জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৬৮তম অধিবেশন : সামনে ওবামা পেছনে লি মাঝে হাসিনা
![]() |
জাতিসংঘ, নিউইয়র্ক: জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৬৮তম অধিবেশন কক্ষে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীর সামনের আসনেই বসবেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট। আর ঠিক পেছনের আসনটিতে বসবেন চিনা প্রধানমন্ত্রী। বৃহস্পতিবার অধিবেশন কক্ষের আসন বিন্যাসে তেমনটিই দেখা গেছে।
জাতিসংঘের মূলভবনে সংস্কার কাজের কারণে নর্থ লনের অস্থায়ী ভবনে সাধারণ অধিবেশনের যে আয়োজন চলছে তাতে ভবনের দুটি হলরুমকে একত্রিত করেই মূল অধিবেশন কক্ষ সাজানো হয়েছে।
সার্বক্ষণিক তদারকিতে রয়েছেন এমনই একজন নাম প্রকাশে বিধি-নিষেধের কথা জানিয়ে বাংলানিউজকে বললেন, হলরুমটির সাজসজ্জা চূড়ান্ত করতে আরও দুই-একদিন সময় লেগে যাবে।
নর্থ লন হলে ঘুরে দেখা গেলো অধিবেশন কক্ষে সবগুলো দেশের নেমপ্লেট বসিয়ে আসন বিন্যাস চূড়ান্ত করা হয়েছে। হলরুমে মূল মঞ্চ তৈরির কাজ অনেকটাই শেষ বলে জানালেন সেখানে কর্মরতদের একজন। মঞ্চের পেছনের দিকটা মূল অ্যাসেম্বলি হলের আদলেই তৈরি করা হয়েছে। পেছনে উঁচু সোনালী বোর্ডের ওপর সোনালী রংয়ের জাতিসংঘ প্রতীক। সামনে সবুজ গ্রানাইড পাথরের উঁচু ব্যাকগ্রাউন্ডে মূল ডায়াস। যেখানে দাঁড়িয়ে বক্তব্য রাখবেন বিশ্ব নেতারা।
সামনে তিনটি ভাগে সারি সারি চেয়ার ও ডেস্ক বসিয়ে করা হয়েছে রাষ্ট্রপ্রধান ও সরকার প্রধানদের বসার ব্যবস্থা। বাংলাদেশের সরকার প্রধান শেখ হাসিনা বসবেন মূল মঞ্চের বামদিকের ৮ম সারির প্রথম আসনটিতেই। ৭ম সারির প্রথম আসনটি বরাদ্দ হয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামার জন্য। ৯ম সারির প্রথম আসনে বসবেন চিনা প্রধানমন্ত্রী লি কেকিয়াং। দুই পরাশক্তির মাঝখানে প্রধানমন্ত্রীর আসনটি পড়ে যাওয়ার বিষয়টিকে বাংলাদেশের বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতির সঙ্গে মিলিয়ে দেখার চেষ্টা করছেন অনেকেই।
মূল অধিবেশন কক্ষে বসানো হয়েছে অন্তত ১০টি মেগাস্ক্রিন। যাতে বিশ্ব নেতারা তাদের নিজ নিজ আসন থেকে মূল মঞ্চের কার্যক্রম সহজেই দেখতে পারেন।
অধিবেশন কক্ষের পাশেই করিডোরের দেওয়াল জুড়ে বসানো হয়েছে জাতিসংঘ সাধারণ অধিবেশনের সভাপতিদের ছবি। তার মাঝেই চোখে পড়লো বাংলাদেশের সাবেক পররাষ্ট্রমন্ত্রী ও কূটনীতিক প্রয়াত হুমায়ূন রশীদ চৌধুরীর ছবিটিও। বিশাল দেওয়ালে খুঁজে পাওয়া গেলো এক টুকরো বাংলাদেশকে।
