপন্ন হয়নি। ব্যক্তি স্বার্থ চরিতার্থের জন্য যুক্তরাষ্ট্র যুবলীগ প্রবাসে রাজনীতি করে না। অর্থ ও অনৈতিকতার বিনিময়ে যুক্তরাষ্ট্র যুবলীগ পদ বেচা-কেনার রাজনীতি করে না।
আজকের এই সাংবাদিক সম্মেলন থেকে আমরা জনাব মঞ্জুরুল আলম শাহীনের অসত, অনৈতিক ও অসাংগঠনিক কর্মকান্ডের জন্যে তার পদত্যাগ দাবি করছি এবং তার বিরুদ্ধে সাংগঠনিক ব্যবস্থা গ্রহনের জন্য কেন্দ্রীয় যুবলীগের চেয়ারম্যান ও সাধারণ সম্পাদকসহ যুবলীগের কেন্দ্রীয় কার্য নির্বাহী পরিষদের কাছে জোর দাবী জানাচ্ছি। আমরা দৃঢ়তার সাথে বলতে চাই, যুক্তরাষ্ট্রের মাটিতে যুক্তরাষ্ট্র যুবলীগ কোন অন্যায়কে পশ্রয় দিবে না। যুক্তরাষ্ট্র যুবলীগের সভাপতি মিসবাহ আহমেদ ও সাধারণ সম্পাদক ফরিদ আলমের নেতৃত্বে যুক্তরাষ্ট্র যুবলীগের প্রতিটি ইউনিট ঐক্যবদ্ধ আছে এবং আগামী দিনেও ঐক্যবদ্ধভাবে বঙ্গবন্ধুর স্বপ্ন-আদর্শ, জননেত্রী শেখ হাসিনার ভিশন ২০২১ ও মহান মুক্তিযুদ্ধের চেতনা বাস্তবায়নের জন্য কাজ করে যাবে। আমরা যুক্তরাষ্ট্র আওয়ামী লীগ, সকল অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনসহ সকল সাধীনতা পক্ষের শক্তি এবং সকল মিডিয়ার সম্পাদক/সাংবাদিকবৃন্দের প্রতি আমাদের প্রত্যাশা, আপনারা যে কোন অসাংগঠনিক কার্যকলাপের বিরুদ্ধে রুখে দাড়াবেন এবং ‘মিসবাহ-ফরিদ’ নেতৃত্বাধীন যুক্তরাষ্ট্র যুবলীগের পাশে থাকবেন। আমরা বজ্রকন্ঠে বলতে চাই, যেকোন ষড়যন্ত্র, অশুভ ও অপশক্তি এবং অসাংগঠনিক কর্মকান্ড যুক্তরাষ্ট্র যুবলীগ ঐক্যবদ্ধভাবে প্রতিহত করবে।
সংবাদ সম্মেলনে যুক্তরাষ্ট্র যুবলীগের সকল নেতৃবৃন্দ, বাংলাদেশ আওয়ামী যুবলীগের কেন্দ্রীয় নেতৃত্বের কাছে অনুরোধ জানিয়ে বলেন দেশ-জাতি ও দলের সঙ্কটময় মহুর্তে যুক্তরাষ্ট্র যুবলীগকে দ্বি-ধা বিভক্ত না করে বরং ঐক্যবদ্ধ ও সুসংগঠিত যুক্তরাষ্ট্র যুবলীগ গড়ার স্বার্থে ‘মিসবাহ-ফরিদ’ নেতৃত্বাধীন যুক্তরাষ্ট্র যুবলীগের বর্তমান কমিটি বহাল রেখে, যুক্তরাষ্ট্র যুবলীগের পরবর্তী কমিটি কেন্দ্রীয় নেতৃবৃন্দের উপস্থিতিতে যথাসময়ে একমাত্র কাউন্সিলের মাধ্যমেই পরিক্ষীত নেতৃবৃন্দের সমন্বয়ে কমিটি গঠন করার উদাত্ত আহ্বান জানান এবং এব্যাপারে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী ও বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের সভানেত্রী শেখ হাসিনার সরাসরি হস্তক্ষেপ কামনা করেন।
