বাংলাদেশে ‘৬ মাসে নিরাপত্তা বাহিনীর হাতে ১৫০ জন নিহত’ : নিউ ইয়র্কভিত্তিক আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থা হিউম্যান রাইটস ওয়াচ
ডেস্ক: বাংলাদেশে গত ফেব্রুয়ারি মাস থেকে নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্যদের হাতে প্রাণ হারিয়েছেন ১৫০ জন। যুদ্ধাপরাধের বিচার চলাকালীন রায়ের বিরুদ্ধে অবস্থান নেয়া বিক্ষোভকারীদের ওপর অতিরিক্ত শক্তি প্রয়োগ করে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা। নিউ ইয়র্কভিত্তিক আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থা হিউম্যান রাইটস ওয়াচের (এইচআরডব্লিউ) এক প্রতিবেদনে বলা হচ্ছে, সড়কে অবস্থান সমাবেশে, র্যালিতে ও এমনকি কোন কোন ক্ষেত্রে সুনির্দিষ্টভাবে কোন ব্যক্তিকেও টার্গেট করা হয়েছে। আহত হয়েছেন ২ হাজারেরও বেশি বিক্ষোভকারী। ‘ব্লাড অন দ্য স্ট্রিটস: দ্য ইউজ অব এক্সেসিভ ফোর্স ডিউরিং বাংলাদেশ প্রোটেস্টস’ শিরোনামে প্রতিবেদনটি প্রকাশ করেছে হিউম্যান রাইটস ওয়াচ। এ খবর দিয়েছে বার্তা সংস্থা এএফপি। প্রতিবেদনের সহ-লেখক মার্ক ডামেট বিক্ষোভকারীদের হত্যার ঘটনাটি গভীর উদ্বেগের বলে মন্তব্য করেছেন। তিনি বলেছেন, কোন কোন ক্ষেত্রে বিক্ষোভকারীদের একজন একজন করে বেছে নেয়া হয়েছে। এদিকে এ প্রতিবেদনটি এমন সময় প্রকাশিত হলো যখন দেশটির হাইকোর্ট বাংলাদেশের সর্ববৃহৎ ইসলামপন্থী দলে বৈধতার ব্যাপারে রায় ঘোষণা করবে। এ রায় বিক্ষোভকে পুনরায় উস্কে দেবে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। গত ফেব্রুয়ারিতে জামায়াতে ইসলামীর নেতৃত্বে সারা দেশে বিক্ষোভ শুরু হয়। যুদ্ধাপরাধের অভিযোগে দলটির শীর্ষ নেতাদের বিচার ও রায় ঘোষণার প্রেক্ষিতে এ বিক্ষোভ শুরু হয়। এক পর্যায়ে নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্যদের সঙ্গে জামায়াতের নেতা-কর্মী-সমর্থকদের রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষ হয়। স্বাধীনতার পর এটাই সবচেয়ে বড় ধরনের সহিংসতার ঘটনা। এ পর্যন্ত আন্তর্জাতিক যুদ্ধাপরাধ ট্রাইব্যুনালে ৬ ইসলামপন্থী নেতাকে দোষী সাব্যস্ত করা হয়েছে। এর মধ্যে ৪ জনকে মৃত্যুদ- দেয়া হয়েছে। পুলিশ ও সরকারি কর্মকর্তারা বিক্ষোভের সময় নিহতের প্রকৃত সংখ্যাকে চাপা দেয়ার চেষ্টা করেছেন। আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যদের ওপর হামলা ও রাস্তায় অরাজকতা সৃষ্টির জন্য ইসলামপন্থীদের তীব্র সমালোচনা করেছেন। নিরাপত্তা বাহিনীর কমপক্ষে ১২ কর্মকর্তাও নিহত হয়েছেন বিক্ষোভের সময়। ৯৫টি সাক্ষাৎকারের ওপর ভিত্তি করে হিউম্যান রাইটস ওয়াচের