জাতিসংঘে বাংলাদেশ মিশনের স্থায়ী প্রতিনিধি ড. মোমেনের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্র আওয়ামীলীগের সভাপতি ড. সিদ্দিকের চাতুর্যপুর্ন বক্তব্যের প্রতিবাদ
মামুন-অর-রশিদ : যুক্তরাষ্ট্র আওয়ামীলীগের সভাপতি ড. সিদ্দিকুর রহমান কর্তৃক কোন কোন স্থানীয় সাপ্তাহিক ও টেবলয়েড জনমনে বিরুপ মনোভাব সৃষ্টির উদ্দেশ্যে জাতিসংঘে বাংলাদেশ মিশনের মান্যবর স্থায়ী প্রতিনিধি ড.এ.কে আব্দুল মোমেনকে নিয়ে কয়েকটি বিভ্রান্তিকর ও উদ্দেশ্যমূলক খবর প্রকাশ করেছে। সংবাদে বলা হয় যে, মহামান্য রাষ্ট্রপতি আব্দুল হামিদের সম্মানে গত ১৭ জুন লাগর্ডিয়া ম্যারিয়ট হোটেলের বলরুমে যুক্তরাষ্ট্র আওয়ামীলীগ আয়োজিত ‘সার্বজনীন নাগরিক সম্বর্ধনা’ অনুষ্ঠানে যাননি এবং তাৎক্ষনিক ড. সিদ্দিকুর রহমান রাষ্ট্রপতির সম্মানে সংবর্ধনা বাতিলের জন্য জাতিসংঘে নিযুক্ত বাংলাদেশের স্থায়ী প্রতিনিধি ড.এ. কে আব্দুল মোমেনের ভূমিকাকে দায়ী করেন। ড. সিদ্দিক বলেন, রাষ্ট্রপতিকে স্থায়ী প্রতিনিধির বাসায় দাওয়াত করে ভুল তথ্য দিয়ে সম্বর্ধনা ভন্ডুল করা হয়েছে। কিন্তু প্রকৃতপক্ষে ড. সিদ্দিকের এ তথ্য সম্পুর্নই বিভ্রান্তিকর ও মান্যবর স্থায়ী প্রতিনিধিকে হেয় করার জন্যই করা হয়েছে। তাই জাতিসংঘে বাংলাদেশ স্থায়ী মিশনের প্রেস উইং এ মিথ্যা, বানোয়াট, ভিত্তিহীন এবং সর্বোপরী যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশের ভাবমুর্তি ক্ষুন্ন করা সংক্রান্ত সংবাদের তীব্র প্রতিবাদ জানাচ্ছে। সাথে সাথে ড. সিদ্দিককে বাংলাদেশের উন্নয়নের স্বার্থে জাতিসংঘে নিযুক্ত মান্যবর স্থায়ী প্রতিনিধি ড.এ.কে আব্দুল মোমেনের বিরুদ্ধে এ ধরনের ভিত্তিহীন তথ্য পরিবেশন না করার অনুরোধ জানানো হচ্ছে।
উল্লেখ্য, ‘সার্বজনীন নাগরিক সম্বর্ধনা’ অনুষ্ঠানে যাওয়া না যাওয়া সম্পূর্ন মহামান্য রাষ্ট্রপতির নিজস্ব সিদ্ধান্তের উপর নির্ভর করে। মহামান্য রাষ্ট্রপতি কোন বিতর্কিত অনুষ্ঠানে যাবেন না বলে জানিয়েছেন। তাছাড়া জানা গেছে আওয়ামীলীগের বিভিন্ন দল ও মুক্তিযুদ্ধের নেতৃস্থানীয় লোকেরা মহামান্য রাষ্ট্রপতিকে প্রেস কনফারেন্স-এর মাধ্যমে জানিয়েছেন, উক্ত ‘সার্বজনীন নাগরিক সম্বর্ধনা’ কমিটি অনেক বিতর্কিত লোকদের নিয়ে গঠিত। বিশেষ করে স্বাধীনতা বিরোধী আলবদর ও যুদ্ধাপরাধীরা এর সাথে সম্পৃক্ত। সে জন্যে মহামান্যের সম্মান রক্ষার্থে উক্ত অনুষ্ঠানে যাওয়া উচিত নয় বলে সংবাদ সম্মেলনে তাদের অভিমত ছিল। এর বাইরেও তিনি তাঁর সার্বক্ষনিক নিরাপত্তা ও স্পেশাল সিকিউরিটি ফোর্স-এর সিগনালের অপেক্ষায় থাকেন। বর্ণিত অনুষ্ঠানে যোগাদানের ব্যাপারে এসএসএফ-এর রেড সিগনাল ছিল বলেই মহামান্য অনুষ্ঠানে না যাওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন বলে জানা গেছে। যে কারনে মহামান্য রাষ্ট্রপতির কোন অনুষ্ঠানে যাওয়া না যাওয়ার দায় কোনভাবেই ব্যক্তিবিশেষের ইচ্ছা অনিচ্ছার উপর নির্ভর করে না। সুতরাং এখানে স্থায়ী প্রতিনিধিকে দায়ী করা মানেই ড. সিদ্দিকুর রহমান নিজের ব্যর্থতাকে ঢাকার অপচেষ্টা করেছেন মাত্র। কারন ড. সিদ্দিক মহামান্য যেন অনুষ্ঠানে যোগ দিতে পারেন এমন পরিবেশ তৈরী করতে ব্যর্থ হয়েছেন মর্মে প্রেস উইং মনে করে।
