নিউইয়র্ক টাইমসের সম্পাদকীয় :গ্রামীণ ব্যাংককে লক্ষ্যবস্তু করেছে বাংলাদেশ সরকার
New-York-Times. যুক্তরাষ্ট্রের দৈনিক‘নিউইয়র্ক টাইমস’-এ গতকাল মঙ্গলবার প্রকাশিত সম্পাদকীয়তে বাংলাদেশ সরকারের কাজের সমালোচনা করে বলা হয়েছে, সরকার গ্রামীণ ব্যাংককে আক্রমণের লক্ষ্যবস্তুতে পরিণত করেছে।
পত্রিকাটিতে আরও বলা হয়, গ্রামীণ ব্যাংকে ভেঙে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষেত্রে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ‘এ কথা পরিষ্কার করে জানাননি, যে ঋণদাতা প্রতিষ্ঠানটি থেকে দেশের লাখ লাখ নারী উপকৃত হয়েছে, তিনি কেন এটিকে তুলে দিতে চান।’
তবে, বাংলাদেশের অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত আজ বুধবার ঢাকায় এক অনুষ্ঠানে বলেছেন, ‘ড. ইউনূস গ্রামীণ ব্যাংক নিয়ে প্রায়শ দুটি কথা বলেন। সরকার গ্রামীণ ব্যাংককে জোর করে নিয়ে যাচ্ছে। সরকার এটা করছে, ওটা করছে। এই কথাগুলো তাঁর (ইউনূসের) মস্তিষ্কপ্রসূত। এটা আটারলি ননসেন্স।’
‘নিউইয়র্ক টাইমস’-এর সম্পাদকীয় বলা হয়, ইউনূসের রাজনৈতিক আকাঙ্ক্ষায় ঈর্ষান্বিত হয়ে শেখ হাসিনা গ্রামীণ ব্যাংককে খণ্ডবিখণ্ড করতে চান। বাংলাদেশের লাখ লাখ দরিদ্র নারীর ভাগ্যে পরিবর্তন আনতে ব্যাংকটির গুরুত্বের কথা বিবেচনা করে ব্যাংকটি ভাঙার সিদ্ধান্ত না নিতে আইনপ্রণেতাদের আহ্বান জানিয়েছে পত্রিকাটি।
সম্পাদকীয়তে বলা হয়, ব্যাংকটিকে ‘জাতীয়করণে এতে রাজনৈতিক হস্তক্ষেপের সুযোগ তৈরি হবে। ফলে ব্যাংকটি অস্থিতিশীল হয়ে যাবে এবং মূল লক্ষ্য থেকে বিচ্যুত হবে। ব্যাংকটি ভেঙে দিলে এর কর্মসূচিও ব্যাহত হবে এবং দেশের গুরুত্বপূর্ণ প্রতিষ্ঠানটি বিলুপ্ত করার মধ্য দিয়ে সরকারের কর্মকৌশলই চ্যালেঞ্জের মুখে পড়বে।’
বাংলাদেশের খবরের কাগজের বরাত দিয়ে পত্রিকাটি বলেছে, গ্রামীণ ব্যাংকের তদারককারী সরকারি প্রতিষ্ঠানটি খুব শিগগির একটি প্রতিবেদন দাখিল করবে। তাতে ব্যাংকটির বিষয়ে তিন ধরনের সুপারিশ করা হবে। এর অন্যতম হলো, ব্যাংকটিকে ভেঙে দেওয়া।
পত্রিকাটি আরও লিখেছে, ‘কিছু রাজনৈতিক বিশ্লেষকের ধারণা, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এ বছরের শেষ অনুষ্ঠেয় জাতীয় নির্বাচনের আগে এসব সুপারিশ অনুযায়ী কোনো পদক্ষেপ নেবেন না। কারণ, তাতে অনেক ঋণগ্রহীতা ও ব্যাংক কর্মচারী ক্ষেপে গিয়ে তাঁর (হাসিনার) বিরুদ্ধে প্রচার শুরু করতে পারেন এবং ভোটও দিতে পারেন তাঁর বিরুদ্ধে।’
