Tuesday, 27 October 2026 |
শিরোনাম
New York Attorney General James Announces Election Protection Hotline Ahead of November General Election ASAAL’s 19th Annual Convention Draws Nearly 500, Calls for Stronger Civic Engagement and Workers’ Rights নিউইয়র্কে ট্রাফিক এজেন্ট ইউনিয়নের সভায় দুই বাংলাদেশি নেতাকে ঘিরে সংঘর্ষ, আসন্ন নির্বাচন ঘিরে নেতৃত্বের বিরোধ প্রকাশ্যে দেহের মেহরাবে অনন্তের দীপ নিউইয়র্কে বাংলাদেশ সোসাইটির নির্বাচন স্থগিতের প্রতিবাদে ব্রঙ্কসে ‘সেলিম-আলী’ পরিষদের সমাবেশ; মামলার কারণে আর্থিক ক্ষতি ও ভোটাধিকার ব্যাহত হওয়ার অভিযোগ নিউইয়র্কে আ্যসালের ১৯তম বার্ষিক কনভেনশন অনুষ্ঠিত; শ্রমিক অধিকার, নাগরিক ক্ষমতায়ন ও রাজনৈতিক প্রতিনিধিত্ব নিশ্চিতের অঙ্গীকার নিউইয়র্কে আদালতের নিষেধাজ্ঞায় স্থগিত বাংলাদেশ সোসাইটির নির্বাচন; ওসমান চৌধুরীর সদস্যপদ প্রত্যাখ্যান নিয়ে মামলা, ৫ নভেম্বর পরবর্তী শুনানি; সংবাদ সম্মেলনে আইনি পরিস্থিতি তুলে ধরল নির্বাচন কমিশন হানি ট্র্যাপে হত্যার অভিযোগ, সাগরের মামলা পিবিআইতে দেওয়ার দাবি পরিবারের; প্রধান আসামির জামিনে উদ্বেগ, দ্রুত গ্রেপ্তার ও সুষ্ঠু তদন্তের আহ্বান ওয়ার্ল্ড হিউম্যান রাইটস ডেভেলপমেন্ট ইউএসএর সাধারণ সম্পাদক ড. সাদিয়া আফরিন এরা চরমোনাই পীরের যুক্তরাষ্ট্র সফর উপলক্ষে নিউইয়র্কে দোয়া মাহফিল, কুরআন-সুন্নাহর আলোকে বয়ান
সব ক্যাটাগরি

প্রতিবন্ধিতা ও অটিজম

অনলাইন ডেস্ক পঠিত: 36 বার

প্রকাশিত: September 26, 2014 | 6:23 AM

দিলারা বেগম : প্রতিবন্ধী বা প্রতিবন্ধক শব্দের অর্থ হচ্ছে বাধা। জন্মাবস্থায় বা জন্মের পর মানুষের সার্বিক বিকাশ ও বর্ধনের ক্ষেত্রে কোন কারণে বাধাপ্রাপ্ত হয়ে মানুষ যখন তার স্বাভাবিক জীবন-যাপনে অক্ষম হয়ে থাকে, তখনই সেই কারণসমূহকে মানুষের স্বাভাবিক জীবনের চলার পথের প্রতিবন্ধকতা হিসাবে চিহ্নিত করা হয় এবং অত্যন্ত দুঃখজনক হল্ওে সত্য যে এই প্রতিবন্ধকতার শিকার মানুষকেই বলা হয় প্রতিবন্ধী মানুষ।
