নায়গ্রা জলপ্রপাতে একদিন
প্রবাসে আমাদের দিনগুলো কাটে ব্যস্ততায়। কিছুদিন আগে অল্প কয়েকদিনের ছুটিতে আমরা কয়েকজন যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্ক থেকে কানাডায় গিয়েছিলাম নায়াগ্রা জলপ্রপাত দেখব বলে। সকালে যখন নায়াগ্রায় পৌঁছলাম তখন মাথার ওপরে ঝকঝকে রোদ আর দূর থেকে জলধারার তীব্র গর্জন শুনতে পাচ্ছিলাম।
আমাদের হোটেলটি ছিল নায়াগ্রা ফলসের গা ঘেষে। পুরো ফলসটাই হোটেল থেকে খুব সুন্দর দেখা যায়। সকালের নাস্তা শেষ করে পাহাড়ি আঁকাবাকা ঢালু পথ ধরে আমরা রওনা হলাম ফলসের দিকে। এত বিশাল জলধারা আমি আগে কখনো দেখিনি। বলাইবাহুল্য, টিভিতে বা ছবিতে নায়াগ্রা ফলস দেখা আর নিজের চোখে দেখার মধ্যে যে আকাশপাতাল তফাৎ, সেটা বোধকরি ওখানে না গেলে বোঝা সম্ভব ছিল না।
প্রতি সেকেন্ডে এক লাখ পঞ্চাশ হাজার গ্যালন জলরাশির ধারা পড়ছে ৫১ মিটার ওপর থেকে। নায়াগ্রায় আছে তিনটি ফলস—হর্সসু বা কানাডিয়ান ফলস, আমেরিকান ফলস ও ব্রাইডাল ভেলি ফলস। তিনটির মধ্যে হর্সসু ফলস সব থেকে বেশি দৃষ্টিনন্দন। এটা দেখতে হলে অব্যশই কানাডার দিক থেকে দেখতে হয়।
রংধনুর মতোন দেখতে রেইনবো সেতু নায়াগ্রা ফলসের সৌন্দর্য আরও খানিকটা বাড়িয়ে দিয়েছে। পাশেই নায়াগ্রার সব থেকে বড় ১৬০ মিটার উঁচু স্কাইলন টাওয়ার। সেখান থেকে পুরো ফলসটা খুব ভালো ভাবে দেখা যায়। শুক্র ও রোববার রাতের আকাশে থাকে লাল-নীল-সবুজ-বেগুনি নানা রংবেরঙের দারুণ ফায়ার ওয়ার্ক।
১৬০ মিটার উঁচু স্কাইলন থেকে নায়াগ্রা ফলস দেখার পর আমরা বোটে উঠে রওনা হলাম ফলস দেখার উদ্দেশে। বোটে ওঠার পর আমাদের উত্তেজনা দিগুণ বেড়ে গেল। কিছুদূর যাওয়ার পর সে এক অভূতপূর্ব দৃশ্য। প্রকৃতি দেবী যেন তার সকল সৌন্দর্য্য জলকন্যার রূপ ধরে প্রকাশ করতেই ব্যস্ত। ফলস জুড়ে সাদা ফেনার এক তীব্র ধারা। আর সেই ধারা থেকে সাদা মেঘের আবির্ভাব। আমি মুগ্ধ হয়ে কিছুক্ষণ তাকিয়ে ছিলাম সেই অপরূপ জলপ্রপাতের দিকে।
আমাদের বোট এগিয়ে চলল ফলসের আরও কাছাকাছি। ওখানে তখন হাজার হাজার পাখির হাট বসেছে। সারা আকাশ জুড়ে সাদা পাখির
বিচরণ মনের প্রশান্তি যেন আরও খানিকটা বাড়িয়ে দিল। ফলসের খুব কাছাকাছি যখন পৌছালাম, সবার রেইনকোট থাকা সত্ত্বেও ভেজা কাক হয়ে গেলাম কয়েক সেকেন্ডে। মনে হচ্ছিল, হঠাৎ ঝুমবৃষ্টি। অথচ আকাশে ঝকঝকে রোদ।
