Saturday, 20 June 2026 |
শিরোনাম
Rohingyas Want to Return Home, Bangladesh Tells UN এক দশক ধরে বিপুল সংখ্যক রোহিঙ্গাকে আশ্রয় দেওয়া দেশের জন্য টেকসই নয়, রোহিঙ্গারাও নিজ দেশে ফিরে যেতে চায় : জাতিসংঘে বাংলাদেশ Bangladesh and UN Women pledge closer cooperation to advance women’s empowerment and the WPS agenda নিউইয়র্কে চিটাগং অ্যাসোসিয়েশন অব নর্থ আমেরিকা (মাকসুদ-মাসুদ) এর সংবাদ সম্মেলনে কুৎসা রটানোর প্রতিবাদ নারীর ক্ষমতায়ন এবং নারী, শান্তি ও নিরাপত্তা এজেন্ডা এগিয়ে নিতে বাংলাদেশ ও ইউএন উইমেনের ঘনিষ্ঠ সহযোগিতার অঙ্গীকার State Minister for Foreign Affairs Urges Stronger Global Action to Protect Civilians, Uphold Humanitarian Law and Support Rohingya Repatriation বেসামরিক জনগণের সুরক্ষা, আন্তর্জাতিক মানবিক আইন সমুন্নত রাখা ও রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসনে জোরালো বৈশ্বিক পদক্ষেপের আহ্বান পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামার মহররম মাসের গুরুত্ব ও ফজিলত! Bangladesh Calls for Stronger Humanitarian Action and Women’s Leadership in Peacebuilding at UN Forum নিউইয়র্কে জাতিসংঘ ফোরামে মানবিক সহায়তা জোরদার ও শান্তি প্রতিষ্ঠায় নারীর নেতৃত্ব বৃদ্ধির আহ্বান বাংলাদেশের
সব ক্যাটাগরি