সংবাদ সম্মেলনে বক্তারা বলেন, “যুক্তরাষ্ট্র যুবলীগ” উত্তর আমেরিকায় সবচেয়ে শক্তিশালী ও সুসংগঠিত সংগঠন। সম্পূর্ণ গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ায় যুক্তরাষ্ট্র আওয়ামী লীগসহ সকল আওয়ামী সংগঠনের নেতৃবৃন্দের সাথে আলোচনা সাপেক্ষ যুক্তরাষ্ট্র যুবলীগের সকল নেতা-কর্মীদের সমন্বয় করে কেন্দ্রীয় যুবলীগের চেয়ারম্যান আলহাজ ওমর ফারুক চৌধুরী ও তৎকালীন সাধারণ সম্পাদক মির্জা আজম এমপি স্বাক্ষরিত (১২/১২/২০১১) তিন বছরের জন্য ‘মিসবাহ-ফরিদ’ নেতৃত্বাধীন যুক্তরাষ্ট্র যুবলীগের কমিটি অনুমোদন করা হয়। এই নতুন নেতৃত্ব দায়িত্ব প্রাপ্তীর পর থেকেই যুক্তরাষ্ট্র যুবলীগকে আরো সুসংগঠিত করার লক্ষ্যে নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছে। ইতিমধ্যেই যুক্তরাষ্ট্র যুবলীগের নেতৃত্ব নিউইয়র্ক ষ্টেট কমিটি, নিউইয়র্ক সিটি কমিটি, ম্যাহাটান বরো কমিটি, কুইন্স বরো কমিটি, ব্রঙ্কস বরো কমিটি, ব্রুকলীন বরো কমিটি, নিউজার্সী ষ্টেট কমিটি, মিশিগান ষ্টেট কমিটিগুলো গঠনের মাধ্যমে যোগ্য ও দক্ষ নেতৃত্ব প্রতিষ্ঠা করা হয়েছে এবং অন্যান্য ষ্টেটের শাখা কমিটিগুলো গঠন/পূনর্গঠন প্রক্রিয়াধীন। বলার অপেক্ষা রাখে না যে, ভয়াবহ ১/১১ পরিস্থিতি থেকে শুরু করে যুদ্ধাপরাধীদের বিচার দাবীসহ শেখ হাসিনার মুক্তি আন্দোলনে যুক্তরাষ্ট্র যুবলীগ জাতিসংঘের সদর দপ্তর ও ওয়াশিংটন ডিসিস্থ হোয়াইট হাউজ এবং রাজপথের প্রতিটি আন্দোলন-সংগ্রামে সামনের কাতারের লড়াকু সৈনিক হিসেবে কাজ করে এসেছে এবং দেশ ও দলের প্রয়োজনে আগামীতেও যুক্তরাষ্ট্র যুবলীগ আন্দোলন-সংগ্রাম চালিয়ে যাবে। এছাড়াও বাংলাদেশে জামায়াতে ইসলামী যে তান্ডব ও ধর্মের নামে যে অপপ্রচার চালিয়ে যাচ্ছে তার বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্র যুবলীগ অব্যাহতভাবে প্রতিবাদ-প্রতিরোধের পাশাপাশি ‘আন্তর্জাতিক ইসলামিক সেমিনার’ আয়োজনে করে দেশবাসী ও প্রবাসীদের মাঝে প্রশংসা অর্জন করেছে। সেই সাথে জাতীয় ও স্থানীয় সকল কর্মকান্ডে যুক্তরাষ্ট্র আওয়ামী লীগের পাশে থেকে সকল আন্দোলন-সংগ্রামকে জোরদার করে চলেছে। স্থানীয় মিডিয়াসহ দেশের প্রায় সকল মিডিয়াতেই তার খবর প্রকাশিত হয়েছে।এছাড়া ‘রাষ্ট্রনায়ক শেখ হাসিনার দর্শণ’ ঐতিহাসিক গ্রন্থ প্রকাশনায় যুক্তরাষ্ট্র যুবলীগের অবদান অনস্বীকার্য। স্মরণযোগ্য যে, গত বছরের সেপ্টেম্বর মাসে নিউইয়র্ক সফরকালীন সময়ে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা উক্ত গ্রন্থটির প্রকাশনা অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন।
উক্ত সম্মেলনে নেতৃবৃন্দ যুক্তরাষ্ট্র যুবলীগের দীর্ঘ দিনের ইতিহাস তুলে ধরে বলেন – বঙ্গবন্ধু কণ্যা শেখ হাসিনার নেতৃত্বে বাংলাদেশে গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা, গণতান্ত্রিক ধারা অব্যাহত আর যুদ্ধাপরাধীদের বিচারসহ বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের স্বপ্নের সোনার বাংলা প্রতিষ্ঠার আন্দোলনে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ এবং দলের সকল অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনগুলোর পাশাপাশি যুক্তরাষ্ট্র যুবলীগ প্রবাস থেকে অগ্রনী ভূমিকা রেখে চলেছে। জননেত্রী শেখ হাসিনার সংগ্রামী চেতনাই যুক্তরাষ্ট্র যুবলীগের সকল শক্তির ধারক-বাহক। কেননা, ’৭৫-এর ১৫ আগষ্টের কালো অধ্যায় থেকে শুরু করে তিনি তাঁর সকল ত্যাগ আর সংগ্রামের মধ্যদিয়ে বাংলাদেশের ১৬ কোটি মানুষের জননেত্রী তথা প্রধানমন্ত্রীর আসন অলংকিত করেছেন তা নি:সন্দেহে বিরল ঘটনা।