প্রচন্ড গর্জনের নীল জলরাশির ধারা দেখতে দেখতে কখন যে ফেরার সময় হলো টেরই পাইনি। ফেরার সময় মনে মনে ভাবছিলাম, এই সৌন্দর্য্য ক্যামেরাতে ধারণ করার মতো কোনো ক্যামেরা কি আছে? তার পরও মন মানে না। তাই ফেরার আগে সেই সৌন্দর্য্য ক্যামেরাবন্দী করার প্রবল ইচ্ছেটা পূরণ না করে পারলাম না।
বোট ভ্রমণ শেষে আমরা যখন ফিরে এলাম, তখনো দিনের কিছুটা সময় বাকি ছিল। তাই সময় নষ্ট না করে আমরা বেরিয়ে পড়লাম শহরটা ভালো করে দেখব বলে। খুব সাজানো গোছানো একটা শহর। ফলসের কাছেই Tackyvillle টাউন। এই শহরটাকে মনে হলো ছোটখাট একটা হলিউড। চারিদিকে চোখ ধাঁধানো উজ্জ্বল আলোর সমাহার। হলিউডের তারকা ও প্রাণীদের বিরাট বিরাট মূর্তি রাস্তার সর্বত্র।
শহরের একটু ভিতরে গেলেই দেখা যায় স্কাইহুইল। এর আগে আমি কখনো স্কাইহুইলে উঠিনি। তাই সবাই মিলে চেপে বসলাম স্কাইহুইলে। নায়াগ্রা জলপ্রপাতসহ গোটা শহরটা এখান থেকে দেখা যায়।
ঠিক সন্ধায় স্কাইহুইলে বসে রংবেরঙের দারুণ দারুণ ফায়ার ওয়ার্ক দেখে আমরা সবাই মুগ্ধ! এত সুন্দর লাগছিল পুরো শহরটা দেখতে, মনে হচ্ছিল ঠিক যেন ছবির মতোন। আমার একটু একটু ভয়ও করছিল। এর আগে এত ওপরে কখনো উঠিনি। কিন্তু সব ভয় ভীতি উপেক্ষা করে ভালো লাগার মাত্রাটা ছিল অনেক গুণ বেশি।
রাতে হোটেলে ফিরলাম। রাতের নায়গ্রা জলপ্রপাত দেখতে অন্য রকম সুন্দর লাগে। হোটেলে বসে মধ্য রাত পর্যন্ত সেই অদ্ভুত সুন্দর জলপ্রপাত দেখা, আমি কখনই ভুলতে পারব না। এ যেন এক মায়াবী মোহ। যতই দেখছি সাধ যেন মেটে না।প্রথম আলো
সম্পা হরি সেন
নিউইয়র্ক, যুক্তরাষ্ট্র
<[email protected]>
- New York Attorney General James Secures More Than $480,000 and Debt Relief for New York Homeowners
- এই জীবন চিরস্থায়ী নয়, একদিন মরে যাবো
- নিউইয়র্কে বাংলাদেশ সোসাইটির নির্বাচন নিয়ে অনিশ্চয়তা আরও বেড়েছে; ১৭ ডিসেম্বর উভয় পক্ষকে তথ্য-উপাত্ত জমার নির্দেশ
- নিউইয়র্কে নৃত্যশিল্পী ও সাংস্কৃতিক সংগঠক তাহসিন ফেরদৌসের অকালমৃত্যু, বাংলাদেশি কমিউনিটিতে শোকের ছায়া
- নিউইয়র্কে আবেয়া’র দ্বিবার্ষিক সম্মেলন ও ফ্যামিলি নাইট: প্রযুক্তি সেমিনার, জব ফেয়ার, বিজ্ঞান মেলা ও সাংস্কৃতিক উৎসব
- Global Anticipation Builds as Dr. Mostofa Sarwar’s Sunflower Wounds Debuts with Successful Houston Open House and Worldwide Pre-Order Milestone
- যুক্তরাষ্ট্রে ৭৫ দেশের অভিবাসী ভিসায় অনিশ্চয়তা, আদালতের নির্দেশের পরও কাটেনি জট
- Human Rights Must Be at the Heart of Economic Governance and Policies: Ambassador Irene Khan