নিউইয়র্কে বাংলাদেশ কন্স্যুলেটের নয়া অফিস লং আইল্যান্ডে
ইউএসএনিউজঅনলাইন.কম : নিউইয়র্কে বাংলাদেশ কন্স্যুলেটের নয়া অফিস এখন কুইন্সের লং আইল্যান্ডে। ম্যানহাটনের অফিস ছেড়ে কুইন্সের লং আইল্যান্ডে নতুন অফিস নেয়া হয়েছে কন্স্যুলেটের। কনসাল জেনারেল শামীম আহসান জানান, ম্যানহাটানে ৩৪ স্ট্রীটে নানা কারণে অফিস রাখা যাচ্ছে না। আমরা চেষ্টা করেছিলাম অফিসটি ম্যানহাটনে রাখতে। এর জন্যে ৫০ থেকে ৬০টি অফিসও দেখা হয়েছে। কিন্তু ম্যানহাটানে কোনো অফিস পাওয়া যায়নি। সব কিছু শোনার পর কেউ ভাড়া দিতে রাজি হয় না। তিনি বলেন, অফিসের জন্য বাড়ি না পেলেও আমরা কিন্তু ম্যানহাটানে অফিস নেয়ার চিন্তা একেবারে ছেড়ে দেইনি। ম্যানহাটানে স্থায়ীভাবে নিজস্ব অফিসের জন্য বাড়ি খোঁজা হচ্ছে।
তিনি জানান, কুইন্সে নতুন অফিসের ঠিকানা হচ্ছে ৩৪-১৮, নর্দান বুলেভার্ড। প্রায় ৭ হাজার বর্গফুটের নতুন এ অফিসটি কুইন্সবরো ব্রীজের একেবারেই সন্নিকটে। ম্যানহাটনের অফিসের তুলনায় ভাড়াও সাশ্রয় হবে এখানে।
জানা যায়, ম্যানহাটনে নতুন অফিস নেয়ার পর থেকেই নানা সমস্যা দেখা দেয়। এই অফিসটি নেয়া হয়েছিলো গত বছরের মার্চে। কিন্তু প্রতিনিয়ত লোকজনের ব্যাপক উপস্থিতি এবং শোরগোল দেখে বাড়ির মালিক দুই মাসের মাথায় অফিস ছাড়ার নোটিশ দেয়। সে কারণেই নতুন অফিস নেয়া হয়েছে কুইন্সে।
শামীম আহসান বলেন, কুইন্সে নতুন অফিস হবার কারণে প্রবাসী বাংলাদেশীদের সুবিধা হবে অনেক বেশি। এখানে পার্কিংয়ের ব্যবস্থাও রয়েছে। সাবওয়েও সন্নিকটে। বাংলাদেশীদের কথা চিন্তা করেই মূলত কুইন্সের লংআইল্যান্ড সিটিতে নতুন অফিস নেয়া হয়েছে। আগামী ১ নভেম্বর থেকে নতুন অফিস চালুর আশা করছি। কোন কারণে দেরি হলেও ডিসেম্বরের আগেই নতুন অফিসে ওঠবো।
জানা গেছে, আগামী ৩১ ডিসেম্বরের মধ্যে কনস্যুলেট অফিস ছেড়ে দেওয়ার জন্য বাড়িওয়ালা থেকে চূড়ান্ত নোটিস দেওয়া হয়েছে। কনসাল জেনারেল শামীম আহসান বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, তাই তারা জরুরিভিত্তিতে নতুন অফিস নিয়েছেন।
বাংলাদেশ কনস্যুলেটে আবার অপ্রীতিকর ঘটনা
নিউইয়র্কে বাংলাদেশ কনস্যুলেটে আবার অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটেছে। গত ১০ অক্টোবর শুক্রবার নিউইয়র্কে বাংলাদেশ কনস্যুলেটে উত্তেজনাকর ঝগড়াঝাটির ঘটনা ঘটে। অফিসের একজন শীর্ষ স্থানীয় কর্মকর্তা একাউন্ট্যান্ট মনিরুল ইসলামকে অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করাসহ চেয়ার দিয়ে আঘাত করার জন্য তেড়ে যায়। এসময় কনসাল জেনারেলসহ অফিসের অন্যরা এসে পরিস্থিতি শামাল দেয়।
অফিসের একটি সূত্র জানায়, আটলান্টিক সিটির ট্যুর প্রোগ্রামকে কেন্দ্র করে এ ঘটনা ঘটে। ওই ট্যুর প্রোগ্রামে একাউন্ট্যান্ট মনিরুল ইসলামের নাম বাদ দিয়ে ওই শীর্ষ কর্মকর্তা অন্যের নাম সংযোজন করে। মনিরুল ইসলাম ট্যুর প্রোগ্রাম থেকে তার নাম বাদ দেয়ার কারণ জানতে চাইলে ওই কর্মকর্তা ক্ষিপ্ত হয়ে ওঠেন।
এর আগেও বাংলাদেশ কনস্যুলেট অফিসে দুই কর্মকর্তার হাতাহাতির উপক্রম হয়। এই সব ঘটনায় কনস্যুলেটের কর্মকর্তাদের মধ্যে চরম অসন্তোষ বিরাজ করছে।
ঝগড়ার ঘটনা সম্পর্কে কনসাল জেনারেল শামীম আহসান জানান, কনস্যুলেট অফিসে ১০ অক্টোবর তেমন কিছু ঘটেনি। চেয়ার নিয়ে কোনো শীর্ষ কর্মকর্তা কাউকে মারতে যাওয়ার মতো কিছু ঘটেনি। তিনি বলেন, এক সাথে কাজ করতে গেলে অফিসে ঝগড়াঝাটির ঘটনা ঘটতেই পারে।
