বিশ্বের ১০ সাহসী নারী
১০৩তম বিশ্ব নারী দিবস উপলক্ষে বিশ্বের নানা প্রান্তের ১০ জন সাহসী নারীকে সম্মাননা দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। মঙ্গলবার মার্কিন পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক অনুষ্ঠানে তাদেরকে পুরস্কৃত করা হয়। মার্কিন ফার্স্টলেডি মিশেল ওবামা এবং ডেপুটি সেক্রেটারি হিথার
হিগিনবটম ২০১৪ সালের ইন্টারন্যাশনাল ওমেন অব কারেজ পুরস্কার প্রদান করেন। মার্কিন পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের উদ্যোগে পুরস্কারটি প্রতিষ্ঠিত হয় ২০০৭ সালে। প্রতি বছর বিশ্বের নানা প্রান্ত থেকে মানবাধিকার প্রতিষ্ঠায় অসাধারণ সাহসের স্বাক্ষর রাখা নারীদেরকে এ পুরস্কারের মাধ্যমে সম্মানিত করা হয়। এ বছরের সাহসী নারীদের তালিকায় রয়েছেন সৌদি আরব, আফগানিস্তান ও ভারতের নারীরা। মানবাধিকার কর্মী ছাড়াও তালিকায় আছেন ডাক্তার ও আইনজীবীরা। মিশেল ওবামা অনুষ্ঠানে বলেন, আমরা যখন এই নারীদেরকে প্রতিবাদ করতে শুনি, পদক্ষেপ নিতে দেখি, পরিবর্তন আনার লক্ষ্যে অন্যের মধ্যে শক্তির সঞ্চার করতে দেখি, তখন আমাদের উপলব্ধি করা উচিত যে, আমাদের প্রত্যেকের একই শক্তি রয়েছে, আছে একই নৈতিক বাধ্যবাধকতা। ২০০৫ সালে ভারতে এসিড আক্রমণের শিকার লক্ষ্মী পুরস্কার নেয়ার সময় স্বরচিত একটি কবিতা আবৃত্তি করেন। এর ভাবানুবাদ করলে অর্থ অনেকটা এমন হবে- ‘তোমরা শুনবে আর তোমাদের বলা হবে- যে মুখ তোমরা পুড়িয়ে দিয়েছিলে সেই মুখটিই আমি এখন ভালোবাসি… তখন তোমরা জানবে যে আমি বেঁচে আছি। মুক্ত, স্বাধীন ভাবে উপভোগ করছি স্বপ্নের জীবন। এ বছর সম্মানিত বিশ্বের অসাধারণ সাহসী নারীরা হলেন-
নাসরিন ওরিয়াখিল, আফগানিস্তান: কাবুলের মালালাই ম্যাটার্নিটি হাসপাতালের একজন স্ত্রীরোগ ও ধাত্রীবিদ্যা বিশেষজ্ঞ। মায়েদের স্বাস্থ্য সচেতনতা প্রসারের ক্ষেত্রে তিনি শীর্ষ ব্যক্তিত্ব। তিনি গ্রাম এলাকায় নারীদের জরুরি সেবা দেয়ার জন্য কাজ করেন। পাশাপাশি চিকিৎসা শাস্ত্রে নারীদের ভূমিকার অগ্রগতি সাধনের জন্য তিনি অঙ্গীকারবদ্ধ।
রোশিকা দেও, ফিজি: ফিজিতে ‘বি দ্য চেঞ্জ’ শীর্ষক একটি রাজনৈতিক প্রচারণা সৃষ্টি করেছেন রোশিকা। দেশের গণতন্ত্রীকরণ প্রক্রিয়ায় নারী ও তরুণদের অংশগ্রহণ বৃদ্ধিতে সোচ্চার ভূমিকা পালন করছেন তিনি। সমালোচনা এবং জীবনের উপর হুমকি সত্ত্বেও তিনি নারীদের উপর সহিংসতার খোলাখুলি সমালোচনা করেন।
রুসুদান গতসিরিজ, জর্জিয়া: জর্জিয়ার ইভাঞ্জেলিকাল ব্যাপটিস্ট চার্চের বিশপ হিসেবে দায়িত্বরত আছেন রুসুদান। পুরুষশাসিত সমাজে নারী-পুরুষের সমঅধিকার এবং তার দেশের সকল সংখ্যালঘুদের অধিকার আদায়ে তিনি সোচ্চার।
আইরিস ইয়াসমিন বারিওস আগুইলার, গুয়াতেমালা: ইয়াসমিন গুয়াতেমালার হাই রিস্ক কোর্ট ট্রাইব্যুনালের একজন প্রেসিডেন্ট। দুর্নীতি ও মানবাধিকার লঙ্ঘনের মতো রাজনৈতিকভাবে সংবেদনশীল মামলাগুলোর বিচারক হিসেবে তিনি দায়িত্বরত আছেন।
লক্ষ্মী, ভারত: প্রেমের প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করায় মাত্র ১৬ বছর বয়সে লক্ষ্মী এসিড হামলার শিকার হয়। এ ধরনের হামলার শিকার হয়োর পর অনেকেই স্বাভাবিক জীবন যাপনের প্রেরণা হারিয়ে ফেলেন। কিন্তু লক্ষ্মী ব্যতিক্রম। তিনি ভারতে এসিড হামলার মতো বিভীষিকা বন্ধে সক্রিয় ভূমিকা পালন করছেন। এসিড হামলাকারীদের বিচার এবং হামলার শিকার হওয়া অসহায় নারীদের পুনর্বাসনে তিনি কাজ করে যাচ্ছেন।
