দর্শনার্থীদের উপচে পড়া ভীর মেমোরিয়াল জাদুঘরে
নাশরাত আর্শিয়ানা চৌধুরী, যুক্তরাষ্ট্র : মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে ৯/১১ মেমোরিয়াল জাদুঘরে অসংখ্য দর্শনার্থীদের উপচে পড়া ভীর । সেখানে বিভিন্ন দেশ থেকে পর্যটকরা আসা ছাড়াও মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন শহর থেকে দর্শনার্র্থীরা আসছেন জাদুঘরটি দেখার জন্য। ওই জাদুঘর করা হয়েছে বিশ্ববাণিজ্য কেন্দ্র আগে যেখানে অবস্থিত ছিল এর ঠিক নীচের আন্ডার গ্রাউন্ডে। নীচে আট তলা এই জাদুঘর। আর উপরে দুই ভবনের দুই জায়গাতে পুল। আর এর পাশেই রয়েছে সবচেয়ে উঁচু ভবন ফ্রিডম টাওয়ার। যা মাথা উঁচু করে দাড়িয়ে আছে।
গ্রাউন্ড জিরোতে ওয়ার্ল্ড ট্রেড সেন্টারের নীচের জায়গাতে শুরু হওয়া প্রতি মঙ্গলবার এই জাদুঘর সকলের জন্য বিকেল থেকে রাত পর্যন্ত উন্মুক্ত থাকে। কোন ফি দিতে হয় না। একদম ফ্রি। তা হলেও অনেক নিয়ম কানুন মানতে হয়। মঙ্গলবার দুপরে সেখানে গিয়ে দেখা গেল অনেক দর্শনার্থী আগে থেকেই প্রবেশ পত্র সংগ্রহ করেছেন। আর ওই প্রবেশপত্র তারা টাকা দিয়ে সরবরাহ করেছেন। এই কারণে নিয়ম হচ্ছে যারা আগে টাকা দিয়ে সরবরাহ করবেন তারা আগে দেখবেন। আর বিকেল তিনটার পর থেকে রাত আটটা পর্যন্ত সবার জন্য ফ্রি। তবে ফ্রি হলেও টাকা দিয়ে দেখার লোকও অনেক। সেখানে যারা ফ্রিতে দেখতে আসছিলেন তাদেরকে প্রথমে একটি লাইন করে দাঁড়াতে হয়। এরপর ৩০-৪০ জন করে এক একবার ছাড়া হয়। তারা টিকিট কাউন্টার থেকে টিকিট নিয়ে এরপর অপেক্ষা করেন। যারা ফ্রি তারা সাড়ে পাঁচটার সময় ভেতরে প্রবেশ করবেন। থাকতে পারবেন রাত আটটা পর্যন্ত। এভাবে সবাই লাইনে দাঁিড়য়েই প্রবেশ পত্র নিিেচ্ছলেন। সেটা নেয়ার সময় নামের দরকার না হলে কে কোথা থেকে এসেছেন সেটা জানতে চাওয়া হয়। মূলত কোন কোন দেশ থেকে ও কোন কোন শহর থেকে মানুষ আসছে এটা দেখার জন্যও তা করা হয়। এছাড়াও নিরাপত্তার বিষয়টিতো আছেই। সেখানে প্রবেশ করার আগে টিকিটের নম্বরটি স্ক্যান করে রাখা হয়। এরপর ভেতরে প্রবেশ করতেই নিরাপত্তা দরজা। সেখানে দুই হাত তুলে এরপর দাড়াতে হয়। এরপর ছবি তোলা হয়। এছাড়াও হাতে কিছু থাকলে সেটাও জমা দিয়ে দিতে হয়। নিরাপত্তা তল্লাশীর কাজ করেন তিনজান নিরাপত্তা কর্মকর্তা। বাইরেও অনেক নিরাপত্তা কর্মী ও পুলিশ রয়েছে।
