নিউইয়র্কে জাতিসংঘ বাংলাদেশ মিশনে বঙ্গবন্ধুকে নিয়ে গ্লোবাল কনফারেন্স : বঙ্গবন্ধুর আদর্শে এগিয়ে যাবে বাংলাদেশ
ইউএসএনিউজঅনলাইন.কম : নিউইয়র্কে জাতিসংঘ বাংলাদেশ মিশনে বঙ্গবন্ধুকে নিয়ে আয়োজিত গ্লোবাল কনফারেন্সে মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডার ড. নুরুন নবী বলেন, বঙ্গবন্ধুর ডাকেই আমরা মুক্তিযুদ্ধ করেছিলাম। বঙ্গবন্ধু মানেই বাংলাদেশ আর বাংলাদেশ মানেই বঙ্গবন্ধু। বাংলাদেশের ইতিহাস থেকে বঙ্গবন্ধুকে কেউ কোনোদিন বিচ্ছিন্ন করতে পারবেনা। বাংলাদেশ যতদিন থাকবে বঙ্গবন্ধু ততদিন আমাদের মাঝে বেঁচে থাকবেন। একে খন্দকারের বইয়ে বঙ্গবন্ধুর ৭ই মার্চের ভাষণে মিথ্যা তথ্য প্রকাশের তীব্র প্রতিবাদ জানিয়ে তিনি আরো বলেন, ওই দিন আমি রেসকোর্স ময়দানে উপস্থিত ছিলাম। বঙ্গবন্ধু জয়বাংলা বলে ওনার ভাষণ শেষ করেছেন। জাতিসংঘ বাংলাদেশ মিশনের বঙ্গবন্ধু অডিটরিয়ামে ১৩ সেপ্টেম্বর শনিবার নিউইয়র্ক সময় বিকেল ৪টায় ৬ ঘন্টাব্যাপী এই অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। জাতিসংঘ বাংলাদেশ মিশনের সহায়তায় উক্ত অনুষ্ঠানের আয়োজন করে বঙ্গবন্ধু ফাউন্ডেশন ইউএসএ।
কানাডা থেকে কনফারেন্সে যোগদানকারী অধ্যাপক ড. ওমর সেলিম শের বলেন, ৭ই মার্চ বঙ্গবন্ধুর ভাষণ আমি ওই মাঠে উপস্থিত থেকে নিজ কানে শুনেছি। রেসকোর্স ময়দানে উপস্থিত লাখো জনতাকে বঙ্গবন্ধু যুদ্ধের জন্য প্রস্তুত থাকতে বলেছেন। এবারের সংগ্রাম মুক্তির সংগ্রাম, এবারের সংগ্রাম স্বাধীনতার সংগ্রাম এরপর জয়বাংলা বলে বঙ্গবন্ধু ভাষণ শেষ করেন। একে খন্দকারের বইয়ের ওই বক্তব্য উদ্দেশ্যমূলক। এতে গভীর ষড়যন্ত্র থাকতে পারে। তিনি আরো বলেন, ষড়যন্ত্র করে বাংলাদেশের ইতিহাস থেকে বঙ্গবন্ধুর নাম মুছে দেয়া যাবেনা। বরং যারা এই অপচেষ্টা চালাবে উল্টো তারাই ইতিহাসের আস্তাকুঁড়ে মুখ থুবড়ে পড়বে। আজ ইতিহাস বদলে দেয়ার পরিকল্পনা নিয়ে একটি গোষ্ঠি মাঠে নেমেছে। এরা কারা? তা আমাদের চিনতে হবে জানতে হবে। সব ইতিহাস আর্কাইভে আছে। প্রজন্ম তা জানবেই। প্রজন্মকে বাংলা ভাষা, বাঙ্গালি জাতি ও ইতিহাসকে সঠিকভাবে জানাতে হবে। জানাতে হবে একাত্তরের বিজয়ের পথ। আর সেই পথ ধরেই এগিয়ে যাবে আগামীর বাংলাদেশ। কেউ তা আটকে রাখতে পারবেনা।
বঙ্গবন্ধুর জীবন আদর্শকে বিশ্বময় ছড়িয়ে দেয়ার উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়ে অনুষ্ঠানের সভাপতি জাতিসংঘে নিযুক্ত বাংলাদেশের স্থায়ী প্রতিনিধি ও রাষ্ট্রদূত ড. এ কে আবদুল মোমেন বলেন, জাতির জনক বঙ্গবন্ধ শেখ মুজিবুর রহমান বাংলাদেশের আকাশে উজ্জ্বল সূর্য। তার রেখে যাওয়া চিন্তা চেতনাকে কাজে লাগিয়েই আমাদেরকে সোনার