আমেরিকান এসোসিয়েশন অব মেন্টাল রিটার্ডেশনের তথ্য অনুযায়ী শিশু প্রতিবন্ধী হওয়ার কারণসমূহ সম্ভবত! বংশগতি, প্রজনন সংক্রাšত জটিলতা, জন্মপূর্ব বা জন্মকালীন সমস্যা, গর্ভাবস্থায় মায়ের প্রয়োজনীয় পুষ্টি ও যতেœর অভাব, সময়মত রোগ প্রতিশোধক ও প্রতিরোধক টিকা ইনএজকশন না নেওয়া, গর্ভাবস্থায় মায়ের মাদকাশক্তি, খাদ্য দ্রব্য ও পানিতে জীবানু ও বিষক্রিয়া, পরিবেশ দূষণ ও যুদ্ধ-বিগ্রহের রসায়নিক প্রক্রিয়ার ফলেও মানুষ শারীরিক ও মানসিক প্রতিবন্ধীর শিকার হতে পারে। এগুলো ছাড়াও মানসিক প্রতিবন্ধীদের ক্ষেত্রে আরও বহু কারণ রয়েছে যার সঠিক কোনো তথ্য আজও পাওয়া যায়নি।
দারিদ্র্য ও প্রতিবন্ধকতা পরস্পর সম্পর্কযুক্ত। সে কারণেই দেখা যায় যে উন্নত দেশের তুলনায় অনুন্নত দেশে প্রতিবন্ধী মানুষের সংখ্যা তুলনামূলকভাবে বেশি। ওয়ার্ল্ড হেলথ অরগানাইজেশনের জরিপ অনুযায়ী সমগ্র পৃথিবীতে ৬৫০ মিলিয়ন মানুষ প্রতিবন্ধী। অর্থাৎ ১০% মানুষ কোনো না কোনোভাবে প্রতিবন্ধী। এদের মধে ২০০ মিলিয়ন হচ্ছে শিশু। শতকরা ৮০% প্রতিবন্ধী মানুষ রয়েছে অনুন্নত দেশে। (ইন্টারন্যাশনাল ডে অফ পারসনস উইথ ডিজএবিলিটিস, ডিসেম্বর ২০, ২০১০ )। ভারতে সমগ্র জনসংখ্যার ২.১% মানুষ প্রতিবন্ধীর শিকার শ্রীলংকায় সমগ্র জনগণের ৭% মানুষ কোনো না কোনোভাবে প্রতিবন্ধী। ৭৫% বাস করে গ্রামাঞ্চলে। বাংলাদেশে সমগ্র জনসংখ্যার ৫.৬% মনুষ প্রতিবন্ধী। (ওয়ার্ল্ড হেলথ অরগানাইজেশন)। এদের মধ্যে ১.৬% হচ্ছে শিশু যাদের বয়স ১০ বছরের নিচে (ইউনিসেফ ১৯৯৭)।
আমেরিকার ডিসএবিলিটি এডুকেশান অ্যাক্ট (আইডিইএ) আনুযায়ী ১৩ ধরনের প্রতিবন্ধী শ্রেণী রয়েছে সেগুলো হচ্ছে :
১ অটিজম
২ দৃষ্টিহীনতা-বধিরতা
৩ বৃদ্ধিসাধন বিলম্ব
৪ আবেগঘটিত বত্যয়
৫ ক্ষীন শ্রবণ (বধীরতা সহকারে)
৬ মানসিক প্রতিবন্ধী
৭ মিশ্র প্রতিবন্ধী
৮ পঙ্গুত্ব
৯ অন্যান্য স্বাস্থ্যগত প্রতিবন্ধী
১০ বিশেষ শিক্ষাগ্রহণ প্রতিবন্ধী
১১ কথা বলা অথবা ভাষাগত প্রতিবন্ধী
১২ আঘাতজনিত মস্তিষ্ক রোগ
১৩ দৃষ্টি প্রতিবন্ধী
প্রতিবন্ধী বিষয়ক এই ১৩টি সমস্যাকে চিহ্নিত করে প্রতিবন্ধীদের চিকিৎসা, স্বাস্থ্য, শিক্ষা ও পুনর্বাসনের ওপর যথাযথ গুরুত্বারোপ করা হয়েছে। প্রধান হিসাবে চিহ্নিত করা হয়েছে ৫টি বিশেষ সমস্যা।
১) শারীরিক দিকগত সমস্যা ।
২) মানসিক ও বুদ্ধি বিকাশজনিত সমস্যা।
৩) ইন্দ্রিয় ও ধ্বনিগত সমস্যা।
৪) আবেগ ও আচরণ গত সমস্যা।
৫) সার্বিক বিকাশের ক্ষেত্রে বহুমুখী সমস্যা
মানসিক প্রতিবন্ধী নির্ধারণে ৩টি গুরুত্বপূর্ণদিক পর্যবেক্ষণ করা হয়।
১) বুদ্ধি মত্তার মান নির্নয়
২) সামাজিক আচরণ