গোটা নর্থ লন ভবন জুড়েই দেখা গেলো ব্যস্ততা। আয়োজনের পরেও শেষ ছোঁয়াটুকু দেওয়ার চেষ্টা, যাতে কোথাও কোনো খুঁত না থাকে। বড় বড় আর্টওয়ার্ক বসানো হয়েছে দেওয়াল জুড়ে। যে পথটি দিয়ে বিশ্ব নেতারা অধিবেশন কক্ষে ঢুকবেন তার সামনে বসানো হয়েছে ভাস্কর্য।
কাজ তদারকীতে ন্যস্ত ওই নারী কর্মকর্তা বাংলানিউজকে আরও জানালেন, এবারের মূল অধিবেশন কক্ষে কোনো দর্শক ও সাংবাদিক গ্যালারি থাকছে না। ফলে রাষ্ট্র বা সরকার প্রধানদের সঙ্গে আসা ডেলিগেট এবং সাংবাদিকদেরও এই কক্ষে অবস্থান নেওয়ার সুযোগও থাকছে না।
সাংবাদিকদের জন্য আলাদা মিডিয়া সেন্টার এবং ডেলিগেটদের জন্য পাশেই আলাদা কক্ষে বসার ব্যবস্থা থাকবে। এসব কক্ষে বড় বড় স্ক্রিন বসানো হয়েছে যেখান থেকে তারা অধিবেশন কক্ষের কর্মসূচি দেখতে পাবেন।
ফটোগ্রাফি কিংবা ভিডিওগ্রাফির জন্য সিকিউরিটি কাজে ন্যস্তদের মাধ্যমে গাইডেড হয়ে ঢোকার সুযোগ থাকবে বলে বাংলানিউজকে জানিয়েছেন ব্যবস্থাপনায় নিয়োজিত আরেকজন। অধিবেশন কক্ষের দোতলায় ফটো ও ভিডিওগ্রাফির জন্য বসানো হয়েছে বিশেষ বুথ।
মিডিয়া সেন্টারটি মূল অধিবেশন কক্ষ থেকে কিছুটা দূরে থাকায় সাংবাদিকদের যাতে কাজগুলো করতে অসুবিধা না হয় সে ব্যাপারে সব ধরনের ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানান তিনি।
মিডিয়া অ্যন্ড অ্যাক্রেডিটেশন লিয়াঁজো ইউনিট (মালু)তে গিয়ে দেখা গেলো বিদেশি সাংবাদিকদের ভিড়। পেশাগত কাজ নির্বিঘেœ করার লক্ষ্যে আগেভাগেই তারা জেনে নিচ্ছিলেন সুযোগ সুবিধাগুলোর কথা।
তাদের তথ্য দিতে ইউনিটের কর্মকর্তাদেরও ব্যস্ত দেখা গেলো। একজন কর্মকর্তা জানালেন মূল অধিবেশনের ও বিতর্কের দিনগুলোতে কোনো পৃথক ইভেন্ট-পাসের প্রয়োজন হবে না। মালু থেকে ইস্যুকৃত ফটো অ্যাক্রেডিটেশন দেখিয়েই তারা প্রয়োজনে নিরাপত্তা কর্মীদের সঙ্গে সেখানে যেতে পারবেন। সাংবাদিকদের সার্বক্ষণিক কাজের জন্য সুপরিসরের মিডিয়া সেন্টার তৈরি হয়েছে।
অনেকটা তাবুর আদলে নির্মিত নর্থ লন ভবনের মূল ফটকের সামনে ঘোড়সওয়ার শিকারি যুবকের বল্লম কুমিরের মাথা গেঁথে দিয়েছে এমন বিশাল ভাস্কর্য রয়েছে আগে থেকেই।
নিরাপত্তার কড়াকড়ি চলছে এখন থেকেই। কড়া চেকিংয়ের মধ্য দিয়ে মূল ফটক পার করা হলেও ভেতরেও রয়েছে পরতে পরতে নিরাপত্তা চেকিং। ভবনের সর্বত্রই নিরাপত্তা কর্মীরা চষে বেড়াচ্ছেন। বড় বড় কুকুর হাতে ডগ স্কোয়াডের কর্মীদের দেখা মিললো এখানে সেখানে। জাতিসংঘ ভবনের পাশেই ইস্ট রিভারে স্পিডবোটেও দেখা গেলো নিরাপত্তা কর্মীদের টহল।