প্রতিবেদনটি তৈরি করা হয়েছে। আহত ব্যক্তি ও তাদের পরিবারের সদস্যদের সাক্ষাৎকারও নেয়া হয়েছে। সাক্ষাৎকার নেয়াদের মধ্যে ১২ বছরের একটি ছেলেও ছিল। ছেলেটি নিরাপত্তা বাহিনীর এক কর্মকর্তার কথা উল্লেখ করে বলছিল, তিনি আমার বুক লক্ষ্য করে রবার বুলেট ছুঁড়লেও, ৬টি রবার বুলেট আমার মুখে আঘাত করে। সে জানায়, যে গুলিটি করেছিল, সে আমার কাছ থেকে প্রায় ২ মিটার দূরে দাঁড়িয়ে ছিল। এরপর আমি মরার ভান করি ও অন্য মৃতদেহের সঙ্গে তারা আমাকেও ফেলে রেখে যায়। বাংলাদেশে সামনের মাসগুলোতে যুদ্ধাপরাধেরও আরও রায় ঘোষণা করা হবে ও সাধারণ নির্বাচন হতে মাত্র ৫ মাস বাকি। এইচআরডব্লিউ আরও ভয়াবহ আকারে বিক্ষোভ ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কা করছে। মানবাধিকার সংগঠনটির এশিয়া অঞ্চলের পরিচালক ব্র্যাড অ্যাডামস বলেন, নিরাপত্তা বাহিনীকে নিয়ন্ত্রণে সরকার এখনই শক্ত কোন পদক্ষেপ না গ্রহণ করলে, বছর শেষ হওয়ার আগে বহু মানুষের রক্তে রঞ্জিত হবে রাজপথ। প্রাথমিক পর্যায়ে বিক্ষোভটি ট্রাইব্যুনালকে ঘিরে হলেও, মে মাসে আরও কয়েকটি কট্টরপন্থী ইসলামী সংগঠন বিক্ষোভে যোগ দেয়। এইচআরডব্লিউ জানায়, নতুন ইসলামপন্থী সংগঠনের ওপর সরকার দমন-পীড়ন চালালে কমপক্ষে ৫০ জন নিহত হয়। সরকারের পক্ষ থেকে দাবি করা হয়, ওই সহিংসতার সময় ১১টি মৃতদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। মানবজমিন
- New York Attorney General James Announces Election Protection Hotline Ahead of November General Election
- ASAAL’s 19th Annual Convention Draws Nearly 500, Calls for Stronger Civic Engagement and Workers’ Rights
- নিউইয়র্কে ট্রাফিক এজেন্ট ইউনিয়নের সভায় দুই বাংলাদেশি নেতাকে ঘিরে সংঘর্ষ, আসন্ন নির্বাচন ঘিরে নেতৃত্বের বিরোধ প্রকাশ্যে
- দেহের মেহরাবে অনন্তের দীপ
- নিউইয়র্কে বাংলাদেশ সোসাইটির নির্বাচন স্থগিতের প্রতিবাদে ব্রঙ্কসে ‘সেলিম-আলী’ পরিষদের সমাবেশ; মামলার কারণে আর্থিক ক্ষতি ও ভোটাধিকার ব্যাহত হওয়ার অভিযোগ
- নিউইয়র্কে আ্যসালের ১৯তম বার্ষিক কনভেনশন অনুষ্ঠিত; শ্রমিক অধিকার, নাগরিক ক্ষমতায়ন ও রাজনৈতিক প্রতিনিধিত্ব নিশ্চিতের অঙ্গীকার
- নিউইয়র্কে আদালতের নিষেধাজ্ঞায় স্থগিত বাংলাদেশ সোসাইটির নির্বাচন; ওসমান চৌধুরীর সদস্যপদ প্রত্যাখ্যান নিয়ে মামলা, ৫ নভেম্বর পরবর্তী শুনানি; সংবাদ সম্মেলনে আইনি পরিস্থিতি তুলে ধরল নির্বাচন কমিশন
- হানি ট্র্যাপে হত্যার অভিযোগ, সাগরের মামলা পিবিআইতে দেওয়ার দাবি পরিবারের; প্রধান আসামির জামিনে উদ্বেগ, দ্রুত গ্রেপ্তার ও সুষ্ঠু তদন্তের আহ্বান