এ ব্যাপারে ডেপুটি কনসাল জেনারেল শাহেদুল ইসলাম বলেন, ওই দিন নিউজ করার মতো তেমন কিছুই ঘটেনি। কাজ করতে গেলে একটু রাগারাগি হতেই পারে। তবে কেউ যদি নিয়মকানুন মানতে না চায়, সে বিষয়টিও দেখতে হয়। একাউন্ট্যান্ট নিয়মকানুন মানতে চান না। উল্টো শীর্ষ কর্মকর্তাদের নিয়মকানুন শেখানোর চেষ্টা করেন তিনি।
একটি সূত্রে জানা গেছে, নিউইয়র্ক কনস্যুলেট অফিসে ১০ অক্টোবরের ঘটনা ঢাকায় পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে অবহিত করা হয়েছে। বিষয়টি খতিয়ে দেখছে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। বর্তমানে নিউইয়র্ক কনস্যুলেট অফিসের কর্মকর্তা-কর্মচারিরা ঐ শীর্ষ কর্মকর্তার বিরুদ্ধে সোচ্চার। ওই শীর্ষ কর্মকর্তা কনসাল জেনারেলের তোয়াক্কা না করে নিজেই সব কিছু করার চেষ্টা করেন বলে অভিযোগ।
সূত্র জানায়, নিউইয়র্কে বাংলাদেশ কনস্যুলেট অফিসে একের পর এক অঘটন ঘটেই চলেছে। কনস্যুলেট অফিসে প্রবাসী লাঞ্ছিত হওয়ার পর দুই কর্মকর্তার তুমুল ঝগড়া ও অশ্লীল বাক্য বিনিময় হয়। তুচ্ছ ঘটনাকে কেন্দ্র করে তাদের মধ্যে হাতাহাতির উপক্রম হয়। দুই জনের মধ্যে কথা কাটাকাটি হয়। উত্তপ্ত ও অশালীন বাক্য বিনিময় হয়। এক পর্যায়ে হাতাহাতির উপক্রম হলে অফিসের অন্যরা এসে পরিস্থিতি শামাল দেয়।
এর আগে পাসপোর্ট করতে গিয়ে লাঞ্ছিত হয়েছেন এক বাংলাদেশি প্রবাসী। জামিল নামের এক প্রবাসী নিউইয়র্ক কনস্যুলেটে সেবা নিতে গিয়ে নিজেই শারীরিক লাঞ্ছনার শিকার হন বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। যদিও কনস্যুলেট অফিসের সংশ্লিষ্টরা দাবি করেন ওই প্রবাসীই কনস্যুলেট অফিসের এক কর্মকর্তার ওপর প্রথম চড়াও হন। উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের হস্তক্ষেপে বিষয়টি মীমাংসা হয়।
গত ২৩ মে নিউইয়র্কের বাংলাদেশ কনস্যুলেট অফিস থেকে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ছবি চুরি হয়। পরে বিল্ডিংয়ের নিচে রাস্তায় ভাঙা অবস্থায় প্রধানমন্ত্রীর ছবিটি পাওয়া যায়। এ ঘটনায় বাংলাদেশি কূটনীতিক ও প্রবাসীদের মধ্যে চাঞ্চল্য দেখা দেয়। কিন্তু ঘটনার রহস্য উদঘাটন হয়নি।
- Rohingyas Want to Return Home, Bangladesh Tells UN
- এক দশক ধরে বিপুল সংখ্যক রোহিঙ্গাকে আশ্রয় দেওয়া দেশের জন্য টেকসই নয়, রোহিঙ্গারাও নিজ দেশে ফিরে যেতে চায় : জাতিসংঘে বাংলাদেশ
- Bangladesh and UN Women pledge closer cooperation to advance women’s empowerment and the WPS agenda
- নিউইয়র্কে চিটাগং অ্যাসোসিয়েশন অব নর্থ আমেরিকা (মাকসুদ-মাসুদ) এর সংবাদ সম্মেলনে কুৎসা রটানোর প্রতিবাদ
- নারীর ক্ষমতায়ন এবং নারী, শান্তি ও নিরাপত্তা এজেন্ডা এগিয়ে নিতে বাংলাদেশ ও ইউএন উইমেনের ঘনিষ্ঠ সহযোগিতার অঙ্গীকার
- State Minister for Foreign Affairs Urges Stronger Global Action to Protect Civilians, Uphold Humanitarian Law and Support Rohingya Repatriation
- বেসামরিক জনগণের সুরক্ষা, আন্তর্জাতিক মানবিক আইন সমুন্নত রাখা ও রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসনে জোরালো বৈশ্বিক পদক্ষেপের আহ্বান পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামার
- মহররম মাসের গুরুত্ব ও ফজিলত!