Sunday, 21 June 2026 |
শিরোনাম
Rohingyas Want to Return Home, Bangladesh Tells UN এক দশক ধরে বিপুল সংখ্যক রোহিঙ্গাকে আশ্রয় দেওয়া দেশের জন্য টেকসই নয়, রোহিঙ্গারাও নিজ দেশে ফিরে যেতে চায় : জাতিসংঘে বাংলাদেশ Bangladesh and UN Women pledge closer cooperation to advance women’s empowerment and the WPS agenda নিউইয়র্কে চিটাগং অ্যাসোসিয়েশন অব নর্থ আমেরিকা (মাকসুদ-মাসুদ) এর সংবাদ সম্মেলনে কুৎসা রটানোর প্রতিবাদ নারীর ক্ষমতায়ন এবং নারী, শান্তি ও নিরাপত্তা এজেন্ডা এগিয়ে নিতে বাংলাদেশ ও ইউএন উইমেনের ঘনিষ্ঠ সহযোগিতার অঙ্গীকার State Minister for Foreign Affairs Urges Stronger Global Action to Protect Civilians, Uphold Humanitarian Law and Support Rohingya Repatriation বেসামরিক জনগণের সুরক্ষা, আন্তর্জাতিক মানবিক আইন সমুন্নত রাখা ও রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসনে জোরালো বৈশ্বিক পদক্ষেপের আহ্বান পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামার মহররম মাসের গুরুত্ব ও ফজিলত! Bangladesh Calls for Stronger Humanitarian Action and Women’s Leadership in Peacebuilding at UN Forum নিউইয়র্কে জাতিসংঘ ফোরামে মানবিক সহায়তা জোরদার ও শান্তি প্রতিষ্ঠায় নারীর নেতৃত্ব বৃদ্ধির আহ্বান বাংলাদেশের
সব ক্যাটাগরি

প্রবাসেও মূল্যবোধে অটুট বাংলাদেশিরা

অনলাইন ডেস্ক পঠিত: 109 বার

প্রকাশিত: March 5, 2014 | 10:29 PM

আবু বকর হানিপ : একটি দেশে আইনের যথাযথ প্রয়োগই নিশ্চিত করে সেদেশ কতটা সুদৃঢ় ভিত্তির উপর দাঁড়িয়ে থাকবে এবং দেশের নাগরিক কতটা সুন্দর স্বাচ্ছন্দ্য জীবন উপভোগ করতে পারবে। একই সঙ্গে দেশের নাগরিক কতটুকু পারিবারিক, সামাজিক, ধর্মীয় ও নৈতিক মূল্যবোধে সমৃদ্ধ তাও নাগরিকের সুন্দর জীবনের জন্য সমানভাবে গুরুত্বপূর্ণ। তবে সবচেয়ে সেরা পথটি হলো উপরোক্ত দুটো ব্যবস্থার সংমিশ্রন।
মানবজাতির সৃষ্টি লগ্ন থেকে আজ অবধি অনেক ঘাত প্রতিঘাতের মধ্যেও এই বিশ্ব ব্রম্মান্ড যে মৌলিক ভিত্তির ওপর দাঁড়িয়ে আছে, তা হলো মানুষের নৈতিক মূল্যবোধ।
এই মূল্যবোধের অপরিসীম গুরুত্ব সম্পর্কে যুগে যুগে বিভিন্ন ধর্ম, জ্ঞানীগুণী মনীষিরা বিভিন্ন দৃষ্টিকোণ থেকে আলোকপাত করে সার্বিক দিক-নির্দেশনা প্রদাণের চেষ্টা করেছেন। একটি সমাজ, দেশ কিংবা মহাদেশ যতই শক্তিশালী হোক না কেন, ধর্মীয় বিশ্বাস আর নৈতিক বিশ্বাস ছাড়া সেই রাষ্ট্র কিংবা জাতি বেশিদিন টিকে থাকতে পারে না। এ বিষয়ে আমেরিকার দ্বিতীয় প্রেসিডেন্ট JOHN ADAMS-এর উক্তিটি প্রনিধানযোগ্য যার অর্থ দাঁড়ায়-‘‘আমাদের এমন কোনো সমরাস্ত্র দ্বারা সুসজ্জিত শক্তিশালী সরকার নেই যা মানুষের বাঁধ ভাঙ্গা আবেগ ও উচ্ছ্বাসকে নিয়ন্ত্রণে রাখতে পারবে যদি না তা নৈতিক ও ধর্মীয় মূল্যবোধ দ্বারা নিয়ন্ত্রিত হয়। আমাদের সংবিধান রচিত হয়েছে কেবলমাত্র ধর্মীয় ও নৈতিক মূল্যবোধ সম্পন্ন জনগণের জন্য; অন্যদের জন্য যেখানে পর্যাপ্ত জায়গা নেই।”