৩) বয়সের সাথে মানসিক উন্নয়ন ও ক্রিয়াকলাপ।
আমেরিকান এসোসিয়েশন অফ মেন্টাল রিটার্ডেশনের সংজ্ঞা অনুযায়ী বুদ্ধিমত্তার অভীক্ষায় যাদের বুদ্ধিমত্তা ৭০-৭৫-এর নিচে এদেরই মানসিক প্রতিবন্ধী হিসেবে চিহ্নিত করা হয়। ৩ ধরনের মানসিক প্রতিবন্ধী রয়েছে। স্বল্প মাত্রার, মধ্যম ও তীব্রতর।
প্রতিবন্ধী মানুষের সাথে সম্পর্কিত আর এক ধরনের প্রতিবন্ধকতা রয়েছে যাকে বলা হয় অটিজম। আর এই আটিজমের শিকারে কবলিত মানুষকে বলা হয় আটিস্টিক। এ লেখাটিতে আমি অটিজম সংক্রান্ত কিছু তথ্য তুলে ধরার চেষ্টা করেছি।
অটিজম
১৯০০ সালে মানুষের মনস্তাত্তিক দিক পর্যবেক্ষণ করে পরীক্ষা-নিরীক্ষা শুরু হয়। অটিজম শব্দটি ১০০ বছর ধরে ব্যবহার করা হ”্ছ।ে গ্রিক শব্দ অটোজ থেকে উদ্ভূত অটিজম। অটোজ শব্দের অর্থ হচ্ছে নিজ বা স্বয়ং। কিছু কিছু শিশু সামাজিক মেলামেশা থেকে নিজ ইচ্ছায় নিজেকে দূরে সরিয়ে রাখে। ১৯১১ সালে এগেন ব¬ুলার নামে একজন সাইক্রিয়াট্রিস্ট কিছু মানুষের মনস্তাত্বিক দিক পর্যবেক্ষণ ্ও পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে স্কিটজোফ্রেনিয়া হিসাবে চিহ্নিত করেন। ১৯৪০ সালে ইউনাইটেড স্টেট অফ আমেরিকার জনস হপকিন ইউভিারসিটির একজন ডাক্তার ্িলও কেনার ্কিছু শিশুকে পর্যবেক্ষণ ্ও পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে অটিস্টিক হিসাবে চিহ্নিত করেন। ১৯৬৩ সালে অটিজমকে মেন্টাল রিটার্ডেশন থেকে আলাদা করা হয় এবং অটিজমে আক্রান্ত মানুষকে অটিস্টিক বলে আখ্যায়িত করা হয়। আমেকিান চাইল্ড সাইকোলজিস্ট ব্রুনো ব্যাথেলহেইম বিশ্বাস করতেন মায়ের যথাযথ স্নেহ-মমতা ্ও যতœআত্তির ত্রুটির কারইে শিশু অটিজমের শিকার হয় এবং তিনি এই মাদের রেফ্রিজারেটর (কোল্ড) মা বলে অখ্যায়িত করেন। সাইকোলজিস্ট বি স্কিনার প্রমাণ করেন ¯œায়ু সংক্রান্ত সমস্যার কারণে শিশু অটিজমের শিকার হয়। এতে মায়ের কোনো ত্রুটি নেই। ড. আইভার লোভাস ( ১৯২৭-২০১০), ১৯৬০ সালে অটিজমের ওপর গবেষণা শুরু করেন এবং আচার-আচরণ ও ভাষা সংক্রান্ত উন্ন্য়নের জন্য এপ্লাইড বিহেভিয়ার এনালিসিস (এ বি এ) কার্যক্রম উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ আবদান রাখেন। ১৯৮৭ সালে তিনি বিহেভিয়ার ট্রিটমেন্টের ওপর একটি বই ‘বিহেভিয়ার ট্রিটমেন্ট এন্ড নরমাল এডুকেশনাল এন্ড ইনটেলএকচুয়াল