ফাতিমাতা ট্যুরে, মালি: নারী স্বাস্থ্য অধিকার আদায়ে তিনি দীর্ঘদিনের মানবাধিকার কর্মী। বর্তমানে তিনি গাঁও এলাকার ‘রিজিওনাল ফোরাম অন রিকন্সিলিয়েশন এন্ড পিস’ এর প্রধান। উত্তর মালিতে সন্ত্রাসী আগ্রাসনের বিপক্ষে লড়াইয়ের ক্ষেত্রে তিনি অসাধারণ এক ব্যক্তিত্বের পরিচয় দিয়েছেন।
মাহা আল মুনিফ, সৌদি আরব: শিশুদের সংক্রমণ রোগ বিশেষজ্ঞ আল মুনিফ ন্যাশনাল ফ্যামিলি সেফটি প্রোগ্রামের নির্বাহী পরিচালক। পারিবারিক সহিংসতা এবং শিশু নির্যাতন রোধ কল্পে সৌদি আরবের এটা প্রথম প্রতিষ্ঠান। এনএফএসপি’র সঙ্গে কয়েক বছর ব্যাপী প্রচেষ্টা চালানোর পর ঐতিহাসিক ‘প্রটেকশন ফ্রম এ্যাবিউজ’ আইনের খসড়া প্রণয়নে তিনি আইন প্রণেতাদের উদ্বুদ্ধ করতে সহায়তা করেন।
ওইনিখোল বোবোনাজারোভা, তাজিকিস্তান: বোবোনাজারোভা তাজিকিস্তানের অন্যতম শীর্ষস্থানীয় মানবাধিকার কর্মী। নারী অধিকার, প্রবাসী কর্মীদের অধিকার ও তাদের ওপর নির্যাতনের বিষয়ে তিনি কাজ করেন। তার দেশে প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করা তিনি প্রথম নারী।
রুসলানা লিঝিচকো, ইউক্রেন: ইউক্রেনের গণতান্ত্রিণ সংস্কার আন্দোলনের তিনি অন্যতম একজন নেতা। অব্যাহত ঝুঁকি, হুমকির মধ্যেই তিনি বিক্ষোভকারীদের জন্য প্রতিরাতে ইউক্রেনের জাতীয় সংগীত গেয়েছেন। পুলিশি হামলার মুখে তিনি শান্তিপূর্ণ ছাত্র বিক্ষোভকারীদের নিরাপদ স্থানে নিয়ে যেতে সহায়তা করেছেন।
বিট্রিস এমতেতওয়া, জিম্বাবুয়ে: জিম্বাবুয়ের অন্যতম খ্যাতনামা মানবাধিকার আইনজীবী তিনি। রাজনৈতিক দমন পীড়নের ভয়ে যেসব মামলা নিতে অন্যরা অস্বীকৃতি জানায় সেগুলো নিয়ে লড়েছেন বিট্রিস। এর জন্য তিনি গ্রেপ্তার, হামলার শিকার হয়েছেন। সূত্র: মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর, ভয়েস অব আমেরিকা, ম্যাশেবল ডট কম।মানবজমিন
- Global Anticipation Builds as Dr. Mostofa Sarwar’s Sunflower Wounds Debuts with Successful Houston Open House and Worldwide Pre-Order Milestone
- যুক্তরাষ্ট্রে ৭৫ দেশের অভিবাসী ভিসায় অনিশ্চয়তা, আদালতের নির্দেশের পরও কাটেনি জট
- Human Rights Must Be at the Heart of Economic Governance and Policies: Ambassador Irene Khan
- বাংলাদেশের সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার স্বদেশ প্রত্যাবর্তন বাস্তবায়ন উপলক্ষে নিউইয়র্কে সমাবেশ, আগামী ডিসেম্বরে শেখ হাসিনার সঙ্গে দেশে ফেরার প্রত্যয় আওয়ামী লীগ নেতাকর্মীদের
- অর্থনৈতিক নীতিনির্ধারণের কেন্দ্রে মানবাধিকারকে রাখতে হবে: জাতিসংঘে বাংলাদেশের স্থায়ী প্রতিনিধি আইরিন খান
- নিউইয়র্কে হিউম্যান সাপোর্টের বিনামূল্যে ফ্লু টিকাদান কর্মসূচি
- New York Attorney General James Announces Election Protection Hotline Ahead of November General Election
- ASAAL’s 19th Annual Convention Draws Nearly 500, Calls for Stronger Civic Engagement and Workers’ Rights