এরপর সোজা নেমে যেতে হয় নীচে। সেখান থেকে শুরু। হাতের ডান দিকেই রয়েছে টুইন টাওয়ারের ধ্বংসাবশেষের লোহার পিলার। এরপর ভেতরে যেতেই কেমন গা শিউরে উঠে কারণ সেখানের পরিবেশটাই এত বেশি ঠান্ডা যা না গেলে ভাষায় প্রকাশ করানো যাবে না। আর শুরু তে ভবনের ওই ফ্লোরে আলোও কম। জাদুঘরের ভেতরে বিভিন্ন স্থানে সাজিয়ে রাখা হয়েছে সব ধ্বংসাবশেষের চিহ্ন। সেগুলো ছাড়াও রয়েছে বিভিন্ন সময়ের ছবি। এখানে সুভিনিয়র শপ রয়েছে। ট্রেড সেন্টারের স্মুতিকে কেন্দ্র করে বিভিন্ন ধরনের উপহার সামগ্রী বিক্রি করা হয়। এর দাম সর্বনিম্ম তিন ডলার থেকে ১০০ ডলার পর্যন্ত রয়েছে। বিভিন্ন ছবি নিয়ে বইও করা হয়েছে।
জাদুঘরের ভেতরটি ঘুরানো। এমনভাবে তৈরি করা হেেছ একবার ভেতরে প্রবেশ করার পর সিড়ি উঠা নামা করার ঝামেলা করতে হবে না। হাঁটতে হাটতেই দেখা যাবে সব ফ্লোর। তবে লিফটের ব্যবস্থা রয়েছে।
ট্রেড সেন্টারে হামলা হওয়ার পর যে সিড়ি দিয়ে মানুষ বাইরে বের হয়ে এসেছিল ওই সিড়ি রয়েছে। দক্ষিন ও উত্তর প্লাজায় যারা মারা গেছে তাদের ছবিও আলাদা আলাদা করে রাখা রয়েছে। প্রতিটি ছবির পাশে তার নাম রয়েছে। বোঝা যায় ওই ছবিগুলো অনেব কষ্ট করেই সংগ্রহ করা হয়েছে। গ্রইন্ড জিরোর ধ্বংসা বশেষও রয়েছে। এছাড়াও ওই সময়ে উদ্ধার কর্মীদের ছবিও রাখা হয়েছে। ব্যবহার করা ট্রাকও আছে।
ভেতরে রয়েছে এডুকেশন সেন্টারও। সেখানে স্ট্যাচু অব লিবার্টির একটি মুর্তির মধ্যে বিভিন্ন দেশের পতাকা লাগানো হয়েছে। এছাড়াও রয়েছে বিভিন্ন বস্তু। বিভিন্ন ফ্লোরে রয়েছে টিভি স্কিনের ব্যবস্থা। সেখানে ওই দিনের ঘটনাও বর্ননা করা হচ্ছে ডকুমেন্টারী ফিল্মে। ৯/১১ এর ওই দিন সকাল আটটার সময় আটলান্টিক সাগরের মোহনা েেথকে তোলা টুইন টাওয়ার সহ ওই এলাকার একটি ছবিও সেখানে ঠাই পেয়েছে। একেবারেই স্বাভাবিক। কেউ বুঝতেও পারেননি যে এরপ কিছুক্ষন পরেই ধ্বংস হয়ে যাবে টুইন টাওয়ার। এই তুলনা করার জন্য দুই সময়ের ছবি রেেছ। ইতিাহস তুলে ধরে বিভিন্ন ডকুমেন্টারী তুলে ধরা হয়েছে তাও দেখানোর ব্যবস্থা রয়েছে। এছাড়াও টুইন টাওয়ারটি বিভিন্ন সময়ে আমেরকিার বিভিন্ন ছবিতে ব্যবহার করা হয়েছে সেটাও দেখানো হচ্ছে একটি ডুকমেন্টারীতে।