ফাংশানিং ইন ইয়ং চিলড্রেন’ প্রকাশ করেন যেটি আটিজমে আক্রান্ত শিশুদের শিক্ষা, ভাষা ্ও আচার-আচরণ ্উন্ন্য়নের জন্য বিরাট সহায়ক। অটিজম হচ্ছে ¯œায়ু সংক্রান্ত একাধিক বিকাশজনিত জটিলতা যা শিশুর ১৮ মাস থেকে ৩ বছর বয়সের মধ্যে পরিলক্ষিত হয়। যার কারণে শিশুর ¯œায়ু সংক্রান্ত ক্রিয়া ও ধী-শক্তির সুষ্ঠু বিকাশ ব্যাহত হয়। এবং শিশুর আচরণে অস্বাভাবিকতা দেখা দেয়। ৩টি বিশেষ গুরুত্বপূর্ণ দিকের বিকাশ ব্যাহত হয় বা ধীরে ধীরে কিংবা বিলম্বে বিকাশ লাভ করে।
১) ভাষাগত প্রক্রিয়া
২) আচরণগত প্রক্রিয়া
৩) ভাব আদান-প্রদানগত প্রক্রিয়া।
সেন্টার ফর ডিজিজ কন্ট্রোল এন্ড প্রিভেনশন (সিডিসি, ২০১৪) তথ্যানুযায়ী যুক্তরাষ্ট্রে ১০০০ শিশুর মধ্যে ১৪.৭ জন শিশু অটিজমের শিকার, যদের বয়স ৮ বছর। অর্থাৎ ৬৮ জনে একজন। অটিজমে আক্রান্ত ছেলেশিশুদের সংখ্যা তুলনামূলকভাবে মেয়েশিশুদের চেয়ে বেশি। ছেলে ও মেয়ের অনুপাত ৪২ঃ১৮৯। সব বয়সী ছেলে ও মেয়ের অনুপাত ৫ঃ১। আমেরিকার নিউজার্সি স্টেটে ৪৫ জনে একজন ও এলাবামায় ১৭৫ জনে একজন শিশু আটিজমের শিকার। ৪৬% আটজিমে শিকার শিশু শনাক্ত করা হয়েছে বুদ্ধিমত্তার অভীক্ষায় যাদের বুদ্ধিমত্তা ৮৫% (সিডিসি, মার্চ ২০১৪) মানসিক প্রতিবন্ধীদের মতোই অটিজমও রকমভেদে ৩ প্রকার। স্বল্পমাত্রা, মধ্যম ও তীব্রতর।
আটিজমের লক্ষণগুলো হচ্ছে :
১। সামাজিক আচরণে সীমাবদ্ধতা:
কারো সাথে মিশতে চায় না। একা থাকতেই পছন্দ কর্ েকথা কম বলে বা বলেই না। আবার কখনও কখনও এক কথা বারবার বলে (স্টেরিও টাইপ)। দেরিতে বা তাড়াতাড়ি কথা বলে।
২) অনুভূতি বা প্রকাশহীন দৃষ্টি:
চোখের দিকে তাকায় না। অর্থাৎ কখনই চোখাচোখি হয় না। হঠাৎ চোখাচোখি হলেও এতে কোনো ভাবের প্রকাশ থাকে না।
৩) উন্মাদ আচরণ ঃ
যখন তখন যা ইচ্ছা করতে পারে। নিজের শরীরের ওপর অত্যাচার করে যেমন : নিজের হাত নিজে কামড়ায়। নিজেকে নিজে আঘাত করে। চিৎকার, চেঁচামেচি করে। দৌড়ে বেরিয়ে যায়, কোনো কিছু খেয়াল করে না।
অটিজমের নির্দিষ্ট কোনো কারণ নেই। সাম্প্রতিককালের গবেষণায় উল্লেখ করা হয়েছে মস্তিষ্কের অস্বাভাবিক গঠন, প্রজন্মগত সমস্যা, বংশগতি এবং ফিনাইল কেটো নিউরিয়াকেও অটিজমের একটি কারণ হিসাবে চিহ্নিত করা হয়ে থাকে।
