Monday, 22 June 2026 |
শিরোনাম
Rohingyas Want to Return Home, Bangladesh Tells UN এক দশক ধরে বিপুল সংখ্যক রোহিঙ্গাকে আশ্রয় দেওয়া দেশের জন্য টেকসই নয়, রোহিঙ্গারাও নিজ দেশে ফিরে যেতে চায় : জাতিসংঘে বাংলাদেশ Bangladesh and UN Women pledge closer cooperation to advance women’s empowerment and the WPS agenda নিউইয়র্কে চিটাগং অ্যাসোসিয়েশন অব নর্থ আমেরিকা (মাকসুদ-মাসুদ) এর সংবাদ সম্মেলনে কুৎসা রটানোর প্রতিবাদ নারীর ক্ষমতায়ন এবং নারী, শান্তি ও নিরাপত্তা এজেন্ডা এগিয়ে নিতে বাংলাদেশ ও ইউএন উইমেনের ঘনিষ্ঠ সহযোগিতার অঙ্গীকার State Minister for Foreign Affairs Urges Stronger Global Action to Protect Civilians, Uphold Humanitarian Law and Support Rohingya Repatriation বেসামরিক জনগণের সুরক্ষা, আন্তর্জাতিক মানবিক আইন সমুন্নত রাখা ও রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসনে জোরালো বৈশ্বিক পদক্ষেপের আহ্বান পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামার মহররম মাসের গুরুত্ব ও ফজিলত! Bangladesh Calls for Stronger Humanitarian Action and Women’s Leadership in Peacebuilding at UN Forum নিউইয়র্কে জাতিসংঘ ফোরামে মানবিক সহায়তা জোরদার ও শান্তি প্রতিষ্ঠায় নারীর নেতৃত্ব বৃদ্ধির আহ্বান বাংলাদেশের
সব ক্যাটাগরি

সেন্ট্রাল পার্কে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার কর্মসূচি বাতিল নিয়ে নিউইয়র্কে তোলপাড়