জাদুঘরের ভেতরে আরো বিভিন্ন স্থানের ভবনের ধ্বংসাবশেষ রয়েছে। এগুলো দেখার পাশাপাশি দর্শনার্থীরা যাতে করে সেখানে বিশ্রাম নিতে পারে সেই জন্য বসার ব্যবস্থা করা হয়েছে। প্রবেশ মুখেই নিহতদের স্মরণে শ্রদ্ধা জানানোর জন্য একটা জায়গা তৈরী করা হয়েছে। সেখানে ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা জানানো হয়। অনেকেই সেখানে এসেছেন। আগ্রহ ভরে জাদুঘরের সব জিনিস গুলো দেখছেন। জাদুঘরের ভেতরে প্রবেশ মুখেই বক্স অফিস। ওই বক্স অফিস থেকে টিকিট সংগ্রহ করতে হয়। জাদুঘর উন্মুক্ত করা প্রসঙ্গে সেখানে বলা হয়েছে ৯/১১ এর ডেডিকেশন পিরিয়ড শেষ হয়েছে। আর এই কারণেই এখন এটা জাদুঘর করে সবার জন্য উন্মুক্ত করে দেয়া হয়েছে। এটা প্রতিদিন সকাল সাড়ে আটটা থেকে রাত সাড়ে আটটা পর্যন্ত খোলা থাকবে। সেখানে কর্বত্যরত নিরাপত্তা কর্মকর্তারা জানান, ৯/১১ এ যারা মারা গেছেন তাদের স্মরণে ও তাদের প্রতি সম্মান জানিয়ে এটা তৈরী করা হয়েছে। ওই ঘটনায় মারা গেছেন নারী, শিশু ও পরুষ মিলে প্রায় তিন হাজার জন মারা গেছেন। ১৯৯৩ সালে ৬ জন ওয়ার্ল্ড ট্রেড সেন্টারে বোমা হামলায় মারা যান। ১৯৯৩ সালে একবার ও ২০০১ সালে একবার মোট দুইবার সেখানে হামলা হয়। মোমোরিয়াল পুলে ঢুকলেই সেখানে সব ধরনের নির্দেশনা দেয়া রয়েছে। এছাড়াও ইনফরমেশন বুথ রয়েছে। তা থেকে সব ধরনের তথ্য সংগ্রহ করা যায়। এছাড়াও নিহতদের ছবি ও প্রোফাইলও রয়েছে। নর্থ পুলে ওয়ার্ল্ড ট্রেড সেন্টার নর্থে যারা কাজ করতেন বা সেখানে ঘুরতে গেছেন ওই দিন মারা গেছেন তাদের নাম লেখা রয়েছে। ফ্লাইট ইলেভেনের আমেরিকান এয়ারলাইন্সের ক্রু ও প্যাসেন্সারদের নাম রয়েছে। ১৯৯৩ সালের ২৬ ফেব্র“য়ারীতে যে বোমা হামলা হয় ও যারা মারা গেছে তাদের নাম। সাউথ পুলে ওয়াল্ড ট্রেড সেন্টারের সাউথে যারা কাজ করতেন ও ডব্লিউ টিসির অন্যান্য এরিয়াতে যারা কাজ করতো ও ঘুরছিল। এদের মধ্যে যারা মারা গেছে তাদের নাম ও ১৭৫ নম্বর ফ্লাইটের ক্রু ও প্যাসেন্সার ও অন্যান্যদের নাম। যারা মারা গেছেন। ২০০১ সালের ১১ সেপ্টেম্বর মার্বিন যুক্তরাষ্ট্রের ওয়ার্ল্ড ট্রেড সেন্টারে ব্মিান হামলার ঘটনা ঘটে। ্ওই ঘটনায় ধ্বংস হয় ডব্লিউটিসি ভবন। এটা মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে একটি বড় সন্তাসী হামলার ঘটনা। ওই ঘটনাকে স্মরণীয় করে রাখার জন্যই তারা এত কিছু করছে। এনিয়ে বিভিন্ন গবেষনাও চলছে বলে জানান সংশ্লিস্টরা।