বাংলা গড়তে হবে। আমাদের নতুন প্রজন্মকে বঙ্গবন্ধু ও মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস জানাতে হবে। বাংলাদেশের ইতিহাস দেশে দেশে যতো বেশি প্রচার হবে বাংলাদেশ ততো বেশি সমৃদ্ধ হবে। বাংলাদেশের ইতিহাস ঐতিহ্য ও সংস্কৃতি সম্পর্কে বিদেশিরা যতো বেশি জানবে তারা ততো বেশি বাংলাদেশকে ভালোবাসবে। বাংলাদেশের মানুষের পাশে থাকবে। তিনি অনুষ্ঠানের আয়োজনের জন্য বঙ্গবন্ধু ফাউন্ডেশন ইউএসএ’কে এবং অনুষ্ঠানে আগত সকলকে ধন্যবাদ জানান। তিনি এ ধরনের যেকোনো উদ্যোগে সবসময় সহযোগীতার আশ্বাস দেন।
অনুষ্ঠানের সাফল্য কামনায় বাংলাদেশের রাষ্ট্রপতি আবদুল হামিদ প্রদত্ত বাণী পাঠ করেন কনফারেন্সের যুগ্ম আহবায়ক মোহাম্মদ আবদুল সালাম। অনুষ্ঠানের শুরুতে জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ও সব শহীদের স্মরণে এক মিনিট নীরবতা পালন করা হয়। তারপর কোরআন তেলাওয়াত করেন, ঈমাম কাজী কাইয়ুম। গীতা পাঠ করেন সবিতা দাস। বাইবেল পাঠ করেন, জন বাড়ৈ এবং ত্রিপিটিক পাঠ করেন নয়ন বড়–য়া। এরপর সমবেত কন্ঠে জাতীয় সংগীতের মাধ্যমে অনুষ্ঠানের শুরু হয়।
অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্যে বঙ্গবন্ধু ফাউন্ডেশন ইউএসএ’র প্রেসিডেন্ট নুরুল আবেদিন বলেন, জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জীবন আদর্শকে বিশ্ববাসীর কাছে তুলে ধরার জন্য আমাদের এই আয়োজন- “গ্লোবাল কনফারেন্স অন বঙ্গবন্ধু এন্ড বাংলাদেশ”। বঙ্গবন্ধুকে নিয়ে সাম্প্রতিক সময়ে কতিপয় ব্যক্তি ধারাবাহিকভাবে মিথ্যাচার করে চলেছেন এবং ইতিহাস বিকৃতির অপচেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন। দেশে-বিদেশে যারা বাংলাদেশের ইতিহাস বদলে ফেলার অপচেষ্টায় মত্ত তাদের সাবধান করতে এবং ওইসব লোকের মিথ্যাচারে প্রবাসী-বিদেশী কেউ যাতে বিভ্রান্ত না হন সেজন্য আমাদের এই কনফারেন্সের আয়োজন। তিনি আরো বলেন, আগামী সপ্তাহে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা জাতিসংঘ সাধারণ অধিবেশনে যোগ দিতে নিউইয়র্ক আসছেন। বঙ্গবন্ধু কন্যার সফরের প্রাক্কালে মিশনের প্রচন্ড ব্যস্ততার মধ্যেও আজকের এই অনুষ্ঠান আয়োজনে জাতিসংঘ বাংলাদেশ মিশন এবং আমাদের স্থায়ী প্রতিনিধি অধ্যাপক ড. এ কে আবদুল মোমেন সাহেব আমাদেরকে এই অনুষ্ঠান আয়োজনে সহযোগীতা করেছেন সেজন্য মিশনের সকলের নিকট আন্তরিকভাবে কৃতজ্ঞতা জানাচ্ছি। অনুষ্ঠানে একুশে পদকপ্রাপ্ত অভিনেতা নাট্যজন জামাল উদ্দিন হোসেন বলেন, শেখ মুজিব আমাদেরকে একটি পতাকা দিয়ে গেছেন। বিশ্বেও অনেক নেতা যে কাজটি করতে পারেননি বঙ্গবন্ধু তা করেছেন। যুক্তরাষ্ট্র আওয়ামীলীগের উপদেষ্টা ড. প্রদীপ রঞ্জন কর বলেন, আমাদেরকে বঙ্গবন্ধুর আদর্শের বিষয়ে আরো জানতে হবে। তার লিখিত বই ‘অসমাপ্ত আত্মজীবনী’ একটি অনন্য দলিল। এই গ্রন্থে শেখ মুজিবের রাজনৈতিক, সামাজিক, অর্থনৈতিক ধ্যান ধারণার পর্যাপ্ত তথ্য রয়েছে। তিনি আরো বলেন, যারা ইতিহাস বিকৃত করছে তাদের বিষয়ে সবাইকে সজাগ থাকতে হবে এবং ঐক্যবদ্ধভাবে তাদের চক্রান্ত রুখতে হবে। অনুষ্ঠানে মুক্তিযোদ্ধাদের হাতে সনদপত্র দেন মুক্তিযোদ্ধা সংগঠক আবদুল মুকিত চৌধুরী। এ সময় যুদ্ধশিশুদের নিয়ে দীর্ঘ প্রামাণ্যচিত্র প্রদর্শন করেন অটোয়া প্রবাসী যুদ্ধশিশু বিষয়ক গবেষক মুস্তাফা চৌধুরী। এ বিষয়ে রচিত তার একটি বই শিগগির বাজারে আসছে বলে তিনি জানান। অনুষ্ঠানে আরো বক্তব্য রাখেন, নাঈমা খান, মিনা ইসলাম প্রমুখ। অনুষ্ঠানে কবিতা আবৃতি করেন, শাহেদ সাদউল্লাহ, হোসেন শাহরিয়ার তৈমুর, শরীফুল আলম, মিজানুর রহমান প্রধান, ড.স্বপন বসু, গোপন সাহা প্রমুখ। অনুষ্ঠান উপস্থাপনায় ছিলেন, সৈয়দ শাখাওয়াত আলী, মোহাম্মদ ইকবাল হোসেন, ফকির ইলিয়াছ প্রমুখ। অনুষ্ঠানে সংগীত পরিবেশন করেন স্বাধীন বাংলা বেতার কেন্দ্রের শিল্পী রথীন্দ্রনাথ রায় ও শহীদ হাসান, আবু রায়হান, তাহমিনা শাহীদ, জলি কর, সবিতা দাশ, শাহরিন সুলতানা, চিত্রা এষ, অনুপ কুমার, জেরিন মাইশা, রবি শংকর, শহীদ উদ্দীন, দিলরুবা আবেদীন, নিখিল রায়, তপন ব্যানার্জী প্রমুখ। নৃত্য পরিবেশন করেন জেরিন মাইশা ও তার দল। পুরো অনুষ্ঠানের পরিকল্পনা করেন বঙ্গবন্ধু ফাউন্ডেশন ইউএসএ’র চীফ কোঅর্ডিনেটর সাংবাদিক গবেষক ওমর আলী। অনুষ্ঠানে অংশগ্রহনকারী সকলকে সনদপত্র দেয়া হয়। খাবার সরবরাহ ও অতিথি ব্যবস্থাপনায় ছিলেন দিলরুবা আবেদিন।
- New York Attorney General James Secures More Than $480,000 and Debt Relief for New York Homeowners
- এই জীবন চিরস্থায়ী নয়, একদিন মরে যাবো
- নিউইয়র্কে বাংলাদেশ সোসাইটির নির্বাচন নিয়ে অনিশ্চয়তা আরও বেড়েছে; ১৭ ডিসেম্বর উভয় পক্ষকে তথ্য-উপাত্ত জমার নির্দেশ
- নিউইয়র্কে নৃত্যশিল্পী ও সাংস্কৃতিক সংগঠক তাহসিন ফেরদৌসের অকালমৃত্যু, বাংলাদেশি কমিউনিটিতে শোকের ছায়া
- নিউইয়র্কে আবেয়া’র দ্বিবার্ষিক সম্মেলন ও ফ্যামিলি নাইট: প্রযুক্তি সেমিনার, জব ফেয়ার, বিজ্ঞান মেলা ও সাংস্কৃতিক উৎসব
- Global Anticipation Builds as Dr. Mostofa Sarwar’s Sunflower Wounds Debuts with Successful Houston Open House and Worldwide Pre-Order Milestone
- যুক্তরাষ্ট্রে ৭৫ দেশের অভিবাসী ভিসায় অনিশ্চয়তা, আদালতের নির্দেশের পরও কাটেনি জট
- Human Rights Must Be at the Heart of Economic Governance and Policies: Ambassador Irene Khan