অটিজমের লক্ষণগুলো অনেক সময় ১৮ থেকে ২৪ মাসের মধ্যে পরিলক্ষিত নাও হতে পারে। অনেক সময় ২৪ মাস থেকে ৬ বছরের মধ্যে পরিলক্ষিত হতে পারে। দ্য ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অফ চাইল্ড হেল্থ এন্ড হিউম্যান ডেভেলপমেন্ট চিহ্নিত লক্ষণগুলো হলো-
১। বার মাস বয়সে শিশু কোনো শব্দ না করা। যেমন কু কু বু বু ইত্যাদি।
২। বার মাস বয়সে কোনো কিছু পাওয়ার জন্য হাত বা দৃষ্টি দিয়ে দেখিয়ে না দেওয়া বা কোনো কিছু আঁকড়ে না ধরা।
৩। ১৬ মাস বয়সের মধ্যে কোনো একটি শব্দ না বলা।
৪। ২৪ মাস বয়সের মধ্যে দুটি শব্দ না বলা।
৫। আগে রপ্ত করা কোনো দক্ষতা যে কোনো সময় যে কোনো বয়সে কমে যাওয়া।
কিন্তু এই পাঁচটি লক্ষণ থাকলেই যে শিশু অটিজমের শিকার হবে তা নয়্ অটিজমের এই লক্ষণগুলো আরও ভালোভাবে নিউরোলজিস্ট, সাইকোলজিস্ট, ডেভেলপমেন্টাল পেডিয়াট্টিক, স্পিচ, অকুপেশনাল ও ফিজিক্যাল থেরাপিস্ট, লারনিং কনসালট্যান্ট, স্পেশাল এডুকেশন টিচার ও অটিজম সংক্রান্ত বিষয়ে দক্ষ গবেষক দ্বারা সূক্ষ্মভাবে পর্যবেক্ষণের মাধ্যমে শিশু অটিজমের শিকার কিনা তা নির্ণয় করতে হবে।
অটিজম নির্ণয়ে চিকিৎসা শাস্ত্রীয় কোনো পরীক্ষা-নিরীক্ষা এখন পর্যন্ত প্রয়োগ করা হয় নেই। অটিজম শিশুর আচরণ পর্যবেক্ষণ করে নির্ণয় করা হয়।
শিশুর সার্বিক বিকাশ ও বর্ধনের কোনো কোনো বিশেষ দিকের বিকাশ ব্যাহত বা বিলম্বের দিকটি পর্যবেক্ষণ করে অটিজম সম্পর্কিত সমস্যাগুলোকে ডি এস এম ফাইভ এ পরিবর্তন করা হয়েছে। পারভেসিভ ডেভেলপমেন্টাল ডিজঅর্ডার টার্মকে পরিবর্তন করে অটিস্টিক স্পেকট্রাম ডিজঅর্ডার শব্দগুলো অনুমোদন করা হয়েছে। এই টার্মে সংযোজন করা হয়েছে অটিজম, এসপারগার এবং পি ডি ডি নস (নট আদারদার ওয়াইজ স্পেসিফাইড)। রেটনিড্রম এং চাইল্ডহুড ডিসইডন্টগ্রেটিভ স্ওির্ডারকে (সিডিডি) পৃথক করা হয়েছে।
অটিস্টিক স্পেকট্রাম ডিজঅর্ডার :
১) অটিস্টিক ডিজঅর্ডার :
চোখের দিকে তাকায় না। ভাব আদান-প্রদানে অক্ষম। শরীরের অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ নড়াচড়া করে। হাত নাড়ায় এবং কিছুতেই থামতে চায় না, কথা বলে না। অনেক সময় কথা বলতে পারে কিন্তু বলতে চায় না। কেউ কেউ এক কথা বারবার বলে (স্টারিও টাইপ)