এ ছাড়া খোদ যুক্তরাষ্ট্রেও ধর্মীয় মূল্যবোধকে সমুন্নুত রাখার জন্য আমেরিকার একটি মুদ্রার গায়ে IN GOD WE TRUST খোদাই করা আছে তাদের National Motto হিসেবে।
নৈতিকত মূলত একটি Latin শব্দ যার অর্থ দাঁড়ায় সুআচরণ, সুচরিত্র এবং সৌজন্যবোধ যার মাধ্যমে একজন মানুষ, একটি গোষ্ঠী বা সমাজ অন্যায় থেকে ন্যায়কে আলাদাভাবে চিহ্নিত করতে পারতে পারে এবং সমাজের সর্বত্র ন্যায় প্রতিষ্ঠায় নিজেদের সম্পৃক্ত রাখতে পারে।
কালের আবর্তে মানবকল্যাণের লক্ষ্যে এই মূল্যবোধকে সংজ্ঞায়িত করার জন্য বিভিন্ন সময় বিভিন্ন ধর্মের অবতারণা হয়েছে। তাই আধুনিক বিশ্বে একথা প্রায় সকলের কাছে অনস্বীকার্য যে পরিপূর্ণ জীবনদর্শন ও মূল্যবোধের সঠিক দিক নির্দেমনা একমাত্র ধর্মে নিহিত আছে। ধর্ম কেবল Morality  কে সংজ্ঞায়িত করেনি বরং তা ব্যক্তিগত ও গোষ্ঠীগতভাবে অর্জনের লক্ষ্যে সঠিক দিক নির্দেশনাও প্রদান করেছে। Morality সম্পর্কে Martin luther king  Jr– এর উক্তিটি উলে¬খযোগ্য।
‘‘The first principle of value that we need to rediscover is: that all reality hinges or moral foundations. In other words, that this is a moral universe, and that this is a moral laws of the universe just as abiding as the physical laws.’’

আমরা যদি John Adams এর উক্তিটি পর্যালোচনা করি তাহলে তার কথার উৎকৃষ্ট প্রমাণ হিসেবে আমাদের প্রিয় মাতৃভূমি বাংলাদেশকে উল্লে¬খ করতে পারি। বাংলাদেশ ‘ব’ দ্বীপের একটি ছোট্ট দেশ। প্রায় ৪৩ বছর পূর্বে পৃথিবীর মানচিত্রে আমাদের প্রিয় দেশটি আলাদা স্বকীয়তায় স্থান লাভ করে। স্বাধীন বাংলাদেশে একটি সরকার আছে, আছে প্রশাসন।
জনগণের সুখ-স্বাচ্ছন্দ্য, শান্তি নিরাপত্তা বিধানে রয়েছে আইন। কিন্তু অত্যন্ত পরিতাপের বিষয় যে বাস্তবক্ষেত্রে সেই আইনের যথাযথ প্রয়োগ অনুপস্থিত বরং মুষ্টিমেয় কিছু প্রভাবশালী স্বার্থান্বেষী মহল সেই আইনের অপপ্রয়োগ করে নিজেদের স্বার্থ হাসিলে বরাবরই সচেষ্ট রয়েছে। এরপরও বাংলাদেশের আপামর সাধারণ সরলমনা জনগণের ধর্মীয়, সামাজিক ও পারিবারিক মূল্যবোধের শক্তভিত্তির কারণে বাংলাদেশ নামক রাষ্ট্রটি আজো টিকে আছে।
