প্রেসিডেন্ট পদে হিলারির যোগ্যতা-অযোগ্যতা
যুক্তরাষ্ট্রের পরবর্তী প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে হিলারি ক্লিনটনের অংশ নেওয়ার সম্ভাবনা নিয়ে অনেক দিন ধরেই নানা জল্পনা চলছে। তবে এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত নিতে আগামী বছর পর্যন্ত সময় লাগতে পারে বলে সম্প্রতি এবিসি নিউজকে দেওয়া এক সাক্ষাত্কারে আভাস দিয়েছেন সাবেক এই পররাষ্ট্রমন্ত্রী।
২০১৬ সালের ওই নির্বাচনে হিলারির অংশ নেওয়া বা না-নেওয়ার পক্ষে-বিপক্ষে বিভিন্ন মহল থেকে নানা যুক্তি দেখানো হচ্ছে। সম্প্রতি বার্তা সংস্থা এএফপি প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে এমন কয়েকটি যুক্তি তুলে ধরা হয়েছে।
প্রার্থিতার পক্ষে যুক্তি
অভিজ্ঞতায় অপ্রতিদ্বন্দ্বী: প্রেসিডেন্ট পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতার ক্ষেত্রে ডেমোক্র্যাট বা রিপাবলিক যেকোনো দলের সম্ভাব্য প্রার্থীর মধ্যে অভিজ্ঞতার দিক দিয়ে বিবেচনা করলে হিলারি অপ্রতিদ্বন্দ্বী। তিনি সবার থেকে অনেক এগিয়ে। এ প্রসঙ্গে ২০০৪ সালের প্রেসিডেন্ট প্রার্থী ও ভারমন্টের সাবেক গভর্নর হাওয়ার্ড ডিন বলেন, ‘আমি মনে করি না যে, দেশের সাবেক কোনো প্রেসিডেন্ট ছাড়া আর কেউ তাঁর যোগ্য।’
১৯৯৩-২০০১ সাল পর্যন্ত ফার্স্ট লেডি ছিলেন হিলারি। ২০০১-২০০৯ সাল পর্যন্ত মার্কিন সিনেটে সিনেটর ছিলেন তিনি। ২০০৯-২০১৩ সাল পর্যন্ত ওবামা প্রশাসনে পররাষ্ট্রমন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করেন। এই সময়ে বিশ্ব রাজনীতি ও কূটনৈতিক বিষয়ে ব্যাপক অভিজ্ঞতা অর্জন করেছেন। বিভিন্ন দেশের প্রভাবশালী রাষ্ট্র ও সরকারপ্রধানদের সঙ্গে তাঁর ভালো সম্পর্ক ও জানা-শোনা আছে। তিনি নিজে যেমন জনপ্রিয়, তেমনি তাঁর স্বামী সাবেক মার্কিন প্রেসিডেন্ট বিল ক্লিনটন এখনো দারুণ জনপ্রিয়।
সেরা অবস্থান: মার্কিন প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে গত কয়েক দশকের মধ্যে ডেমোক্র্যাট বা রিপাবলিক যেকোনো দলের প্রার্থীর তুলনায় হিলারির অবস্থান সবার চেয়ে ভালো। গ্রহণযোগ্যতার দিক দিয়ে নিজ দল বা প্রতিপক্ষ দলের সম্ভাব্য প্রার্থীদের চেয়ে অনেক এগিয়ে আছেন তিনি।
রক্ষণশীল বলে পরিচিত একটি গবেষণাপ্রতিষ্ঠানের জনমত জরিপ বিশেষজ্ঞ কারলিন বোম্যানের মতে, হিলারির গ্রহণযোগ্যতার হার অসাধারণ টেকসই। তাঁর ভাবমূর্তি খুবই ইতিবাচক। সময়ের ব্যবধানে তা আরও বাড়বে।
নারী প্রেসিডেন্ট: আধুনিকতা ও অধিকারের প্রশ্নে যুক্তরাষ্ট্র সব সময় সরব। কিন্তু দেশটি এখন পর্যন্ত কোনো নারী প্রেসিডেন্ট পায়নি। ৪৪ জন পুরুষ প্রেসিডেন্টের পর দেশটির প্রথম নারী প্রেসিডেন্ট হয়ে ইতিহাস সৃষ্টি করতে পারেন হিলারি।
তবে এ ক্ষেত্রে একটি সতর্কতার কথা শুনিয়েছেন জর্জ ওয়াশিংটন বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক লুরা ব্রাউন। তাঁর ভাষ্য, মার্কিন ভোটাররা সাধারণত জেন্ডারের ভিত্তিতে রাজনৈতিক সিদ্ধান্ত নেন না।
প্রার্থিতার বিপক্ষে যুক্তি
বিতর্কিত ইতিহাস: ওবামা-হিলারির পররাষ্ট্রনীতি কোনো সুনির্দিষ্ট ও তাত্পর্যপূর্ণ কূটনৈতিক সফলতা অর্জনে ব্যর্থ হয়েছে বলে সমালোচনা রয়েছে।
রিপাবলিকানদের অভিযোগ, পররাষ্ট্রমন্ত্রীর দায়িত্বে থাকা অবস্থায় ইরান, রাশিয়া, সিরিয়া, ইসরায়েল-ফিলিস্তিন ইস্যুতে কোনো সুনির্দিষ্ট ফল বয়ে আনতে পারেননি হিলারি।