২) এসপারগার ডিজঅর্ডার : অটিজমের লক্ষণ থাকলেও এই শিশুরা অনেক ক্ষেত্রে সাধারণ বুদ্ধিসম্পন্ন হয়। কথা বলতে পারে। খুব জোরো বা আস্তে কথা বলে। সৃজনশীল ক্ষমতা প্রকাশে অসুবিধা না থাকলেও অনেক সময় তা প্রকাশ করতে পারে না। দুষ্টামী করে কথা বললে তা বুঝতে পারে না। সামাজিক মেলামেশায় অক্ষম হলেও নিজের কাজ নিজে করতে পারে। এরা চোখের দিকে তাকায় কিন্তু খুব কম। অনেক সময় ছোট ছোট জিনিস জমাতে পছন্দ করে যেমন : ছোট ছোট নুড়ি বা পাথর, খেলনা গাড়ি ইত্যাদি। অনেক তথ্য সম্পর্কে ধারণা রাখে যেমন ফুল, সিনেমা, অংক না করেই উত্তর বলে দিতে পারে, আবহ বিদ্যা ও ইতিহাসেও পারদর্শী হয়ে থাকে।
৩) পারভেসিভ ডেভেলপমেন্টাল ডিজঅর্ডার নস। (আদার ওয়াইজ নট স্পেসিফাইড) : ভাষা গত ও আচরণ গত দিকে তীব্র সমস্যা। এই সমস্যা টিকে অটিস্টিক স্পেকট্রাম হিসেবে ডিএসএম ফাইভে চিহ্নিত করা হয়েছে। এরা চোখের দিকে তাকায় কিন্তু ভাবের কোনো প্রকাশ থাকে না।
অটিজম থেকে আলাদা করা আচার-আচরণের সমস্যাগুলো হচ্ছে :
১) রেট সিনড্রম ঃ
৬ থেকে ১৮ মাস পর্যন্ত শিশুর স্বাভাবিক বিকাশও বর্ধন ক্রিয়া সম্পন্ন হয়। কিন্তু এর পর কমতে থাকে। ভাষাগত ও পেশি সঞ্চালন গত প্রক্রিয়া ব্যাহত হয়। এতে মেয়েশিশুদের শতকরা হার অনেক বেশি।
২) চাইল্ড ডিসইন্টিগ্রেটিভ ডিজঅর্ডার : ২ বছর বয়স পর্যন্ত শিশুর স্বাভাবিক বিকাশ ও বর্ধন ক্রিয়া সম্পন্ন হয়। শিশু কথা বলে। খেলা করে। সামাজিক মেলামেশা করে কিন্তু এই দক্ষতাগুলো দশ বছর বয়সের মধ্যেই হারিয়ে ফেলে।
অটিজম একটি আজীবন ও অনিরাময় যোগ্য সমস্যা। কিন্তু গবেষকরা মনে করেন সময় মতো সঠিক বিহেভিয়ার থেরাপি প্রয়োগ করলে এদের আচরণ গত দিকটির উন্নতি হতে পারে। শিশু সুস্থ ও স্বাভাবিকভাবে জন্মগ্রহণ করলেও শিশুর বেড়ে ওঠার প্রতিটি স্তরে শিশুর আচরণ খুব ভালোভাবে পর্যবেক্ষণ করা উচিত এবং কখনও কোনো সময় শিশুর আচরণে অস্বাভাবিকতা লক্ষ্য করলেই শিশু বিশেষজ্ঞের পরামর্শ অনুযায়ী প্রতিকারের ব্যবস্থা গ্রহণ করা উচিত।
প্রত্যেকেরই মনে রাখতে হবে যে, যথোপযুক্ত চিকিৎসা, শিক্ষা ও প্রশিক্ষণের মাধ্যমে একজন প্রতিবন্ধী মানুষকেও সমাজের একজন প্রতিষ্ঠিত ব্যক্তি ও সদস্য হিসেবে গড়ে তোলা সম্ভব হয়।
শিশুকে সুস্থ-সবল ও বুদ্ধিদীপ্ত করে গড়ে তোলার লক্ষ্যে প্রতিষ্ঠিত হয়েছে আর্লি ইন্টারভেনশন প্রোগ্রাম বা প্রাথমিক হস্তক্ষেপ কার্যক্রম। শিশুর সার্বিক বিকাশের ক্ষেত্রে ১৮ মাস থেকে ৩ বছরের মধ্যে শিশুর আচার-আচরণে কোনো প্রকারের জটিলতা বা বয়স অনুযায়ী শারীরিক ও মানসিক বৃদ্ধির ক্ষেত্রে বিলম্ব ঘটছে বুঝতে পারার সাথে সাথে শিশু বিশেষজ্ঞের পরামর্শ অনুযায়ী শিশুকে আর্লি ইন্টারভেনশন প্রোগ্রাম বা প্রাথমিক হস্তক্ষেপ কার্যক্রমে পাঠাতে হবে।