একবিংশ শতাব্দীর এই আধুনিক যুগে বাংলাদেশের অনেক আজও বৈদ্যুতিক আলোর ছোঁয়া লাগেনি, শিক্ষার আলো ছড়িয়ে পড়েনি, সেখানে যোগাযোগ ব্যবস্থা আজও পায়ে হাঁটা মেঠো পথ, গরুর গাড়ি কিংবা নৌযান, সেখানেও তারা স্বাচ্ছন্দ্যে ব্যবসা বাণিজ্য ও জীবনযাপন করছে। কেবলমাত্র পারস্পারিক আর্থিক লেনদেনে সেখানে নেই কোনোরকম লিখিত চুক্তি কিংবা আইনি ব্যবস্থা বরং কেবল মৌখিক চুক্তিতেই সম্পূর্ণ বিশ্বাসের ওপর ভিত্তি করেই নিয়ন্ত্রিত হচ্ছে তাদের দৈনন্দিন কার্যক্রম।
একের প্রতি অন্যের এই আস্থা ও নির্ভরশীলতা সৃষ্টির মূলমন্ত্র হলো- ধর্মীয় বিশ্বাস, সামাজিক ও পারস্পারিক মূল্যবোধ। এখানে উলে¬খ্য যে, এই সকল বাঙালি আধুনিক শিক্ষায় শিক্ষিত নয়। শুধুমাত্র সৃষ্টিকর্তার ভয়, পরকাল এবং নৈতিক মূল্যবোধ থেকেই তারা নিজেদের সৎপথে পরিচালিত করে। অপরদিকে পাশ্চাত্য দেশগুলোতে ব্যবসা, বাণিজ্য বা যে কোনো ধরনের লেনদেনে লিখিত চুক্তি অবশ্যম্ভাবী এবং তা কঠিন আইন দ্বারা নিয়ন্ত্রিত অর্থাৎ সুশাসন এবং আইনের যথাযথ প্রয়োগ পাশ্চাত্য সমাজ ব্যবস্থা এবং রাষ্ট্রকে টিকিয়ে রাখতে সাহায্য করছে।
এর থেকে প্রতীয়মান হয় যে, আধুনিক শিক্ষায় দীক্ষিত হলেও পাশ্চাত্যের উন্নত দেশগুলোতে নৈতিক মূল্যবোথের চেয়ে সমাজে শাস্তি ও স্থিতিশীলতাবজায় রাখতে আইন ও সুশাসন অ¿ণী ভুমিকা পালন করে থাকে। এর ব্যতিক্রম ঘটলে এই উন্নত দেশগুলোর অস্তিত্ব বিপন্ন হতে পারে।
আর তাই বলা যায় যে, পাশ্চাত্য উন্নত দেশগুলোর সরকার ও আইনের সুশাসন এবং বাংরাদেশের সাধারণ সরলমনা উন্নত চরিত্রের জনগণের সংমিশ্রণে যদি একটি দেশ গঠন করা যেত তবে তা হতো বিশ্বের সর্বশ্রেষ্ঠ সভ্য দেশ।
ধর্মীয় অনুশাসন মানুষের চারিত্রিক বৈশিষ্ট্যগুলোকে সুসংগঠিত করে থাকে। বাংলাদেশি যারা প্রবাসে বসবাসরত বিশেষ করে প্রায় তিরিশ লক্ষ বাংলাদেশি নাগরিক মধ্যপ্রাচ্যে উর্পাজনের জন্য বিভিন্ন পেশায় বর্তমানে নিয়োজিত।
তারা দিনরাত হাড়ভাঙা পরিশ্রম করে দেশে তাদের পিতামাতা, ভাইবোন, স্ত্রী পরিজনের জন্য অর্থ প্রেরণ করেন, এর মূলে রয়েছে অগাধ দেশপ্রেম এবং পারিবারিক বন্ধনের মূল্যবোধ।
অনেক তরুণ যুবক ছুটিতে দেশে ফিরে অনেক স্বপ্ন নিয়ে বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হবার পরপরই আবার প্রবাস জীবনে ফিরে আসে। দেশের মাটিতে তাদের নববিবাহিতা তরুণী বধূরা তাদের ফিরে আসার প্রতীক্ষায় প্রহর গুণতে থাকে। দীর্ঘ বিচ্ছেদ, বিরহের যন্ত্রণাকে তারা দৃঢ়তার সঙ্গে উপেক্ষা করে।
জাগতিক চাহিদার কাছে তাদের নৈতিক স্খলন তারা ঘটতে দেয় না। এসব কিছু সম্ভব হয় শুধুমাত্র দৃঢ় চারিত্রিক বৈশিষ্টের কারণে এবং এর মূলের মূলে যে বিষয়টি কার্যকরী ভূমিকা পালন করে তাহলো ধর্মভীরুতা, পরকালে বিশ্বাস, পারস্পারিক ও সামাজিক মূল্যবোধ।