সীমানার বাইরের মানুষ

অনলাইন ডেস্ক পঠিত: 176 বার

প্রকাশিত: January 12, 2014 | 2:44 PM

সাজেদুল হক : বিচারপতি হাবিবুর রহমান। কাছের মানুষদের কাছে তাঁর পরিচিতি ছিল শেলী নামে। সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগে ১০ বছর এ বিচারপতির সঙ্গী ছিলেন আরেক সাবেক প্রধান বিচারপতি মোস্তফা কামাল। বিচারপতি হাবিবুর রহমান সম্পর্কে তাঁর মূল্যায়ন প্রণিধানযোগ্য। তিনি বলেন, ‘বিচারপতি শেলী চিন্তায় এবং কর্মে একজন মধ্যপন্থি ও উদারপন্থি মানুষ ছিলেন।’ এখানেই মনে হয় বিচারপতি শেলীর অনন্যতা। সীমানার বাইরে ছিল তাঁর অবস্থান। তিনি ধর্মপ্রাণ আবার অসামপ্রদায়িক। তিনি পবিত্র কোরানের অনুবাদক আবার রবীন্দ্র গবেষক। সদ্যপ্রয়াত এ প্রধান বিচারপতি সম্পর্কে বিচারপতি মোস্তফা কামাল আরও বলেন, বিচারপতি শেলীর প্রত্যেকটি রায়ে তাঁর বিদগ্ধতা ও  শিক্ষিত মনের পরিচয় পাওয়া যায়। গোলাম আযমের মামলা, রেডক্রসের মামলা, সংবিধানের ৮ম সংশোধনী মামলা, কাদের সিদ্দিকীর মামলাসহ আরও অনেক মামলায় তাঁর আইনের গভীর জ্ঞান এবং বিচার-বুদ্ধি সুন্দরভাবে প্রকাশিত হয়েছে। সাবেক প্রধান বিচারপতি ও সাবেক প্রধান উপদেষ্টার পরিচয় পেরিয়ে বিচারপতি হাবিবুর রহমান সময়ে সময়ে ভূমিকা পালন করেছেন জাতির বিবেকের। বেশির ভাগ সময় নীরবতা পালন করলেও জাতির প্রতিটি ক্রান্তিলগ্নে তিনি নিজের অবস্থান পরিষ্কার করেন। কখনও লেখনীর মাধ্যমে দিকনির্দেশনা দেয়ার চেষ্টা করেন জাতিকে। কখনও কখনও এ জন্য সমালোচনার মুখেও পড়তে হয় তাঁকে। তবে বিচারপতি হাবিবুর রহমান এতে দমে যাননি। নিজের মত প্রকাশে তিনি ছিলেন অকুতোভয়। কয়েকদিন আগে সর্বশেষ এক সেমিনারে বাংলাদেশের চলমান রাজনৈতিক পরিস্থিতিকে শ্বাসরুদ্ধকর হিসেবে অভিহিত করেন তিনি। এর আগে বলেছিলেন, দেশ এখন বাজিকরদের কবলে পড়েছে। ইতিহাসবিদ সালাহউদ্দীন আহমদ বিচারপতি হাবিবুর রহমানের মূল্যায়ন করে লিখেছেন, হাবিবুর রহমানের প্রতিভার আর একটি অসাধারণ দিক হলো তাঁর ধর্মচেতনা। কিন্তু তাঁর এই চেতনা অন্ধবিশ্বাস ও গোঁড়ামি বিবর্জিত। প্রথম যৌবনে পশ্চিমা দুনিয়ার উদারতা যুক্তিবাদী, মানবতাবাদ যেমন তাঁকে গভীরভাবে আকৃষ্ট করেছিল, বিশেষ করে অক্সফোর্ডে অধ্যয়নকালে, তেমনি পরবর্তীতে পরিণত বয়সে তাঁর চিন্তা-চেতনার আধ্যাত্মিক ধর্মীয় অনুভূতির জাগরণ দেখতে পাওয়া যায়। এই প্রসঙ্গে আমি তাঁর দুটি অসাধারণ প্রকাশনার কথা উল্লেখ করতে চাই। প্রথমটি ‘কোরানসূত্র’। বস্তুত এই বইটি কোরআন সম্পর্কে এক ধরনের কোষগ্রন্থ বা অভিধান  হিসেবে বিবেচিত হতে পারে। নিঃসন্দেহে এটি হাবিবুর রহমানের অতুলনীয় কীর্তি। এরপর ২০০০ সালে প্রকাশিত হয় হাবিবুর রহমানের ‘কোরান শরীফ: সরল বঙ্গানুবাদ’। মূল আরবি ভাষায় রচিত ‘কোরান’ এবং বিভিন্ন সময় প্রকাশিত এর ইংরেজি ও বাংলা অনুবাদসমূহ গভীর ও তুলনামূলক পাঠ করে হাবিবুর রহমান এই মহৎ কাজটি সম্পন্ন করেছেন। বিচারপতি মুহাম্মদ হাবিবুর রহমানের মানসভুবনে তিনটি ধারার সুস্পষ্ট প্রভাব লক্ষ্য করা যায়: (ক) দেশজ বাঙালিত্বের ধারা; (খ) আধুনিক ইউরোপীয় উদারনৈতিক, যুক্তিবাদী ও মানবতাবাদী ধারা  এবং (গ) ইসলামী ধারা। হাবিবুর রহমানের জন্ম ১৯২৮ সালের ৩রা ডিসেম্বর ভারতের মুর্শিদাবাদ জেলার জঙ্গীপুরের দয়ারামপুর গ্রামে। পূর্ববাংলায় আসার পরে এ দেশের ইতিহাসের সঙ্গে তাঁর জীবন জড়িয়ে যায়। ১৯৫১ সালে প্রথম শ্রেণীতে স্নাতকোত্তর করার পরের বছরই তিনি ঝাঁপিয়ে পড়েন ভাষা আন্দোলনে। বায়ান্নর একুশে ফেব্রুয়ারি পাকিস্তান সরকারের ১৪৪ ধারা জারির পর ছাত্রদের যে খণ্ড খণ্ড মিছিল বেরোয়, তার একটিতে তিনি নেতৃত্ব দেন। কর্মজীবনের শুরুতে তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ইতিহাস বিভাগে প্রভাষক হিসেবে যোগ দেন। এরপর রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে পাঁচ বছর শিক্ষকতার পর যোগ দেন আইন পেশায়। ১৯৭৬ সালের ৮ই মে যোগ দেন হাইকোর্টের বিচারপতি হিসেবে। পরে আপিল বিভাগে বিচারপতি ও প্রধান বিচারপতি হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেন। ১৯৯৬ সালের নির্বাচনে মুহাম্মদ হাবিবুর রহমান তত্ত্বাবধায়ক সরকারের প্রধান হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। গবেষণায় কৃতিত্বের জন্য ১৯৮৪ সালে তিনি বাংলা একাডেমি পুরস্কার পান। ২০০৭ সালে ভূষিত হন একুশে পদকে। বিভিন্ন বিষয়ে লেখা তাঁর মোট বইয়ের সংখ্যা ৭০টিরও বেশি। তার উল্লেখযোগ্য গ্রন্থের মধ্যে রয়েছে যথাশব্দ (১৯৭৪), বাংলাদেশের তারিখ,  কোরানসূত্র, মাতৃভাষার স্বপক্ষে রবীন্দ্রনাথ (১৯৮৩), বচন ও প্রবচন (১৯৮৫), বাংলাদেশ দীর্ঘজীবী হোক (১৯৯৬), কোরান শরীফ : সরল বঙ্গানুবাদ (২০০০)।মানবজমিন

বিজ্ঞাপন / স্পন্সরড কন্টেন্ট
ট্যাগ:
সর্বশেষ সংবাদ
Situs Streaming JAV