‘আর্লি ইন্টারভেনশন প্রোগ্রাম’ বা ‘প্রাথমিক হস্তক্ষেপ কার্যক্রম’ হচ্ছে ওইসব পিছিয়ে পরা শিশুদের জন্য একটি বিশেষ সেবামূলক প্রতিষ্ঠান যারা বিশেষ শিক্ষায় প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত শিক্ষকের মাধ্যমে যথোপযুক্ত সেবা, শিক্ষা এবং সহায়তা প্রদানের করে শিশুকে কথা বলা শেখানো, অনুশীলনের মাধ্যমে শিশুর দুর্বল মাংসপেশিকে সবল করে শিশুকে পেন্সিল বা ছোট ছোট জিনিস ভালোভাবে ধরতে শেখনো, শিশুর সৃজনশীল ক্ষমতাকে প্রকাশ করানো, শিশুর দৃষ্টিগত, আচার-আচরণগত ও দৈনন্দিন জীবনের প্রয়োজনীয় কাজগুলো শিশুকে নিজে নিজে করতে শেখানো যেমন কাপড় পরা, দাঁত মাজা, নিজে নিজে খাওয়া এসব বিষয়ে শিশুকে সাহায্য করে থাকে। পিছিয়ে শিশুদের জন্য সময় মতো এসব সেবার হাত বাড়িয়ে দিলে তাদের বিকাশ বৃদ্ধি সঞ্জীবিত হয়। ফলে কিছু কিছু শিশুর ক্ষেত্রে পরবর্তীতে এই বিশেষ সেবাটির আর প্রয়োজন পড়ে না। তারা স্বাভাবিক শিশুদের সাথে স্বাভাবিক বিদ্যালয়ে লেখাপড়া কারার সুযোগ পেয়ে থাকে। ৩ বছর বয়সে এবং তার পর পরই কোনো শিশুর জন্য যদি আরো সাহায্য প্রয়োজন হয়, তখন তাকে বিশেষ-শিক্ষা কার্যক্রম বিদ্যালয়ে পাঠানো যেতে পারে। সাম্প্রতিক বছরগুলোতে, গবেষণায় নির্দৃষ্ট করা গেছে যে বিশেষ শিক্ষা কার্যক্রমের শিক্ষা কৌশল বিকাশগত অপূর্ণতায় আক্রান্ত নবীন শিশুদের শিক্ষা প্রদানে ফলপ্রসূ ও কার্যকর অবদান রেখেছে।
প্রতিবন্ধী ও অটিস্টিক বিষয়ক সমস্যা সমাধানের জন্য যোগাযোগ করা যেতে পারে। আমেরিকায়-
১) আমেরিকান এসোসিয়েশন অন সেন্টাল রিটার্ডেশন (এএএসআর) ফোন : (৮০০) ৪২৪-৩৬৮৮
২) অটিজম এসোসিয়েশন অব আমেরিকা। ফোন (৮০০) ৩-অটিজম
নিউইয়র্ক
অটিস্টিক শিশুদের জন্য বিশেষ বিদ্যালয় কোয়ালিটি সার্ভিসেস ফর দ্য অটিজম কমিউনিটি। (কিউসেক) (কিউএসএসি) ফোন : (৭১৮) ৭২৮-৮৪৭৬
এএমএসি (এমাক) এসোশিয়েশন ফর মেট্রো এরিয়া অটিস্টিক চিলড্রেন। ফোন : (২১২) ৬৪৫-৫০০৫
নিউইয়র্ক সিটি ডিপার্টমেন্ট অব এডুকেশন ফোন : (৭১৮) ৯৩৫-২০০০

বিজ্ঞাপন / স্পন্সরড কন্টেন্ট
ট্যাগ:
সর্বশেষ সংবাদ