Friday, 19 June 2026 |
শিরোনাম
নিউইয়র্কে জাতিসংঘ ফোরামে মানবিক সহায়তা জোরদার ও শান্তি প্রতিষ্ঠায় নারীর নেতৃত্ব বৃদ্ধির আহ্বান বাংলাদেশের বাংলাদেশের সাবেক মন্ত্রী ও আওয়ামী লীগের উপদেষ্টা পরিষদের সদস্য তোফায়েল আহমেদ স্মরণে নিউইয়র্কে বৃহত্তর বরিশালবাসীর দোয়া মাহফিল ও আলোচনা সভা নিউইয়র্কে চিটাগাং অ্যাসোসিয়েশন অফ আমেরিকা’র সংবাদ সম্মেলন: সংগঠনের বিরুদ্ধে চলমান মামলার নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত কোন নির্বাচন নয় যুক্তরাষ্ট্র প্রবাসী বাংলাদেশীদের মূলধারার ব‍্যবসা-বাণিজ্য রাজনীতির সঙ্গে সম্পৃক্ত হওয়ার আহ্বান প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা ড. তিতুমীরের নিউইয়র্কে বাংলাদেশ সেমিট্রির কবরে মরদেহ সমাহিত করা যাবে ১ জুলাই থেকে যুক্তরাষ্ট্রের বিনিয়োগকারীদের জন‍্যে বাংলাদেশ এখন সবচেয়ে কার্যকর ও উপযোগী দেশ: প্রধানমন্ত্রীর অর্থনীতি ও পরিকল্পনা উপদেষ্টা ড. তিতুমীর নিউ জার্সির আটলান্টিক সিটিতে মেয়র মার্টি স্মল সিনিয়র স্কলারশিপ প্রোগ্রাম, আবেদন জমা দেওয়ার শেষ সময় ১৫ জুন নিউইয়র্কে মুনার ঈদ পুনর্মিলনী নিউইয়র্কে বাংলাদেশী ডক্টর ফোরাম অব নর্থ আমেরিকা’র উদ্যোগে ডা. ডোনার ও ডা. হারুন সংবর্ধিত নিউইয়র্ক স্টেট ডেমোক্র্যাটিক প্রাইমারী নির্বাচনে এসেম্বলিম্যান প্রার্থী জাকির চৌধুরীর ‘কমিউনিটি র‌্যালি’
সব ক্যাটাগরি

