Monday, 22 June 2026 |
শিরোনাম
Rohingyas Want to Return Home, Bangladesh Tells UN এক দশক ধরে বিপুল সংখ্যক রোহিঙ্গাকে আশ্রয় দেওয়া দেশের জন্য টেকসই নয়, রোহিঙ্গারাও নিজ দেশে ফিরে যেতে চায় : জাতিসংঘে বাংলাদেশ Bangladesh and UN Women pledge closer cooperation to advance women’s empowerment and the WPS agenda নিউইয়র্কে চিটাগং অ্যাসোসিয়েশন অব নর্থ আমেরিকা (মাকসুদ-মাসুদ) এর সংবাদ সম্মেলনে কুৎসা রটানোর প্রতিবাদ নারীর ক্ষমতায়ন এবং নারী, শান্তি ও নিরাপত্তা এজেন্ডা এগিয়ে নিতে বাংলাদেশ ও ইউএন উইমেনের ঘনিষ্ঠ সহযোগিতার অঙ্গীকার State Minister for Foreign Affairs Urges Stronger Global Action to Protect Civilians, Uphold Humanitarian Law and Support Rohingya Repatriation বেসামরিক জনগণের সুরক্ষা, আন্তর্জাতিক মানবিক আইন সমুন্নত রাখা ও রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসনে জোরালো বৈশ্বিক পদক্ষেপের আহ্বান পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামার মহররম মাসের গুরুত্ব ও ফজিলত! Bangladesh Calls for Stronger Humanitarian Action and Women’s Leadership in Peacebuilding at UN Forum নিউইয়র্কে জাতিসংঘ ফোরামে মানবিক সহায়তা জোরদার ও শান্তি প্রতিষ্ঠায় নারীর নেতৃত্ব বৃদ্ধির আহ্বান বাংলাদেশের
সব ক্যাটাগরি

