Thursday, 19 March 2026 |
শিরোনাম
নারীর ক্ষমতায়ন ও ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে বাংলাদেশ অঙ্গীকারবদ্ধ : ড. খলিলুর রহমান নিইউয়র্কে টাইমস স্কয়ারের মঙ্গল শোভাযাত্রায় যোগ দিচ্ছেন ম্যানহাটান বরো প্রেসিডেন্ট ব্র্যাড হোয়েলম্যান নিউইয়র্কে স্ট্রিট ভেন্ডরদের জন্য নতুন আইন কার্যকর; জেল শাস্তি বাতিল, আরোপ করা হবে জরিমানা New York Attorney General James Leads Bipartisan Coalition Suing Predatory Lender OneMain for Scheme to Trap Consumers in Debt নিউইয়র্ক স্টেট সিনেট হাউসে ‘বাংলাদেশ ডে’ উদযাপন ২৩ মার্চ : আহ্বায়ক কমিটি গঠন বাংলাদেশে আওয়ামীলীগসহ সকল রাজনৈতিক দলের স্বাভাবিক রাজনীতির পরিবেশ সৃষ্টি করার দাবি নিউজার্সি স্টেট আওয়ামী লীগের নিউইয়র্কে ‘অল কাউন্টি হেলথকেয়ার গ্রুপ’র বার্ষিক ইন্টারফেইথ ইফতার পার্টি HUSBAND CHARGED WITH MURDER AND DISMEMBERMENT OF WIFE WHOSE REMAINS WERE FOUND IN SEPARATE LOCATIONS ALONG BROOKVILLE BLVD AND CROSS BAY BLVD নিউইয়র্কে জ্যাকসন হাইটসের গ্রাফিক্স ওয়ার্ল্ডে মাসব্যাপী ইফতার আয়োজন নিউইর্য়কে এনওয়াইপিডি মুসলিম অফিসার সোসাইটির বার্ষিক ইফতার ডিনার ও অ্যাওয়ার্ড অনুষ্ঠিত
সব ক্যাটাগরি

