Thursday, 29 October 2026 |
শিরোনাম
নিউ জার্সিতে উৎসবমুখর পরিবেশে দুর্গাপূজা উদযাপিত নিউইয়র্কের জেএমসির সম্প্রসারণ প্রকল্প রমজানের আগেই সম্পন্নের প্রত্যাশা, ফান্ডরেইজিংয়ে প্রায় ১০ লাখ ডলার সংগ্রহ, বাকি প্রয়োজন আরও ২০ লাখ New York Attorney General James Secures More Than $480,000 and Debt Relief for New York Homeowners এই জীবন চিরস্থায়ী নয়, একদিন মরে যাবো নিউইয়র্কে বাংলাদেশ সোসাইটির নির্বাচন নিয়ে অনিশ্চয়তা আরও বেড়েছে; ১৭ ডিসেম্বর উভয় পক্ষকে তথ্য-উপাত্ত জমার নির্দেশ নিউইয়র্কে নৃত্যশিল্পী ও সাংস্কৃতিক সংগঠক তাহসিন ফেরদৌসের অকালমৃত্যু, বাংলাদেশি কমিউনিটিতে শোকের ছায়া নিউইয়র্কে আবেয়া’র দ্বিবার্ষিক সম্মেলন ও ফ্যামিলি নাইট: প্রযুক্তি সেমিনার, জব ফেয়ার, বিজ্ঞান মেলা ও সাংস্কৃতিক উৎসব Global Anticipation Builds as Dr. Mostofa Sarwar’s Sunflower Wounds Debuts with Successful Houston Open House and Worldwide Pre-Order Milestone যুক্তরাষ্ট্রে ৭৫ দেশের অভিবাসী ভিসায় অনিশ্চয়তা, আদালতের নির্দেশের পরও কাটেনি জট Human Rights Must Be at the Heart of Economic Governance and Policies: Ambassador Irene Khan
সব ক্যাটাগরি

মঙ্গলবার যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তি নির্বাচন :পরবর্তি প্রেসিডেন্ট নির্বাচন নিয়ে শুরু হয়েছে রাজনৈতিক বিশ্লেষন