নেতৃবন্দ আরো বলেন আমাদের প্রিয় দেশ বাংলাদেশ, প্রিয় সংগঠন বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ দেশী-বিদেশী নানা ষড়যন্ত্রের শিকার। সকল ষড়যন্ত্র মোকাবেলা করে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা দৃঢ়তার সাথে রাষ্ট্র পরিচালনা করে আসছেন। বাংলাদেশ থেকে জঙ্গীবাদ-সন্ত্রাস দমন, স্বাধীনতা বিরোধী যুদ্ধাপরাধীদের বিচার, জাতিসংঘে গৃহীত শান্তির মডেল, মায়ানমার বিরুদ্ধে বঙ্গপোসাগর বিজয়, বিদ্যুৎ ও শিক্ষাখাতে আমুল পরিবর্তন, দলীয় সরকারের অধীনে নিরপেক্ষ নির্বাচন মহাজোট সরকারের অন্যতম সেরা সাফল্য। সেই সাথে ‘একটি বাড়ী একটি খামার’ প্রকল্প থেকে শুরু করে ভিশন ২০২১ কর্মসূচী স্বনির্ভর বাংলাদেশ গড়ায় আওয়ামী লীগ নেতৃত্বাধীন মহাজোট সরকারের দীর্ঘ মেয়াদী পরিকল্পনা প্রশংসার দাবী রাখে। তারপরও বলতে দ্বিধা নেই মহাজোট সরকারের অব্যাহত উন্নয়ন কর্মকান্ডের পরও দলীয় অভ্যন্তরীন ষড়যন্ত্রের ফলে অতি সম্প্রতি পর পর পাঁচটি সিটি করপোরেশন নির্বাচনে আমাদের পরাজয় আগামী জাতীয় নির্বাচনে বিজয়ের জন্য দলীয় নেতা-কর্মীদের সাময়িকভাবে হতাশ করেছে। আমরা দৃঢ়তার সাথে বিশ্বাস করি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার যোগ্য নেতৃত্বে সকল ষড়যন্ত্র আর সংকট কাটিয়ে উঠে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ আবারও বিজয়ী হবে। আর এই বিজয়ের জন্য দরকার দলীয় ঐক্য ও শৃঙ্খলা।
সংবাদ সম্মেলনে উদ্বোধনী বক্তব্য রাখেন যুক্তরাষ্ট্র যুবলীগের সভাপতি মিসবা আহমেদ এবং লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন যুবলীগের সাধারণ সম্পাদক মোঃ ফরিদ আলম। মঞ্চে উপস্থিত ছিলেন যুক্তরাষ্ট্র যুবলীগের সহ সভাপতি আব্দুল মুহিত, সহ সভাপতি জিয়াউল হোসেন, সহ সভাপতি আবু তাহের, যুগ্ম সম্পাদক আব্দুল ওয়াহেদ, সাংগঠনিক সম্পাদক সাঈদুর রব খান জামান, শফিউল গণি খালেদ, নুরুল ইসলাম, প্রচার সম্পাদক, গণেশ কৃর্তনিয়া, দপ্তর সম্পাদক সাদেকুর রহমান, অর্থ সম্পাদক মঈনুল হোসেন, আইন বিষয়ক সম্পাদক মোঃ মাহবুবুল হাসান, আন্তর্জাতিক বিষয়ক সম্পাদক সাব্বির আহমেদ, সাংস্কৃতিক সম্পাদক এম এ আলীম, জন শক্তি সম্পাদক আব্দুর নুর হারুন, নিউইয়র্ক স্টেট যুবলীগের সভাপতি জামাল হোসেন, সহ সভাপতি রিন্টু লাল দাস, সাধারণ সম্পাদক সেবুল মিয়া, যুগ্ম সম্পাদক রহিমুজ্জামান সুমন, নিউইয়র্ক