গ্রামীণ ব্যাংককে টুকরো করতে দেয়া হবে না: নোবেলজয়ী ড. ইউনূস

অনলাইন ডেস্ক পঠিত: 127 বার

প্রকাশিত: August 2, 2013 | 3:04 PM

নোবেলজয়ী ড. মুহাম্মদ ইউনূস অভিযোগ করেছেন, গ্রামীণ ব্যাংক নিয়ে খেলা শুরু করেছে সরকার। তিনি বলেন, এখন সরকার এ ব্যাংককে  ১৯ টুকরো করতে চায়। কিন্তু গরিব মানুষের এ সম্পদ রক্ষায় দেশবাসী ঐক্যবদ্ধ। অবিলম্বে সরকারকে এ অবাস্তব চিন্তাভাবনা থেকে সরে আসার আহ্বান জানান তিনি। তিনি বলেন, সরকার সারা দেশের নির্বাচনের ঠেলাই সামলাতে পারছে না, তারা কিভাবে গ্রামীণ ব্যাংক নিয়ে খেলতে চায়? গতকাল রাজধানীর ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউশনে গণসংবর্ধনা উদযাপন কমিটি আয়োজিত যুক্তরাষ্ট্রের সর্বোচ্চ কংগ্রেশনাল গোল্ড মেডেলপ্রাপ্তি উপলক্ষে ড. ইউনূসকে গণসংবর্ধনা প্রদান অনুষ্ঠানে তিনি এ মন্তব্য করেন। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন ভাষাসৈনিক আবদুল মতিন। এ ছাড়াও উপস্থিত ছিলেন বিশিষ্ট আইনজীবী ব্যারিস্টার রফিক-উল হক, ব্রিগেডিয়ার (অব.) মঞ্জুর কাদের, সাবেক সচিব এম মনিরুজ্জামান। এতে মানপত্র পাঠ করেন উদযাপন কমিটির আহ্বায়ক মেজর (অব.) এম এম মেহবুব রহমান। অনুষ্ঠান পরিচালনা করেন সংগঠনের সদস্য সচিব সৈয়দ মোজাম্মেল হোসেন শাহীন। গ্রামীণ ব্যাংকের ওপর আক্রমণকে পীড়াদায়ক উল্লেখ করে ড. ইউনূস বলেন, যার মাধ্যমে দেশের এতো পরিচিতি ও সমৃদ্ধি, তাকে ১৯ টুকরো করার ব্যাপারে সরকারের চিন্তাভাবনা সত্যিই দুঃখজনক। গ্রামীণ ব্যাংক বিষয়ে সরকার গঠিত কমিশনের সমালোচনা করে তিনি বলেন, গ্রামীণ ব্যাংক নিয়ে সরকার কমিশন গঠন করেছে। এ কমিশন দীর্ঘদিন গ্রামীণ ব্যাংক নিয়ে কাজ করেছে। কিন্তু এরই মধ্যে গ্রামীণ ব্যাংক ভাঙার বিরোধিতা করে দেশজুড়ে বিক্ষোভ, মানববন্ধন ও প্রতিবাদ হয়েছে। কিন্তু কমিশন থামেনি। এখন শুনছি, কমিশন রিপোর্ট দেবে, গ্রামীণ ব্যাংক ভেঙে ১৯ টুকরো করবে। তিনি প্রশ্ন রেখে বলেন, আমরা কি জেগে আছি না দুঃস্বপ্ন দেখছি? এ দুঃস্বপ্নের শেষ কোথায়? যে রাজনৈতিক দল বা মতাদর্শই হোক কিংবা ব্যক্তি আক্রোশ বা প্রতিহিংসা থাকুক না কেন, গ্রামীণ ব্যাংক তার স্বাভাবিক কর্মকাণ্ড চালিয়ে যাবে। জনগণকে সঙ্গে নিয়ে সব ষড়যন্ত্র প্রতিহত করা হবে। এ সময় ড. ইউনূস গ্রামীণ ব্যাংকের কর্মী-সমর্থক ও শুভানুধ্যায়ীদের এ দুঃস্বপ্ন শেষ না হওয়া পর্যন্ত পাশে থাকার আহ্বান জানান। গ্রামীণ ব্যাংকের নির্বাচন প্রসঙ্গে ড. ইউনূস বলেন, এখন নাকি তারা গ্রামীণ ব্যাংকের নির্বাচন নিয়ে তৎপরতা চালাচ্ছে। প্রত্যেক জেলার সিনিয়র ডিসিকে রিটার্নিং অফিসার করে সরকার এখন গ্রামীণ ব্যাংকের নির্বাচন করতে চায়। কি এক অদ্ভুত সিদ্ধান্ত। তিনি বলেন, গ্রামীণ ব্যাংক সরকারি কোন সংগঠন নয়। এটা ব্যক্তি উদ্যোগের প্রতিষ্ঠান। পেশাজীবী সংগঠনগুলোতে সরকার যদি এভাবে নির্বাচন দেয়, তাহলে দেশের কি অবস্থা হবে? সব মিলিয়ে গ্রামীণ ব্যাংকের এখন দুঃসময় চলছে। দেশের গরিব মানুষের এ সম্পদ রক্ষায় সবাইকে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহ্বান জানিয়ে ড. ইউনূস বলেন, যতদিন এ দুঃসময় চলবে, ততদিন এর পাশে দাঁড়াতে হবে। তিনি আরও বলেন, সারা দেশে গ্রামীণ ব্যাংকের দুই হাজার ছয় শ শাখা ছড়িয়ে-ছিটিয়ে রয়েছে। এ ব্যাংকের কর্মতৎপরতা গোপন কিছু নয়। এখন হঠাৎ করে গ্রামীণ ব্যাংক ভেঙে দেয়ার সিদ্ধান্ত কেন? শান্তিতে নোবেল বিজয়ী এ ব্যক্তিত্ব বলেন, গ্রামীণ ব্যাংক বিশ্বের কাছে আজ যে মডেল হয়েছে, সম্মান স্বীকৃতি পেয়েছে, এর পুরো কৃতিত্ব গ্রামীণ ব্যাংকের ৮৪ লাখ সদস্যের। মহাজনি ঋণের দৌরাত্ম্য থেকে গরিব মানুষকে উদ্ধার করতেই এ ক্ষুদ্রঋণ কার্যক্রম চালু হয়। তিনি বলেন, দেখতে দেখতে এটি ৩৭ বছর পেরিয়েছে। এক-দেড় হাজার টাকার ঋণ এখন প্রতি মাসে হাজার কোটি হিসেবে বছরে ১২ হাজার কোটি টাকা লেনদেন হচ্ছে। বর্তমানে এ ৮৪ লাখ ঋণগ্রহীতার আট হাজার কোটি টাকার সম্পদ রয়েছে। এ সম্পদ অর্জনে সরকার বা কোন ব্যাংকের কাছ থেকে ঋণ নেয়া হয়নি। এ সম্পদের উৎস গ্রামীণ ব্যাংকের সদস্যদের সঞ্চয়, যা থেকে এ সদস্যের ছেলেমেয়েদের ৩০০ কোটি টাকা শিক্ষাঋণ দেয়া হচ্ছে। এখান থেকে এ পর্যন্ত ৫৫ হাজার শিক্ষার্থী ঋণ নিয়ে ডাক্তার, ইঞ্জিনিয়ারসহ বিভিন্ন পেশায় প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। 

গণসংবর্ধনা কমিটির আহ্বায়ক ও প্রাক্তন সৈনিক সংস্থার চেয়ারম্যান এম এম মেহবুব রহমান গ্রামীণ ব্যাংকের এ প্রতিষ্ঠাতাকে ‘বাংলার মুকুট’ নামে ভূষিত করে বলেন, অধ্যাপক ইউনূস বিশ্বজুড়ে বাংলাদেশের মানুষের সম্মান অনেক দূর বাড়িয়েছেন। ফলে তিনি বাংলার মানুষের কাছে মুকুটের আসনে রয়েছেন। অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন গণস্বাস্থ্য কেন্দ্রের প্রতিষ্ঠাতা জাফরুল্লাহ চৌধুরী, সাংবাদিক সাদেক খান, সাবেক সংসদ সদস্য হাফিজ ইব্রাহিম, নাজিমউদ্দিন আলম, জাতীয়তাবাদী আইনজীবী সমিতির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক সানাউল্লাহ মিয়া প্রমুখ।মানবজমিন

ট্যাগ:
সর্বশেষ সংবাদ
Advertisements
karnafully1
TEKSERV

Situs Streaming JAV