তবে যতই জোরদার হোক অবস্থানগত কারণে এবারের জাতিসংঘ অধিবেশনে বিশ্ব নেতাদের নিরাপত্তা নিয়ে কর্তৃপক্ষের মাথাব্যাথা থেকেই যাচ্ছে। মূল সেক্রেটারিয়েট ভবনের সামনে গাড়ি থেকে নেমে নর্থ লন ভবনে অধিবেশন কক্ষে যেতে অনেকখানি পথ পায়ে হেঁটে পাড়ি দিতে হবে তাদের। যা এর আগে কখনোই করতে হয় নি। তাই স্বাভাবিক কারণেই এবারের নিরাপত্তা ব্যবস্থা অন্যান্য বছরের চেয়ে একটু বেশি কঠোর।
অনেক দেশের রাষ্ট্র বা সরকার প্রধানদের নিজস্ব সিকিউরিটির সদস্যদের আনাগোনাও চোখে পড়লো। আগেভাগেই তারা এসে পড়েছেন নিজ নিজ রাষ্ট্রনেতার নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে।
বাংলাদেশ থেকেও স্পেশাল সিকিউরিটি ফোর্স (এসএসএফ)’র একটি দল নিউইয়র্ক পৌঁছেছে আরও তিন দিন আগেই। ১৬ সেপ্টেম্বর সকালে অন্তত ১১ জন এসএসএফ সদস্য নিউইয়র্ক পৌঁছায়।
বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এই অধিবেশনে যোগ দিতে আসছেন ২৩ সেপ্টেম্বর। ২৪ সেপ্টেম্বর সকাল থেকেই অধিবেশনের মূল আয়োজনে অংশ নেবেন তিনি। ২৭ সেপ্টেম্বর অধিবেশনে ভাষণ দেবেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।মাহমুদ মেনন ও শিহাবউদ্দীন কিসলু
বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম, বাংলানিউজ এক্সক্লুসিভ
- নিউইয়র্কে জাতিসংঘ ফোরামে মানবিক সহায়তা জোরদার ও শান্তি প্রতিষ্ঠায় নারীর নেতৃত্ব বৃদ্ধির আহ্বান বাংলাদেশের
- বাংলাদেশের সাবেক মন্ত্রী ও আওয়ামী লীগের উপদেষ্টা পরিষদের সদস্য তোফায়েল আহমেদ স্মরণে নিউইয়র্কে বৃহত্তর বরিশালবাসীর দোয়া মাহফিল ও আলোচনা সভা
- নিউইয়র্কে চিটাগাং অ্যাসোসিয়েশন অফ আমেরিকা’র সংবাদ সম্মেলন: সংগঠনের বিরুদ্ধে চলমান মামলার নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত কোন নির্বাচন নয়
- যুক্তরাষ্ট্র প্রবাসী বাংলাদেশীদের মূলধারার ব্যবসা-বাণিজ্য রাজনীতির সঙ্গে সম্পৃক্ত হওয়ার আহ্বান প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা ড. তিতুমীরের
- নিউইয়র্কে বাংলাদেশ সেমিট্রির কবরে মরদেহ সমাহিত করা যাবে ১ জুলাই থেকে
- যুক্তরাষ্ট্রের বিনিয়োগকারীদের জন্যে বাংলাদেশ এখন সবচেয়ে কার্যকর ও উপযোগী দেশ: প্রধানমন্ত্রীর অর্থনীতি ও পরিকল্পনা উপদেষ্টা ড. তিতুমীর
- নিউ জার্সির আটলান্টিক সিটিতে মেয়র মার্টি স্মল সিনিয়র স্কলারশিপ প্রোগ্রাম, আবেদন জমা দেওয়ার শেষ সময় ১৫ জুন
- নিউইয়র্কে মুনার ঈদ পুনর্মিলনী