ঢাকার অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখতে গিয়ে অর্থমন্ত্রী আবদুল মুহিত আজ জানিয়েছেন, গ্রামীণ ব্যাংকের মালিকানা কিংবা ব্যবস্থাপনা-শৈলীতে কোনো পরিবর্তন করার ইচ্ছা সরকারের নেই। তবে পরিচালনা পর্ষদের পরিচালক নির্বাচনের বিধিমালায় শিগগিরই পরিবর্তন আসবে। তিনি আরও জানান, গ্রামীণ ব্যাংকে সরকারের শেয়ারের পরিমাণ ২৫ শতাংশই থাকবে।
‘নিউইয়র্ক টাইমস’-এ প্রকাশিত সম্পাদকীয়টির অনুবাদ:
‘বাংলাদেশ সরকার খ্যাতনামা গ্রামীণ ব্যাংককে জাতীয়করণ করার ও ভেঙে দেওয়ার চিন্তাভাবনা করছে। এ ব্যাংকটি ব্যবসায় আগ্রহী দরিদ্র নারীদের ক্ষুদ্রঋণ দিয়ে থাকে। আইনপ্রণেতাদের উচিত এ ধরনের ধ্বংসাত্মক চিন্তা বাদ দেওয়া এবং আট কোটি ৪০ লাখ গ্রামীণ নারীর সেবায় নিয়োজিত গুরুত্বপূর্ণ আর্থিক প্রতিষ্ঠানটিতে অকারণে হস্তক্ষেপের চেষ্টা প্রতিহত করা।
গত দু বছরে শেখ হাসিনার সরকার গ্রামীণ ব্যাংক ও এর প্রতিষ্ঠাতা মুহাম্মদ ইউনূসের বিরুদ্ধে ব্যাপক প্রচারণা চালাচ্ছে। ইউনূস ২০০৬ সালে শান্তিতে নোবেল জিতেছিলেন। তাঁর প্রতি হাসিনার আচরণ থেকে এটি প্রতীয়মান হয়েছে যে, ২০০৭ সালে ইউনূস ক্ষমতায় যাওয়ার যে আকাঙ্ক্ষা ব্যক্ত করেছিলেন, সেটির প্রতিক্রিয়া হিসেবে হাসিনা এসব করছেন। যদিও ইউনূস এরপর সে পথ আর মারাননি।
২০১১ সালে তাঁর (হাসিনার) লোকেরা ইউনূসকে ব্যাংকটির ব্যবস্থাপনা পরিচালকের পদ থেকে অপসারণে চেষ্টা শুরু করেন। তাঁদের অজুহাতে ছিল ইউনূস অনেক অগেই অবসরে যাওয়ার বয়সে (৬০ বছর) পৌঁছে গেছেন, তাই তাঁর পদত্যাগ করা উচিত। যদিও ব্যাংক নিয়ন্ত্রকেরা (বাংলাদেশ ব্যাংক) এর আগে ইউনূসকে ওই বয়সসীমা পেরোনোর পরও দায়িত্ব চালিয়ে যাওয়ার অনুমতি দিয়েছিলেন।
এরপর সরকার ব্যাংকটিতে তদন্ত শুরু করে। সরকার এখন ব্যাংকটিকে অধিগ্রহণ করে ১৯টি আঞ্চলিক ঋণদাতা প্রতিষ্ঠানে বিভক্ত করতে চাইছে। অথচ ব্যাংকটির অধিকাংশ শেয়ারের মালিক এর ঋণগ্রহীতারা।
ইউনূস সত্তরের দশকে ক্ষুদ্রঋণের মডেলটি প্রবর্তন করেন। যদিও সাম্প্রতিক বছরগুলোতে গ্রামীণ ব্যাংকের বাইরে বেশকিছু ঋণদাতা প্রতিষ্ঠানের বিতর্কিত আচরণের কারণে ক্ষুদ্রঋণের বিষয়টি খ্যাতি হারিয়েছে, তবুও এটি বাংলাদেশের দারিদ্র্য মোচনে এখনো গুরুত্বপূর্ণ। বিশ্বব্যাংকের মতে, এ প্রতিষ্ঠানটি বিশ্বের, বিশেষত বাংলাদেশের লাখ লাখ দরিদ্র নারীকে তাঁদের ব্যবসা শুরু ও অব্যাহত রাখায় সাহায্য করেছে।