সিটি যুবলীগের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি হেলিম উদ্দিন, সাধারণ সম্পাদক আমিনুল হোসেন, যুগ্ম সম্পাদক শাহজাহান সিরাজ ওয়াহেদ, ম্যানহাটন ব্যুরো যুবলীগের সভাপতি মনিরুল উদ্দিন চৌধুরী, সহ সভাপতি আজমল হোসেন, সাধারণ সম্পাদক আজাদুল কবির, কুইন্স ব্যুরো যুবলীগের সভাপতি জামাল হোসেন, সাধারণ সম্পাদক শাহিদ সিরাজ সৌরভ, সাংগঠনিক সম্পাদক জাকির হোসেন, ব্রঙ্কস ব্যুরো কমিটির সভাপতি শাহিন কামালী, সাধারণ সম্পাদক আব্দুল্লাহ আল রেজা, ব্রুকলীন ব্যুারো যুবলীগের সভাপতি মোশারফ হোসেন, সাধারণ সম্পাদক মহিউদ্দিন লবু প্রমূখ। এছাড়াও সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন যুক্তরাষ্ট্র যুবলীগ সহ সকল শাখা কমিটির নেতা-কর্মীবৃন্দ।
সালাহউদ্দিন আহমেদ : বাংলাদেশ আওয়ামী যুবলীগ যুক্তরাষ্ট্র শাখার সহ সভাপতি তারিকুল হায়দার চৌধুরীকে বহিস্কার করা হয়েছে। গত ১৪ জুলাই রোববার রাতে অনুষ্ঠিত মিসবাহ-ফরিদ নেতৃত্বাধীন যুক্তরাষ্ট্র যুবলীগের এক বর্ধিত সভায় এই সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে বলে জানা গেছে। সিটির জ্যামাইকাস্থ যুক্তরাষ্ট্র যুবলীগের অস্থায়ী কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত সংগঠনের উক্ত সভায় সভাপতিত্ব করেন যুক্তরাষ্ট্র যুবলীগের সভাপতি মিসবাহ আহমেদ। সভাটি পরিচালনা করেন সাধারণ সম্পাদক ফরিদ আলম। যুক্তরাষ্ট্র যুবলীগের এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, যুবলীগের বর্ধিত সভায় নিউইয়র্ক ষ্টেট যুবলীগ, নিউইয়র্ক সিটি যুবলীগ, ম্যানহাটান, কুইন্স, ব্রঙ্কস ও ব্রুকলীন বরো যুবলীগের সকল কার্যনির্বাহী নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন। সভায় যুবলীগের কার্যনির্বাহী কমিটির দুই-তৃতীয়াংশের অধিক ভোটে অসাংগঠনিক কার্যক্রম ও সংগঠনের মধ্যে বিভ্রান্তি সৃষ্টি, বিগত দিনে যুক্তরাষ্ট্র যুবলীগের কোন কর্মকান্ডে অংশগ্রহণ না করায় এবং সংগঠন বিরোধী চন্ত্রান্ত করে নিজেকে যুবলীগের আহ্বায়ক দাবী করার জন্য সর্বসম্মতিক্রমে যুক্তরাষ্ট্র যুবলীগের সহ সভাপতি তারিকুল হায়দার চৌধুরীকে যুক্তরাষ্ট্র যুবলীগ থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে।
সভায় বক্তারা বলেন, আগামী জাতীয় নির্বাচনে যেখানে ঐক্যের বিকল্প নেই, ঠিক তখনই যুক্তরাষ্ট্র যুবলীগের কমিটি নিয়ে ছিনিমিনি খেলা হচ্ছে। বক্তারা বলেন, হঠাৎ করে কোন রকম অভিযোগ বা কারণ দর্শানো ছাড়াই পত্রিকায় একটি আহ্বায়ক কমিটি আসায় আমরা শুধু বিব্রতই হইনি বরং কেন্দ্রেীয় যুবলীগের এই সিদ্ধান্ত আত্বঘাতি সিদ্ধান্ত হবে। বক্তারা কেন্দ্রের সিদ্ধান্তকে ‘অনৈতিক ও অসংগঠনিক’ সিদ্ধান্ত হিসেবে উল্লেখ এবং এই সিদ্ধান্তের তীব্র প্রতিবাদ জানিয়ে