একইসঙ্ঘে প্রেস উইং মনে করে ড. সিদ্দিক সাহেব যুক্তরাষ্ট্র আওয়ামীলীগের সভাপতি হওয়া সত্ত্বেও বলতে গেলে পুরো বছরই বাংলাদেশে অবস্থানের কারনে ওনার পকেটস্থ কিছু লোক ছাড়া গোটা যুক্তরাষ্ট্রের আওয়ামীলীগের উপর উনি নিয়ন্ত্রণও হারিয়ে ফেলেছেন। যে কারনেই উনি সম্বর্ধনা সভা আয়োজনে ব্যর্থ হয়েছেন এবং উদুর পিন্ডি বুদুড় ঘাড়ে চাপাতে গিয়ে মান্যবর স্থায়ী প্রতিনিধির বিরুদ্ধে অভিযোগ তুলছেন। যা কেবল দুঃখজনক নয় অনাকাঙ্খিত, অনভিপ্রেত এবং চাতুর্যপূর্ন। যে কারনে এই চাতুর্যপনায় সাধারন মানুষকে বিভ্রান্ত করার কোন সুযোগ নেই। বরং ্উনার নেতৃত্বের ব্যর্থতাই এখানে সকল মহলে স্পষ্ট হয়ে উঠেছে। এই ব্যর্থতার কারনে লোক লজ্জায় মুখ ঢাকতে মহামান্য রাষ্ট্রপতি সকালের ফ্লাইটে দেশে যাওয়ার পর পরই ড. সিদ্দিক যথারিতি বিকালের ফ্লাইটে দেশে চলে গেছেন।
প্রসঙ্গত বিশেষভাবে উল্লেখ্য নিউইয়র্কের স্থানীয় সময় বাইশে জুন রবিবার বিকেলে নিউইয়র্কের জ্যাকশন হাইটের ফোটকোর্ট রেস্টুরেন্ট মিলনায়তনে প্রবাসী কয়েকজন বিশিষ্ট মুক্তিযোদ্ধা ও বিভিন্ন পর্যায়ের আওয়ামীলীগ নেতারা যুক্তরাষ্ট্র আওয়ামীলীগ সভাপতির পদ থেকে ড. সিদ্দিকুর রহমানের পদত্যাগ দাবী করেছেন। মহামান্য রাষ্ট্রপতির ‘সার্বজনীন নাগরিক সম্বর্ধনা’ সভা আয়োজনে ব্যর্থতা এবং যুক্তরাষ্ট্র আওয়ামীলীগ সভাপতির পদে থেকে সেপ্টেম্বর মাসের শেষ সপ্তাহে জাতিসংঘ সাধারন পরিষদের অধিবেশনে মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর যোগদানের সময় ব্যতীত প্রায় সারা বছর বাংলাদেশে অবস্থানের কারনে উনার কর্মকান্ড নিয়ে যেমন প্রশ্ন উঠেছে, তেমনি যুক্তরাষ্ট্র আওয়ামীলীগের সভাপতির পদ থেকে ড. সিদ্দিকের পদত্যাগেরও দাবী উঠেছে।
মামুন-অর-রশিদ, প্রথম সচিব (প্রেস)
- Rohingyas Want to Return Home, Bangladesh Tells UN
- এক দশক ধরে বিপুল সংখ্যক রোহিঙ্গাকে আশ্রয় দেওয়া দেশের জন্য টেকসই নয়, রোহিঙ্গারাও নিজ দেশে ফিরে যেতে চায় : জাতিসংঘে বাংলাদেশ
- Bangladesh and UN Women pledge closer cooperation to advance women’s empowerment and the WPS agenda
- নিউইয়র্কে চিটাগং অ্যাসোসিয়েশন অব নর্থ আমেরিকা (মাকসুদ-মাসুদ) এর সংবাদ সম্মেলনে কুৎসা রটানোর প্রতিবাদ
- নারীর ক্ষমতায়ন এবং নারী, শান্তি ও নিরাপত্তা এজেন্ডা এগিয়ে নিতে বাংলাদেশ ও ইউএন উইমেনের ঘনিষ্ঠ সহযোগিতার অঙ্গীকার
- State Minister for Foreign Affairs Urges Stronger Global Action to Protect Civilians, Uphold Humanitarian Law and Support Rohingya Repatriation
- বেসামরিক জনগণের সুরক্ষা, আন্তর্জাতিক মানবিক আইন সমুন্নত রাখা ও রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসনে জোরালো বৈশ্বিক পদক্ষেপের আহ্বান পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামার
- মহররম মাসের গুরুত্ব ও ফজিলত!