উন্মূল আবহে বই-বান্ধবদের সংগ্রাম

অনলাইন ডেস্ক পঠিত: 128 বার

প্রকাশিত: October 18, 2014 | 3:02 PM

আহমেদ মূসা : যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশের বই বিক্রি বাড়ানোর জন্য যারা কাজ করে চলেছেন তাদের অন্যতম একজন বিদ্যাপ্রকাশের মজিবর রহমান খোকা। প্রশান্ত মহাসাগর-উপকূলের শহরে থাকেন বলেই হয়তো তার ধৈর্যের কমতি নেই। লজএঞ্জেলেসে বাংলাদেশিদের যে-কোনো অনুষ্ঠানে একটা বইয়ের স্টল দেয়ার জন্য সব সময় তক্কে তক্কে থাকেন। কখনো সুযোগ পান, কখনো পান না। না পেলেও নিরাশ হন না। এখন মেতে আছেন লজএঞ্জেলেসে অনুষ্ঠেয় গ্রš’ উৎসব নিয়ে। অন্যদেরও মাতানোর চেষ্টা করছেন। তার লক্ষ্যটা পরিস্কার এবং সম্মানের। তার ধৈর্যপূর্ণ প্রয়াস স্মরণ করিয়ে দেয় বাংলা একাডেমির চত্বরে চট বিছিয়ে বইয়ের দোকান সাজিয়ে বইমেলার সূচনা করা প্রয়াত চিত্তরঞ্জন সাহাকে। চিত্তরঞ্জন সাহার নিকটাত্মীয় ও অনুসারী বিশ্বজিত সাহা যুক্তরাষ্ট্রে বাংলা বই বিক্রির প্রসারে অনেক দিন ধরে কাজ করে যাচ্ছেন। তার পাশে এসে দাঁড়িয়েছেন আমাদের মজিবর রহমান খোকা ভাই। দুই বই-বান্ধব তাদের যুদ্ধে জয়ী হোক, এই কামনা করি।
যুক্তরাষ্ট্রে আমি প্রায় চার বছর ধরে। বাংলাদেশের বইয়ের বেচাকেনার অবস্থা দেখে হতাশও। কারণটা বলি। আমি যে পত্রিকায় কাজ করি, সাপ্তাহিক আজকাল, সেটি নিউইয়র্কে বহুল-প্রচারিত, আলোচিত ও পাঠক নন্দিত। গত জুনে নিউইয়র্কে মুক্তধারা আয়োজিত বই মেলার বেশ আগে থেকে সমন্বিত-উদ্যোগে অংশগ্রহণের পাশাপাশি আমি ব্যক্তিগত উদ্যোগ নিয়েও বই বিক্রি কিঞ্চিত বৃদ্ধির চেষ্টা করি। সেটা ছিল, পত্রিকার প্রকাশক জাকারিয়া মাসুদ জিকোকে অনুরোধ করে বিনা পয়সায় ক্রমাগত দৃষ্টি-আকর্ষণীয় রঙিন বিজ্ঞাপন প্রকাশ, সংশ্লিষ্টদের সাক্ষাৎকার বা মেলার তথ্য অতীতের চেয়ে বেশি করে প্রচার, ফেসবুকে ব্যাপক প্রচার ইত্যাদি।
বিজ্ঞাপনের ভাষা ছিল এ রকম, সুহৃদ প্রবাসী, আপনি সৌভাগ্যবান যে ইচ্ছে করলেই বই কিনতে সক্ষম। বাংলাদেশি লেখকদের বই কিনুন, বাংলাদেশের সঙ্গে থাকুন। বাংলা ভাষা ও সাহিত্যের সঙ্গে থাকুন। এই বই কেনা মানে বাংলাদেশের প্রকাশনা শিল্পকে সহায়তা করা, বাংলাদেশের অর্থনীতিকে সমৃদ্ধতর করা। একই সঙ্গে নিজেকে আলোকিত করা। প্রিয় বাংলাদেশের ¯িœগ্ধ পরশ নিয়ে অনেক বই আসছে বইমেলায়। পরিবার পরিজনসহ অংশ নিন।’
ফেসবুকে বইয়ের পক্ষে প্রচারের ভাষা ছিল এ রকম, ‘পারিবারিক পাঠাগার মানে আলোকিত পরিবার। বইয়ের জন্য আপনার সংসারে একটু জায়গা ও বাজেট বরাদ্দ রাখুন। গ্রšে’র সব ধরনের বিজ্ঞাপন শেয়ার করুন।’
আমি নিজে ‘বই নিয়ে কথা আছে বই কি’ শিরোনামে একটি নিবন্ধ লিখি আজকালে। নিবন্ধের অংশ বিশেষ এরকম, ‘কিছুকিছু বই আরো একটি বড় ক্ষেত্রেও আমাদের আকাক্সক্ষা পূরণের বড় অবলম্বন হতে পারে। বয়স ও সময়ের ফিতায় মাপলে আমাদের জীবন খুবই ছোট। তবে এই জীবনকে আমরা আগে-পিছে অনেকটাই সম্প্রসারণ করতে পারি। বিদ্যমান জীবনেই আমরা অতীতে চলে যেতে পারি ইতিহাস, ইতিহাস-আশ্রয়ী উপন্যাস, ঐতিহাসিক চিঠি ইত্যাদির ডানায় ভর করে। আবার দূর-সুদূরের ভবিষ্যতে চলে যেতে পারি কল্পবিজ্ঞান বা সায়েন্সফিকশনের রথে চড়ে। আজ যা কল্পবিজ্ঞান কাল তা বাস্তব হয়ে আসেÑ এতো বহুল প্রমাণিত। ‘হিস্টোরি রিপিট ইটসেল্ফ’Ñ এটাওতো মানব সভ্যতারই আপ্তবাক্য। এখানে রথ-ডানা সবইতো বই। এই সুযোগ আমরা হারাই কেন। তাই, সহৃদয় ও আন্তরিক কামনা, বই-প্রতিবন্ধী সংসারগুলিতেও ফিরে আসুক বই-বান্ধব পরিবেশ। সদা-সর্বদা অভিভাবকের ছড়ি না ঘুড়িয়ে কিছুটা দায়িত্ব আমরা বইয়ের ওপর ছেড়ে দিতে পারি বৈকি! …. বই-প্রতিবন্ধীরা উজ্জ্বল আলোর ভেতরেও অন্ধকারে ডুবে থাকেন। তাদের মনের অন্ধকার যায় না। অনেকের সন্তানকে গ্রাস করে মাদক, সন্ত্রাস প্রভৃতি। এদের বইয়ের নেশা ধরিয়ে দেয়া গেলে ইতিহাস হতো অন্যরকম। কিন্তু তাদের অভিভাবকদের সে সময় নেই। যে-ঘরে আলোকিত বই আছে, পিতামাতা বই পড়েন, তাদের সন্তানরাও বইমুখি হতে বাধ্য। বইমুখিদের সন্ত্রাসী-মাদকাসক্ত হওয়ার আশঙ্কা অনেক কম।’
আমার নিবন্ধটিও ব্যাপকভাবে প্রচার করি ফেসবুকে। নিউইয়কের্র অন্যান্য পত্রিকাগুলিও এবার আগের চেয়ে আরো ব্যাপক প্রচার চালায় বইমেলার পক্ষে। মনে মনে আশা ছিল বেচাবিক্রি কিঞ্চিত হলেও বাড়বে। কিন্তু বই মেলায় একাকী গোপনে অনেক প্রকাশকের সঙ্গে কথা বলে মনে হলো অন্যান্য বছরের তুলনায় বিক্রি বাড়েনি, প্রায় একই অবস্থা। এ দেখে একটা হতাশা কাজ করতে থাকে আমার মধ্যে, যার জের এখনো চলছে।
কিন্তু আমি এও জানি, আজ যারা এদেশে বই বিক্রি বাড়াতে নিরলস সংগ্রাম করে যাচ্ছেন তারা একদিন অবশ্যই সফল হবেন। তারা আমার মতো এতো অধৈর্য-অলস নন। তাদের ধৈর্যের ভান্ডার পূর্ণ থাকুক, জীবনী শক্তি অটুট থাকুক – এই কামনা করি।
লেখক-নাট্যকার আহমেদ মূসা সাপ্তাহিক আজকাল-এর সম্পাদক

বিজ্ঞাপন / স্পন্সরড কন্টেন্ট
ট্যাগ:
সর্বশেষ সংবাদ
Situs Streaming JAV