২০০১ সালে ১১ সেপ্টেম্বর টুইন টাওয়ারে ভয়াবহ বিমান হামলার ঘটনা ঘটে। ওই ঘটনায় ক্ষতিগ্রস্ত হয় বিশ্ব বানিজ্য কেন্দ্রের দুটি ভবন। মারা যান ২৯৮৩ জন। পরে ওই ভবনটি দুটি ভেঙ্গে ফেলা হয়। পরবর্তীকালে এর পাশেই নির্মাণ করা হয় ফ্রিডম টাওয়ার। এখন এই ভবনের উচ্চতা ১০৮ তলা। আর যেখানে ওয়ার্ল্ড ট্রেড সেন্টারের দুটি ভবন ছিল সেখানে তৈরি করা হয়েছে উত্তর ও দক্ষিন ভবনের জন্য আলাদা আলাদা জলপ্রপাত। সারাক্ষন সেখান থেকে পানি পড়তে থাকে। দুটি ঝরনাতে পানি পরে। ওই পানি আবার আরো ভেতরে পড়ার জন্য আলাদা করে গভীর গর্ত করে দেয়া হয়েছে। ওই পানি সেখানে পরে। সেখানে সারাক্ষন ওই পানি ঝরনা দিয়ে বইতে থাকে। বিভিন্ন দেশ থেকে দর্শনার্থীরা সেখানে আসেন। এবং নাইন ইলেভেনের সেই সব স্মৃতি মনে করেন। অনেকেই চোখের জলও ফেলেন। মেমোরিয়াল পুল এর পানি খুব ঠান্ডা। বিশ্বের কোথাও এতটা প্রশান্তিময় পরিবেশ নেই। আবহটা তৈরী করা হয়েছে এমন ভাবে। তবে অনেকেই ভয়ে আবার সেখানে যান না। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে দীর্ঘ দিন বসবাস করেন তাদের অনেকেই সেখানে যান না। মূলত যারা ওই দিন বিমান হামলার ঘটনায় নিহত হয়েছেন তাদের আতœার শান্তির জন্য এটা বিশেষ ভাবে তৈরী করা হয়েছে।আমাদের সময়.কম
- New York Attorney General James Secures More Than $480,000 and Debt Relief for New York Homeowners
- এই জীবন চিরস্থায়ী নয়, একদিন মরে যাবো
- নিউইয়র্কে বাংলাদেশ সোসাইটির নির্বাচন নিয়ে অনিশ্চয়তা আরও বেড়েছে; ১৭ ডিসেম্বর উভয় পক্ষকে তথ্য-উপাত্ত জমার নির্দেশ
- নিউইয়র্কে নৃত্যশিল্পী ও সাংস্কৃতিক সংগঠক তাহসিন ফেরদৌসের অকালমৃত্যু, বাংলাদেশি কমিউনিটিতে শোকের ছায়া
- নিউইয়র্কে আবেয়া’র দ্বিবার্ষিক সম্মেলন ও ফ্যামিলি নাইট: প্রযুক্তি সেমিনার, জব ফেয়ার, বিজ্ঞান মেলা ও সাংস্কৃতিক উৎসব
- Global Anticipation Builds as Dr. Mostofa Sarwar’s Sunflower Wounds Debuts with Successful Houston Open House and Worldwide Pre-Order Milestone
- যুক্তরাষ্ট্রে ৭৫ দেশের অভিবাসী ভিসায় অনিশ্চয়তা, আদালতের নির্দেশের পরও কাটেনি জট
- Human Rights Must Be at the Heart of Economic Governance and Policies: Ambassador Irene Khan