আর তাই অপরাজনীতি ও অপশাসনের ঘেরাটোপের মধ্যেও বাংলাদেশি সাধারণ নাগরিকরা তাদের পারিবারিক সুখ-শান্তিও পারস্পারিক শ্রদ্ধাবোধ অটুট রাখতে সক্ষম হচ্ছে।
অপরদিকে পাশ্চাত্যের নাগরিকরা পারিবারিক মূল্যবোধকে সমুন্নত রাখার জন্য নতুন নতুন পদ্ধতি ও গবেষণার পেছনে কোটি কোটি ডলার প্রতিনিয়ত ব্যয় করছে।
তদুপরি খোদ আমেরিকাতেই ২০১৩ সালে প্রথম বিবাহ বিচ্ছেদের হার ৪১ থেকে ৫০ শতাংশ, দ্বিতীয় বিবাহ বিচ্ছেদের হার ৬০ থেকে ৬৭ শতাংশ এবং তৃতীয় বিবাহ বিচ্ছেদের হার ৭৩ থেকে ৭৪ শতাংশ।
সম্পর্ক গড়া ও ভাঙা যেন এদের জন্য নিত্যনতুন পোশাক পরিবর্তনের মতই একটি মামুলি ব্যাপার। এখানকার গবেষকরা তা চিহ্নিত করেছেন মূল্যবোধের অবক্ষয় হিসেবে এবং বিবাহ বিচ্ছেদের হারের এই ক্রমাগত বাড়াকে আশঙ্কাজনক হিসেবে ভাবছেন।
উপরোক্ত পর্যালোচনার আলোকে অন্য একটি বিষয়ের ওপর পাঠকদের দৃষ্টি আকর্ষণ করতে চাই। তা হচ্ছে জাতিসংঘের অধীনে বিশ্বের বহুরাষ্ট্রের সেনা সদস্যরা শান্তিরক্ষা কাজে নিয়োজিত রয়েছেন, বিশেষ করে আফ্রিকা মহাদেশে।
আমরা জানি যে সেনাবাহিনী মানে একটি সুশৃঙ্খল বাহিনী। কিন্তু একটি পরিসংখ্যানে দেখা যায় যে অনেক উন্নত দেশের সেনা সদস্যরা পরিবার পরিজন বহুদূরে কঠিন পরিবেশ পরিস্থিতিতে অবস্থান করে মানসিকভাবে বিপর্যস্ত হয়ে বিভিন্ন অনৈতিক কাজে জড়িত হয়ে পড়ে এবং ভাবমূর্তি ক্ষুণœ করে।
অপরদিকে বাংলাদেশের সেনা সদস্যরা অত্যন্ত সুশৃঙ্খল বাহিনী হিসেবে ইতোমধ্যে দেশ ও জাতির জন্য অর্জন করেছে ঈর্ষণীয় প্রসংশা ও কোটি কোটি ডলারের বৈদেশিক মুদ্রা যা জাতীয় অর্থনীতির উন্নয়নে যোগ করেছে এক ভিন্ন মাত্রা।
বর্তমানে বাংলাদেশে সর্বোচ্চ সংখ্যক শান্তিরক্ষী প্রেরণকারীকারী দেশ হিসেবে এক নম্বর স্থান দখল রে আছে। নি:সন্দেহে এটি বাংলাদেশের জন্য একটি অহঙ্কারের বিষয়। এখানে উলে¬খ্য যে, বাংলাদেশে সেনাবাহিনীর সার্বিক প্রশংসনীয় অবদানের জন্য পশ্চিম আফ্রিকার শে সিয়েরালিওন বাংলা ভাষাকে তাদের সরকারি অফিসিয়াল ভাষা হিসেবে স্থান করে দিচ্ছে।
আমাদের সেনা সদস্যদের ঝঞ্ঝাবিক্ষুব্ধ পরিবেশে জীবন যাপনের বিষয়টি বিশ্লে¬ষণ করলে দেখা যায়-পরিবারের প্রতি অকুণ্ঠ ভালোবাসা, দেশপ্রেম এবং পরম মহান সৃষ্টিকর্তার প্রতি তাদের অগাধ বিশ্বাসই তাদেরকে সুশৃঙ্খল জীবনযাপনের সাহায্য করে।
অপরদিকে ১৬ কোটি জনগণের বাংলাদেশে আইন প্রণয়ন, উপযুক্ত প্রশিক্ষণ ও আইনের বাস্তবায়ন করার আর্থিক জোগান, আইন প্রয়োগকারী সংস্থার যথার্থ ব্যবহার করার ক্ষমতা কতটুকু সরকারের রয়েছে? ভয়াবহ ক্যান্সারের মত সমাজের রন্ধ্রে ছড়িয়ে পড়েছে দুর্নীতির কালো থাবা। আজ জনগণের সেবক রক্ষকেরা ভক্ষকের ভূমিকায় অবর্তীণ। যার ফলে সুবিচার ও সুশাসন প্রত্যাশায় আজ সুদূর পরাহত।