গ্রামীণের জাতীয়করণে এতে রাজনৈতিক হস্তক্ষেপের সুযোগ তৈরি হবে। ফলে ব্যাংকটি অস্থিতিশীল হয়ে যাবে এবং মূল লক্ষ্য থেকে বিচ্যুত হবে। ব্যাংকটি ভেঙে দিলে এর কর্মসূচিও ব্যাহত হবে এবং দেশের গুরুত্বপূর্ণ প্রতিষ্ঠানটি বিলুপ্ত করার মধ্য দিয়ে সরকারের কর্মকৌশলই চ্যালেঞ্জের মুখে পড়বে।
স্থানীয় পত্রপত্রিকায় প্রকাশিত খবরে জানা গেছে, গ্রামীণ ব্যাংকের তদারককারী সরকারি প্রতিষ্ঠানটি সম্ভবত আসছে সপ্তাহে সরকারের কাছে একটি প্রতিবেদন জমা দেবে এবং তাতে তিনটি ভিন্ন সুপারিশ থাকবে। এর অন্যতম হলো ব্যাংকটি জাতীয়করণ করে ভেঙে দেওয়া। কিছু রাজনৈতিক বিশ্লেষকের ধারণা, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এ বছরের শেষ অনুষ্ঠেয় জাতীয় নির্বাচনের আগে এসব সুপারিশ অনুযায়ী কোনো পদক্ষেপ নেবেন না। কারণ তাতে অনেক ঋণগ্রহীতা ও ব্যাংক কর্মচারী ক্ষেপে গিয়ে তাঁর (হাসিনার) বিরুদ্ধে প্রচার শুরু করতে পারেন এবং ভোটও দিতে পারেন তাঁর বিরুদ্ধে।
এছাড়া, প্রধানমন্ত্রী তাঁর সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষেত্রে এ কথা পরিষ্কার করে জানাননি, যে ঋণদাতা প্রতিষ্ঠানটি থেকে দেশের লাখ লাখ নারী উপকৃত হয়েছে, তিনি কেন এটিকে তুলে দিতে চান।’প্রথম আলো
- নিউইয়র্কে জাতিসংঘ ফোরামে মানবিক সহায়তা জোরদার ও শান্তি প্রতিষ্ঠায় নারীর নেতৃত্ব বৃদ্ধির আহ্বান বাংলাদেশের
- বাংলাদেশের সাবেক মন্ত্রী ও আওয়ামী লীগের উপদেষ্টা পরিষদের সদস্য তোফায়েল আহমেদ স্মরণে নিউইয়র্কে বৃহত্তর বরিশালবাসীর দোয়া মাহফিল ও আলোচনা সভা
- নিউইয়র্কে চিটাগাং অ্যাসোসিয়েশন অফ আমেরিকা’র সংবাদ সম্মেলন: সংগঠনের বিরুদ্ধে চলমান মামলার নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত কোন নির্বাচন নয়
- যুক্তরাষ্ট্র প্রবাসী বাংলাদেশীদের মূলধারার ব্যবসা-বাণিজ্য রাজনীতির সঙ্গে সম্পৃক্ত হওয়ার আহ্বান প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা ড. তিতুমীরের
- নিউইয়র্কে বাংলাদেশ সেমিট্রির কবরে মরদেহ সমাহিত করা যাবে ১ জুলাই থেকে
- যুক্তরাষ্ট্রের বিনিয়োগকারীদের জন্যে বাংলাদেশ এখন সবচেয়ে কার্যকর ও উপযোগী দেশ: প্রধানমন্ত্রীর অর্থনীতি ও পরিকল্পনা উপদেষ্টা ড. তিতুমীর
- নিউ জার্সির আটলান্টিক সিটিতে মেয়র মার্টি স্মল সিনিয়র স্কলারশিপ প্রোগ্রাম, আবেদন জমা দেওয়ার শেষ সময় ১৫ জুন
- নিউইয়র্কে মুনার ঈদ পুনর্মিলনী