২০১৬ সালের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে রিপাবলিকান দলেন সম্ভাব্য প্রার্থী সিনেটর মার্কো রুবিও এসব প্রসঙ্গ টেনে হিলারিকে ‘এফ’ গ্রেড দিয়ে মূল্যায়ন করেছেন।
বেনগাজী হামলা: ২০১২ সালে লিবিয়ার বেনগাজীতে অবস্থিত মার্কিন উপদূতাবাসে সন্ত্রাসী হামলা হয়। হামলায় মার্কিন রাষ্ট্রদূতসহ চারজন নিহত হন। ওই ঘটনায় তীব্র সমালোচনার মুখে পড়েন যুক্তরাষ্ট্রের তত্কালীন পররাষ্ট্রমন্ত্রী হিলারি। এ বিষয়ে তিনি জিজ্ঞাসাবাদেরও মুখোমুখি হন।
রিপাবলিকানদের অভিযোগ, পররাষ্ট্র দপ্তরের ব্যর্থতার জন্যই বেনগাজী হামলা ও হতাহতের ঘটনা ঘটেছে। আর পররাষ্ট্রমন্ত্রী হিসেবে এ ব্যর্থতার দায় হিলারির।
ওই ঘটনায় হিলারির যোগ্যতা ও ভাবমূর্তি চরম সংকটে পড়ে। এই ক্ষত ভবিষ্যতেও তাঁকে ভোগাবে।
বয়সের বাধা: ২০১৬ সালে প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের আগে হিলারির বয়স ৬৯ বছরে পড়বে। ১৯৮০ সালে এই একই বয়সে যুক্তরাষ্ট্রের সবচেয়ে বয়স্ক প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হয়েছিলেন রোনাল্ড রিগ্যান।
হিলারির বয়স ও স্বাস্থ্যকে নিয়ে জল ঘোলা করার চেষ্টা করতে ছাড়বে না রিপাবলিকানরা।
২০১২ সালের শেষের দিকে দায়িত্ব পালনরত অবস্থায় অসুস্থ হয়ে পড়েছিলেন হিলারি। এরপর তাঁকে বেশ কয়েকবার হাসপাতালে যেতে হয়। তবে হিলারির দাবি, তিনি শতভাগ ঠিক।
বিভিন্ন মহলের যুক্তি-পাল্টাযুক্তি ছাপিয়ে হিলারির কথা অনুযায়ী, প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে তাঁর প্রার্থিতার বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত জানতে বিশ্ববাসীকে অপেক্ষা করতে হবে আগামী এক বছর। এই সময়ে তিনি নিজের লেখা নতুন বই হার্ড চয়েজেস-এর বিক্রি বাড়ানোর লক্ষ্যে বিভিন্ন এলাকায় সফরের পরিকল্পনা করছেন। এ প্রসঙ্গে হিলারি বলেন, ‘আমি এ বছরটি নেব। এ সময়ের মধ্যে গোটা দেশ ঘুরব। আগামী শরতে অনুষ্ঠেয় মধ্যবর্তী নির্বাচনে সহযোগিতা দেব। তার আগ পর্যন্ত আমার দম ফেলার সময় নেই।’
নির্বাচনে অংশ নেওয়ার ব্যাপারে হিলারি বলেন, ‘যখন সিদ্ধান্ত নেওয়ার প্রয়োজন মনে করব, তখন সিদ্ধান্ত নেব। আমার ও দেশের জন্য যা ভালো হবে, তা-ই করব।’
- Rohingyas Want to Return Home, Bangladesh Tells UN
- এক দশক ধরে বিপুল সংখ্যক রোহিঙ্গাকে আশ্রয় দেওয়া দেশের জন্য টেকসই নয়, রোহিঙ্গারাও নিজ দেশে ফিরে যেতে চায় : জাতিসংঘে বাংলাদেশ
- Bangladesh and UN Women pledge closer cooperation to advance women’s empowerment and the WPS agenda
- নিউইয়র্কে চিটাগং অ্যাসোসিয়েশন অব নর্থ আমেরিকা (মাকসুদ-মাসুদ) এর সংবাদ সম্মেলনে কুৎসা রটানোর প্রতিবাদ
- নারীর ক্ষমতায়ন এবং নারী, শান্তি ও নিরাপত্তা এজেন্ডা এগিয়ে নিতে বাংলাদেশ ও ইউএন উইমেনের ঘনিষ্ঠ সহযোগিতার অঙ্গীকার
- State Minister for Foreign Affairs Urges Stronger Global Action to Protect Civilians, Uphold Humanitarian Law and Support Rohingya Repatriation
- বেসামরিক জনগণের সুরক্ষা, আন্তর্জাতিক মানবিক আইন সমুন্নত রাখা ও রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসনে জোরালো বৈশ্বিক পদক্ষেপের আহ্বান পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামার
- মহররম মাসের গুরুত্ব ও ফজিলত!