অনলাইন ডেস্ক পঠিত: 127 বার

প্রকাশিত: September 28, 2014 | 11:59 AM

কাউসার মুমিন : জাতিসংঘ অধিবেশনে যোগদান উপলক্ষে বর্তমানে নিউইয়র্ক সফররত বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার একটি গুরুত্বপূর্ণ কর্মসূচি কোন গ্রহণযোগ্য কারণ  দেখানো ছাড়াই বাতিল হয়ে গেছে। আর এই নিয়ে নিউ ইয়র্কের বাংলা মিডিয়া ও কম্যুনিটিতে গত দু’দিন ধরে তোলপাড় চলছে। জানা গেছে, নিউ ইয়র্কের সেন্ট্রাল পার্কে স্থানীয় সময় ২৭শে  সেপ্টেম্বর শনিবার সন্ধ্যা ৬টায় (বাংলাদেশ সময়  রোববার ভোর ৪টায়) বিশ্বব্যাপী দারিদ্র্য দূরীকরণে নিযুক্ত এনজিও  ‘গ্লোবাল সিটিজেন’ কর্তৃক আয়োজিত বার্ষিক ফান্ড রেইজিং ফেস্টিভ্যালে ৬০ হাজার লোকের এক বিশাল সমাবেশে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ভাষণ দেয়ার কথা ছিল। গ্লোবাল সিটিজেন বিগত তিন বছর ধরে সেপ্টেম্বরের জাতিসংঘ অধিবেশন চলাকালে নিউ ইয়র্কে তাদের এই ফান্ড রেইজিং  ফেস্টিভ্যাল আয়োজন করে আসছে। গত বছর  সেন্ট্রাল পার্কে আয়োজিত গ্লোবাল সিটিজেন-এর এই ফেস্টিভ্যালে প্রায় ৫০ হাজার লোকের সামনে ভাষণ দিয়েছিলেন বাংলাদেশের নোবেল বিজয়ী অর্থনীতিবিদ ড. মুহাম্মদ ইউনূস।
গ্লোবাল সিটিজেন ফেস্টিভ্যালে প্রধানমন্ত্রীর অংশগ্রহণ বাতিল হওয়ার সংবাদটি গত পরশু সন্ধ্যা থেকেই নিউ ইয়র্ক সিটিতে ছড়িয়ে পড়ে।  কিন্তু ততক্ষণে নিউ ইয়র্কের অফিস সময় পেরিয়ে যাওয়ায় এ বিষয়ে ফেস্টিভ্যাল আয়োজকদের আনুষ্ঠানিক বক্তব্য নেয়া সম্ভব হয়নি। অপরদিকে বাংলাদেশের সরকারের তরফ থেকেও বিষয়টি তখন চেপে যাওয়া হয়। অবশেষে গতকাল অফিস চলাকালে গ্লোবাল সিটিজেন ফেস্টিভ্যাল আয়োজকদের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে সংস্থাটির মিডিয়া ডিরেক্টর জেইন এটকিনসন এই প্রতিনিধিকে বলেন, আমি আনুষ্ঠানিক ভাবে আপনাকে জানাচ্ছি যে, আমাদের অনুষ্ঠানে আগামীকাল বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীর অংশগ্রহণের বিষয়টি বাতিল করা হয়েছে। তবে কোন পক্ষ  থেকে কি কারণে বাতিল করা হয়েছে সে বিষয়ে আমি কিছু বলতে অপারগ। এ বিষয়ে আপনার আরও কিছু জানার থাকলে আপনি বাংলাদেশ মিশনের সঙ্গে যোগাযোগ করুন। এরপর বেশ কয়েকবার চেষ্টা করেও এ বিষয়ে বাংলাদেশ মিশন থেকে কোন মন্তব্য পাওয়া যায়নি। অবশেষে সন্ধ্যায় স্থায়ী মিশনে অনুষ্ঠিত সংবাদ সম্মেলনে প্রধানমন্ত্রীর নিকট এ বিষয়ে জানতে চান নিউ ইয়র্কের স্থানীয় সাংবাদিকরা। জবাবে প্রধানমন্ত্রী বলেন, এই অল্প সময়ে একই সঙ্গে দু’টি কর্মসূচি থাকায় (সেন্ট্রাল পার্কের প্রোগ্রাম ও যুক্তরাষ্ট্র আওয়ামী লীগ কর্তৃক প্রধানমন্ত্রীর সংবর্ধনা) আমি আমার দেশের মানুষের সঙ্গে সময় কাটানোকেই প্রাধান্য দিচ্ছি। কিন্তু, প্রধানমন্ত্রীর এই জবাবে অর্থাৎ দলীয় লোকজনের সংবর্ধনা নেয়ার জন্য পৃথিবীর কয়েক ডজন রাষ্ট্র/সরকার প্রধানের সঙ্গে বসে আন্তর্জাতিক দুনিয়ার প্রায় ৬০ হাজার লোকের সামনে প্রধানমন্ত্রীর ভাষণ দেয়ার সুযোগ বাতিল করতে হবে-এমন যুক্তি মেনে নিতে পারছেন না  খোদ প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে সফরে আসা মিডিয়া কর্মীসহ নিউ ইয়র্কের বাংলা মিডিয়ার সম্পাদক ও সাংবাদিকগণ। তাছাড়া, প্রধানমন্ত্রীর সফরের মতো গুরুত্বপূর্ণ রাষ্ট্রীয় প্রটোকলে নিশ্চয়ই সময় সুযোগ সব কিছু বিবেচনা করেই এই কর্মসূচি দু’টি অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। সুতরাং সময়ের অভাবে প্রধানমন্ত্রীর কর্মসূচি বাতিলের যুক্তি ধোপে টেকে না।