অবিলম্বে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সরাসরি হস্তক্ষেপ কামনা করেন। সভায় বলা হয়, যুক্তরাষ্ট্র যুবলীগের নতুন কমিটি যথাসময়ে যুবলীগের পরিক্ষিত নেতৃবৃন্দের সমন্বয়ে কেন্দ্রীয় নেতৃবৃন্দেও উপস্থিতিতে একমাত্র সম্মেলনের মাধ্যমেই হতে হবে। অন্য কোন পন্থায় যুক্তরাষ্ট্র যুবলীগের কোন কমিটি যুক্তরাষ্ট্র যুবলীগের নেতা-কর্মীরা যুক্তরাষ্ট্রের মাটিতে মেনে নেব না।
সভায় বক্তব্য রাখেন যুক্তরাষ্ট্র যুবলীগের সহ সভাপতি আব্দুল মুহিত, জিয়াউল হোসেন ও আবু তাহের, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আব্দুল ওয়াহেদ, সাংগঠনিক সম্পাদক সাইদুর রব জামাল, শফিউল গনি খালেদ ও নুরুল ইসলাম, কোষাধ্যক্ষ মইনুল হোসেন, জনশক্তি বিষয়ক সম্পাদক আব্দুর নূর হারুন, প্রচার সম্পাদক গণেশ কীর্তনীয়া, সমাজকল্যাণ সম্পাদক শফিকুল ইসলাম, আইন বিষয়ক সম্পাদক মাহ মাহবুবুল হোসেন, আন্তর্জাতিক বিষয়ক সম্পাদক সাব্বির আহমেদ, নির্বাহী সদস্য সারোয়ার হোসেন ও জামাল আহমেদ, নিউইয়র্ক ষ্টেট যুবলীগের সভাপতি জামাল হোসেন, সহ সভাপতি রিন্টু লাল দাস, সাধারণ সম্পাদক সেবুল মিয়া, যুগ্ম সম্পাদক রহিমুজ্জামান সুমন, নিউইয়র্ক সিটি যুবলীগের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি হেলাল উদ্দিন ও সাধারণ সম্পাদক আমিনুল হোসেন, যুগ্ম সম্পাদক শাহজাহান সিরাজ, ম্যানহাটান বরো যুবলীগের সভাপতি মনিরুল উদ্দিন ও সাধারণ সম্পাদক আজাদুল কবির, কুইন্স বরো যুবলীগের সভাপতি জামাল হোসেন, ব্রঙ্কস বরো যুবলীগের সভাপতি শাহীন কামালী ও সাধারণ সম্পাদক আব্দুল্লাহ আর রেজা, ব্রুকলীন বুরো যুবলীগের সভাপতি মহিউদ্দিন লুবু ও সাধারণ সম্পাদক মোশাররফ হোসেন প্রমুখ।
- নারীর ক্ষমতায়ন ও ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে বাংলাদেশ অঙ্গীকারবদ্ধ : ড. খলিলুর রহমান
- নিইউয়র্কে টাইমস স্কয়ারের মঙ্গল শোভাযাত্রায় যোগ দিচ্ছেন ম্যানহাটান বরো প্রেসিডেন্ট ব্র্যাড হোয়েলম্যান
- নিউইয়র্কে স্ট্রিট ভেন্ডরদের জন্য নতুন আইন কার্যকর; জেল শাস্তি বাতিল, আরোপ করা হবে জরিমানা
- New York Attorney General James Leads Bipartisan Coalition Suing Predatory Lender OneMain for Scheme to Trap Consumers in Debt
- নিউইয়র্ক স্টেট সিনেট হাউসে ‘বাংলাদেশ ডে’ উদযাপন ২৩ মার্চ : আহ্বায়ক কমিটি গঠন
- বাংলাদেশে আওয়ামীলীগসহ সকল রাজনৈতিক দলের স্বাভাবিক রাজনীতির পরিবেশ সৃষ্টি করার দাবি নিউজার্সি স্টেট আওয়ামী লীগের
- নিউইয়র্কে ‘অল কাউন্টি হেলথকেয়ার গ্রুপ’র বার্ষিক ইন্টারফেইথ ইফতার পার্টি
- HUSBAND CHARGED WITH MURDER AND DISMEMBERMENT OF WIFE WHOSE REMAINS WERE FOUND IN SEPARATE LOCATIONS ALONG BROOKVILLE BLVD AND CROSS BAY BLVD








