পরিবারতন্ত্রের রাজনীতিতে বিশ্বাসী নন বঙ্গবন্ধু নাতনি টিউলিপ
তানজির আহমেদ রাসেল, যুক্তরাজ্য থেকে: যুক্তরাজ্যের আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনে লন্ডনের হ্যাম্পস্টেড অ্যান্ড কিলবার্ন আসনে লেবার পার্টির মনোনীত প্রার্থী, বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের নাতনি টিউলিপ সিদ্দিক বলেছেন, পরিবারতন্ত্রের রাজনীতিতে বিশ্বাসী নন তিনি। বাংলাদেশে রাজনীতি করলে বলা হতো- ডায়নেস্টি পলিটিক্স, পারিবারিক উত্তরাধিকার সূত্রে এসেছি। তাই আমি বাংলাদেশী রাজনীতিতে নিজেকে জড়াইনি। এ দেশে যা করেছি তা নিজের শ্রম, মেধা ও যোগ্যতা দিয়ে করেছি। প্রার্থিতা নিশ্চিত হওয়ার পর বৃহস্পতিবার কিলবার্নের ফায়ার স্পাইস রেস্তরাঁয় বাংলা মিডিয়ার সঙ্গে এক সংবাদ সম্মেলনে এসব কথা বলেন তিনি। টিউলিপ বলেন, বৃটিশ পার্লামেন্টে এমপি নির্বাচিত হলে তিনি বাসস্থান, চিকিৎসা ও শিক্ষার উন্নয়নে কাজ করে যাবেন। তিনি বলেন, আমি একজন বৃটিশ, বাংলাদেশ আমার মাতৃভূমি। রাজনীতির সঙ্গে আমার পারিবারিক সম্পৃক্ততা ছোটবেলা থেকেই রাজনীতির প্রতি আমাকে আকৃষ্ট করেছে। টিউলিপ বলেন, এখানে এসে আমি প্রথমে কাউন্সিলার হলাম, সাবেক বৃটিশ প্রধানমন্ত্রী গর্ডন ব্রাউনের সঙ্গেও কাজ করেছি। বর্তমান বিরোধী দলীয় নেতা এড মিলিব্যান্ডসহ লেবার পার্টির সিনিয়র নেতাদের সান্নিধ্য, রোশনারা আলীর নির্বাচনী কাজে সম্পৃক্ততা আমাকে এ পর্যায়ে আসতে সাহায্য করেছে। টিউলিপ আশাবাদ ব্যক্ত করে বলেন, এড মিলিব্যান্ডের নেতৃত্বে আগামীতে বৃটেন বিভিন্ন সমস্যা কাটিয়ে উঠবে। হ্যাম্পস্টেড অ্যান্ড কিলবার্ন এলাকায় ছোটবেলায় তার বেড়ে ওঠার স্মৃতিচারণ করে টিউলিপ বলেন, বর্তমানেও আমি এই এলাকায় বসবাস করছি, তাই এ এলাকার জনগণের প্রতি আমার একটি দায়িত্ব রয়েছে। তিনি তার এ দায়িত্ব পালনে সকলের সহযোগিতা ও দোয়া কামনা করেন। সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত টিউলিপের মা শেখ রেহানা বলেন, আজ আমার খুব আনন্দের দিন। ১৯৭৫ সালের ১৫ই আগস্ট বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে সপরিবারে হত্যার পর আমি লন্ডন এসে এ নির্বাচনী এলাকায় উঠেছিলাম, এখনও এ এলাকায় আছি। এখানে জন্ম নেয়া টিউলিপ এ এলাকার প্রার্থী হয়ে পার্লামেন্ট নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবে এটা আমার জন্য অনেক বড় পাওয়া। তিনি বলেন, টিউলিপ নিজ যোগ্যতায় এতদূর