সেন্ট্রাল পার্ক কর্মসূচি বাতিল বিষয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে খোদ প্রধানমন্ত্রী  কোন গ্রহণযোগ্য জবাব দিতে না পারায় এই সুযোগে এর নেপথ্য কারণ নিয়ে বিভিন্ন ধরনের গুজব ডালপালা ছড়াচ্ছে। কেউ বলছে নিরাপত্তা ক্লিয়ারেন্স দেয়নি প্রধানমন্ত্রীর এসএসএফ, কেউ বলছে রাষ্ট্রদূত আবদুল মোমেনকে সাইজ করার জন্য স্থানীয় আওয়ামী লীগাররা প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে একযোগে দেখা করে এই কর্মসূচি বাতিলের দাবি করেছেন যাতে তাদের প্রদত্ত সংবর্ধনা অনুষ্ঠান নির্বিঘœ হয়। তবে এর নেপথ্য কারণ অনুসন্ধান এখনও অব্যাহত রেখেছেন নিউ ইয়র্কের বাংলা মিডিয়ার সাংবাদিকরা।
অপরদিকে প্রধানমন্ত্রীর সেন্ট্রাল পার্ক কর্মসূচি বাতিল হওয়ায় নিউ ইয়র্কে আওয়ামী বিরোধী শিবিরে উচ্ছ্বাস লক্ষ্য করা গেছে। কারণ তারা বলছেন, এই বাতিলের পিছনে তাদের অবদান আছে। কেননা, এই কর্মসূচি ঘোষণার পরপরই স্থানীয় যুক্তরাষ্ট্র বিএনপির বিভিন্ন  গ্রুপ প্রধানমন্ত্রী  শেখ হাসিনার বাংলাদেশের গণতন্ত্রবিরোধী বিভিন্ন কর্মকা-ের দলিল গ্লোবাল সিটিজেন ফেস্টিভ্যাল আয়োজকদের কাছে হস্তান্তর করেছেন। বলা হচ্ছে, এরপর থেকেই ফেস্টিভ্যালে প্রধানমন্ত্রীর ভাষণ দেয়ার সময় নির্ধারণ নিয়ে আয়োজক কর্তৃপক্ষ এবং বাংলাদেশ মিশনের মধ্যে একধরনের টানাপড়েন শুরু হয়। এরই ধারাবাহিকতায় শেষ পর্যন্ত গত বৃহস্পতিবার আয়োজক কর্তৃপক্ষ সেন্ট্রাল পার্কে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীর ভাষণ দান কর্মসূচি বাতিল ঘোষণা করে। এদিকে বাংলাদেশ মিশনের হেড অফ চ্যান্সারি সূত্রে জানা গেছে,  বাংলাদেশের জাতিসংঘ সদস্যপদ লাভের ৪০ বছর পূর্তি উপলক্ষে প্রদত্ত বাণীতে জাতিসংঘ মহাসচিব ‘বাংলাদেশে রাজনৈতিক সংলাপের ওপর গুরুত্ব’ দেয়ায় প্রধানমন্ত্রীর এবারের সফরে বাংলাদেশ জাতিসংঘ মহাসচিবের সঙ্গে সাক্ষাতের কোন অনুরোধ জানায়নি। অর্থাৎ জাতিসংঘ মহাসচিবের সঙ্গে এবার বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীর কোন দ্বিপক্ষীয়  বৈঠক হয়নি এবং হওয়ার সম্ভাবনাও নেই।
উল্লেখ করা যেতে পারে, গত দুই সপ্তাহ ধরে প্রধানমন্ত্রীর সেন্ট্রাল পার্ক ভাষণকে এ বছর তার জাতিসংঘ সফরের অন্যতম সাফল্য বলে সরকারের তরফে প্রচার করা হয়েছে। এ বিষয়ে সর্বপ্রথম ঢাকার একটি প্রথম সারির নিউজ পোর্টাল তার নিউ ইয়র্ক প্রতিনিধির বরাতে জাতিসংঘে বাংলাদেশ স্থায়ী মিশনকে উদ্ধৃত করে প্রকাশিত এক সংবাদে জানায়, ‘বাংলাদেশ মিশন আয়োজিত  সেন্ট্রাল পার্কের প্রোগ্রামে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এবার ৬০ হাজার লোকের সমাবেশে ভাষণ প্রদান করবেন।’ অথচ, সেন্ট্রাল পার্কের প্রোগ্রামের আয়োজক বাংলাদেশ নয়, গ্লোবাল সিটিজেন নামের একটি এনজিও। অপরদিকে প্রধানমন্ত্রী  শেখ হাসিনার গ্লোবাল সিটিজেন প্রোগ্রামে ভাষণ প্রদান উপলক্ষে যুক্তরাষ্ট্র আওয়ামী লীগ ও এর অঙ্গ সংগঠনের পক্ষ থেকে শ’ শ’ পোস্টার-ব্যানারে সয়লাব হয়ে গেছে নিউ ইয়র্কের বাঙালি অধ্যুষিত রাস্তাঘাট, দোকানপাট। এদের একটি পোস্টারের শিরোনাম হচ্ছে, ‘চলো  চলো সেন্ট্রাল পার্ক চলো, জননেত্রী শেখ হাসিনার সংবর্ধনা সফল করো।’ ওই পোস্টারে আরও বলা হয়েছে, যুক্তরাষ্ট্রের  মেইনস্ট্রিম মিডিয়া ২৭শে সেপ্টেম্বর নিউ ইয়র্কের  সেন্ট্রাল পার্কে বিশ্বনেত্রী শেখ হাসিনাকে সংবর্ধনা দিচ্ছে। দুই সপ্তাহ ধরে দেয়ালে দেয়ালে ভুল তথ্য সংবলিত এই পোস্টারগুলো  লাগানো থাকলেও বাংলাদেশ মিশন কিংবা যুক্তরাষ্ট্র আওয়ামী লীগ কারও পক্ষ থেকেই তা সংশোধনের উদ্যোগ দেখা যায়নি।

বিজ্ঞাপন / স্পন্সরড কন্টেন্ট
ট্যাগ:
সর্বশেষ সংবাদ
Situs Streaming JAV