অনলাইন ডেস্ক পঠিত: 170 বার

প্রকাশিত: October 31, 2014 | 6:37 AM

ইব্রাহীম চৌধুরী খোকন : আগামী চার নভেম্বর মঙ্গলবার যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তি নির্বাচন। এ নির্বাচন ঘিরেই যুক্তরাষ্ট্রের পরবর্তি প্রেসিডেন্ট নির্বাচন নিয়ে শুরু হয়েছে রাজনৈতিক বিশ্লেষন। ডেমোক্রেট প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামার নি¤œ জনপ্রিয়তার কারনে মধ্যবর্তি নির্বাচন অনেকটাই রিপাবলিকানদের অনুকুলে। প্রতিনিধি পরিষদে বর্তমানে সংখ্যাগরিষ্ট রিপাবলিকান দল । আগামী সপ্তাহের নির্বাচনের মাধ্যমে প্রতিনিধি পরিষদে রিপাবলিকান আসন আরো বৃদ্ধি পাবে। ডেমোক্রেটদের পক্ষ থেকে ব্যবধানটা কম রাখার জন্য সর্বাত্মক প্রচারনা চালানো হচ্ছে।কংগ্রেসের উচ্ছ কক্ষ সিনেটে, বর্তমান ডেমোক্রেট সংখ্যাগরিষ্টতাও ধরে রাখা নিয়ে শঙ্কা বিরাজ করছে।মধ্যবর্তি নির্বাচনে মাত্র ছয়টি আসন ছিনিয়ে নিতে পারলেই সিনেটেও সংখ্যাগরিষ্টতা পাবে রিপাবলিকান দল। মেয়াদের শেষ দুটি বছর প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামার শাসন পরিচালনার আরো বেশী বৈরীতায় পড়তে হবে বলে মনে করা হচ্ছে। কংগ্রেসে সংখ্যাগরিষ্টতা প্রতিষ্টা করতে পারলেও ২০১৬ সালের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে রিপাপরিকান দলের জয় নিয়ে সন্দিহান খোদ রক্ষনশীলরা।
মধ্যবর্তি নির্বাচনে ঠিক কোন রাজনৈতিক বার্তা নেই কোন দলের পক্ষ থেকেই। রিপাবলিকানদের মুল প্রচারনা প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামাকে ঘিরে।তুমুল জনপ্রিয়তা নিয়ে ক্ষমতায় আসা প্রেসিডেন্ট ওবামার এখন ক্রান্তিকাল চলছে।অর্ধেকেরও বেশী জনমত এখন প্রেসিডেন্ট ওবামার বিপক্ষে।কর্মসংস্থান সৃষ্টির সাম্প্রতিক সাফল্যের বার্তটি সাধারন জনগনের কাছে এখনো পৌঁছেনি।আবাসন শিল্পের চাঞ্চল্য ফিরে আসেনি। মধ্যবিত্তের জীবন মানের উন্নতির কথা বলা হলেও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবিত্তরা মনে করে, তারা ভালো নেই। শিক্ষা খাতে ব্যায় বেড়েছে।উচ্ছ শিক্ষার জন্য গ্রহন করা ঋনের উপর সুদ বেড়েছে। ওবামা কেয়ারের মত সার্বজনীন বাধ্যতামুলক স্বাস্থ্যবীমা নিয়েও চলছে এখনো নানা বিতর্ক।বিদেশ নীতির প্রশ্নেও সবকিছু ঘঠেনি প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামার অনুকুলে। মধ্যপ্রাচ্যের নতুন জঙ্গী গোষ্টির উত্তান সহ জাতীয় নিরাপত্ত্বা নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের সাধারন লোকজনও এখন উদ্বিগ্ন।
রক্ষনশীলদের অবিরাম প্রচারনায় বিব্রান্ত নাগরিকরা। সব কিছুর জন্য প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামার ভ্রান্ত নীতিকেই দায়ী করা হচ্ছে। মধ্যবর্তি নির্বাচনের মাঠে প্রেসিডেন্ট ওবামার নাম নিয়ে সুবিধা করতে পারছেন না ডেমোক্রেট প্রার্থীরা। পিউ সেন্টারের সাম্প্রতিক জরীপে দেখা গেছে রক্ষনশীলদের ৬১ শতাংশই ওবামা বিরোধিতার জন্য প্রার্থীদের ভোট প্রদান করবে। রিপাপলিকান প্রর্থিদের পক্ষ থেকে সরকারী ব্যয় হ্রাস, স্বল্প রাষ্ট্রীয় নিয়ন্ত্রন, ওবামা কেয়ারের পরিবর্তন, সীমান্ত সুরক্ষার বিষয়গুলোকেও নির্বাচনী প্রচারনায় নিয়ে আসা হয়েছে। যদিও পুরো প্রচারনায় ওবামা বিরোধিতাই এখন চরমে। মধ্যবর্তি নির্বাচনের মাত্র এক সপ্তাহ আগে রিপাবলিকান দলের বিবৃতিতেও কোন রাজনৈতিক বক্তব্য নেই। প্রতিদ্বন্ধী ডেমোক্রেট প্রার্থীদের ব্যর্থ প্রেসিডেন্টের সমর্থক এবং অনুসারী বলে রিপাবলিকান দলের বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে।
যুক্তরাষ্ট্রের রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন, সুস্পষ্ট রাজনৈতিক বক্তব্য ছাড়া মধ্যবর্তি নির্বাচনে জয় হলেও রিপাবলিকান দল অতী আশাবাদী হওয়ার কোন কারন নেই।অভিবাসন সংস্কার আইন নিয়ে,অবৈধদের বৈধতা প্রদানে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহন না করায় অভিবাসী গ্রুপগুলো অনেকটাই উদ্দীপনাহীন।যদিও ব্যাপক অভিবাসী গ্রুপগুলো রিপাবলিকান- বান্ধব হয়ে উঠবে, এমন ভাবারও কোন কারন নেই। মধ্যবর্তি নির্বাচনের পরই পরবর্তি প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের প্রার্থী মনোনয়ন নিয়ে নিজেদের মধ্যে বিতর্কে জড়িয়ে পড়বে রিপাবলিকান দল। ২০১৬ সালের জন্য রিপাবলিকান দলে এখন পর্যন্ত কোন সর্বমতের গ্রহনযোগ্য প্রার্থী নেই। চলমান রাজনৈতিক বিতর্কের সাথে এবং প্রেসিডেন্ট ওবামার সাথে দুরত্ব বজায় রেখে প্রস্তুত হচ্ছেন সাবেক ফার্স্ট লেডি হিলারী ক্লিনটন। ২০১৬ সালের জন্য ডেমোক্রেট দলের সম্ভাব্য প্রেসিডেন্ট পদপ্রার্থী হিসাবে হিলারী ক্লিনটনের অবস্থান এখন অনেকটাই সংহত।
জনমত জরীপে ৫৩ শতাংশ লোকজন এখন প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামার বিপক্ষে।পিউ রিসার্চ সেন্টারের সর্বশেষ জরীপে দেখা গেছে যুক্তরাষ্ট্রের ৫৪ শতাংশ লোকজনের মনোভাব আবার রিপাবলিকান দলের বিপক্ষে।ডেমোক্রেটদের পক্ষ থেকে মধ্যবর্তি নির্বাচনে হারার আগেই নানাসব বিশ্লেষন শুরু হয়েছে। মুখে কিছু না বলা হলেও মধ্যবর্তি নির্বাচনে পরাজয়ের জন্য প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামার ধ্বশে পড়া জনপ্রিয়তাকে নিয়ে আলোচনা চলছে দলের মধ্যে। যদিও খাঁটি উদারনৈতিক মহলের মতে, রিপাবলিকানদের নেতিবাচক প্রচারনার জুতসই জবাব দিতে পারেনি ডেমোক্রেট দল। রাজনৈতিক ইস্যুগুলোকে প্রধান্য দেয়া হয়নি। যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবিত্তের জীবন সমস্যাকে নির্বাচনের বিতর্কে নিয়ে আসা হয়নি। নারী ভোটার, নতুন ভোটার এবং অভিবাসী গ্রুপগুলোর মধ্যে মধ্যবর্তি নির্বাচন নিয়ে কোন উদ্দিপনা সৃষ্টি করা হয়নি।
মঙ্গলবারের নির্বাচনে রিপাবলিকানদের সম্ভাব্য জয় ডেমোক্রেটদের ঐক্যবদ্ধ হওয়ার সুয়োগ সৃষ্টি করবে বলে মনে করা হচ্ছে । এ নির্বাচনে জয়ের সুখবোধ নিয়ে রিপাবলিকান দল সহসাই নিজেদের মধ্যে বিতর্কে জড়িয়ে পড়বে। শুধু “রিপাবলিকানরা ভালো নয়”-এমন প্রচারনার পরিবর্তে ডেমোক্রেটরা পরবর্তি প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের জন্য কার্যকর রাজনৈতিক বক্তব্য নিয়ে মাঠে নামবে এমন প্রত্যাশা দলের একান্ত সমর্থকদের মধ্যে।

বিজ্ঞাপন / স্পন্সরড কন্টেন্ট
ট্যাগ:
সর্বশেষ সংবাদ