এসেছে। অমুকের ভাগনি, অমুকের মেয়ে কিছুই না। আপনারা ওর জন্য দোয়া করবেন, যেন নানার (শেখ মুজিবুর রহমান) নাম রাখতে পারে। রাজনীতিতে সবকিছু সামলে নিয়ে, সৎভাবে থেকে টিউলিপ যেন মানুষের আস্থা অর্জন করতে পারে, মানুষের সেবায় নিজেকে নিয়োজিত করতে পারে, সেজন্য সকলের কাছে দোয়া ও সহযোগিতা চান শেখ রেহানা। উল্লেখ্য, ইংরেজি সাহিত্য এবং পলিটিক্স, পলিসি অ্যান্ড গর্ভমেন্টের উপর মাস্টার্স ডিগ্রি অর্জনকারী টিউলিপ সিদ্দিক আগামী ২০১৫ সালে বৃটেনের সাধারণ নির্বাচনে হ্যামস্টেড অ্যান্ড কিলবার্ন এলাকা থেকে লেবার পার্টির হয়ে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবেন। সমপ্রতি লন্ডনের হ্যামস্টেড অ্যান্ড কিলবার্ন এলাকার লেবার পার্টির সদস্যরা তাকে ভোট দিয়ে আগামী পার্লামেন্ট নির্বাচনে দলের প্রার্থী হিসেবে মনোনীত করেন। টিউলিপ ২০১০ সালের মে মাসে ক্যামডেন রিজেন্ট পার্ক ওয়ার্ডের প্রথম বাঙালি মহিলা কাউন্সিলর নির্বাচিত হন। বর্তমানে তিনি লেবার পার্টির ইয়ং লেবার অফিসার হিসেবে কাজ করছেন। সমপ্রতি বৃটেনের রোনাল্ড বার্জার স্ট্র্যাটেজি কনসালটেন্টসে পলিসি এডভাইজার হিসেবে কর্মরত শ্বেতাঙ্গ ক্রিশ্চিয়ান জন পার্সি ক্রিসকে বিয়ে করেছেন টিউলিপ। বিয়েতে শেখ হাসিনাসহ বঙ্গবন্ধু পরিবারের প্রায় সকল সদস্য উপস্থিত ছিলেন।মানবজমিনসর্বশেষ সংবাদ
- নিউইয়র্কে চিটাগাং অ্যাসোসিয়েশন অফ আমেরিকা’র সংবাদ সম্মেলন: সংগঠনের বিরুদ্ধে চলমান মামলার নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত কোন নির্বাচন নয়
- যুক্তরাষ্ট্র প্রবাসী বাংলাদেশীদের মূলধারার ব্যবসা-বাণিজ্য রাজনীতির সঙ্গে সম্পৃক্ত হওয়ার আহ্বান প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা ড. তিতুমীরের
- নিউইয়র্কে বাংলাদেশ সেমিট্রির কবরে মরদেহ সমাহিত করা যাবে ১ জুলাই থেকে
- যুক্তরাষ্ট্রের বিনিয়োগকারীদের জন্যে বাংলাদেশ এখন সবচেয়ে কার্যকর ও উপযোগী দেশ: প্রধানমন্ত্রীর অর্থনীতি ও পরিকল্পনা উপদেষ্টা ড. তিতুমীর
- নিউ জার্সির আটলান্টিক সিটিতে মেয়র মার্টি স্মল সিনিয়র স্কলারশিপ প্রোগ্রাম, আবেদন জমা দেওয়ার শেষ সময় ১৫ জুন
- নিউইয়র্কে মুনার ঈদ পুনর্মিলনী
- নিউইয়র্কে বাংলাদেশী ডক্টর ফোরাম অব নর্থ আমেরিকা’র উদ্যোগে ডা. ডোনার ও ডা. হারুন সংবর্ধিত
- নিউইয়র্ক স্টেট ডেমোক্র্যাটিক প্রাইমারী নির্বাচনে এসেম্বলিম্যান প্রার্থী জাকির চৌধুরীর ‘কমিউনিটি র্যালি’