দেশের বর্তমান পরিস্থিতিতে সাধারণ জনগণের আজ শেষ আশ্রয়স্থল হিসেবে বিচারবিভাগও জনগণের কাছে প্রশ্নের সম্মুখীন।
পুলিশসহ অধিকাংশ সরকারি চাকরি পেতে হলে প্রায় সকলকেই প্রচুর পরিমাণে উপরি প্রদান করতে হয়। যার ফলে চাকরি কর্মচারীদের জীবন ধারার ও জীবিকার জন্য অবৈধ অর্থ উপার্জনের অসুস্থ প্রতিযোগিতায় তারা লিপ্ত হয় এবং তাদের সেই অন্যায় গর্হিত কাজ থেকে বিরত রাখার নৈতিক অধিকার ও মনোবল তাদের উর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের মাঝে দৃশ্যত: অনুপস্থিত থাকে যার মূল কারণ সরকার ও প্রশাসনের শিরা উপশিরায় ছড়িয়ে পড়া দুর্নীতির বিষবৃক্ষ।
ফলে জনসেবা, জনগণের বন্ধু হওয়ার মতো সময় ও মানসিকতা কোনোটাই এদের থাকে না। স্পষ্টতই দুর্নীতিবাজ দিয়ে দুর্নীতির উৎপাটন অসম্ভব। যে বিশ্বাস আর মূল্যবোধের ভিত্তির উপর দাঁড়িয়ে আছে আমাদের সুন্দর বাংলাদেশ, যে অপরিসীম সম্ভাবনার দ্বারপ্রান্তে দাঁড়িয়ে আছে বাংলাদেশ, দু:খজনক হলেও সত্যি যে অপরাজনীতি আর অপশাসনের আবর্তে ঘুরপাক খেয়ে সে আজ ভীষণ ক্লান্ত।
এরই মধ্যে অশনি সংকেত হয়ে উঁকি মারছে আমাদের দেশের শহর ভিত্তিক কিছু সংগঠন, যার সদস্যরা নিজেদের অতি আধুনিক ও স্মার্ট হিসেবে উপস্থাপন করার জন্য উসকে দিচ্ছে ‘নাস্তিক্যবাদ’ কে যা প্রতিহত না হলে ধর্মপরায়ন শান্তিপ্রিয় বাংলাদেশিদের জীবনে নেমে আসবে ভয়াবহ বিপর্যয়।
ব্যক্তিজীবনে থেকে শুরু সমাজ ব্যবস্থা এবং একটি সুস্থ ও সুন্দর জাতিগঠনে ধর্মীয়, পারিবারিক ও সামাজিক মূল্যবোধের গুরুত্ব অপরিসীম। আমরা সকলেই সেই মূল্যবোধের মন্ত্রে উজ্জ্বীবিত হলে জাতি হিসেবে আমাদের দেশ বিশ্বের বুকে অন্যতম শ্রেষ্ঠ সভ্য জাতি হিসেবে মাথা উঁচু করে দাঁড়াতে পারবে বলে আমার দৃঢ় বিশ্বাস।
পারস্পারিক সহমর্মিতা, শ্রদ্ধা, ভালোবাসা আর মূল্যবোধকে চেতনায় ধারণ করে সম্মিলিত প্রচেষ্টায় দেশকে অনেক দূর এগিয়ে নেওয়া সম্ভব। কাজেই আমাদের শিক্ষা ব্যবস্থায় সুনাগরিক গড়ার জন্য প্রচলিত শিক্ষা ব্যবস্থায় ধর্মীয় সামাজিক ও নৈতিক মূল্যবোধের বিষয়সমূহ অধিকহারে অর্ন্তভুক্ত করা অত্যাবশ্যক যাতে দেশের প্রতিটি নাগরিক আদর্শ দেশপ্রেমিক ও চরিত্রবান হয়ে দেশকে সেবা দিতে পারে এবং দেশকে ঈর্ষণীয় স্থানে নেওয়ার মতো নেতৃত্ব সৃষ্টি গতে পারে।
লেখক: প্রধান নির্বাহী, পিপলএনটেক, নিউইয়র্ক।

বিজ্ঞাপন / স্পন্সরড কন্টেন্ট
ট্যাগ:
সর্বশেষ সংবাদ
Situs Streaming JAV