পতিতাবৃত্তির শিকার শিশুদের পূনর্বাসন

অনলাইন ডেস্ক পঠিত: 20 বার

প্রকাশিত: October 17, 2013 | 10:22 AM

ডেস্ক: পতিতাবৃত্তি থেকে মুক্তি পেতে শেষবারের মত আকুতি জানিয়েছিল পোর। সুদুর জাপান থেকে সাবেক গুরু মন্ট্রি সিন্তাউইচাই-কে ফোন করেছিল সে। মন্ট্রিকে বলতে চেয়েছিল পতিতাবৃত্তির জীবন থেকে মুক্তি পেতে চায় সে। সে আশা পূর্ণ হয়নি তার। কিছুদিন পরই মারা যায় সে। মাত্র ১৮ বছর বয়সে। সম্ভবত এইডস এ আক্রান্ত হয়ে তার অকাল প্রয়াণ ঘটে। থাইল্যান্ডে তার পরিবারের থেকে অনেক দূরে মারা যায় পোর। দূর্ভাগ্যজনক হলেও সত্যি তার পরিবারের সদস্যরাই তাকে জোরকরে পতিতাবৃত্তিতে ঠেলে দিয়েছিল। পোরের বাবা নিজের মেয়েকে থাইল্যান্ডের পতিতাবৃত্তির স্বর্গরাজ্য পাতায়াতে নিয়ে আসে। এভাবে শুরু হয় অভিশপ্ত জগতে পোরের যাত্রা। প্রতিরাতে ১০০ ডলারের মত আয় করতো পোর যার সিংঘভাগই রেখে দিত তার বাবা। পতিতালয়ের বিভিষিকা থেকে মুক্ত করতে দুবাইয়ের এক মক্কেলের কাছে আকুতি জানায় পোর। সৌভাগ্যবশত দুবাই নিবাসী সে ভদ্রলোক পোরের আকুতিতে সাড়া দিয়েছিলেন। তার সহযোগিতায় পতিতাবৃত্তি থেকে মুক্তি পেতে সক্ষম হয় পোর। সেবারই প্রথম চাইল্ড প্রটেকশন ফাউন্ডেশনের প্রতিষ্ঠাতা মন্ট্রির সাথে পোরের পরিচয় হয়। তার বয়স তখন মাত্র ১৩। পোরকে অভিশপ্ত জীবন থেকে উদ্ধার করে স্বাভাবিক জীবনে ফিরিয়ে আনাটা মন্ট্রির জন্য ছিল এক সফলতার গল্প। উদ্ধার হওয়ার পর নতুন করে জীবন সাজানোর চেষ্টা শুরু করে সে। একদিন তার বাবা ফোন করে মিথ্যা সংবাদ জানায় যে তার মায়ের ক্যান্সার হয়েছে। একারনে জাপানে যেয়ে পূনরায় পতিতাবৃত্তি শুরু করার অনুরোধ করে নিজের মেয়েকে। মায়ের মিথ্যা ক্যান্সারের অজুহাত দেখিয়ে মেয়েকে পূণরায় পতিতাবৃত্তিতে প্রলুব্ধ করতে পেরেছিল পোরের বাবা। মন্ট্রি জানায়, শেষবারের মত যখন পোরের সাথে তার কথা হয়েছিল তখন যৌন ব্যবসায় আবার যুক্ত হওয়ার জন্য ক্ষমা চেয়েছিল পোর। দুমাসের মধ্যে ফেরত আসার চেষ্টা করবে বলে জানিয়েছিল সে। শেষ পর্যন্ত আর ফিরে আসতে পারেনি সে। তার আগেই মারা যায় সে। তার ছোট বোনের সাথেও একই রকম না করার জন্য মৃত্যুর আগে বাবাকে অনুরোধ জানিয়ে গেছে পোর। পোরের মত এরকম অসংখ্য নজির রয়েছে। শিশুদেরকে পতিতাবৃত্তি থেকে পুনর্বাসনের চেষ্টা খুব কম ক্ষেত্রেই সফল হচ্ছে আর পুনবার্সন করা সম্ভব হলেও পরবর্তীতে তাদের উপর যে ধরনের শারীরিক ও মনস্তাত্তিক প্রভাব থেকে যাচ্ছে তা ব্যপক ও সূদুরপ্রসারী। মানসিক ভারসাম্যহীনতা, শারীরিক অসুস্থতা, বিষাদগ্রস্থতা কমবেশি সব ক্ষেত্রেই দেখা যায়। কখনও তারা মাদকাসক্ত হয়ে পড়ছে। সমাজে নতুন করে স্বাভাবিক জীবনধারায় ফিরে আসার কঠিন সংগ্রামের মুখোমুখি হচ্ছেন তারা। অনেক ক্ষেত্রে ভীনদেশে তাদেরকে অবৈধ অভিবাসি বা অপরাধী হিসেবে চিহ্নিত করা হচ্ছে। মন্ট্রি জানালেন, জোরপূর্বক পতিতাবৃত্তিতে ঠেলে দেয়া অধিকাংশই দেখা যায় গরীব পরিবার থেকে আসা। এদের অনেকেই মনে করে পতিতাবৃত্তি ছাড়া উপার্জনের তেমন কোন রাস্তা তাদের জন্য খোলা নেই। উল্লেখযোগ্য সংখ্যক ডিসফাংশনাল পরিবার থেকে আসছে যেসব পরিবারে ছোটবেলা থেকেই যৌন নির্যাতনের ঘটনা অহরহ ঘটছে। ছেলেবেলায় তাদের সাথে যেমন আচরণ করা হয়েছে, অনেক সময় তাদেরকে ঠিক সেরকম উগ্র প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করতে দেখা যায়। শারীরিকভাবে নির্যাতনের শিকার হওয়া, মাথা ও মুখমন্ডলে ক্ষতবিক্ষত আঘাতের শিকার হওয়া মেয়েদের নিয়ে কাজ করাটা অনেক চ্যালেঞ্জিং বলে জানালেন মন্ট্রি। আঘাতের কারনে তারা সবসময় ক্লাসরুমে বসতে পারে না। কোন কোন ক্ষেত্রে সহজ বিষয় বোধগম্য হতে অনেকের সময় লাগে। শিশুপাচারকারী কবলে পড়ে কখনওবা নিজ পরিবারের হাতেই পতিতাবৃত্তির মত বিভিষিকাময় জীবনে নিজেদেরকে খুজে পাচ্ছে দক্ষিণ এশিয়ার অনেকগুলো দেশের শিশুরা। হতভাগা এ শিশুদেরকে পূনর্বাসনের মাধ্যমে স্বাভাবিক জীবন উপহার দিতে নিরলস সংগ্রাম করে যাচ্ছে মন্ট্রি’র মত সমাজকর্মীরা।মানবজমিন 

বিজ্ঞাপন / স্পন্সরড কন্টেন্ট
ট্যাগ:
সর্বশেষ সংবাদ
Situs Streaming JAV